Monday, April 24, 2017

সাইকিয়াট্রিস্ট এর জার্নাল-৯: নবাগতরা যে ভাবে মেডিটেশন করবেন

পর্ব -১:

জীবনকে আরো প্রশান্তিময় করতে, আরো কম চাপযুক্ত রাখতে মেডিটেশন এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কখনো কখনো জীবনের ভার এতো বেশী হতে পারে যে আমরা ভেঙ্গে পরতে পড়ি,মুছড়ে পরতে পারি।( চাকরির চাপ,সংসারে স্বামী / স্ত্রী বা  পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রত্যাশা পূরনের চাপ,পরিক্ষা সহ নানাবিধ মানসিক চাপ)। বর্তমান পরিস্হিতি যত চাপজনক বা হতাশাজনক হোক মেডিটেশন আমাদেরকে আমাদের ভিতরের সারবত্তার সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিয়ে মনকে প্রশান্ত ও চিত্তকে চাপমুক্ত রাখে।কিন্তু মেডিটেশন করতে গিয়ে আমরা অনেকেই হতাশ হই,চিন্তামুক্ত হতে পারি না বলে ও কাঙ্খিত ফল পাই না বলে।এ জন্য নবাগতদের জন্য কিছু টিপস দিচ্ছি :

১। প্রতিদিনই মেডিটেশন করার " সময়" বের করে নিতে হবে:
মনে রাখবেন- প্রাকটিস মেকস আস পারফেক্ট। যারা নবাগত মনে রাখবেন একবার এটি শুরু করলে এটি অব্যাহত রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তাৎক্ষনিক বেনিফিট হয়তো পাবেন না,কিন্তু যত প্রাকটিস করবেন ততই দেখবেন আপনার মন ক্রমশ " শান্ত" হয়ে আসছে।এমনকি প্রতিদিন অন্তত ৫ মিনিট হলেও মেডিটেশন চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে।( ৫-১০ মিনিট সময় বের করতে না পারলে বুঝবেন আপনার বড় সমস্যা রয়েছে- যা দ্রত সমাধান করতে হবে)।
২। শুরু করবেন শ্বাস- প্রশ্বাস এর ব্যায়াম দিয়ে:

মনোযোগ নিবদ্ধ রাখবেন শ্বাস প্রশ্বাস এর দিকে।গভীরভাবে শ্বাস নিতে ও ছাড়তে হবে।( বুক থেকে নয়,পেট থেকে হতে হবে)। ধীরে ধীরে যত বেশীক্ষণ সম্ভব শ্বাস নেবেন।এর পর ততটুকু সময় শ্বাস ধরে রাখবেন।পরে তার চেয়েও বেশী সময় ধরে শ্বাস ফেলবেন,যেন ফুসফুস থেকে বায়ুর শেষ অংশটুকু ও বের হয়ে যায়।শ্বাস নেবার সময় ভাবুন বিশুদ্ধ বায়ুর সঙ্গে  বিশ্বের  সকল মঙ্গল ও কল্যাণকর জিনিস আপনার শরীর- মনে প্রবেশ করছে।আবার শ্বাস ফেলার সময় ভাবুন শরীর- মন থেকে সকল দূষিত,বিষাক্ত,অকল্যাণকর জিনিস বের হয়ে যাচ্ছে।
৩। চিন্তাকে " বয়ে " যেতে দিন:
মেডিটেশনে হতাশা আসে কেননা আমরা চাই মন চিন্তামুক্ত থাকুক।তাই চিন্তাকে বাধা দিতে, দূর করে দিতে " চেষ্টা" চালিয়ে যাই।কিন্তু যা করতে হবে তা হচ্ছে চিন্তাগুলো স্রেফ বয়ে যেতে দিন।চোখ বন্ধ করলেই দুনিয়ার হাবিজাবি চিন্তার বন্যা মনে বয়ে যাবে।এগুলোকে তাড়িয়ে  দেওয়ার চেষ্টা যেমন করবেন না আবার  এগুলোর সঙ্গে লেগে ও থাকবেন না।মনকে চিন্তাগুলো থেকে " বিযুক্ত" রাখুন।শুধু দর্শকের মতন দেখুন চিন্তার ট্রেন কিভাবে  আসছে ও যাচ্ছে। চিন্তা ও আপনি এক নন।চিন্তা স্রোত আপনাকে ভাসিয়ে নিতে চাইবে, আপনি নিছক হাল্কাভাবে নিজকে মুক্ত করে শ্বাস প্রশ্বাস এর দিকে পুনরায় মনোযোগ ফিরিয়ে আনুন।
৪। একটি নির্দিষ্ট  কক্ষ বেছে নিন: বাসার এমন একটি কক্ষ বেছে নিন যেখানে বাহির থেকে বেশী শব্দ না আসতে পারে।
৫। স্হানটি যেন প্রশান্তময় হয়: ডিম লাইট ব্যবহার করুন বা যেন কোন লাইটই না থাকে।কয়েকটি মোমবাতি জ্বালিয়ে রাখুন।ধূপ জ্বালাতে পারেন বা অন্য কোন সুগন্ধি তেল
৬। নিশ্চিত করুন যেন বাহির থেকে কেউ মনোযোগে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে:
পরিবারের লোক,বন্ধু বা অন্যদের জানিয়ে রাখুন একটি " নির্দিষ্ট সময়" আপনি ব্যস্ত থাকবেন।নিজের ফোনটি ও সাইলেন্ট করে রাখুন।

