Saturday, July 8, 2017

সাইকিয়াট্রস্ট এর জার্নাল-৯: মানুষ কেন ও কিসে শ্রেষ্ঠ?

পর্ব-২:

গত পর্বটি লিখেছিলাম আমার প্রকাশিতব্য বই " সুখী মানুষ" থেকে।

এ পর্ব লিখবো আমার ইতিমধ্যে প্রকাশিত ও সবচেয়ে জনপ্রিয়তা পাওয়া আত্ম নির্মান বিষয়ক বই " মন ও মানুষ" থেকে।

এই বইয়ের শেষ অধ্যায় " মন- বস্তু -চেতনা- আত্মা:মহাবৈশ্বিক বিবর্তনের ইতিকথা " থেকে কিছু অংশ তুলে দিচ্ছি ।( লেখা বড় মনে হলে ২,৩,ও৬ অংশ না পড়লেও চলবে-)

১। " the most human thing in human is it's brain"। অর্থাৎ মানুষের মধ্যে সবচেয়ে " মানবীয়" ব্যাপারটি হচ্ছে তার ব্রেইন।"

প্রতীকি আবিষ্কার" ( symbolic invention) এর মতন  উচ্চ মার্গের  ক্ষমতা একমাত্র মানুষেরই রয়েছে। বিমূর্ত ভাবনা,চিন্তা ও কল্পনার জগতে প্রতীকি ধারনা সমূহকে নিয়ে গভীর গবেষনার ফলশ্রুতিতে মানুষ মহাবিশ্বের সৃষ্টির রহস্য, মহাবিশ্বের নিয়ম- কানুনসহ নিজকে জানার কাজটিও অনেকটা সমাধা করতে পেরেছ। সেই সঙ্গে তৈরী করতে পেরেছে দর্শন,সাহিত্য, শিল্পকলা, চিত্রকলা,সঙ্গীত সহ একটি মহত্তম সংস্কৃতি।অন্য কোন প্রানী এমন নান্দনিক সুসভ্য সংস্কৃতি তৈরী করতে পারেনি।

তাই মানুষ শ্রেষ্ঠ, কেননা সে উন্নত সংস্কৃতি তৈরী করতে পারে,অন্য প্রানীরা তা পারে না।

২।( না পড়লও চলবে) কিভাবে আমরা মানুষ হয়ে উঠলাম তা জানতে হলে মহাবিশ্বের বিবর্তন আমাদের জানতে হবে।
প্রায় ১৫ শত কোটি বছরের সেই বিবর্তনের ইতিহাস অনেক লম্বা।

অতি সংক্ষেপে বললে:

সিনগুলারিটি বা বিন্দু বিশ্ব " বিগ ব্যাং" এর মাধ্যমে বিস্ফোরিত হয়

>মৌলিক বলগুলো মুক্ত হয়

>  শক্তি থেকে বস্তুর সৃষ্টি হয়

>  কোয়াক- বিপরীত কোয়াকের সৃষ্টি হয়

>প্রোটন ও নিউট্রন এর সৃষ্টি হয়

>বিপরীত প্রোটন ও বিপরীত নিউট্রন সৃষ্টি হয়

> প্রোটন- নিউট্রন মিলে ডুয়েটেরিয়াম এর সৃষ্টি

> হিলিয়াম

> হাইড্রোজেন

> এই হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম হচ্ছে সমগ্র মহাবিশ্বের মূল বস্তু কনা

> ১০০ কোটি বছর যাবৎ হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম মিলে তৈরী করে বিভিন্ন গ্যালাক্সি ( যার মধ্যে নক্ষত্র,গ্রহ, উপগ্রহ ও রয়েছে)>

৩। ( না পড়লেও চলবে)এই বস্তু বিবর্তন এর পর শুরু হয় ২য় ধাপের বিবর্তন - প্রানের বিবর্তন  > ( এটি সাধারন বিবর্তন ছিল না,এটি ছিল বিবর্তনের গুনগত পরিবর্তন)

> কেননা নতুন বিল্ডিং ব্লক শুরু হলো- ডিএনএ- এমন বস্তু যে নিজে নিজের প্রতিরূপ তৈরী করতে পারে( শুরু হলো বিবর্তনের নতুন পালা)

> পৃথিবী সৃষ্টির ১৫০ কোটি বছর পরই ডিএনএ ও প্রোটিন এর সমাহারে তৈরী হয় এক আদি ভাইরাস

