Sunday, April 9, 2017

সাইকোলজিক্যাল টিপস-২৯: মানুষের শ্রেষ্ঠ সম্পদ হচ্ছে তার আত্ম মর্যাদাবোধ

পর্ব-১
অর্থ-বিত্ত,শিক্ষা,ক্ষমতার চেয়ে অনেক উন্নত ও শ্রেয় সম্পদ হচ্ছে আপনার উচ্চ ও সবল আত্ম  মর্যাদাবোধ ।
নিজের উপর আস্হা রাখা,নিজের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা,নিজের সঙ্গে উত্তম যোগাযোগ রাখা এবং সর্বোপরি নিজকে সম্মান/ শ্রদ্ধা করা সুন্দর ও সুখী জীবন গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
আপনি কখনো আপনার সর্বোত্তম সত্বার বিকাশ ঘটাতে পারবেন না, যতক্ষণ না অন্যদের কাছ থেকে যে শ্রদ্ধা, সম্মান আশা করেন,ততটুকু সম্মান,শ্রদ্ধা নিজকে নিজে না করেন।
আপনি নিজকে অসম্মান, অশ্রদ্ধা করছেন কিনা কিভাবে বুঝবেন?

১। অন্যদের কাছ থেকে গুরুত্ব,সম্মান পাওয়ার জন্য আপনি যা নন তেমন সাজার চেষ্টা করেন?(you present yourself as something you are not in order to gain favor):

আমরা সবাই কম বেশী  অন্যদেরকে যেভাবেই হোক  মুগ্ধ করতে(ইমপ্রেস)  চাই।আমরা জানি এটি করা উচিৎ নয়, তথাপি যে ভাবেই হোক আমরা তেমনটি করে থাকি।অন্যকে ইমপ্রেস করতে চাওয়া মানে আমি তত ভালো নই,তত যোগ্য,উত্তম,প্রশংসনীয় বা শ্রদ্ধেয় নই,মনে মনে এটি স্বীকার করে নেওয়া।
আত্ম মর্যাদাবোধ, আত্ম শ্রদ্ধা  কম থাকলে নিজকে  আমরা এমনভাবে তুলে ধরতে চাই যেন অন্যরা মুগ্ধ হয়,চমৎকৃত হয়।যেন তারা ভাবে এ লোক কত উত্তম,যোগ্য, শ্রদ্ধেয়।
কেন তাদের কাছে নিজকে এতো ভালো প্রমান করতে হবে? যদি তারা  আপনাকে  ভালো মানুষ না ভাবে,তাহলে তারা  নিজেরা আসলে কতটুকু ভালো মানুষ?  আপনি যা সেটিকে তারা সম্মান করতে না পারলে তারা আপনার কাছে ভালো,শ্রদ্ধেয় মানুষ কেন হবে?
যে নিজকে ভালোবাসে,নিজকে পছন্দ করে,নিজকে সম্মান করে তার অন্যদের ইমপ্রেস করার মরিয়া চেষ্টা থাকার কথা নয়।আপনার মধ্যে কি অন্যদের মুগ্ধ করার চেষ্টা বেশী?  তাহলে আজই সে দাস মনোভাব পরিহার করুন। নিজকে মুক্ত,নির্ভার করুন

২। অন্যরা যা-ই বলে তাতেই আপনি সমর্থন দেন,কেননা আপনি অন্যকে আহত করতে চান না:
আপনার নিজস্ব অভিমত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু যখন আপনি নিজস্ব মতামত প্রকাশ না করে( ভয়,লজ্জা,লোভ যে কারনেই হোক) তাবেদারের মতন অন্যদের মতকে সমর্থন করে যান তখন এটি নিজের কাছে ও তাদের কাছে প্রমানিত হয়, আপনার মতামত আসলেই গুরুত্বপূর্ণ নয়।
তার মানে আপনি গুরুত্ব পাওয়া,শ্রদ্ধা পাওয়ার মতন মানুষ নন।কেন আপনি এমনটি করেন? আপনি চান না সঠিক কথাটি বলে অন্যদের কাছে নিজকে অপ্রিয় করে তুলবেন।যদি আপনার সৎ,সুচিন্তিত মতামত শুনে কেউ আহত বোধ করেন,ক্ষুব্ধ হন,তাহলে বুঝবেন তারা আপনার অভিমত চায় না,তারা চায় আপনি হবেন তাদের জন্য একজন " ইয়েস ম্যান" মাত্র।অন্যদের " ইয়েস ম্যান" হয়ে যারা সারাজীবন কাটায় তাদের আর যাই থাকুক আত্ম- শ্রদ্ধা, আত্ম সম্মান বলে কিছু কি থাকে?
(২য় পর্ব- আগামীকাল)