Monday, April 17, 2017

যাহা বলিব সত্য বলিব-৫

৭ খুনের আসামী বলেন আল্লাহর কথা শুনে আজ আমার এ অবস্হা( নাউজুবিল্লা - ধর্মীয় অপব্যাখার করুন পরিনতি):
( প্রতি রবিবার রাত ১১-২০ মিনিটে এবিসি রেডিওতে প্রচারিত জনপ্রিয় অনুষ্ঠান "যাহা বলিব সত্য বলিব" তে  বর্নিত  অপরাধ জীবনের সত্য কাহিনী অবলম্বনে)
কাহিনী সংক্ষেপ :
পলাশ,বর্তমান বয়স ৩৪।  মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে।বাবা খুব রাগী মানুষ ছিলেন।প্রায়ই মারধর করতো। ১০-১১ বছর বয়সে তাদেরই এক ক্লাশমেট মেয়ের প্রেমে পড়ে তারা দু'বন্ধু।ঐ বন্ধুর রোল ছিল-১, তার রোল ছিল-২ ও ঐ মেয়ের রোল নং ছিল -৩। একদিন জুম্মার নামাজ শেষে তার ঐ বন্ধু বলে দোস্ত তোর কাছে একটি জিনিস চাইবো,দিবি? সে বলে হা দেবো।বন্ধু বলে এমনি বললে হবে না কসম খেতে হবে।পলাশ বলে কসম।বন্ধু বলে তাহলে কোরআন ছুয়ে বল।মসজিদ থেকে কোরআন এনে শপথ করায় বন্ধু যা চাইবে সে তা দিবে।

তখন বন্ধু বলে তুই আর বাড়ি ফিরে যাবি না,অন্যত্র চলে যা,তুই থাকলে ঐ মেয়েকে আমি পাবো না।পলাশ দ্বিধ্বায় পড়ে।কিন্তু কোরআন ছুয়ে কথা দিয়েছে সেটি বরখেলাপ করবে কিভাবে? তার মন বলে আল্লাহর কোরআন ছুয়ে শপথ ভাঙ্গলে চরম গুনাহ হবে।তাই সে তার সঙ্গে থাকা ৭-৮ টাকা সম্বল করেই ফরিদপুর থেকে ঢাকা চলে আসে।কমলাপুর এসে এক হোটেলের সামনে কাদতে থাকে।তখন হোটেলওয়ালা তাকে হোটেলে কাজ করতে  দেয়।তবে সেখানে তাকে প্রচুর মারধর ও নির্যাতন সহ্য করতে হয়।এক সময় সেখান থেকে ৫০০ টাকা চুরি করে সে পালিয়ে মিরপুরে চলে যায়।

মিরপুরে এক মাঠে বসে থাকা অবস্হায়  দুজন লোক তাকে ফুসলায় বোম মারতে পারবি? সে বলে আমি তো জানি না।তারা বলে শিখিয়ে দেবো।সে থেকে শুরু।

সে এক হরতালে বোমা মারে। পুলিশ তাকে দেখে ফেলে।কিন্তু সে দৌড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।তার সাহস ও বুদ্ধি দেখে তার কদর বেড়ে যায়।ক্রমশ সে বোমা বানাতে শিখে,এরপর দেশীয় অস্ত্র বানাতেও শিখে এবং দুর্দান্ত কিলার হিসেবে নাম কুড়িয়ে ফেলে(?)।
চাদা না দিলে দিনে  দুপুরে খুন করতো।এ পর্যন্ত ৭ টি খুন করেছে বলে জানায়।
১ম খুন- গরুর ব্যাপারীর কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা দাবী করে।অন্য আরেক গ্রপ ও সে সময় ঐ লোকের কাছে চাদা আনতে যায়।তখন পলাশ প্রতিপক্ষকে গুলি করে মেরে ফেলে।এটি নিয়ে তেমন কিছু হয়নি,কেননা তার গ্রপ ছিল অধিকতর শক্তিশালী। সে তখন কিছুদিন চিটাগাং এ গা ঢাকা দিয়ে থাকে।

এক সঙ্গে ৩ খুন- ম্যানেজারের কাছ  থেকে চাদা আনতে যায়।সে ৫ লাখ টাকা দাবী করে, ম্যানেজার বলে ৩ লাখ নিন।

