Friday, May 5, 2017

সাইকিয়াট্রিস্ট এর জার্নাল-১০: আবুবাকার নামা( ভুল করে কেউ আকবরনামা পড়বেন না) এবং ফেইসবুকি ও চিত্ত- জ্বালা বনাম চিত্ত বিনোদন


কোনভাবেই এই বিষয়ে লিখতে চাচ্ছিলাম না।কিন্তু মাঝে মাঝে কিছু বিষয়কে এড়িয়ে যাওয়া অন্যায় বলে মনে হয়।অপ্রিয় হবার ভয় আমার কখনো ছিল না।এমনকি রীতিমত ঝুকি নিতেও কার্পন্য করিনি।
ফেইসবুক ব্যবহারে ফেইসবুক এডিকশন,অসামাজিক-অনৈতিক কাজ ও অপরাধ সহ ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক এবং রাস্ট্রীয়,আন্ত- রাস্ট্রীয় সমস্যা বেড়েছে  এটি অনস্বীকার্য। তথাপি গন- মানুষের মনন পঠনের জন্য  এটি একটি উত্তম মাধ্যম।(অন্তত আমার জন্য ফেইসবুক আশীর্বাদ)।
ফেইসবুকে সাম্প্রতিক কালে বাঙ্গাল বনাম বাঙ্গালী,ভদ্রলোক বনাম ভদ্দর লোকের সাহিত্য নিয়ে বেশ পান্ডিত্যপূর্ন,ব্যঙ্গ- রসাত্মক আলোচনা দেখছি।আমি সব ধরনের পোস্টই পড়ি- আম- জনতা থেকে বিশিষ্ট পন্ডিতদের।নিজের " বি পজিটিভ বি হ্যাপী" এর লেখাই অনেক জমা,তাই ইচ্ছে থাকলেও অন্য সামাজিক ইস্যু গুলো নিয়ে পোস্ট দিতে পারি না( যদিও আমি সব বিষয়েই যথেষ্ট উৎসুক ও আগ্রহী মানুষ) ।
এতো বড় ভূমিকা দেওয়ার কারন চিন্তাশীলতা ও বিবেক বোধ মাঝে মধ্যে বাধ্য করে কিছু বিষয়ে কিছু না কিছু বলতে( যেমন যথেষ্ট ঝুকি সত্বেও তরুন ডাক্তারদের আন্দোলন - প্রাপ্তি- অপ্রাপ্তি নিয়ে একটি বড় লেখাই লিখে ফেলেছিলাম।ভাগ্যিস তা বরং যথেষ্ট পাঠক- প্রিয়তা পেয়েছিল।)
আবুবাকর নামে বাংলাদেশে একজন অতি জনপ্রিয় লেখক রয়েছেন অনেকের মতন আমি ও তা জানতাম না।যেমন এক সময় গায়িকা মমতাজ বা হিরো আলম বলে হিরো আছে তা ও জানতাম না।মমতাজ কিন্তু অগোচর থেকে শুধু গোচরে আসেনি,নিজ প্রতিভা বলে একটি বড় ও সম্মানজনক আসন পেয়ে গেছেন( অনেকে প্রতিভা নিয়ে প্রশ্ন করতে পারেন,তা ভিন্ন মত থাকবেই)। হিরো আলম উৎকট নারসিসিজম এর   ক্যারিকেচার দেখিয়ে প্রচারে চলে আসলে ও খুব যে বড় অবস্হান দখল করে নিতে পেরেছেন বলা যাবে না( এখানে ও কেউ ভিন্ন মত দিতে পারেন যে না সে ভালো অবস্হানেই পৌছতে পেরেছেন)। কিন্তু সাম্প্রতিক আবুবকর নামক লেখক নিয়ে শেষ মন্তব্য করার সময় এখনো আসেনি।কিন্তু উনাকে নিয়ে কারো পক্ষপাতিত্ব আবার কারো চিত্ত- জ্বালা ও চিত্ত- বিনোদনের যে হিরিক পরেছে সেটি নিঃসন্দেহে চিত্তাকর্ষক বটে।