Wednesday, April 5, 2017

রোগ কাহিনী -১৬

মেয়ে বলে " মেয়েদের উপর থেকে আদর,মায়া সব উঠে গেছে স্যার"
মা বলে" জীবনেও শহর দেখিনি,মেয়েকে নিয়ে একাই আপনার কাছে চলে এসেছি স্যার"
রোগ কাহিনী:
আয়শা বেগম,বয়স ২৪। দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। কোন ছেলে সন্তান নেই।
আশেপাশের সবাই বলে মেয়েদের বিয়ে হলে অন্য সংসারে চলে যাবে, তখন বৃদ্ধ অবস্হায় তোমাকে কে দেখবে?
এরপর একা একা ভাবতাম  ঠিকই তো শেষ বয়সে ছেলে না থাকলে কে দেখবে,কেমনে একাকী থাকবো?
মেয়েদের উপর থেকে আদর, মায়া সব উঠে যায়।সারাদিন ছেলের চিন্তা মাথায় ঘুরে।মাকে বলি আমাকে একটি পালক ছেলে হলেও এনে দাও।

বার বার একই চিন্তা।কিছু ভালো লাগে না।কেবল হাহুতাশ।ঘর সংসারের প্রতি মায়া নেই,কান্নাকাটি করি,ঘুম হয় না,কলিজা ধক ধক করে, কান গরম হয়ে যায়,মানুষের সহিত মিশতে ভালো লাগে না,কেবল চিন্তা কে শেষ বয়সে আমাকে দেখবে,আমার পাশে  থাকবে?
স্যার আমাকে আগের দিন ফিরিয়ে দিন।আমি মেয়েদের যেন আগের মতন মমতা করতে পারি।ঘরে এলেই মনে হয় আমি একা, মেয়েরা  চলে গেছে,আমি শেষ বয়সে,আমি বুড়ী  হয়ে গেছি।একা কেমনে থাকবো?

মা,স্বামী সবাই বোঝায়,কিন্তু আমার মন মানে না।রোগীনির মা বলে স্যার মেয়ের বেহাল অবস্হা দেখে আমাদের পাশের বাড়ীর একজন বললো আপনার কাছে এলে সব ঠিক হয়ে যাবে।আপনি নাকি জ্বীন ভূত ও তাড়াতে পারেন।

স্যার জীবনে কোনদিন শহর দেখিনি।মা- মেয়ে সাহস করে আপনার ঠিকানা নিয়ে ঢাকা শহরে আইছি।আমার মেয়েকে বাচান।

মেয়ে বলে স্যার আমি চাই আমার আগের দিনগুলো ফিরে আসুক,মেয়েদের প্রতি, সংসারের  প্রতি আকর্ষন,মমতা ফিরে আসুক।ছেলে শব্দটা যেন আর মনে না আছে।
...........................
এই কেইস হিস্ট্রি থেকে আমরা কি শিক্ষতে পারি?
১।  নবীজীর আমলে নাকি কন্যা সন্তান হলে মেরে ফেলা হতো।সে অন্ধকার যুগ থেকে কতটুকু এগিয়েছি আমরা? এখনো গর্ভবতী মায়েরা আল্ট্রাসনোগ্রাম করাতে গেলে প্রথমেই জানতে চান " ছেলে না মেয়ে"? বাচ্চার অবস্হা কেমন সেটি আগে জানতে চান না।আমার জানা এক তরুনী একজন কন্যা সন্তান হওয়ার পর স্বামী - শ্বশুর বাড়ীর সবাই খুবই নাকোচ হয়।অজ্ঞতা বশত কয়েক মাসের মধ্যে আবার গর্ভবতী হয়ে যায়।এবার স্বামী স্ত্রী কাউকে না জানিয়ে ঠিক করে সন্তান এখন নষ্ট করবে না,আগে জানবে ছেলে না মেয়ে।যদি ছেলে হয় তাহলে নষ্ট করবে না।তারা বার বার আল্ট্রাসনোগ্রাম করাতে যায় জানতে ছেলে না মেয়ে।দূর্ভাগ্যবশত তাদের জানানো হয় এখনো স্পস্ট নয়,বলা  যাবে না।এ ভাবে ৪-৫ মাস হয়ে যায়,তবুও জানতে পারে না।তাই তারা আর কোন রিস্ক না নিয়ে অবৈধ ভাবে এবরশন করান। নারী- পুরুষ  সমতার যুগে ছেলে সন্তান এখনো এতো কাম্য কেন?
২। আমার আরেক রোগীনির শ্বাশুড়ী তাকে সারাক্ষণ খোটা দেয় তুমি আমার ছেলেকে একটি ছেলে দিতে পারলে না।এ না পারার যন্ত্রনায় মেয়েটি ডিপ্রেশন এ ভুগছে।আমি তাকে বললাম তুমি তোমার শ্বাশুড়ীকে বলো যে আপনার ছেলেকে বলুন আমাকে একটি ছেলে সন্তান উপহার দিতে। সে আতকে বলে সেটি কেমনে বলি।আমি তাকে বুঝিয়ে দেই কিভাবে ওয়াই ক্রমোজমের কারনে ছেলে সন্তান হয় এবং সেটি একমাত্র পুরুষ/ স্বামীর কাছ থেকেই আসতে পারে, স্ত্রীর  কাছ থেকে নয়।আপনারা সবাই কি সকল স্বামী ও তাদের আত্মীয়দের এই বৈজ্ঞানিক তথ্যটি জানিয়ে দেবেন?
৩। যাই হোক বর্তমানে এই রোগীনির ব্যাপারটি আর নিছক মনো- সামাজিক সমস্যায় সীমিত নেই।এটি একটি মানসিক রোগে দাড়িয়ে গেছে,যার ভালো চিকিৎসা রয়েছে। আমি তাকে ও তার মাকে নিরাশ করিনি।তাদের যথাযথ চিকিৎসা দিয়ে আশ্বস্ত করেছি