এতে তার মেজাজ বিগড়ে যায়, আমাদের কথার উপর কথা।সে বলে ৬ লাখ দিবি।কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সে গুলি করে। ঐ লোক মারা যায়।তখন আরো দুজন এগিয়ে আসলে তাদের ও গুলি করে মেরে ফেলো।
সে প্রায়ই ছদ্মবেশে অপারশনে যেতো।তার নাম ডাক বাড়ার সাথে সাথে সে গড ফাদার ও বদল করতো।রাজনীতির উচ্চ স্তর থেকে তাকে ব্যবহার করা হতো ও তাকে শেল্টার দেওয়া হতো।কিন্তু এক সময় পুলিশের হাতে ধরা পরে ও জেলে যেতে হয়।
অপরাধ জগতের অনেক খবর জানে বলে পুলিশ তাকে তাদের সোর্স হিসেবে নিয়োগ দেয়।পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করার সময় এক " খারাপ" মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয়।সে মেয়েটিকে শুধু ভোগ করবে ভাবে।কিন্তু মেয়েটি তার পিছু লেগে থাকে।একসময় তারা বিয়ে করে।কিন্তু মেয়েটি তার খারাপ কাজ ছাড়ে না।তাই  সে   বউ নিয়ে দূরে  চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়,যাতে সেও অপরাধ জগত থেকে দূরে থাকে,তার বউ ও খারাপ কাজে যেতে  পারবে না।

দূরে গিয়ে তার অবৈধ  উপার্জন হারাতে হয়।সে এখন রিক্সা চালায়।একদিকে আর্থিক অসঙ্গতি অন্যদিকে পুলিশের চাপ, তাই সে এখন দিশেহারা।আবার পুরনো জগত থেকে বিভিন্ন " মিশনের" আহ্বান আসছে।একসময় টাকার অভাব ছিল না,চাইলে হাজার হাজার টাকা পেয়ে যেতো।এখন দু পয়সা দিয়েও কেউ সাহায্য করে না।তার মনে হয় তাহলে কি আবার ঐ অপরাধ জগতে ফিরে যাওয়াই সঠিক কাজ হবে?

তার বউ হযরত শাহজালালের মাজারে নিয়ে তাকে শপথ করায় যাতে সে তার বউকে ক খনো না ছাড়ে।সে শপথের কারনে খারাপ জেনেও বউ ছাড়েনি।তার ভাষ্য আল্লাহর কথা শুনতে গিয়ে আজ আমার এ অবস্হা।আমি এখন কি করবো?

সংক্ষিপ্ত পর্যবেক্ষণ :
১। কোরআন ছুয়ে শপথ: এটি আদৌ সঠিক কোন কাজ কিনা? ধর্মের মৌলিক জিনিস না জেনে ও না মেনে শুধু কোরআন এর শপথের নামে যা কিছু করা কতটুকু ইসলাম সম্মত? ধর্মীয় গোড়া বিশ্বাস ও প্রকৃত ধর্মীয় অনুশাসন পূর্ন ভাবে জীবনে ধারন করা এ দুয়ের মধ্যে যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে তা আমরা কতটুকু শিখতে পেরেছি, শিখাতে পেরেছি?  জঙ্গীবাদীরা ও ইসলামের ও কোরআনের সামগ্রিক শিক্ষা গ্রহন না করে,খন্ডিত কিছু গোড়ামীর উপর দৃড় অন্ধ বিশ্বাসকে ধারন করে ইসলামের নামে পুরোপুরি ইসলাম বিরোধী নৃশংস কাজ করে যাচ্ছে।

নামাজ রোজার নাম নেই নিছক কোরআন এর শপথের নামে অনেক জগন্য কাজ আমাাদের সমাজে অহরহ ঘটছে।প্রকৃত আলেমদের তাই ইসলামের মূল ও পূর্নাঙ্গ ব্যাখ্যা সবার সামনে তুলে ধরতে হবে যাতে শুধু কোরআন শপথ করেছে বলে পলাশের মতন মারাত্মক ভুল কেউ না করে

২। মাজার শপথ: সেটি তো আরো নাজায়েজ কাজ।কিন্তু মাজার,পীর ভক্তদের সংখ্যা কি আদৌ কমছে? ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা,বিজ্ঞানের আলো সবার মাঝে ছড়িয়ে না দিলে এ সব অপচর্চা কমার সম্ভাবনা কম

৩। রাজনৈতিক শক্তির শেল্টারে পলাশদের মতন ক্রিমিনাল তৈরী হয়।রাজনীতির শুদ্ধিকরন কবে আসবে? পুলিশ প্রশাসনে দুর্নীতি , অপরাজনীতি বন্ধ করতে না পারলে সমাজে অপরাধ নির্মূল করা কঠিন কাজ।বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাধবে কে?