> ২০০ কোটি বছর পর পরিপূর্ণ এক কোষী জীব

> ১৬০ কোটি বছর পূর্বে বহুকোষী সামুদ্রিক অমেরুদণ্ডী প্রানী>

এ পর্যায়ে বিবর্তন কিছুটা গতি পায় > যাকে বলা  হয় ক্যাম্বিয়ান বিস্ফোরন

> আসে প্রথম মেরুদন্ডী প্রানী মাছ

> এরপর পতঙ্গ,উভচর প্রানী,বৃক্ষ, সরীসৃপ, ডাইনোসর, স্তন্যপায়ী এদের উদ্ভব
এরপর

> প্রাইমেট>
>এ্যানথ্রোপয়ডিয়া
>হোমিনয়ডিয়া
> হোমিনিড
> হোমোইরেকটাস
> নিয়ানডার্থাল
> ক্রোম্যানিয়ন

>সর্বশেষে প্রাজ্ঞ মানব হোমোসেপিয়েন্স এর আবির্ভাব।

অতি সংক্ষেপে এই হলো আমাদের বিবর্তনের চিত্রলেখ।

পর্ব-১ এ দেখিয়েছি এই মানুষ হতে গিয়ে মানব ব্রেইনের কি কি উন্নতি হয়েছে।কিন্তু শুধু ঐ মেধার কারনে মানুষ শ্রেষ্ঠ হয়নি,হয়েছে তাদের নান্দনিক সাংস্কৃতিক বিকাশের জন্য।

৪। এটি বিবর্তনের ৩য় ধাপ ও এটি গুনগত মানে ভিন্ন।
সম্ভবত এখানেও নতুন বিল্ডিং ব্লক তৈরী হয়েছে এবং সেটি মন- মননগত।
অন্য প্রানীদের  খাদ্য সংগ্রহ,আত্ম রক্ষা ও বংশবিস্তার এই ৩ কাজে তাদের জীবন সীমিত।মানুষ ঐ ৩ কাজের বাইরেও কিছু করে থাকে। মানুষ তার নতুন বিবর্তনে বিল্ডিং ব্লক হিসেবে পেয়েছে  " মন ও চৈতন্য " নামে অনবদ্য প্রক্রিয়াকে।

সে শ্রেষ্ঠ হয়ে উঠেছে উচ্চ নৈতিকতা,মানবিকতা,উচ্চ বৌদ্ধিক ও কল্পনা করার ক্ষমতা ও উন্নত সংস্কৃতি নির্মানের ক্ষমতার জন্য।

মানুষের ব্রেইনে মন- মনন- চেতনা নামক নতুন বিল্ডিং ব্লক মানুষকে শুধু বুদ্ধিমত্তা নয়,নৈতিক,সাংস্কৃতিক ও মানবিক দিকে এক অনন্য বিকাশের সুযোগ করে দেয়।

তবে নতুন মাত্রার এই বিবর্তন কি সবার মাঝে ছড়াতে পেরেছিল বা পেরেছে? আমরা কতজন সুসভ্য, সংস্কৃতিবান, মননশীল, উচ্চ মূল্যবোধ সহ  মানবিক গুনাবলী অর্জন করেছি?
সমগ্র পৃথিবী কোন প্রকৃতির মানুষ  শাসন করছে?

আমাদের রাস্ট্র,সমাজ,প্রশাসন সর্বত্র কাদের কর্তৃত্বে চলছে?

সৎ,মেধাবী,সৃজনশীল মানুষগুলো কতটুকু সম্মান,গুরুত্ব পাচ্ছে,

তারা সমাজ নির্মানে আদৌ কোন ভূমিকা কি রাখতে পারছে?

উত্তর আমাদের সবার জানা।

এই অধপতিত অবস্হা নিশ্চয় হতো না যদি নবতর  সে বিবর্তন সব মানুষের মধ্যে সমভাবে হতে পারতো।

যেহেতু এবারের বিবর্তন কেবলমাত্র প্রাকৃতিক নয়,এটি বিশেষ মাত্রার অন্য রকম বৈশিষ্ট্য মন্ডিত বিবর্তন,তাই  এর বিকাশ ত্বরান্বিত করতে হলে সমাজ,রাস্ট্রের সর্বত্র সেই বিকশিত মানুষ গুলোর প্রাধান্য থাকতে হবে।

৫। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন হয়েছে।মেধা ও মননে মানব জাতি আড়াই - তিন হাজার বছর  পূর্বে যেখানে ছিল তা থেকে কতটুকু আমরা এগুতে পেরেছি?