Sunday, April 2, 2017

সাইকোলজিক্যাল টিপস-২৮

পর্ব-৩(শেষ পর্ব): আপনি কি অত্যধিক দুশ্চিন্তা করেন? প্রায়ই নিজকে অসুখী মনে হয়?
তাহলে গবেষনা বলে আপনি একজন জিনিয়াস ও মানব দরদী
............................................
আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার( emotional intelligence) সঙ্গে দুশ্চিন্তা,কষ্ট,উদ্বেগ,ভয় এমনকি আতঙ্ক জড়িত।আমাদের সাইকিয়াট্রিতে দুই ধরনের মানসিক সমস্যা দেখা দেয়: একদল যারা টেন্ডার মাইন্ডেড-
এরা নরম মনের,কোমল স্বভাবের অল্পতে আঘাত পান, নিজের ও অন্যের কষ্ট সমস্যা নিয়ে বেশী ভাবেন,লজ্জা,ভয় বেশী,দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে সচেতন।
এরা উদ্বেগ,দুশ্চিন্তা, ভয়,আতঙ্ক,মনোবেদনা সহ নানা রকম মানসিক কষ্টের মধ্যে জীবন- যাপন করেন।এরা নিজের ও অন্যের জীবনকে  আরো উন্নত, মানবিক করতে চান।

অন্য ধরনের হচ্ছে অতি টাফ মাইন্ডেড:
এমপ্যাথী বিহীন অর্থাৎ আবেগীয় বুদ্ধিহীন।
এরা  পাষন্ড,নির্মম,নিষ্ঠুর,অনুতাপহীন,বিবেকহীন।এরা ভয় ভীতিহীন,বেপরোয়া,  উদ্বেগ হীন,সমাজ ও নৈতিকতা বিরোধী।এরা অভিজ্ঞতা থেকে শেখে না,শিখতেও চায় না।

তবে আমাদের সমাজ আজ এদেরই নিয়ন্ত্রণে।( জীবনানন্দের কবিতা মনে আছে?" যারা অন্ধ তারাই আজ সবচেয়ে বেশী দেখে.... পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া)।

বুঝতেই পারছেন আবেগীয় বুদ্ধি বেশী হলে ওদের মতন  দায়িত্বহীন,বিবেকহীন জীবন আপনি যাপন করতে পারবেন না।তাই দুশ্চিন্তা আপনার পিছু ছাড়বে না, এটাই স্বাভাবিক।

( ওরা কিন্তু আপনার এই ভালো মানুষীকে দূর্বলতা ভাববে,দূর্বল ব্যক্তিত্ব মনে করবে,হয়তো উপহাস এমনকি " পাগল"  বলে ঠাট্টা করবে।কিন্তু মূলত তারাই হচ্ছে জটিল মানসিক রোগী যাদের শোধরানো কঠিন কাজ)।

বৈজ্ঞানিক গবেষনায় কি বলে:
লন্ডনের কিংস কলেজের নিওরোলজি অব পার্সোনালিটির বিশেষজ্ঞ ড. এডাম পারকিনস বলেন" আপনি যদি অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করেন বা অনেক চিন্তা মাথায় উদ্ভব হয় এবং এ কারনে উদ্বেগ বা আতঙ্ক অনুভব করেন তার কারন আপনার ব্রেইনে ইন- বিল্ট থ্রেট জেনারেটর রয়েছে।এটি হয় ব্রেইনের মেডিয়াল প্রি- ফ্রন্টাল কর্টেক্স এর অত্যধিক ক্রিয়াকলাপের জন্য। আবার তেমন কারন ছাড়া ভয়- আতঙ্কে ভুগছেন এমাগডেলার ব্যাসাল লেটারেল নিউক্লি এর অতিরিক্ত রিএকটিভিটির জন্য। "