Saturday, April 15, 2017

সাইকলজিক্যাল টিপস-২৯: মানুষের শ্রেষ্ঠ সম্পদ তার আত্ম মর্যাদাবোধ

পর্ব-৩( শেষ পর্ব):
৬। আপনি কি  সর্বদা অন্যদের খুশী করতে নিজকে তাদের পা- পোষ হিসেবে ব্যবহ্রুত হতে দেন?(you constantly try to make others happy, essentially becoming their door- mate?)

আমরা যখন নিজেরা সুখে থাকি কেবল মাত্র তখনই অন্যদের সুখী করতে পারি।নিজেদের দিকে ফোকাস করে আমরা নিজেদের ভিতর সবচেয়ে বেশী পরিবর্তন আনতে পারি।মহাত্মা গান্ধী বলেছেন" যে পরিবর্তন পৃথিবীতে চাচ্ছেনন,সে পরিবর্তন আগে নিজের ভিতর আনুন"। কিন্তু যদি অন্যকে খুশী রাখতে গিয়ে নিজের স্বাধীন সত্বা বিকিয়ে দেন,তারা যেমন খুশী আপনাকে পায়ে মাড়িয়ে যেতে পারে,আপনি তাদের হাতের ক্রীড়নক হিসেবে কাজ করেন,তাহলে নিজকে বিকশিত করা,নিজের উত্তরন ঘটানো কি সম্ভব? সে ক্ষেত্রে আপনি কি সুখী হতে পারেন? নিজে সুখী না হলে তাদের সুখী করবেন কিভাবে? অথচ আপনি জান- প্রান দিয়ে চাচ্ছেন তাদের সুখী করতে,খুশী করতে।অন্যের পা-  পোষ হয়ে তাদের দাসত্ব করা যায়,নিজকে সম্মানিত বা শ্রদ্ধা করা যায় না।
৭। অন্যদের প্রয়োজন / চাহিদার নীচে নিজের চাহিদাকে চেপে রাখেন?
নিজের বিশ্রাম,আরাম ও যত্ন বাদ দিয়ে অন্যকে ফেবার করতে যাবেন না।আমরা যখন নিজের যত্ন ভালোভাবে নেই তখন আমরা ভালো ভাবে কাজ করতে পারি,অধিক উপার্জনক্ষম থাকি এবং আবেগগত ভাবে সুস্হির থাকি।তাই নিজের প্রয়োজন, চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিন,নিজকে শ্রদ্ধার আসনে বসান।
৮।  আপনি কি বদ সঙ্গ ত্যাগ করতে পারছেন না?
আমরা নিজেদের প্রকৃত সত্বাকে বিকশিত করতে পারবো না যদি না যারা আমাদের সঙ্গ দেন তারা আমাদের সত্যিকার সত্বাকে উন্নত করতে সহায়তা না করেন।সময় নিন ও খুজে বের করুন " সম- মনা" লোকদের যারা আপনি যে রকম তেমনটি মেনে নেয় ও আপনাকে  সমর্থন  করেন( তবে সাময়িক সুবিধা নেওয়ার জন্য যারা তোষামোদি করে সেটিকে সৎ সঙ্গ মনে করবেন না)। অন্যদের ভালোবাসা ও সমর্থন না  পেলে নিজকে শ্রদ্ধা করা কঠিন।তাই তেমন উত্তম সঙ্গ বেছে নিন যারা আপনার গুনগ্রাহী,আপনার সত্যিকার সমর্থক।
৯। মিথ্যে "ভাবমূর্তি" তৈরীর অপচেষ্টা করবেন না:

মনে রাখবেন অন্যরা আমাদের বাস্তব সত্য সম্বন্ধে জানে এবং বিশেষ পরিস্হিতিতে কি ভূমিকা নেই তা ও জানে।তাই ভান করে,মেকি উচ্চ ভাবমূর্তি তৈরীর চেষ্টা নিজকে লজ্জায় ফেলবে,নিজের অবস্হান প্রশ্নবিদ্ধ হবে।কখনো ভুল থেকে শিখে নিয়ে বা ভুলকে সংশোধন করে নিজের একটি স্পস্ট, উজ্জ্বল ও প্রকৃত ভাবমূর্তি তৈরী করুন এবং নিজের সে ইমেজকে নিজে সম্মান করুন,পছন্দ করুন।এটি হচ্ছে প্রকৃত আত্ম শ্রদ্ধার লক্ষন।
মনে রাখবেন আমরা কেউ নিজকে অশ্রদ্ধা করতে চাই না।কিন্তু আমাদের কিছু স্বয়ংক্রিয় আচরন নিজকে অসম্মান, অশ্রদ্ধা করার পর্যায়ে নিয়ে যায়( ৩ পর্বে যেগুলো উল্লেখ করেছি)। একটু সচেতন হয়ে সেগুলো চিন্হিত করে ও সংশোধন করে আমরা আত্ম শ্রদ্ধা বাড়াতে পারি,যা অন্যদের কাছে আমাদের সম্মান, মর্যাদা বৃদ্ধি করবে।