১। তিনি কোন মানের লেখক? তিনি কি রবীন্দ্রনাথ বা সেক্সিপয়র তুল্য? ১ম শ্রেনীর,২য় শ্রেনীর না.. ৩য়,৪র্থ  শ্রেনীর? শ্রেনী মাপার মানদণ্ড কি?বলবেন আমরা শ্রেনী বিবেচনা করিনি,তাহলে কোন বিবেচনায় তিনি হাস্যকর লেখক মনে হলেো?
নিসঙ্কোচে তিনি রবীন্দ্রনাথ তুলনীয় নয়,এমনকি ১ম শ্রেনীর ও নয়( হলে এতো বছরে বিশ্ব নন্দিত না হোক,দেশ নন্দিত হতেন।কেননা তিনি অনেক পুরনো লেখক, উনার বই প্রকাশ্যে  বহুল পঠিত ছিল কিন্তু সুধীজনের দৃষ্টি কাড়তে পারেননি।না পারার কারন তিনি স্বল্প শিক্ষিত বা মোল্লা টাইপের বা গ্রাম্য এরকম কোন শ্রেনী বিদ্বেষ নয়।মান সম্পন্ন লেখা বাজারে বের হলে এবং বহুল প্রচারিত হলে কয়েক মাস না হোক কয়েক বছরে তা কোন না কোন গুনী ব্যক্তির চোখে পরতো।আবার সম সাময়িক স্তরের চেয়ে অনেক উচ্চমাপের বলে বর্তমানে তিনি স্বীকৃতি পাচ্ছেন না( যেমনটি ঘটেছিল জীবনানন্দ এর বেলায়) ব্যাপারটি তেমন ভাবার ও কারন নেই( ছিদ্রান্বেষীরা  এখানে ও প্যাচ দিতে পারেন)। যারা উনাকে নিয়ে তুচ্ছ - তাচ্ছিল্য ও হাসি- তামাসা করছেন তারা নিশ্চয় উনাকে রবীন্দ্র তুল্য বা ১ম শ্রেনীর সাহিত্যিক ভেবে তা করছেন না।তারা নিজেদের উচ্চ- মার্গের  পাঠক না ভাবলে উনাকে নিয়ে তাচ্ছিল্য করবেন কেন?।লক্ষ লক্ষ পাঠক- পাঠিকা যার( যেমনটি প্রচারিত হয়েছে) তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ বিদ্রূপ করা মানে , তার পাঠক পাঠিকার চেয়ে উনারা  নিজকে উচ্চ মার্গের পাঠক পাঠিকা ভাবছেন।( উচু মান নিয়ে হাসি তামাশা হয় না নিন্ম মান নিয়ে? এটিও ব্যাখ্যার দরকার আছে?)
২। তথাকথিত উচ্চ মানের লেখক ও পাঠক বনাম নিম্ন মানের লেখক ও পাঠক থাকলে এদের মধ্যে শ্রেনীভেদ ও আছে।তখন উচ্চ  ভাবা ব্যক্তিরা যদি নিম্ন মানের লেখক/ পাঠককে ব্যঙ্গ করে সেটিকে কি শ্রেনী- বিদ্বেষ বলা যাবে না?
৩। তারা আবার বলেন মান বা শ্রেনীর জন্য নয়,উনি ইসলাম ধর্মকে পুজি করে উপন্যাস লিখে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার চেষ্টা করেছেন তাই উনার জাত- গোষ্ঠী উদ্ধার করা নাজায়েজ না।হুমায়ুন আহমেদ ওমুক করে,শরৎচন্দ্র তেমন করে বা ঐ লোক যৌনতা সম্বল করে বা তসলিমা পুরুষ বিদ্বেষ কাজে লাগিয়ে জনপ্রিয় হয়েছেন- তা আপনাদের গা জ্বলবে কেন? আপনারাও পারলে তেমন কিছু ব্যবহার করে জনপ্রিয় হয়ে যান,কেউ মানা করছে?