এগুলো হচ্ছে আমাদের " স্যানিটি চেক" -

অর্থাৎ নিজে ও অন্যরা "মানসিক ও বিচারবোধের দিক থেকে সুস্হ", কিনা তা চেক করে নেওয়া।এগুলো দেখা যায় অনেক জিনিয়াসদের মধ্যে।

যেমন: আইজ্যাক নিউটন,চার্লস ডারউইন,ভিনসেন্ট ভ্যান গগ,কুর্ট কেভিন।

সৃজনশীলতা আর মনোযন্ত্রনা যে একসূত্রে গাথা এটি সবচেয়ে সুন্দর ভাবে বর্ননা করেছেন জন লেনন

"জিনিয়াস মানেই যন্ত্রণা "(Genius is pain)।

ব্রেইনের ঐ অংশগুলো আমাদের সফল মানব বিবর্তনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

স্টেট ইউনিভার্সিটি অব  নিউ ক্যাসল ডাউন স্টেট মেডিকেল সেন্টারের প্রফেসর ড. জেরেমি কপলান বলেন" সব সময় হেসে খেলে জীবন কাটায়  যারা তাদের চেয়ে যারা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করে, তারা সম্ভাব্য বিপদ থেকে নিজেদের ও অন্যদের রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।এভাবে তারা মানব প্রজাতির টিকে থাকার ক্ষেত্রে নিয়ামক ভূমিকা পালন করে থাকে"।

Friday, March 31, 2017

সাইকোলজিক্যাল টিপস-২৮

পর্ব-২:আবেগগত বুদ্ধিমত্তার বৈশিষ্ট্য (Emotional intelligence) :

আবেগগত বুদ্ধি গড়ে উঠার পিছনে পরিবেশ ও  " শৈশবে বেড়ে উঠার" ধরন(upbringing)ভূমিকা রেখে থাকে।।অনেক ভালো পরিবেশে মানুষ হওয়া ছেলে- মেয়েদের মধ্যে ও আত্মকেন্দ্রিকতা ও আত্মপ্রমের আধিক্য দেখা যায়।আবার  পরিবারে অবহেলা,নির্যাতন বা দারিদ্রতা সত্বে ও দেখা গেছে তাদের অনেকের মধ্যে উচ্চতর আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা রয়েছে। এর কারন হতে পারে তাদেরকে  তাদের সেন্স গুলোকে তীক্ষ্ণ করে তুলতে হয়, যাতে তারা কঠিন পৃথিবীতে টিকে থাকতে পারে।সময়ের সাথে সাথে তারা এই গুনাবলীকে আরো  পরিশীলিত করে নেয়।

অন্যদিকে বিচ্যুত আচরন- স্বভাবের ছেলে মেয়েদের মধ্যে আবেগগত বুদ্ধি থাকে না বললে চলে।ফলে তারা সঙ্গীদের সঙ্গে বা বাসায় খাপ খাইয়ে চলতে পারে না; জীবনে ভারসাম্য পূর্ন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরী করতে পারে না; স্কুলে প্রত্যাশিত ফলাফল করতে পারে না; নিজকে শান্ত রাখতে বা করতে পারে না; সমস্যা সমাধানের কৌশল আয়ত্ব করতে পারে না।

আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার বৈশিষ্ট্য :
১। আত্ম সচেতন থাকা: নিজের আবেগকে জানা; কি আবেগে আক্রান্ত তা স্বীকার করে নেওয়া; ও বিভিন্ন আবেগের পার্থক্য বুঝতে পারা

২। ম্যূড ম্যানেজমেন্ট :  বর্তমান সিচুয়েশন অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক করে তোলার জন্য  অনুভূতিগুলোকে হ্যান্ডেল করতে জানা এবং যথাযথ ভাবে প্রতিক্রিয়া করতে পারা

৩। সমমর্মী হওয়া(Empathy): সহানুভূতি (sympathy)  ও সমমর্মী( এমপ্যাথী) এক বিষয় নয়।এটি হচ্ছে অন্যের অবস্হান থেকে তার আবেগ অনুভূতিকে বোঝা এবং তাদের সে প্রকাশ্যে বলা(verbal)   ও না বলা ( নন ভারবাল) আবেগগুলোর সঙ্গে নিজের আচরনকে সামন্জস্যশীল করে নেওয়া।

৪। সম্পর্কগুলো ম্যানেজ করতে পারা: আন্তব্যক্তিক ক্রিয়া- প্রতিক্রিয়াকে  সঠিকভাবে  হ্যান্ডেল করা; দ্বন্দ্ব নিরসন করা; ও নিগোশিয়েসন করতে পারা