Wednesday, April 12, 2017

সাইকোলজিক্যাল টিপস-২৯: মানুষের শ্রেষ্ঠ সম্পদ তার আত্ম মর্যাদাবোধ

পর্ব-২:
৩। আপনি সত্যিকার যেরকম অনুভব করছেন    নিয়মিত ভাবে সেগুলো লুকিয়ে রাখেন?
মানুষ মাত্রই আবেগ পূর্ন জীব।কিন্তু সমাজ আমাদের শিখিয়েছে এ সব লুকিয়ে রাখতে যাতে অন্যরা অস্বস্তিতে না পড়ে।সব কিছু ভালো যাচ্ছে না তথাপি প্রতিবার " চমৎকার আছি"(fine) বলা শুধু নিজকে ঠকানো নয়,নিজকে অশ্রদ্ধা করার সামিল।আমাকে দুংখিত দেখলে,বিধ্বস্ত দেখলে,উদ্বিগ্ন দেখলে অন্যদের কাছে ছোট হয়ে যাবো,তারা মজা পাবে,টিটকারি করবে ইত্যাদি ভাবনা মানে তাদের মতামত ও প্রতিক্রিয়াকে গুরুত্ব দেওয়া।আত্ম মর্যাদা সম্পন্ন মানুষ অন্যদের থোরাই কেয়ার করে,তা প্রশংসা করুক,বা তিরস্কার করুক বা উপহাস করুক।আপনি যা ও যেরকম তেমনটি প্রকাশ করুন,কারো লজ্জায় তা লুকিয়ে রাখবেন না।আপনি আপনার মতন হয়ে উঠুন।
৪। অন্যদের উপদেশ শুনেননি বলে নিজের জন্য সঠিক কাজ করার পর অপরাধ / গ্লানিতে ভুগেন?
আমাদের  জীবনে গুরুজন, বিজ্ঞজনের পরামর্শের প্রয়োজন রয়েছে।তবে উপদেশ যদি সঠিক মনে না হয় বা অন্যের মতামত যদি নিজের জন্য সঠিক বিবেচনা না করেন, সে  ক্ষেত্রে নিজের  মতন কাজ করে অপরাধে ভুগবেন না।তারা নাকোচ হবে,তারা ক্ষেপে যাবে,তারা কষ্ট পাবে,তারা অসহযোগিতা করবে ইত্যাদি  ভয়,আশঙ্কা থাকা মানে নিজেকে কম গুরুত্ব দেওয়া,নিজকে কম  শ্রদ্ধা করা।
৫। যা আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয় বা যার  জন্য আপনার সময় নেই , সে সব বিষয়ে ও  নিয়মিত "হ্যা" বলে থাকেন?
নিজকে সময় দিন,সমর্থন দিন,সম্মান দিন। অন্যদের অনুরোধ পারলে রাখবেন,তাদের জন্য সামর্থ্য মত কাজ করবেন কিন্তু তাই বলে নিজের শিডিউল বাদ দিয়ে,নিজের অগ্রাধিকার বিসর্জন দিয়ে  শুধু তাদের খুশী রাখতে  সব সময় " হ্যা" বলে যাবেন তেমনটি যেন না হয়।এটি স্বার্থপরতা নয়। এর জন্য তারা আপনাকে বদনাম দিলে,অপছন্দ করলে বরং সেটি-ই হবে তাদের স্বার্থপরতা। নিজের প্রয়োজনে কাজ করাকে পক্ষপাতিত্ব বলে না,এটি না করলেই বরং আপনি নিজকে অসম্মান করবেন
( ৩য় পর্ব- আগামীকাল)

Sunday, April 9, 2017

সাইকোলজিক্যাল টিপস-২৯: মানুষের শ্রেষ্ঠ সম্পদ হচ্ছে তার আত্ম মর্যাদাবোধ

পর্ব-১
অর্থ-বিত্ত,শিক্ষা,ক্ষমতার চেয়ে অনেক উন্নত ও শ্রেয় সম্পদ হচ্ছে আপনার উচ্চ ও সবল আত্ম  মর্যাদাবোধ ।
নিজের উপর আস্হা রাখা,নিজের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা,নিজের সঙ্গে উত্তম যোগাযোগ রাখা এবং সর্বোপরি নিজকে সম্মান/ শ্রদ্ধা করা সুন্দর ও সুখী জীবন গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
আপনি কখনো আপনার সর্বোত্তম সত্বার বিকাশ ঘটাতে পারবেন না, যতক্ষণ না অন্যদের কাছ থেকে যে শ্রদ্ধা, সম্মান আশা করেন,ততটুকু সম্মান,শ্রদ্ধা নিজকে নিজে না করেন।
আপনি নিজকে অসম্মান, অশ্রদ্ধা করছেন কিনা কিভাবে বুঝবেন?