৪। সবচেয়ে বড় অভিযোগ উনি বোরখা পড়ে প্রেম করা সহ  ধর্মীয় স্টাইলে প্রেম- যৌনতা করা যায় এই প্রলোভন দেখিয়ে মুসলিম তরুন তরুনীদের কাছে জনপ্রিয় হয়েছেন যা পুরো ইসলাম পরিপন্হী ও ধর্ম অবমাননার সামিল।তারা বলেন শ্রে্নী বিদ্বেষ নয়,নিম্ন মান ও নয়, আমরা তার বিরুদ্ধে বলছি তিনি ইসলামী পন্হায় প্রেম যৌনতা করা যায় এমন না হক,  ইসলাম বিরোধী কাজ করেছেন।নাউজুবিল্লা বিবাহ পূর্ব প্রেম যৌনতাকে উনি জায়েজ করার চেষ্টা করেছেন।কত বড় নাফরমানি কাজ?।সাবাস,হাত তালি দিতে হয় এ সব ইসলাম প্রিয় ধার্মিক মানুষদের।ইসলাম ধর্মের এতো বড় অবমাননা কেমনে তারা সইবে? তাই উনারা এই বক ধার্মিক আবুবাকর এর বিরুদ্ধে জিহাদের অংশ হিসেবে এরকম সমালোচনা, বিদ্রূপ করছেন।তবে আফসোস হেফাজত বা জামাত বা আই এস সহ কেউ এই ইসলাম ধর্ম বেচে ও ইসলাম ধর্মের বিকৃত ব্যাখ্যা দিয়ে প্রেম যৌনতার মতন অতি গরহিত বিধর্মী কাজের বিরুদ্ধে ঐ লোকের ফাসি চাওয়া দূরে থাক, তার বিপক্ষে একটি বাক্য ও ব্যয় করছে না।তাই বাধ্য হয়ে এই সেকুলার, অসাস্প্রদায়িক গোষ্ঠীকেই ইসলাম ধর্মকে অপব্যবহার থেকে রক্ষার দায়িত্ব নিতে হচ্ছে।মহান আল্লাহ উনাদের এই ইসলামী জিহাদকে কবুল  করুন।সবাই বলুন - আমিন।
৫। উনাকে দেখে ও জেনে এটি বোঝা কঠিন নয় যে উনি সাধারন মানের একজন মুসলিম লেখক( কেননা উনি নাকি মুসলিম সংস্কৃতি ধারন করে উপন্যাস লিখেছেন)। ।দস্যু বনহুর এর লেখিকা বা আনোয়ারা উপন্যাস লেখক ও একটি শ্রেনীর   ও একটি নির্দিষ্ট বয়সের পাঠকদের কাছে জনপ্রিয় ছিলেন( ৭ম-৮ ম শ্রেনীতে থাকাকালিন আমি ও রাত জেগে এ সব বই পড়েছি-) । আবুবাকার সম্ভবত সে মানেরই একজন লেখক,তবে অনেক বেশী জনপ্রিয়। লক্ষনীয় উনি নিজে নিজের প্রচারে কখনো নেমেছে বলে শুনিনি( যা আমরা অনেকেই আপ্রাণ চেষ্টা করি)। সাক্ষাতকারে ও আত্ম প্রচার বা আত্মরম্ভিতার কোন লক্ষণ ছিল না।সব ব্যাপারেই সাদা মাটা,সাধারন।ওনাকে কোন গোষ্ঠী বিশেষ উদ্দেশ্যে প্রচারে নিয়ে এসেছে কিনা সে নিয়ে আরেকটি গোষ্ঠী উৎকন্ঠিত।এটি ঠিক এই প্রচারে উনার নাম খ্যাতি বেড়েছে এমনকি আপাত অনেকের কাছে অনেক বড় লেখক ও মনে হতে পারে।কিন্তু এতে উনার কোন হাত নেই।উনি আমাদের অনেকের মতন এতো বড় সুযোগকে কাজে লাগানোর ও কোন চেষ্টা করছেন না।তবে কেন বিদ্বেষ?  কেন হাসি তামাশা? ( তার লেখার মান বা বিষয় বস্তু নিয়ে সমালোচনা এক কথা,আর তাকে ক্লাউন বানিয়ে মশকারা করা ভিন্ন কথা।তাকেই ক্লাউন বানানো যায় যিনি কথায়,আচরনে এমন কিছু করেন যা বিরক্তিকর, আপত্তিকর ও অন্যের জন্য অপমানজনক। যেমন- ট্রাম্প,এরশাদ,হিরো আলম)।