৫। সেলফ- মটিভেশন:
আত্মসংশয়,নিষ্ক্রিয়তা,আবেগের বশবর্তী থাকা সত্ব্যেও নিজের ভাবাবেগগুলোকে একত্র করে , একটি উদ্দেশ্যমূলক লক্ষ্যে পৌছার জন্য নিজকে সঠিকভাবে চালিত করতে পারা।
(৩য় ও শেষ পর্ব- আগামী কাল)

Wednesday, March 29, 2017

সাইকোলজিক্যাল টিপস-২৮: আবেগগত বুদ্ধি (Emotional Intelligence) কেন বেশী গুরুত্বপূর্ণ

পর্ব-১:
আপনি পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে অনেকদিন পর পুর্নমিলনী অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন।স্মৃতিকাতর হয়ে নিজের একটি আবেগঘন ঘটনা সংক্ষেপে তাদের কাছে শেয়ার করলেন।কিন্তু বেশীরভাগই আবেগহীন নিরুত্তাপ রইলেন।আপনি তাদের কাছে কোন সহানুভূতি কিংবা সহায়তা কামনা করেননি।তবে মমতা,দয়া,ভালোবাসা মিশ্রিত প্রতিক্রিয়া নিশ্চয় আশা করেছিলেন।একজনকে তো দেখলেন হৃদয়- মস্তিস্কের যোগাযোগ হীন(heart- brain connectionless)। অথচ অন্য বৈষয়িক ব্যাপারে তারা সোৎসাহে গল্পগুজব করছে" আমি ওমুক করেছি,ও সেটা করেছে"- ইত্যাদি। এখানে কিসের ঘাটতি ছিল? আবেগগত বুদ্ধি মত্তা(ই আই)।

আবেগগত বুদ্ধিমত্বা হচ্ছে- নিজের ও অন্যের আবেগ বোঝার ক্ষমতা,বিভিন্ন অনুভূতির মধ্যে পার্থক্য করতে পারা,সঠিকভাবে সেগুলো লেবেল করতে পারা এবং এ সব আবেগগত তথ্য ব্যবহার করে নিজের চিন্তা ও আচরনকে গাইড করতে পারা।

ধরুন আপনারা মিটিং করছেন।একজন সহকর্মী পথে ৩ ঘন্টা ট্রাফিক জ্যামে আটক থাকার কারনে বিলম্বে সভায় হাজির হলেন।তাকে ঘর্মাক্ত, ক্লান্ত,উদ্বিগ্ন দেখাচ্ছে। যার আবেগগত বুদ্ধি বেশী তিনি সহাস্যে এগিয়ে এসে উষ্ম অভ্যর্থনা জানাবেন,কেমন আছে তা জানতে চাইবেন,হয়তো ঠান্ডা পানির গ্লাস এগিয়ে দেবেন এমনকি হয়তো ৫ মিনিটের জন্য সভা স্হগিত করবেন তাকে ধাতস্ত হওয়ার সময় দেওয়ার জন্য। আর যাদের আবেগগত বুদ্ধি কম( তবে এদের বৈষয়িক,সামাজিক বুদ্ধি অতিরিক্ত থাকে) তারা তাকে নিয়ে উপহাস করবে,নিজেদের মধ্যে মিটিমিটি হাসবে,তাকে অকাজের,দায়িত্বহীন বলে প্রচার করবে।এক কথায় ঐ লোকের মনে বিষ ঢুকিয়ে দেবে,তাকে ছোট,হেয়,হীনমন্য করে বিকৃত আনন্দ অনুভব করবে
( পর্ব-২: আগামীকাল)

Saturday, March 25, 2017

রোগ কাহিনী-১৫

" আবার এসেছি ফিরে এ  বাংলার... "

বি পজিটিভ বি হ্যাপী" গ্রুপ এর পক্ষ থেকে সবাইকে

মহান স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা
................................
  প্রেম যখন পাগলামী

যানজট,সেশন জটের মতন আমার লেগেছে " লেখা জট"

( এমনিতেই সপ্তাহে ১ টির বেশী পোস্ট দেওয়া যায় না,তদুপরি বিদেশ ভ্রমন হেতু আরো জট লেগে গেলো)

নতুন স্ট্রেটেজি নিচ্ছি- সপ্তাহে ১ টি বড় পোস্টের চেয়ে,    সপ্তাহে ২-৩ টি ছোট পোস্ট দেবো( আপনাদের মতামত চাচ্ছি)

.................................
#রোগকাহিনী-১৫: মিশর- চীন ভ্রমন শেষে প্রথম দিনের চেম্বারে প্রথম রোগীনীর কাহিনী এটি।

প্রেম যখন পাগলামী

মিসেস রুবি,বয়স যখন ১৩ তখন ৩৫ বছর বয়সী একজনের সঙ্গে মা বিয়ে দেন।

বর্তমানে বয়স ৩৫ ও দুই ছেলের মা।বিবাহের বয়স ২২ বছর।

বাবা মারা গেছেন।বড় বোনের জন্য  ঐ লোকের আগ্রহী ছিল, কিন্তু বড় বোনের অন্যত্র সম্পর্ক থাকাতে বড় বোন সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