১। অন্যদের কাছ থেকে গুরুত্ব,সম্মান পাওয়ার জন্য আপনি যা নন তেমন সাজার চেষ্টা করেন?(you present yourself as something you are not in order to gain favor):

আমরা সবাই কম বেশী  অন্যদেরকে যেভাবেই হোক  মুগ্ধ করতে(ইমপ্রেস)  চাই।আমরা জানি এটি করা উচিৎ নয়, তথাপি যে ভাবেই হোক আমরা তেমনটি করে থাকি।অন্যকে ইমপ্রেস করতে চাওয়া মানে আমি তত ভালো নই,তত যোগ্য,উত্তম,প্রশংসনীয় বা শ্রদ্ধেয় নই,মনে মনে এটি স্বীকার করে নেওয়া।
আত্ম মর্যাদাবোধ, আত্ম শ্রদ্ধা  কম থাকলে নিজকে  আমরা এমনভাবে তুলে ধরতে চাই যেন অন্যরা মুগ্ধ হয়,চমৎকৃত হয়।যেন তারা ভাবে এ লোক কত উত্তম,যোগ্য, শ্রদ্ধেয়।
কেন তাদের কাছে নিজকে এতো ভালো প্রমান করতে হবে? যদি তারা  আপনাকে  ভালো মানুষ না ভাবে,তাহলে তারা  নিজেরা আসলে কতটুকু ভালো মানুষ?  আপনি যা সেটিকে তারা সম্মান করতে না পারলে তারা আপনার কাছে ভালো,শ্রদ্ধেয় মানুষ কেন হবে?
যে নিজকে ভালোবাসে,নিজকে পছন্দ করে,নিজকে সম্মান করে তার অন্যদের ইমপ্রেস করার মরিয়া চেষ্টা থাকার কথা নয়।আপনার মধ্যে কি অন্যদের মুগ্ধ করার চেষ্টা বেশী?  তাহলে আজই সে দাস মনোভাব পরিহার করুন। নিজকে মুক্ত,নির্ভার করুন

২। অন্যরা যা-ই বলে তাতেই আপনি সমর্থন দেন,কেননা আপনি অন্যকে আহত করতে চান না:
আপনার নিজস্ব অভিমত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু যখন আপনি নিজস্ব মতামত প্রকাশ না করে( ভয়,লজ্জা,লোভ যে কারনেই হোক) তাবেদারের মতন অন্যদের মতকে সমর্থন করে যান তখন এটি নিজের কাছে ও তাদের কাছে প্রমানিত হয়, আপনার মতামত আসলেই গুরুত্বপূর্ণ নয়।
তার মানে আপনি গুরুত্ব পাওয়া,শ্রদ্ধা পাওয়ার মতন মানুষ নন।কেন আপনি এমনটি করেন? আপনি চান না সঠিক কথাটি বলে অন্যদের কাছে নিজকে অপ্রিয় করে তুলবেন।যদি আপনার সৎ,সুচিন্তিত মতামত শুনে কেউ আহত বোধ করেন,ক্ষুব্ধ হন,তাহলে বুঝবেন তারা আপনার অভিমত চায় না,তারা চায় আপনি হবেন তাদের জন্য একজন " ইয়েস ম্যান" মাত্র।অন্যদের " ইয়েস ম্যান" হয়ে যারা সারাজীবন কাটায় তাদের আর যাই থাকুক আত্ম- শ্রদ্ধা, আত্ম সম্মান বলে কিছু কি থাকে?
(২য় পর্ব- আগামীকাল)

Wednesday, April 5, 2017

রোগ কাহিনী -১৬

মেয়ে বলে " মেয়েদের উপর থেকে আদর,মায়া সব উঠে গেছে স্যার"
মা বলে" জীবনেও শহর দেখিনি,মেয়েকে নিয়ে একাই আপনার কাছে চলে এসেছি স্যার"
রোগ কাহিনী:
আয়শা বেগম,বয়স ২৪। দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। কোন ছেলে সন্তান নেই।
আশেপাশের সবাই বলে মেয়েদের বিয়ে হলে অন্য সংসারে চলে যাবে, তখন বৃদ্ধ অবস্হায় তোমাকে কে দেখবে?
এরপর একা একা ভাবতাম  ঠিকই তো শেষ বয়সে ছেলে না থাকলে কে দেখবে,কেমনে একাকী থাকবো?
মেয়েদের উপর থেকে আদর, মায়া সব উঠে যায়।সারাদিন ছেলের চিন্তা মাথায় ঘুরে।মাকে বলি আমাকে একটি পালক ছেলে হলেও এনে দাও।

বার বার একই চিন্তা।কিছু ভালো লাগে না।কেবল হাহুতাশ।ঘর সংসারের প্রতি মায়া নেই,কান্নাকাটি করি,ঘুম হয় না,কলিজা ধক ধক করে, কান গরম হয়ে যায়,মানুষের সহিত মিশতে ভালো লাগে না,কেবল চিন্তা কে শেষ বয়সে আমাকে দেখবে,আমার পাশে  থাকবে?
স্যার আমাকে আগের দিন ফিরিয়ে দিন।আমি মেয়েদের যেন আগের মতন মমতা করতে পারি।ঘরে এলেই মনে হয় আমি একা, মেয়েরা  চলে গেছে,আমি শেষ বয়সে,আমি বুড়ী  হয়ে গেছি।একা কেমনে থাকবো?