যারা জ্বলে পুড়ে মরছেন এটি ভেবে এমন লেখক এতো বড় প্রচারনা কেন পাবে,কেন এতো বড় মাপের লেখক বলে দেশ বিদেশে প্রচার হবে,তাদের একটি ধ্যৈর্য্য ধরতে বলবো।সময়ের বিচারে  কোনটি স্বর্ন আর কোনটি নিছক পাথর তা নির্নিত হয়ে যাবে।আবুবাকার আবুবাকারই থাকবেন। তাকে কেউ উচ্চে বা কেউ নিম্মে নিয়ে যেতে পারবেন না( তাহলে এরশাদ সাহেব নিজ প্রচারেই মহান কবি হিসেবে ইতিহাসে নাম লিখে যেতে পারতেন)।
৬। কেন জনপ্রিয়?  আমার নিজের বিবেচনায়( অনেকে একমত নাও হতে পারেন) উনি জনগোষ্ঠীর একটি বৃহত অংশের ধর্মিয়- মনস্বতাত্বিক পাঠটি ভালো ভাবে করতে পেরেছেন অথবা নিজ  ধর্মীয় - সাংস্কৃতিক চেতনার রং মিশিয়ে সাহিত্য লিখতে গিয়ে নিজের অজান্তেই সে জনগোষ্ঠীর নজরে পড়ে গেছেন।কৈশোর - তারুন্যে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি ভালো লাগা,আকর্ষন বোধ করা,প্রেমে পড়া এবং সাবলাইম পদ্ধতিতে হলেও যৌন কামনা চরিতার্থ করা একটি " বায়োলজিক্যাল ডিমান্ড"। ধর্মীয়- সামাজিক - পারিবারিক বাধার কারনে অনেকেই আবেগের সে চাহিদাকে হয় এড়িয়ে যায়,অস্বীকার করে বা বিকৃত পথে চলে যায়।কিন্তু যদি এমন পন্হা কেউ খুজে দিতে পারে যাতে ঐ ধর্মপ্রান ছেলে- মেয়েগুলো ভাবতে পারে,বিশ্বাস করতে পারে যে সে/ তারা শরীর- মনের চাহিদা যে প্রেম তা  করতে পারছে অথচ এতে তার " পাপ" হচ্ছে না।সে নৈতিকভাবে,ধর্মীয়ভাবে সঠিক থেকেও প্রেম- ভালোবাসা করতে পারছে- এর চেয়ে মহৎ মুক্তি তাদের জন্য আর কি হতে পারে।আমরা সবাই নিজের লোভ- লালসা- কামনা চরিতার্থ করতে চাই,বাধা কেবল ধর্মীয়,নৈতিক অনুশাসন।যে পদ্ধতিতে বিবেকের অনুশোচনা ছাড়াই প্রেম,যৌনতা করা যায় তা সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম বিশেষ করে মুসলিম তরুন-তরুনীর জন্য  বিরাট আশীর্বাদ তুল্য।আবুবাকার কি সেই গরিষ্ঠ মানুষদের তেমন মুক্তির আনন্দ দিতে পেরেছেন?তার জনপ্রিয়তার এটিই বড় কারন বলে আমার ব্যক্তিগত মতামত( তবে এটি কোনভাবেই প্রকৃত ইসলাম সমর্থন করে না।বিবাহ পূর্ব বা বিবাহ বহির্ভূত কোন প্রেম ভালোবাসা ইসলাম সম্মত নয়।সেদিক থেকে তাকে প্রচন্ড বিরোধীতা করা  যায়।ডবে সেটি তো করবে মাওলানা- মৌলভীরা।যারা সারাক্ষণ ধর্মীয় গোড়ামীর বিরোধীতা করে আসছেন,নিজেদের আধুনিক,অসাম্প্রদায়িক বলে গলা ফাটিয়ে ফেলছেন তারা যদি আবুবাকার ইসলাম বিরোধী কাজ করছে বলে ক্ষিপ্ত হয়ে ব্যঙ্গ বিদ্রপ করতে থাকেন তখন প্রশ্ন জাগে- ঢাল মে কুস ক্যালা হ্যায়।)
মানব- মানবীর প্রেম নিয়েই জনপ্রিয় উপন্যাস হয়।সেটি ধর্মমনা মানুষের জন্য সহজ করার ( ইসলাম বিরোধী)  সস্তা পথ ধরার জন্য আবুবাকারকে কাঠগোড়ায় কেউ দাড় করাতেই পারেন।কিন্তু তাকে তাচ্ছিল্য বা হেয় করে মজা নেওয়ার প্রবনতা বিকৃতির সামিল