কবি আল মাহমুদ এর সে বিখ্যাত উক্তি এখন ও প্রযোজ্য " কতটুকু এগুলো মানুষ? "

খ্রীষ্টপূর্ব ৭ম ও ৬ষ্ট শতাব্দীতেই পৃথিবীতে এক বিষ্ময়কর সভ্যতার উদ্ভব হয় যার নাম " আয়োনীয় সভ্যতা "।

যা ছিল কুসংস্কার ও ধর্মীয় প্রভাব মুক্ত।

৬। ( না পড়লেও চলবে)মাত্র একটি লাঠি ব্যবহার করে এবোটাস থেনেস সর্ব প্রথম পৃথিবীর পরিধি বের করেছিলেন;

থেলিস সূর্যগ্রহণ সম্বন্ধে জানতেন ও পিড়ামিডের ছায়ার দৈর্ঘ্য থেকে এর উচ্চতা মেপেছিলেন;

হিপ্পোক্রিটাস চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিকাশ ঘটান;

এম্পোডিকিলিস ডারউইনের অনেক আগেই বিবর্তনের ধারনা দেন;

ডেমোক্রিটাস " পরমানুর" ধারনা দেন ও নিউটনের অনেক আগেই  " সীমা তত্ব" আবিষ্কার করেন এবং  ডিফারেনশিয়াল ও ইন্ট্রিকাল ক্যালকুলাস আবিষ্কারের দ্বারপ্রান্তে পৌছে গিয়েছিলেন:

এরিস্টারকাস  কোপার্নিকাস  এর অনেক আগেই বলেন পৃথিবী নয় সূর্য গ্রহ ব্যবস্হার কেন্দ্র - ইত্যাদি

অথচ প্লেটো,এরিস্টটল এসে এই মহান সভ্যতার বিপরীত ধারা শুরু করেন।

শুরু হলো হাজার বছরের " মধ্য যুগীয় অন্ধকার"।

যদি সভ্যতার ঐ ধারা অব্যাহত থাকতো তাহলে হয়তো ৫০০ বছর পূর্বেই আইনস্টাইন এর আপেক্ষিক তত্ব আবিষ্কৃত হতো,আমরা আন্তঃনাক্ষত্রিক অভিযান করতে পারতাম।

৭।  মাঝখানের অন্ধকার মধ্য যুগের পর আবারো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশ শুরু হয়েছে বটে,

তবে মনন ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে আমরা সেই ৫ হাজার বছরের আগেকার স্তর থেকে আদৌ কোন অগ্রগতি করতে পেরেছি কি?

এ না পারার কারন সম্পদ ও ক্ষমতা রয়ে গেছে  মানবিকতা বর্জিত,স্বার্থপর, সৃজনশীলতা বন্চিত,কৌশলী, ধূর্ত কিছু চতুর মানুষের হাতে।

সৃজনশীল, জিনিয়াস,মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষগুলোকে এরা কোনঠাসা করে পিছিয়ে রেখেছে।
যেহেতু এটি পূর্বতন ভৌতিক বিবর্তন নয়,তাই স্বল্প সংখ্যক গুনী ব্যক্তি এই উচ্চতর মন- ব্রেইনের অধিকারী হয়।

এই দার্শনিক, বিজ্ঞানী, শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবি সহ  যে সব মহতি মানুষগন এসেছেন, তাদের মেধা,মনন ও শ্রমের ফসল আজকের  উন্নত বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সংস্কৃতির ধারা।

কিন্তু এদের ফসলকে ( সম্পদ,প্রযুক্তি)কুক্ষিগত  করে ফেলে চতুর,ধূর্ত,কৌশলী,স্বার্থান্ধ কিছু মানুষ। সমাজ,রাস্ট্রের কর্তৃত্ব তারা কব্জা করে নেয়।যুগের পর যুগ এভাবেই চলছে।

শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার( যিনি ঢাকা কলেজে আমার সরাসরি শিক্ষক ছিলেন) মানুষকে দুভাবে ভাগ করেন:

১। সাম্প্রতিক মানুষ: এরা সম- সাময়িক জীবনের জন্য বাচে।এই এক জীবনে যতটুকু ভোগ বিলাস,বৈষয়িক উন্নতি তার জন্য সকল মেধা বুদ্ধি কাজে লাগায় ( ঐ ক্ষমতা কুক্ষিগত করা লোকগুলো ও আমজমতা)- এরাই গরিষ্ঠ সংখ্যক

২। চিরায়ত মানুষ: এরা বৈশ্বিক সত্বার সঙ্গে একাত্মতা অনুভব করে।নিছক বৈষয়িক অর্জনের পিছনে ছুটে না।মানব কল্যাণ ও সভ্যতা নির্মাণ যাদের ব্রত।এরা মাইনরিটি

পবিত্র গ্রন্থ বেদেও মানুষকে ৩ ভাগে ভাগ করেছে :

সাত্ত্বিক মানুষ - এরা হচ্ছে ঐ চিরায়ত মানুষ ;

রাজসিক মানুষ -ঐ ভোগবাদী,চতুর, সমসাময়িক মানুষ ;

ও তামসিক মানুষ - দারিদ্রতা,অশিক্ষায় নিমজ্জিত সাধারন মানুষ।

অল্প কিছু সংখ্যক রাজসিক মানুষের পিছনে থাকে তাবৎ তামসিক মানুষ ( আমজনতা)। বিচ্ছিন্ন ক্ষুদ্র অংশটি হচ্ছে সেই স্বাত্বিক বা চিরায়ত মহান মানুষ গুলো।

মানবীয় বিবর্তন নির্ভর করে ঐ চিরায়ত,সাত্ত্বিক মানুষদের উপর।কিন্তু সমাজে এদের সংখ্যা কত? সমাজে এদের প্রভাব কতটুকু? 