মা তখন তার সঙ্গে বিয়ে দেয়।তিনি খুব একটা প্রতিবাদ করতে পারেননি।

তার ভাষায় আমি বুঝতামই না বিয়ে কি জিনিস।

বিয়ের ৪ দিন পর শারিরীক সম্পর্ক হয় কিন্তু আমার কোন ফিলিংস ছিল না।

ওনার আগে একটি বিয়ে হয়েছিল এক এমপির  মেয়ের সঙ্গে।কিন্তু সে মেয়ে ছিল " পাগল"।

তাই পরে ডিভোর্স হয়ে যায়।
বিয়ের ১৫ দিন পর উনি ব্র্নাই চলে যান।২ বছর পর ফিরে আসেন।

দেশে চাকরী নেন।আমি ও মেয়েদের জন্য একটি জিম খুলি।আমিই মূল ইনস্ট্রাক্টর। মাসে লাখ টাকার মতন আমার ইনকাম।

বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমার মানসিক, শারিরীক চাহিদা বাড়ে।

কিন্তু তিনি সে চাহিদা পূরন করতে পারেন না,সে নিয়ে তার কোন ভ্রুক্ষেপ ও নেই।

আমার পছন্দগুলো( কোথাও ঘুরতে যাওয়া বা খেতে যাওয়া)  কোন গুরুত্ব দিতো না।

ধীরে ধীরে উনি কাছে আসলে বিরক্ত লাগতো।যেহেতু বিছানায় আমাকে তৃপ্ত করার তার কোন আগ্রহ ছিল না,ডাক্তার দেখাতে বললে তা এড়িয়ে যেতো,তাতে আমি হতাশ ও ক্লান্ত হয়ে পড়ি।

বলি তার চেয়ে তুমি দূরে থাকো।

এভাবে দুজন আলাদা রুমে ঘুমাতাম।ক্রমশ আমাদের মধ্যে দূরত্ব বাড়ে।

তাকে একদম সহ্য করতে পারতাম না।

নেটের যুগ আছে।ফেইসবুকে একজনের সঙ্গে যোগাযোগ হয়।চ্যাট হয়,আলাপ হয়।

ছেলেটি দোহার থাকে।পরে ঘন্টার পর ঘন্টা টেলিফোনে কথা হতো।

সম্পর্ক গভীর হয়।
সে আমাকে বিয়ে করবে বলে।আমি না করি।

সে বলে তোমার সন্তান থাকুক,তুমি মোটা হও তাতে কিছু যায় আসে না,আমি তোমাকেই বিয়ে করবো।

আমি ভয় পেতাম এটি সম্ভব না।

ক্রমে সবাই বুঝে ফেলে।মা- বোন- স্বামী- সন্তান সবাই টের পেয়ে যায়।

আমার দুই ছেলে।সবাই  বিভিন্ন ভাবে বাধা দেয়।কিন্তু আমি বাধা মানি না।

কয়েকবার ফোন ও নিয়ে নেয়। কাজ হয় না।

গতমাসে ঐ ছেলে দেশে আসে।আমার সঙ্গে দেখা করতে বাড়ীতে আসে।

কিন্তু ঘর ভরতি লোক, কিভাবে বের হবো।

তাকে মানা করি।আমি উপর থেকে তাকে দেখি,কিন্তু ও দেখতে পায় না।

সে কাকুতিমিনতি করে ১ সেকেন্ডের জন্য দেখা করো।আমি যাই না।

এতে ও খুব কষ্ট  পায় ও কাদতে কাদতে চলে যায়।

যেতে যেতে বলে( ফোনে) তুমি আমাকে অপমান করলে, আমি আর কখনো তোমার কাছে আসবো না।

পরে তাকে ফোন করি, সে বলে ফোন করার দরকার নেই।

সে দারোয়ানের কাছে আমার জন্য  একটি  গিফট এর  লাগেজ রেখে যায়।

সেখানে দুটি স্বর্নের আঙটি,কানের দুল,বোরখা,চকোলেট, চা,ছুরি,খেজুর ছিল।

এগুলো দেখে বাসার লোক আরো ক্ষেপে যায়।ভাবে এই লোক তো যেভাবেই হোক আমাদের মেয়েকে নিয়ে যাবে।

৩ দিন পর ফেইসবুকে দেখি  ১ টি মেয়ে গলায় ফাসি দিয়ে মারা যায়।তখন হঠাৎ মনে হলো আমার ও কি এ দশা হবে?