Thursday, May 4, 2017

সাইকোলজিক্যাল টিপস-৩০: মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশন ও ট্রান্সসেনডেন্টাল মেডিটেশন

পর্ব-১:
(৩ পর্বে নবাগতরা যেভাবে মেডিটেশন করবেন সিরিজ লিখেছি। আরো কিছু লেখার ছিল।যেমন : চক্র মেডিটেশন, ওম মেডিটেশন, গাইডেড মেডিটেশন নিয়ে কিছু বলা এবং আরো কিছু সাধারন টিপস।কিন্তু এতো লিখতে গেলে অন্য বিভাগের লেখা লিখবো কখন?)
তাই এবার প্রাথমিক পর্যায়ের উচ্চস্তর ও এডভান্সড দুটি মেডিটেশন নিয়ে আলাপ করে মেডিটেশন পর্ব শেষ করবো।
মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশন :
প্রথমে জেনে নেই মাইন্ডফুলনেস কি?
আমাদের মন চলে,জীবন চলে " অটো পাইলট" এর মতন।আমরা মনে,শরীরে কি ঘটে যাচ্ছে পারতপক্ষে সেদিকে নজর দেই না( এমনকি অসুস্হ অবস্হায়ও কষ্ট- বেদনা ছাড়া অন্য সেনসেশন বা অনুভূতিরর দিকে কদাচিৎ খেয়াল করি)। জীবনে,চারপাশে কি প্রতি মুহূর্তে ঘটে চলছে সেদিকে ও আমরা কমই নজর রাখি। মন,শরীর,জীবনের চারপাশকে নিবিষ্ট মনোযোগ দিয়ে নোটিশ করার চেয়ে জীবনকে অটো চালিয়ে নেওয়া সহজতর।কিন্তু " বর্তমানে" মনোযোগ দিয়ে, নিজের চিন্তা,অনুভূতি,মন- ছবি,শারীরিক সেনসেশন সহ চারপাশের জগতের দিকে তাকালে ভালো লাগা বোধ বাড়বে,জীবনকে আরো ভালো ভাবে উপভোগ করা সম্ভব হবে এবং নিজেদেরকে আরো ভালো ভাবে চিনতে,বুঝতে পারবো।
তাই মাইন্ডফুলনেস হচ্ছে আমাদের ভিতরে ও বাইরে কি ঘটছে তা সচেতনভাবে জানা এবং সেটি মুহূর্তে   মুহূর্তে জানা;শরীর- ও সেনসেশন এর সঙ্গে নিজকে রি- কানেক্ট করা( দৃশ্য, শব্দ, স্বাদ ইত্যাদি) ; প্রতি মুহূর্তে মনোরাজ্যে কি ধরনের চিন্তা রাশি,আবেগ-অনুভূতি বয়ে যাচ্ছে সেগুলোর প্রতি সচেতন থাকা।
কি কি উপকার:
১। জীবন জগতকে আরো ভালোভাবে উপভোগ করা সম্ভব
২। নিজেদেরকে আরো ভালোভাবে বোঝা সম্ভব
৩। যেগুলো স্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়া হতো সেগুলোর মধ্যে ও নতুনের স্বাদ পাওয়া যাবে
৪। চিন্তার স্রোত কিভাবে বয়ে যায় সে সমন্ধে অধিকতর সচেতন হওয়া যায় এবং কিভাবে আমরা বাজে,অকার্যকর, ক্ষতিকর চিন্তার জটে নিজেরা " আটকে" পরি তা ভালোভাবে বুঝতে পারবো।
৫।  ক্রমশ  কিভাবে চিন্তা আমাদেরকে গ্রাস করে সেটি জেনে " চিন্তা শুদ্ধি " অভিযান চালাতে পারবো।
৬। আমরা বুঝতে শিখবো যে চিন্তা ও আমরা এক নই।চিন্তা নিছক " মানসিক ঘটনা প্রবাহ" মাত্র,তাই চিন্তা আমাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না বরং আমরাই চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি।
NICE( National Institute of health care and Excellence)   ডিপ্রেশন প্রতিরোধে মাইন্ডফুলনেস কার্যকর বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

( আমার আত্ম- উন্নয়নমূলক বই " মন ও মানুষ" এ এ বিষয়ে বিস্তারিত লেখা রয়েছে। আগ্রহীরা দেখতে পারেন)
পরবর্তী পর্ব- কিভাবে অধিকতর মাইন্ডফুল হওয়া যায়- আগামীকাল

Friday, April 28, 2017

নবাগতরা যেভাবে মেডিটেশন করবেন

পর্ব-৩:মেডিটেশন এক ধরনের সাধনা/তপস্যা

আধ্যত্বিক সাধকরা নির্জনে স্রস্টার সাক্ষাত লাভের জন্য ও নিজের  পূর্ন  সত্বার বিকাশের জন্য,নিজ ও স্রস্টার সঙ্গে কানেক্টেড হওয়ার জন্য বছরের পর বছর ব্যাপী ধ্যান/ সাধনা করতেন( গৌতম বুদ্ধ,নিজামউদ্দীন আউলিয়া)।  তবে আমরা সাধারন মানুষ খুব সীমিত লক্ষ্য নিয়ে,স্বল্প সময় নিয়ে মেডিটেশন  চর্চা করি অশান্ত,অস্হির মনকে কিছুটা  "শান্ত,সুস্হির" রাখতে।এ  চর্চায় ফল পেতে হলে একে সাধনা/ তপস্যা হিসেবে নিতে হবে।কেননা প্রকৃত মেডিটেশন  কোন সহজ সাধ্য কাজ নয়।