মা,স্বামী সবাই বোঝায়,কিন্তু আমার মন মানে না।রোগীনির মা বলে স্যার মেয়ের বেহাল অবস্হা দেখে আমাদের পাশের বাড়ীর একজন বললো আপনার কাছে এলে সব ঠিক হয়ে যাবে।আপনি নাকি জ্বীন ভূত ও তাড়াতে পারেন।

স্যার জীবনে কোনদিন শহর দেখিনি।মা- মেয়ে সাহস করে আপনার ঠিকানা নিয়ে ঢাকা শহরে আইছি।আমার মেয়েকে বাচান।

মেয়ে বলে স্যার আমি চাই আমার আগের দিনগুলো ফিরে আসুক,মেয়েদের প্রতি, সংসারের  প্রতি আকর্ষন,মমতা ফিরে আসুক।ছেলে শব্দটা যেন আর মনে না আছে।
...........................
এই কেইস হিস্ট্রি থেকে আমরা কি শিক্ষতে পারি?
১।  নবীজীর আমলে নাকি কন্যা সন্তান হলে মেরে ফেলা হতো।সে অন্ধকার যুগ থেকে কতটুকু এগিয়েছি আমরা? এখনো গর্ভবতী মায়েরা আল্ট্রাসনোগ্রাম করাতে গেলে প্রথমেই জানতে চান " ছেলে না মেয়ে"? বাচ্চার অবস্হা কেমন সেটি আগে জানতে চান না।আমার জানা এক তরুনী একজন কন্যা সন্তান হওয়ার পর স্বামী - শ্বশুর বাড়ীর সবাই খুবই নাকোচ হয়।অজ্ঞতা বশত কয়েক মাসের মধ্যে আবার গর্ভবতী হয়ে যায়।এবার স্বামী স্ত্রী কাউকে না জানিয়ে ঠিক করে সন্তান এখন নষ্ট করবে না,আগে জানবে ছেলে না মেয়ে।যদি ছেলে হয় তাহলে নষ্ট করবে না।তারা বার বার আল্ট্রাসনোগ্রাম করাতে যায় জানতে ছেলে না মেয়ে।দূর্ভাগ্যবশত তাদের জানানো হয় এখনো স্পস্ট নয়,বলা  যাবে না।এ ভাবে ৪-৫ মাস হয়ে যায়,তবুও জানতে পারে না।তাই তারা আর কোন রিস্ক না নিয়ে অবৈধ ভাবে এবরশন করান। নারী- পুরুষ  সমতার যুগে ছেলে সন্তান এখনো এতো কাম্য কেন?
২। আমার আরেক রোগীনির শ্বাশুড়ী তাকে সারাক্ষণ খোটা দেয় তুমি আমার ছেলেকে একটি ছেলে দিতে পারলে না।এ না পারার যন্ত্রনায় মেয়েটি ডিপ্রেশন এ ভুগছে।আমি তাকে বললাম তুমি তোমার শ্বাশুড়ীকে বলো যে আপনার ছেলেকে বলুন আমাকে একটি ছেলে সন্তান উপহার দিতে। সে আতকে বলে সেটি কেমনে বলি।আমি তাকে বুঝিয়ে দেই কিভাবে ওয়াই ক্রমোজমের কারনে ছেলে সন্তান হয় এবং সেটি একমাত্র পুরুষ/ স্বামীর কাছ থেকেই আসতে পারে, স্ত্রীর  কাছ থেকে নয়।আপনারা সবাই কি সকল স্বামী ও তাদের আত্মীয়দের এই বৈজ্ঞানিক তথ্যটি জানিয়ে দেবেন?
৩। যাই হোক বর্তমানে এই রোগীনির ব্যাপারটি আর নিছক মনো- সামাজিক সমস্যায় সীমিত নেই।এটি একটি মানসিক রোগে দাড়িয়ে গেছে,যার ভালো চিকিৎসা রয়েছে। আমি তাকে ও তার মাকে নিরাশ করিনি।তাদের যথাযথ চিকিৎসা দিয়ে আশ্বস্ত করেছি