আমি চিৎকার করে ঐ ছেলেের নাম ধরে ডাকি,

রুম থেকে বের হয়ে পাগলের মতন তাকে খুজি,

বলি তুমি ফোন ধরো( যদিও তখন আমার কাছে ফোন নেই)।

তখন ছেলে ফোন দেয়। আমি ফোন করি, তার ছোট ভাই বলে ভাইয়া গোসল করছে পরে ফোন দেবে।সে ফোন করে।

আমি পাগলের মতন তাকে আসতে বলি,নিয়ে যেতে বলি।

সে  বলে শান্ত হও,এমন করলে লোকে কি বলবে,আমি ১ সপ্তাহ পর আসছি।

এদিকে আমার অবস্হা খুব খারাপ।

দম বন্ধ হয়ে আসতো,

চিৎকার করতাম তুমি কোথায়?
খাওয়া দাওয়া বন্ধ,ঘুম নাই।

কাপড় চোপর খুলে বাইরে চলে যেতে চাইতাম,

ঘরের ভিতর দৌড়াদৌড়ি করতাম,

কান্নাকাটি করতাম।

বড় ছেলে বলে মা  ওনার জন্য তোমার এতো মায়া আমাদের জন্য মায়া লাগে না?

আমার তখন ব্রেইন কাজ করতো না।

তাদের বলি বাবা আমি ওনাকে বিয়ে করবো তোমরা বাধা দিওনা।

স্বামীকে বলি তোমাকে ছেড়ে দেবো ওকে বিয়ে করবো।

স্বামী বলে ঠিক আছে তাকে আসতে বলো,এমনিতে তোমাকে কোথায় ছাড়বো।

তবু জিদ করি তালাক দাও।স্বামী বাধ্য হয়ে বলে ঠিক আছে কাজী অফিস এসো।

কিন্তু  ঐ ছেলে ফোন ধরে না,কোন ভরসায় তালাক নেবো।

৭ দিন পর ঐ ছেলে আসে।তার সঙ্গে রিক্সায় বিভিন্ন জায়গায় ঘুরি।

কয়েকদিন এ ভাবে তার সঙ্গে ঘুরি।

যখন তার সঙ্গে থাকি তখন সব ঠিক।

তাকে না দেখলে বা কথা বলতে না পারলেই অস্হির হতাম,পাগলামো করতাম।

এটি বাসার সবাই বুঝতে পেরে তার সঙ্গে ঘুরতে ও কথা বলতে দিতো।

কয়েকদিন পর সে বরিশাল চলে যায়।

এখন আর ফোন ধরে না।বলে ফ্যামিলি না করছে তাই বিয়ে করবে না।

সে অন্যত্র বিয়ে করতে চায়।

বলে আমরা ফ্রেন্ড হিসেবে থাকবো,

তোমার ছেলে স্বামী আছে তাদের নিয়ে থাকো।

সে যোগাযোগ করে না।

স্বামী ফোন নিয়ে নেয়।

বলে ফোন থেকে দূরে থাকলে আমি সব ভুলে যাবো, সব ঠিক হয়ে যাবে।

কিন্তু আমার মনে সারাক্ষন তার কথা।

আত্মীয়দের পরামর্শে একজন সাইকলজিস্ট দেখাই।

তিনি ঘন্টাখানেক কথা শুনে ১ হাজার টাকা নিয়ে নেয়।

শুধু বলে" বলেন"

নিজে কিছু বলে না।বিরক্ত হয়ে আর যাইনি।

আপনি বিদেশ ছিলেন তাই কয়েকদিন অপেক্ষা করে আপনার দেখা পেলাম।

আমি কিভাবে ঐ ছেলেকে ভুলে যাবো তার ব্যবস্হা করেন

..........................
এই কেইস হিস্ট্রি থেকে আমরা কি শিখতে পারি?

১। বাল্য বিবাহ ও সে বিয়েতে স্বামী- স্ত্রীর মধ্যকার বয়সের পার্থক্য খুব বেশী হলে যে অনেক সংসারে বিপর্যয় নেমে আসে তা নিয়ে সমাজকে আরো সতর্ক থাকতে হবে।

সংসার জীবনে পারস্পরিক বোঝা পড়া,মানসিক- শারিরীক  - আবেগগত  এডজাস্টমেন্ট গুরুত্বপূর্ণ।

২। দাম্পত্য জীবনে  সন্তোষজনক  ও তৃপ্তিদায়ক শারীরিক সম্পর্ক একমাত্র না হলে  ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ন বিষয়।

এ রকম যৌন সমস্যার ৮০-৮৫% মানসিক কারন সম্ভুত।

তাই যথাসময়ে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ দেখিয়ে তার সমাধান না করে একে উপেক্ষা করে চললে, একসময়   সম্পর্ক শীতল হতে পারে।এখানেও রোগীনি স্বামীর সঙ্গে এক বিছানায় শোয়াকে বিরক্তিকর, কষ্টদায়ক মনে করে ভিন্ন বিছানায় থাকতো