কেউ কেউ জানতে চেয়েছেন মেডিটেশন কি ও এর উপকারিতা কি?
মন হচ্ছে অসীম শক্তির আধার।এ মন নেতিবাচকভাবে কাজ করে জীবন দূর্বিষহ করে তুলতে পারে, আবার হিটলার,ট্রাম্প, কিম এর মতন অসুস্হ মানসিকতার নেতা পৃথিবীতে মহা প্রলয় আনতে পারে।অন্য দিকে মনকে নিয়ন্ত্রনে রাখার কৌশল জানা থাকলে ইতিবাচক ও সৃজনশীল মনের অসীম শক্তিকে কাজে লাগিয়ে জীবনকে সুখী সফল যেমন করতে পারি, আব্রাহাম লিঙ্কন,মহাত্মা গান্ধির মতন নেতার মাধ্যমে পৃথিবীর চালচিত্র ও বদলে যেতে পারে।মনের ৩ স্তর: সচেতন মন,অবচেতন মন ও অচেতন মন।অবচেতন ও অচেতন মন আমাদের জানাশোনার বাইরে যেমন, তেমনি এগুলো আমাদের আপাত নিয়ন্ত্রণের বাইরে।আমাদের চিন্তার প্রায় ৭০-৮৫% নেতিবাচক চিন্তা,দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে পূর্ন থাকে। মেডিটেশন এর মাধ্যমে মনের উপর নিয়ন্ত্রণ এনে আমরা অবচেতন,অচেতন মনের বিশাল শক্তিকে আমাদের কল্যানের কাজে,আমাদের সফলতার কাজে লাগাতে পারি।অবচেতন মন ভালো- মন্দ যাচাই করে না, হুকুমের দাস হিসেবে যে সাজেশন বা তথ্য দেওয়া হয় পরিনতি না ভেবে, অন্ধের মতন সে অনুযায়ী কাজ করে।তাই আপনি মেডিটেশন এর মাধ্যমে অবচেতন মনকে পরিচ্ছন্ন করতে পারেন,নেতিবাচক চিন্তা দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তে ইতিবাচক চিন্তায় মনকে পুষ্ট রাখতে পারেন এবং ইতিবাচক সাজেশন দিয়ে অসাধ্য সাধন করতে পারেন।
এভাবে মনের অসীম শক্তিকে গঠনমূলক,সৃজনশীল ও কল্যানকর কাজে লাগিয়ে নিজের জীবন ও পৃথিবীর চালচিত্র ইতিবাচক ভাবে বদলে দিতে পারবেন।আমরা যে আধ্মাতিক সাধনার উচ্চ মার্গ বলি সেটি মূলত অচেতন মনকে জানা ও এর সঙ্গে পূর্নভাবে কানেক্ট করতে পারাকে বুঝায়। নিজকে জানা(knowthyself)  বলতে এটিকেই বোঝানো হয়।নিজের গভীরতম সত্বাকে জানা মানে অবচেতন ও অচেতন মনের রহস্য উদঘাটন করতে পারা।।মেডিটেশন এর গভীর স্তরে কোন কোন সাধক   সে পর্যায়ে যেতে পারে।তবে আপনার আমার জন্য এতো উচ্চ লক্ষ্য নির্ধারন না করলেও চলবে।মনকে স্হির,প্রশান্ত  করার অবস্হায় পৌছতে পারলে,অবচেতন মনকে ইতিবাচক " সাজেশন" দিয়ে,  কাঙ্খিত " মেন্টাল ইমেজ"(visualization) তৈরী করতে পারলে মনে করবেন আপনি মেডিটেশন এ সফল।তখন  যাদুর চাবি আপনার করায়ত্ব হবে ও যে কোন অবিশ্বাস্য সফলতা আপনার হাতের মুঠোয় চলে আসবে।
মেডিটেশন এর  পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করছিলাম।
আজকে ২য় পদ্ধতি বা সচরাচর করা পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা :
শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে মনোযোগ দিয়ে মেডিটেশন:

নির্দিষ্ট পজিশন( আগে আলাপ করেছি- যেটি আপনার জন্য  আরামদায়ক)  নিন।হাল্কাভাবে চোখ বন্ধ করুন।নাক দিয়ে লম্বা শ্বাস নিন ও মুখ দিয়ে ছাড়ুন( বিস্তারিত  ১ম পর্ব- দেখুন)।শ্বাস নেওয়ার সময় পেটের উপরিভাগ  যেন ফুলে উঠে ও ছাড়ার সময় পেটের উপরিভাগ চুপসে যাবে।এবার পা থেকে মাথা পর্যন্ত বা উল্টো মাথা থেকে পা পর্যন্ত বিভিন্ন অংশে কিছুক্ষণের জন্য  মনোযোগ দিন।যেমন যদি মাথার তালু থেকে শুরু করেন মনোযোগ সেখানে দিন।১০-১৫ সেকেন্ড মনোযোগ দিন।কেমন অনুভব করছেন তা টের পেতে চেষ্টা করুন(টান টান,গরম,জ্বালা,ঠান্ডা বা অন্য কোন অনুভূতি?)। তালুর পেশীগুলো হাল্কা করে "ছেড়ে দিন"(let go)। যেন মাংসপেশী ঝুলে পড়েছে,হাল্কা হয়,নরম হয়ে পরে রয়েছে।আপনি স্বস্তি অনুভব করবেন, টান টান থেকে মাংস পেশী শিথিল হবে।(PMR- progressive muscle relaxation পদ্ধতি  হলে একবার মাংসপেশি শক্ত করবেন, যত জোরে সম্ভব শক্ত করতে হবে ও এতে মাংসপেশির উপর যে "চাপ"(tension) পরবে তা অনুভব করুন।পরক্ষনেই পুরো পেশী ছেড়ে দিন,শিথিল করুন।পূর্বেকার টেন্সড অবস্হার চেয়ে এখনকার শিথিল অবস্হার ফলে যে আরাম,স্বস্তি পাচ্ছেন তা ভালোভাবে অনুভব করুন।টেনশন থেকে মুক্তি মানে এরকম টানটান অবস্হা থেকে শিথিল( রিলাক্সড) অবস্হায় আসা)। তবে পিএমআর না,আমরা সাধারন পদ্ধতি ব্যবহার করবো।
এরপর কপাল,চোখ,চোখের পাতা,ঠোট,চোয়াল, থুটনি,গলা,ঘাড়,কাধ,ডানহাত,বামহাত,বুক,পিঠ,পেট,নিতম্ব,কোমর, উরু,হাটু,পা,গোড়ালী,পায়ের পাতা - প্রতিটি অঙ্গে এক এক করে মন ফোকাস করবেন ও উপরোক্ত নিয়মে তা শিথিল করবেন।শিথিল হলে যে আরাম,স্বস্তি তা মন- প্রান দিয়ে অনুভব করবেন। এ রকম কয়েক বার করুন।এরপর মাথা থেকে পা পর্যন্ত উপরে বর্নিত সবগুলো অঙ্গ  দ্রত মনের চোখ বুলিয়ে যান।এবার মাংসপেশি শিথিল করবেন দ্রত।পরে মাথা থেকে পা পর্যন্ত পুরো শরীর একবারেই "শিথিল হও" বা " শান্তি,শান্তি"( আল্লাহ,আল্লাহ বা ভগবান,ভগবান) বলে মূহুর্তের মধ্যে শিথিল করার কমান্ড দেবেন,যাতে তাৎক্ষনিকভাবে রিলাক্সড হতে পারেন। ভালোভাবে প্রাকটিস হলে বৃদ্ধ আঙ্গুল ও তর্জনী একত্র করে শুধু " রিলাক্সড হও" কমান্ড দিলেই পুরো শরীর- মন মুহূর্তে রিলাক্সড হয়ে যাবে।তখন যখন-তখন,যেখানেসেখানে  মুহূর্তের মধ্যে রিলাক্সজেশন  ও মেডিটেশন করে ফেলা সম্ভব হবে।
রিলাক্সড হওয়ার পর( বা সরাসরি)  মনোযোগ শ্বাস- প্রশ্বাসের দিকে নিবদ্ধ করুন।শত শত চিন্তার জট মনে বুদবুদের মতন আসবে যাবে।সেগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে যাবেন না।যদি জড়িয়ে যান হতাশ বা বিরক্ত হবেন না।কোনরকম যুদ্ধ করবেন না,স্রেফ  হাল্কা করে মনোযোগ পুনরায় শ্বাস প্রশ্বাসের দিকে নিন।এভাবে ১৫ মিনিট বা তার চেয়ে বেশীক্ষণ মেডিটেশন চালিয়ে যান।
এভাবে শরীর-মন পূর্ন রিলাক্সড করতে সক্ষম হলে মনে প্রশান্তি আসবে।তখন অবচেতন মনকে প্রয়োজনীয় "ইতিবাচক সাজেশন" দেওয়া ও যা  এবং  যেরকম হতে চান সেরূপ " মেন্টাল ইমেজ"(visualization) তৈরী করার প্রাকটিস করতে পারবেন( অন্য সময় সাজেশন ও মন ছবি তৈরী নিয়ে আলোচনার ইচ্ছে রাখি)।
আমি স্হানাভাবে খুবই সংক্ষিপ্ত ভাবে পুরো প্রক্রিয়াটি কিভাবে করবেন তা বললাম।তবে আপনাকে এই প্রতিটি ধাপ ধৈর্য্য ধরে অনেকদিন করে যেতে হবে যাতে কৌশলটি আপনার পূর্ন আয়ত্বে আসে।একটি ধাপের উপর নিয়ন্ত্রণ না আসা পর্যন্ত প্রাকটিস চালিয়ে যেতে হবে এবং এর পরই পরবর্তী ধাপের চর্চা শুরু করবেন।