ঐ চতুর  সাম্প্রতিক মানুষগুলোর তাঁবেদারি করছে বেশীরভাগ মানুষ।

সামান্য বৈষয়িক  স্বার্থ হাসিলের জন্য,

কিছু সুযোগ সুবিধা বা আনুকুল্য পাওয়ার লোভে

বা হয়রানির ভয়ে

অনেক চাটুকার তাদের আনুগত্য করে থাকে।

ঐ চিরায়ত মানুষ গুলো উল্টো লান্চিত হচ্ছে,অপমানিত হচ্ছে ও মূলধারার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

তাই স্বাভাবিক ভাবেই মানবীয় নতুন বিবর্তন গতি পায়নি ও পাচ্ছে না।

এই গতি ত্বরান্বিত করতে চাইলে

ন্যায়ভিত্তিক,সাম্য ও মানবিক সমাজ ব্যবস্হা অপরিহার্য।

গুনী মানুষ, সৃজনশীল, মননশীল মানুষ,  উচ্চ সংস্কৃতিবান, উচ্চ মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষকে যথাযথ সম্মান পূর্বক সমাজ, প্রশাসন,রাস্ট্রে ভূমিকা রাখতে না দিলে এই নতুন মাত্রার বিবর্তন গতি পাবে না

বরং উল্টোটিও ঘটতে পারে।

আমরা কি পারবো সভ্য, সংস্কৃতিবান,সৃজনশীল, মেধাবী মানুষকে লালন করতে,সমাজ রাস্ট্রীয় কাঠামোর শক্তিকেন্দ্রে তাদেরকে স্হান করে দিতে?

Monday, July 3, 2017

সাইকিয়াট্রস্ট এর জার্নাল-৯: মানুষ কেন ও কিসে শ্রেষ্ঠ?

পর্ব-১: আমরা বলি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব মানুষ। আসলও কি তাই এবং হলে কেন?
আমার সম্ভাব্য প্রকাশিত বই "সুখী মানুষ "  থেকে কিছু তথ্য তুলে দিচ্ছি :

হোমোসেপিন্স বা প্রাজ্ঞ মানব অন্যদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ  তাদের ব্রেইনের আকার,ওজন ও গুনগত মানের জন্য।

১। মানুষের ব্রেইনের আকার  ও ওজনে বড়। তাছাড়া  এর বিশেষ কিছু অন্চল অনেক বেশী বিকশিত।

২। ব্রেইনের সামনের অংশকে বলা হয় " চিম্তার অংশ"। এই প্রি- ফ্রন্টাল অংশটি সম্পূর্ন কর্টেক্স এর ৩.৫%- কুকুরের বেলায়,১১.৫% বানরের বেলায় আর মানুষের ক্ষেত্রে এটি ৩০%।

৩। কিছু নিউরাল সার্কিটের অঙ্গ সংগঠনে ও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য। যেমন- ডোপামিন নিউরনগুলো  মানুষের ব্রেইনের অনেক বেশী অংশ জুড়ে থাকে।

৪। সবচেয়ে বড় পার্থক্য ব্রেইনের মূল অংশ কর্টেক্স এ।

এখানে রয়েছে ২২.৫ বিলিয়ন নিউরন।

এ নিউরনগুলো প্রায় ১৬৫ ট্রিলিয়ন স্নায়ু সংযোগ(সিনাপস) তৈরী করে।( সংখ্যাটি কত বড় কল্পনা করতে পারছেন?)

উল্লেখ্য যে ব্রেইনে যত বেশী স্নায়ু সংযোগ সে ব্রেইন তত বেশী উন্নত ও শ্রেষ্ঠ।

৫। এই নিউরনগুলোর ডেনড্রাইট শাখাগুলোর মোট দূরত্ব প্রায় ১২ মিলিয়ন কিলোমিটার ( ১ কোটি ২০ লক্ষ কিলোমিটার) । এদের এক্সন শাখাগুলোর মোট দূরত্ব প্রায় ১ লক্ষ কিলোমিটার।

৬। কর্টেক্স এর ৯০% এর বেশী জুড়ে রয়েছে নিউকর্টেক্স-

বিবর্তনের মাধ্যমে মানুষ যখন উন্নত ও সুসভ্য হয়ে উঠছিলেন এর বড় কারন এই নিউকর্টেক্স এর উদ্ভব।যত বেশী নিউকর্টেক্স তত উন্নত সে প্রানী।