৩। তাকে সহ্য করতে পারতাম না,ভিন্ন বিছানায় থাকতাম-

অথচ এ রকম অস্বস্তিকর সম্পর্ক উন্নয়নে তাদের বা পরিবারের কোন কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।

দাম্পত্য সম্পর্কে মাঝেমাঝে   ভাটা পরতে পারে।

কিন্তু দীর্ঘ দিন শীতল ও বিদ্বেষ পূর্ন সম্পর্ক কখনোই কাম্য নয়।

বিদ্বেষ,ঘৃনা, তিক্ততা সময়ে কমে আসে না,বরং ব্যবস্হা না নিলে তা বাড়ে

এরকম ক্ষেত্রে মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে প্রফেসনাল সাহায্য নেওয়া জরুরী।

কেবল "পাগল" হলেই মানসিক সহায়তা নিতে হয় এ ধারনা বদলাতে হবে।

( এবার কিন্তু ঠিকই আমাদের কাছে এনেছেন।কেননা তারা ভাবছেন মেয়ে " পাগল" হয়ে গেছে)

৪। ফেইসবুকের অপব্যবহার আমাদের দেশে মাত্রাতিরিক্ত।

বেশীরভাগ এটিকে  খারাপ উদ্দেশে ব্যবহার করেন অথবা অপ্রয়োজনে ব্যবহার করেন  এ ব্যাপারে দ্বিমত করা যাবে না।

অনেক সামাজিক, পারিবারিক সমস্যার অন্যতম কারন হয়ে দাড়িয়েছে এই ফেইসবুক।

( আমরা প্রচুর সংখ্যক রোগী পাই ফেইসবুক ব্যবহার জনিত জটিলতার জন্য)

এর ব্যবহার এর ধরন কার কি রকম তা পরিবারে নিরীক্ষনের ব্যবস্হা থাকতে হবে।

একবার বদ স্বভাবে দাড়িয়ে গেলে তখন ফেরানো কঠিন( অনেকে আসক্তি পর্যায়ে চলে যায়)

৫। প্রেম- ভালোবাসা অহরহ হচ্ছে।

কিন্তু কখনোকখনো তা মানসিক,পারিবারিক, সামাজিক সমস্যা হিসেবে দেখা দেয়।

আবার তা হঠাৎ মানসিক বিপর্যয় হিসেবে ও আসতে পারে( যেমন এ কেইস)।

তখন দ্রুত মনোরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখানো জরুরী।

প্রয়োজন মত ঔষধ ও লাগবে।

মনে রাখবেন প্রেম বা আবেগের পিছনে রয়েছে মস্তিষ্কের রাসায়নিক ক্রিয়াকলাপ।

তাই রাসায়নিক( ঔষধ)  চিকিৎসার প্রতি নাক সিটকালে কাজ হবে না।

তাহলে পাবলিকের  মনে কথায় চিড়া ভিজে না ধারনা জোরদার হবে।

৫। সাইকোথেরাপিতে শুধু বলে যান নিয়ে যে অভিযোগ রোগিনী করেছেন তা থেকে আমাদের( প্রফেশনালদের)  যেমন শেখার আছে,রোগীদেরও কিছু শেখার আছে।

এটি ঠিক সাইকোথরাপিতে মনোযোগ দিয়ে শোনাটা গুরুত্বপূর্ণ,

উপদেশ বা সাজেশন দেওয়া কাজ নয়।

তবে থেরাপিস্টকে অভিজ্ঞ ও গভীর তাত্বিক জ্ঞান সম্পন্ন হতে হবে।

মনে রাখতে হবে রোগীরা তাদের কষ্টের উপশমের জন্য ডাক্তারের কাছে যান

এবং প্রথম সেশনেই তার কিছুটা হলেও প্রমান রাখতে হবে।

আমাদের ইনস্টিটিউটের একমাত্র সাইকলজিস্ট একদিন আমাকে বলেন, স্যার আপনি তো অনেক জায়গায় লিখেন,সাইকোথেরাপি যে কার্যকর সেটিও লিখবেন।

আমি বলি কথায় চিড়ে ভিজে না লোকে মনে করলেও " কথায় ও চিড়ে ভিজে" এ নামে কিছু লিখবো।

এখনো লেখা হয়নি( একসময় সাইকোথরাপি নিয়ে লেখার ইচ্ছে আছে)।

কিন্তু চিড়ে ভেজাতে হলে( মন গলাতে) বিজ্ঞান সম্মত জ্ঞান,মাঠ পর্যায়ের সবল দক্ষতা থাকতে হবে।

পয়সা দিয়ে রোগীরা শুধু কথা বলতে যান না বা কথা শুনতে।তারা নিরাময় চায়,ডাক্তারকে তা দেওয়ার মতন সক্ষমতা থাকতে হবে