Wednesday, April 26, 2017

সাইকিয়াট্রিস্ট এর জার্নাল-৯: নবাগতরা যে ভাবে মেডিটেশন করবেন

পর্ব-২:
৭। প্রতিজ্ঞা বদ্ধ হন: ওজন কমাতে যারা হাটেন,ব্যায়াম করেন তারা কি রাতারাতি কাঙ্খিত ফল পান? মেডিটেশন এ ও ফল পেতে সময় লাগবে।তাই রাগ করে,বিরক্ত হয়ে চেষ্টা বাদ দিবেন না।বরং প্রতিজ্ঞা বদ্ধ হন যে নিয়মিত প্রাকটিস করবেন।
৮। শ্লথগতিতে অগ্রসর হন: আমরা যেমন প্রথমে ১৫ মিনিট,পরে ৩০ মিনিট এভাবে হাটার সময় বাড়াই,মেডিটেশন এ ও তেমনি প্রথমে স্বল্প সময় দিয়ে শুরু করুন।যখন আয়ত্বে আসবে ও স্বস্তি অনুভব করতে শুরু করবেন তখন ক্রমশ সময় বাড়িয়ে নেবেন।
৯। মেডিটেশন এর উপর বই পড়ুন ও  গাইডেড সিডি কিনুন।
১০। বিভিন্ন "পজিশন" পরীক্ষা করে দেখুন কোনটি আপনার জন্য আরামদায়ক:
ইয়োগাতে সাধারনত " পদ্মাসন" করা হয়।আপনি পদ্মাসন করতে পারেন,পায়ের উপর পা তুলে দিয়ে এক পা এর পাতা অন্য পা এর রানে রাখতে পারেন ; চেয়ারে বসতে পারেন,দু'হাত জোড় করে প্রার্থনার মতন করে মুখের সামনে রাখতে পারেন,শুয়ে করতে পারেন।এক কথায় যেভাবে খুশী করতে পারেন।যখন মেডিটেশন আয়ত্বে চলে আসবে নিজেই বুঝবেন কোন পজিশন আপনার জন্য আরামদায়ক।
১১। মেডিটেশন এর বিভিন্ন পদ্ধতি :
মেডিটেশন এর কোন সঠিক বা বেঠিক পদ্ধতি নেই।যেটি আপনার জন্য কার্যকর সেটিই আপনার জন্য সঠিক পদ্ধতি। মন থেকে সব চিন্তা দূর করে মনকে " স্বচ্চ,পরিচ্ছন্ন " রাখা সহজ কোন কাজ নয়।অতিন্দ্রিয় কোন সত্মার সঙ্গে যোগাযোগ হবে এমন অতি আশাবাদ না থাকা ভালো।তবে এক সময় হয়তো আপনি এমন স্তরে পৌছতে পারবেন যে আপনি নিজের উচ্চতর সত্বার সঙ্গে নিজকে কানেক্ট করতে  পারবেন।তবে নবাগতদের এতো প্রত্যশা না থাকা ভালো।বার বার চিন্তার জট এমন ভাবে আপনাকে জড়িয়ে ফেলবে যে আপনি  ভাবেন মনকে তো কিছুতেই পরিস্কার রাখতে পারছি না,চিন্তা জালে বার বার আটকে যাচ্ছি, আমি বোধ হয় পারবো না।তাই প্রত্যশা কমিয়ে স্রেফ প্রাকটিস করে যান।মেডিটেশন এর বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে ট্রাই করে দেখুন কোনটি আপনার জন্য সুবিধেজনক।কয়েকটি পদ্ধতির বিবরন দিচ্ছি :

১। সঙ্গীতের মূর্ছনায় মেডিটেশন :binaural beats):এখানে দূটি ভিন্ন ধরনের সাউন্ড একত্রিত হয়ে সম্মোহনী সুর তৈরী করে। এটি অনেকের কাছে আনন্দদায়ক ও সহজ মনে হবে।এগুলো nice chill music।শুয়ে থাকুন ও সুরেলা মিউজিকের সম্মোহনী আবেশে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে যাবেন। এখানে এমন সুর তৈরী করা হয় যা কেবল মন- মস্তিষ্ক  শুনতে পারে।ফলে মন হয় প্রশান্ত, শিথিল ও ধ্যানমগ্ন।বলা হয় অন্য মেডিটেশন  এক ঘন্টা করার চেয়ে এখানে ১২ মিনিটে সে ফল পাবেন। যদি অন্য প্রকার মেডিটেশন এ মনকে সহজে বশে আনতে না পারেন, সহজে মনকে শান্ত করতে না পারেন, ( যেমন আমি) তাহলে এ মেডিটেশন আপনার জন্য  উপযুক্ত। এটি নিয়মিত চর্চা করলে আপনি শীঘ্র উচ্চতর স্তরে যেতে পারবেন।গবেষনায় দেখা গেছে এই " বিটস"  মনকে স্বচ্চ করতে,(clarity) , এলোমেলো চিন্তা থেকে লক্ষাভিমুখী চিন্তায় মনোযোগ দিতে,প্রান শক্তি বাড়াতে,সৃজনশীলতাকে বৃদ্ধি করতে এবং আরো অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সাহায্য করে।।যা আপনার মনে স্বস্তি, শান্তি ও সুখ আনবে।বলা হয় মাদক যে পর্যায়ের আনন্দ, প্রশান্তি দেয়,এ মেডিটেশন এ আপনি তেমন প্রশান্তি, আনন্দ পাবেন।এ জন্য একে " digital drugs" বলা হয়।কিছু বিটস কিনতে হয়, কিছু ইউটিউবে ফ্রি পাওয়া যায়।( আমি একটি এখানে পোস্ট করলাম)
( চলবে)