মানুষের আদিম ব্রেইন কর্টেক্স এর ৯০% এর ও বেশী বিবর্তিত হয়ে নিউকর্টেক্স রূপান্তরিত হয়েছে।

৭। বেশ কিছু সার্কিট ও অন্চল বিশেষ ভাবে বিকশিত হয়েছে মানব ব্রেইনে( সেগুলো লম্বা আলোচনা - পরে একসময় বলা যাবে)
তাই মানুষ কেন ও কিসে শ্রেষ্ঠ তা সহজে অনুমেয়
কিন্তু শুধু্  মেধা দিয়ে কি শ্রেষ্ঠ? বিবর্তনের ও শ্রেষ্ঠত্বের ২য় পর্যায়ের কোন অংশে এখন আমরা? এটি বলবো আগামীকাল ২য় পর্বে

Tuesday, June 27, 2017

রোগ কাহিনী-১মিরপুরের " ভূতের বাড়ির- সেই রিতা- মিতা দুই বোনের কথা মনে আছে?

" be positive be happy " পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে বিলম্বিত/বকেয়া/( বা ঈদ উত্তর) ঈদের
    শুভেচ্ছা
কৈফিয়ত-১: বিলম্বিত শুভেচ্ছার কারন, "ঈদে" গ্রামে গেলে কোন নেটওয়ার্ক খুজে পেলাম না।তাই এ কদিন সামাজিক যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলাম।( ডিজিটাল বাংলাদেশ শুধু কি ঢাকায় সীমাবদ্ধ?  অনেক মোবাইল অপারেটর এর টেলিফোনিক কানেকশন ও মেলে না।বিদ্যুৎ যায় না,কদাচিৎ  এসে হাসি মুখ দেখিয়ে যায় মাত্র)
কৈফিয়ত-২: ঈদের ভাব- গাম্ভীর্য, জাক- জমক,বিশালত্ব, গ্রান্ডিওসিটি (ইদুর মার্কা) "ইদ"  দিয়ে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।জনগনের অভিপ্রায় হচ্ছে সকল আইন,প্রবিধান এর উৎস।এ কারনে ব্যাকরনেও রয়েছে নিপাতনে সিদ্ধ- রীতি।জয় জনগন
রোগ কাহিনী : সারাদেশ ব্যাপী ব্যাপক প্রচার পাওয়া ডাক্তার - ইন্জিনিয়র দুই বোন রিতা- মিতা আবার ভর্তি হয়েছিলেন হাসপাতালে।এবার তাদের ঠিকানা হয়েছিল খোদ " ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ,ঢাকায়"।
প্রথমবার  দীর্ঘ ৮-৯ বছর তাবৎ পৃথিবী থেকে বিযুক্ত থেকে নিজ গৃহে স্বেচ্ছায় গৃহবন্দী  ও গুরুতর মানসিক ব্যাধীতে আক্রান্ত এই দুই বোনকে ৮-১০