Sunday, April 2, 2017

সাইকোলজিক্যাল টিপস-২৮

পর্ব-৩(শেষ পর্ব): আপনি কি অত্যধিক দুশ্চিন্তা করেন? প্রায়ই নিজকে অসুখী মনে হয়?
তাহলে গবেষনা বলে আপনি একজন জিনিয়াস ও মানব দরদী
............................................
আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার( emotional intelligence) সঙ্গে দুশ্চিন্তা,কষ্ট,উদ্বেগ,ভয় এমনকি আতঙ্ক জড়িত।আমাদের সাইকিয়াট্রিতে দুই ধরনের মানসিক সমস্যা দেখা দেয়: একদল যারা টেন্ডার মাইন্ডেড-
এরা নরম মনের,কোমল স্বভাবের অল্পতে আঘাত পান, নিজের ও অন্যের কষ্ট সমস্যা নিয়ে বেশী ভাবেন,লজ্জা,ভয় বেশী,দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে সচেতন।
এরা উদ্বেগ,দুশ্চিন্তা, ভয়,আতঙ্ক,মনোবেদনা সহ নানা রকম মানসিক কষ্টের মধ্যে জীবন- যাপন করেন।এরা নিজের ও অন্যের জীবনকে  আরো উন্নত, মানবিক করতে চান।

অন্য ধরনের হচ্ছে অতি টাফ মাইন্ডেড:
এমপ্যাথী বিহীন অর্থাৎ আবেগীয় বুদ্ধিহীন।
এরা  পাষন্ড,নির্মম,নিষ্ঠুর,অনুতাপহীন,বিবেকহীন।এরা ভয় ভীতিহীন,বেপরোয়া,  উদ্বেগ হীন,সমাজ ও নৈতিকতা বিরোধী।এরা অভিজ্ঞতা থেকে শেখে না,শিখতেও চায় না।

তবে আমাদের সমাজ আজ এদেরই নিয়ন্ত্রণে।( জীবনানন্দের কবিতা মনে আছে?" যারা অন্ধ তারাই আজ সবচেয়ে বেশী দেখে.... পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া)।

বুঝতেই পারছেন আবেগীয় বুদ্ধি বেশী হলে ওদের মতন  দায়িত্বহীন,বিবেকহীন জীবন আপনি যাপন করতে পারবেন না।তাই দুশ্চিন্তা আপনার পিছু ছাড়বে না, এটাই স্বাভাবিক।

( ওরা কিন্তু আপনার এই ভালো মানুষীকে দূর্বলতা ভাববে,দূর্বল ব্যক্তিত্ব মনে করবে,হয়তো উপহাস এমনকি " পাগল"  বলে ঠাট্টা করবে।কিন্তু মূলত তারাই হচ্ছে জটিল মানসিক রোগী যাদের শোধরানো কঠিন কাজ)।

বৈজ্ঞানিক গবেষনায় কি বলে:
লন্ডনের কিংস কলেজের নিওরোলজি অব পার্সোনালিটির বিশেষজ্ঞ ড. এডাম পারকিনস বলেন" আপনি যদি অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করেন বা অনেক চিন্তা মাথায় উদ্ভব হয় এবং এ কারনে উদ্বেগ বা আতঙ্ক অনুভব করেন তার কারন আপনার ব্রেইনে ইন- বিল্ট থ্রেট জেনারেটর রয়েছে।এটি হয় ব্রেইনের মেডিয়াল প্রি- ফ্রন্টাল কর্টেক্স এর অত্যধিক ক্রিয়াকলাপের জন্য। আবার তেমন কারন ছাড়া ভয়- আতঙ্কে ভুগছেন এমাগডেলার ব্যাসাল লেটারেল নিউক্লি এর অতিরিক্ত রিএকটিভিটির জন্য। "

এগুলো হচ্ছে আমাদের " স্যানিটি চেক" -

অর্থাৎ নিজে ও অন্যরা "মানসিক ও বিচারবোধের দিক থেকে সুস্হ", কিনা তা চেক করে নেওয়া।এগুলো দেখা যায় অনেক জিনিয়াসদের মধ্যে।

যেমন: আইজ্যাক নিউটন,চার্লস ডারউইন,ভিনসেন্ট ভ্যান গগ,কুর্ট কেভিন।

সৃজনশীলতা আর মনোযন্ত্রনা যে একসূত্রে গাথা এটি সবচেয়ে সুন্দর ভাবে বর্ননা করেছেন জন লেনন

"জিনিয়াস মানেই যন্ত্রণা "(Genius is pain)।

ব্রেইনের ঐ অংশগুলো আমাদের সফল মানব বিবর্তনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

স্টেট ইউনিভার্সিটি অব  নিউ ক্যাসল ডাউন স্টেট মেডিকেল সেন্টারের প্রফেসর ড. জেরেমি কপলান বলেন" সব সময় হেসে খেলে জীবন কাটায়  যারা তাদের চেয়ে যারা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করে, তারা সম্ভাব্য বিপদ থেকে নিজেদের ও অন্যদের রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।এভাবে তারা মানব প্রজাতির টিকে থাকার ক্ষেত্রে নিয়ামক ভূমিকা পালন করে থাকে"।