ঘন্টার রুদ্ধশ্বাস নাটকীয় অভিযান শেষে উদ্ধার করার পর দেশ বরন্য কথা সাহিত্যিক, প্রখ্যাত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বন্ধুবর,সতীর্থ mohit kamal এর সুচিকিৎসায় তারা  আরোগ্য লাভ করেন।তখন  থেকেই এই দুই বোনের কাহিনী সারা দেশে ছড়িয়ে পরে।
গোড়ার কথা: রিতা,বয়স ৫৩, এমবিবিএস ১৯৮৮( সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ)।৯ম বিসিএস উত্তীর্ণ। সরকারি চাকরী ১৯৯৭-ঢাকার বাইরে।পূর্বের পিজি হাসপাতালে এফসিপিএস( হেমাটলজী) কোর্সে ঢুকেন।গ্রামে পোস্টিং, তাই সেখানে যাওয়া হয় না।ফলে বেতন বন্ধ। আবার এদিকে এফসিপিএস পাশ করাও  কঠিন।তাই বিরক্ত ও হতাশ।
ছোট বোন মিতা বুয়েট থেকে কেমিকেল ইন্জিনিয়ারিং পাশ করে সেখানেই কেমিকেল সেকশনে চাকরী হয়।মূল রোগ শুরু হয় ছোট বোন মিতার।তার সন্দেহ হয় অনেকে তার ও তার পরিবারের ক্ষতি করতে চায়।ডিপার্টমেন্ট এর সুপারভাইজার তাকে কেমিকেল ফিউম ছুড়ে মেরে ফেলার চেস্টা করছে।নানাবিধ ষড়যন্ত্রের কারনে দেড় বছর পর সে চাকরী ছেড়ে দেয়। বাবা সার্ভে অব বাংলাদেশের ম্যানেজার ছিলেন
১৯৮২ সনে মারা যান।বড় বোন কামরুন্নাহার হেনার ৯৪ সনে বিয়ে হয়ে যায়।
তিনি বলেন ৬ মাসের মধ্যে দেখি তারা বাসায় কাউকে ঢুকতে দিচ্ছে না।তাদের বিশ্বাস অন্যরা তাদেরকে মেরে ফেলবে,খেয়ে ফেলবে।তিনি বলেন বার বার প্রত্যাখ্যাত হয়ে এক সময় তাদের থেকে দূরে চলে যাই।চেষ্টা করেছি যোগাযোগ করার জন্য। এভাবে ৯ বছর চলে যায়।যখন অপারেশনের জন্য আমার ব্লাড লাগবে তখন বোনদের ডাকি।তারা আমাকে বোন হিসেবে অস্বীকার করে।আমার বাচ্চা পানি খেতে চাইলে বলে পানি নেই।
বাবার পেনশনের টাকা ও দোকান ভাড়া দিয়ে তাদের সংসার চলতো।রিতা বিয়ে করতে চায় কিন্তু মা বড় বোনকে  বলে একে বিয়ে দিস না,বিয়ে দিলে বাড়ীতে থাকতে পারবি না।রিতা বলে আমি কোরআন মুখস্হ করতাম।
৯৪ সনের দিকে স্বপ্নে দেখি কে একজন বলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করিও।পরদিন এ কথা ছোট বোন মিতাকে বলি(যিনি ইতিমধ্যে  মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে চাকরী ছেড়ে দিয়েছে)। মিতা এ সংবাদে আধ্যাত্বিতার আভাষ খুজে পান।সে বলে আজ রাতে মা সহ আমরা ৩ জন উপাসনা করে কাটাবো,কেননা এ খবর আল্লাহতালার কাছ থেকে এসেছে।সারা রাত তারা প্রার্থনা করে কাটায়( দোয়া ইউনুস পড়ে)। এরপর থেকে নিয়মিত তারা প্রার্থনা করতো।দিন রাত ২৪ ঘন্টা প্রার্থনায় মগ্ন থাকতো।রিতার ভাষায় এ সাধনায় মিতা অনেক গভীরে চলে যেতো।মিতা-ই হয় মূল নেতা।সে যা বলতো রিতা তাই মানতো।রিতা বোনের বিশ্বাসের অংশীদারত্ব পেয়ে যায়

অন্ধের মতন সে ছোট বোনকে পীর মানতো।উপর থেকে মিতার কাছে " গাইডেন্স" আসতো।রিতা মিতার সে গাইডেন্স অনুসরন করতো।এক সময় মিতার কাছে গাইডেন্স আছে হিন্দি গান গাওয়ার।এটাও নাকি প্রার্থনা ( মিতার নির্দেশে রিতা আমাদেরকে গান শোনায়-শুনো হে মুসলমান এ দুনিয়া ফানা হবে কিছু রবে না.....
পরে দুবোন মিলে একটি হিন্দি  গানও গায়।আমি হিন্দি বুঝি না
তবে সঙ্গে থাকা এক ছাত্রী বললো স্যার এটাতো প্রেমের গান)। তারা নিজেরাও জানে না এরকম চটুল গান কিভাবে ধর্মীয় সাধনা হয়।কিন্তু তারা বিশ্বাস করে এটি অতি উচ্চ স্তরের সাধনা।এর মাধ্যমেই তারা আধ্যাত্বিকতার উচ্চ স্তরে পৌছে যাবে। এক সময় মিতার কাছে গাইডেন্স আসে যে তাকে "অনারেবল রিলিজিয়াস লিডার অব দ্য ওয়ার্ল্ড আর. এইচ( রহমাতুল্লাহ আলায়েস সালাম " ঘোষনা করা হয়।পরে আরো উচ্চতর পদ " অনারেবল লিডার অব মিলিনিয়াম " দেওয়া হয়।এ সবই রিতা বিনা বাক্যে মেনে নেয় ও সেই এই গ্রেট রিলিজিয়াস লিডারের এক মা্ত্র ফলোয়ার।।তারা মনে করে তাদের বড় বোন ও দুলাভাই হচ্ছে গ্যাং লিডার যারা তাদের ক্ষতি করতে চায়।তাদের প্রশ্ন করতে গেলে রিতা বলে আমি ডাক্তার সিজোফ্রেনিয়া নিয়ে অনেক পড়াশোনা করেছি।আমাদের কোন হ্যালুসিনেশন,ডেলুশন নেই।যা কিছু বলে রিতাই বলে।মিতা আধ্যাত্বিক নেতার ভূমিকা নিয়ে কালে ভদ্রে দুএকটা নির্দেশ রিতাকে দিতো( মূলত মিতা মূল রোগিনী বলে ও তার চিন্তা বিভ্রান্তি বেশী বলে সঠিকভাবে সে কারো সঙ্গে কমিউনিকেশন করতে পারতো না।তার হয়ে রিতা গুছিয়ে সব কথার উত্তর দিতো।রিতার মধ্যে শুধু মিতার ভ্রান্ত বিশ্বাস গুলো ধারন করা ছাড়া অন্য কোন অস্বাভাবিকতার লক্ষণ নেই)।
মিতা বলে তার ছবি নাকি  প্রতিদিন পত্রিকার পাতায় আসে।বলে পাতা খুললেই দেখবেন আমার ছবি দিয়ে ভরা।এক ছাত্র পাশের বেড থেকে একটি পত্রিকা এনে কোথায় তার ছবি দেখাতে বলে।সে পত্রিকার সব ছবিই তার ছবি দাবী করে।কে ছবি দেয় জিজ্ঞেস করলে বলে" ডেভিল অব গড" এসব দেয়।আল্লাহ নাকি বলেন রিতার দায়িত্বহীনতার কারনে তাদের সাধনা পুরো সিদ্ধ হচ্ছে না।সে বলে রিতার অপদার্থ  স্বভাবের কারনে অনেক কিছু ভন্ডুল হয়ে যায়।সে রিতার ভুল সংশোধন করে দেয়।তখন রিতা তওবা করে।রিতা বলে সাধনা সিদ্ধির পর মিরপুরের রাস্তায় প্রচার করতে যাই।ছেলেরা বলে টিউশনি করেন না কেন?  এরপর এলিনা ধরে নিয়ে আসে।

তাদের বর্তমান দায়িত্ব হচ্ছে একটি গানের দল বানানো।পরে সারা পৃথিবীতে সে দল ছড়িয়ে পড়বে এবং এভাবেই নাকি তারা ধর্ম প্রচার করবে।রিতা বলে পুরো বাংলাদেশ মিতার তালুক।
দেশের বাইরেও মিতার প্রচুর ধন সম্পদ রয়েছে। এসব মিতার দাবী,রিতা তা বিশ্বাস করে মাত্র।মিতা কার কি কাজ তা লিখে দেবে তখন সবাই তার নির্দেশে সে অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে।জিজ্ঞেস করি নামাজ রোজা করেন? মিতার উত্তর বন্দিনীদের জন্য নামাজ রোজা জায়েজ না( তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে জোর করে আটকে রাখছে তাই তারা বন্দিনী) ।

তারা কিভাবে ধরা পরলো জানতে চাইলে বলে এই গান গাওয়ার সাধনায় ঘাটতি ছিল তাই ধরা পড়েছে।তারা বলে ৯ বছর ঘরের বাইরে যেতাম না।রিতা চুপিসারে মাঝে মধ্যে দোকান থেকে যা পারতো নিয়ে আসতো। ঐ দিয়েই কয়েকদিন চালিয়ে  নিতো।ঘরের বৈদ্যুতিক বাতি ও রাখতো না।বড় বোন হেনা বলে এক সময় আমি একজন সাইকিয়াট্রস্ট এর কাছে বোনদের কথা জানাই কিন্ত তাদের জোরকরে কেমনে বাইরে আনবো? এরমধ্যে তাদের মা বিনা চিকিৎসায় ঘরে মারা যায়।দুবোন মায়ের লাশ ঘরেই রেখে দেয়,কাউকে জানায় না।মধ্যরাতে  হ্যারিকেন নিয়ে তারা ঘরের বাইরে যায়। তখন অন্যরা দেখে ফেলে।
হেনা বলেন ইনকিলাব পত্রিকায় পড়ি যে মা মারা গেছে,লাশ ঘরে রেখে ঘরেই কবর দিতে চেয়েছিল।এডভোকেট এলিনা পুলিশ নিয়ে তাদের উদ্ধার করে।সেখানে বাড়ির ঠিকানাও ছিল। পেপার পড়ে সেখানে যাই।দেখি অনেক লোকজন( লাশ ঘরে অনেকদিন ছিল)। লাশ পুলিশ বাসার পাশে কবর দেয়।ওরা বলে আমার বোন আমাদের সম্পদ চায়।পুলিশ কিছু করে না।
ওদের উদ্ধার করে সেন্ট্রাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।কঙ্কালসার অবস্হা,প্রায় মরনদশা।একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এর পাশাপাশি ডা. মোহিত কামালের অধীন মানসিক চিকিৎসা চলে।তারা সুস্হ হয়ে উঠে।প্রচুর লেখালেখির কারনে সবার নজরে থাকে তাদের দিকে।
রিতাকে বিএসএমএম ইউতে একটি চাকরি ও দেওয়া হয়,পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে।কিন্তু সে নিয়মিত অফিস করে না,ঔষধ ও খায় না।তাই চাকরি চলে যায়।তারা আবার ২০০৭ সনে বিএসএমএমইউতে ৪ মাস চিকিৎসাধীন থাকেন।বড় বোন জাফরাবাদে ভাড়া বাসায় এনে তাদের রাখে।কিন্তু তারা ঔষধ খায় না।নিজেরা একত্রে গান গায়( উপাসনা করে)। কারো সঙ্গে মিশে না।তাদেরকে খাবার দেওয়া হয় তারা তা খেয়ে নিয়ে নিজেদের মতন চলতে থাকে।ফলে ২০১১ সনে তাদের আবার ভর্তি করা হয় বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।এরপর হেনা নিজ বাসায় নিয়ে রাখে।কিন্তু তারা তাদের মতনই থাকে।২০১৩ এ তারা বাসা থেকে গোপনে পালিয়ে বাসে করে বগুড়ায় চলে যায়।
একটি হোটেলে কয়েক মাস থাকে।টাকা শেষ হলে হোটেলের লোকেরা তাদেরকে একটি সমাজ সেবা কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেন।সেখান থেকে এডভোকেট এলিনা  ও বড় বোন গিয়ে তাদের ঢাকায় নিয়ে আসে।একইরকম অবস্হায় বোনের বাসায় তারা থাকে।
কিন্তু গত কিছুদিন যাবৎ তারা খাওয়া দাওয়া একদম বন্ধ করে দেয়।কোনভাবেই তাদের খাওয়াতে না পেরে বড় বোন এবার তাদেরকে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য  ইনস্টিটিউটে ভর্তি করান
যা শিক্ষনীয়:
১। মানসিক রোগ সম্বন্ধে ন্যুনতম ধারনা থাকলে তাদের পরিবারের লোকদের,আত্মীয়দের সহজেই বোঝার কথা ছিল যে মিতার এই অহেতুক সন্দেহ প্রবনতা বড় ধরনের মানসিক রোগের লক্ষন।তখন তাকে সুচিকিৎসা দিলে তার চাকরি ছাড়তে হতো না,রিতাও তার প্রভাবে আক্রান্ত হতো না।এক কথায় পরবর্তী এতো অঘটনের কোন কিছু ঘটতো না।
২। মায়ের লাশ নিয়ে ঘরে বসে আছে জানার পরও পুলিশ জানতে চেষ্টা করেনি তারা মানসিক রোগী কিনা।অন্তত তখনই তাদেরকে চিকিৎসার আওতায় আমাী উচিৎ ছিল।
৩। যে কয়বার হাসপাতালে ভর্তি করে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়,শুধু সে সময়টুকুতে তারা পূর্ন চিকিৎসার আওতাধীন  ছিল ও ভালো হয়ে গিয়েছিল।কিন্তু বাকী সময়গুলোতে তারা নিজের মতন চলতো,ঔষধ খেতো না।এক কথায় চিকিৎসা বিহীন অবস্হায় থাকতো
৪। এর জন্য বড় বোনকে দায়ী করা অন্যায় হবে।কেননা এ রকম বড় ধরনের মানসিক রোগীরা নিজদেরকে রোগী মনে করে না।তাই তারা চিকিৎসা গ্রহনে রাজী থাকে না
৫। মূল রোগিনী হচ্ছে মিতা।রিতা মিতার উপর নির্ভরশীল হয়ে তার লালিত ভ্রান্ত বিশ্বাসগুলোর অংশীদারিত্ব পেয়ে যায় ( শেয়ার হয়ে যায়)। একে বলা হয় " শেয়ার্ড ডেলুশন"। তুলনামূলক ভাবে এটি নিরাময় করা সহজ,যদি মূল রোগিনী থেকে তাকে " বিচ্ছিন্ন " রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়।কিন্তু কোন বারেই তা হয়নি।বরং তারা সব সময় শুধু নিজেদের মধ্যে থাকতো।ক্ষনকালের জন্য ও দূরে থাকতো না।
৬। যেহেতু এ ধরনের ক্রনিক রোগীরা ঔষধ খেতে চায় না,তাই বিদেশে কমিউনিটি সাইকিয়াট্রিক টিম নিজ দায়িত্বে নির্দিষ্ট সময় পর পর ঔষধ, ইনজেলশমএসহ নিয়মিত বাসায় গিয়ে চিকিৎসা দিয়ে আসা হয় ও ফলো আপে রাখা হয়।তাছাড়া যাদের দীর্ঘ মেয়াদী চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের প্রয়োজন তাদের জন্য সরকারী ভাবে হোস্টেল,রি- হ্যাব সেন্টার রয়েছে।
৭। আমাদের দেশে এখনো এই সার্ভিসগুলো চালু হয়নি।কিন্তু পাবনা মেন্টাল হাসপাতাে যে বিশাল অবকাঠামো রয়েছে, অনায়সে সেখানে বড় মাপের দুটি রি- হ্যাব সেন্টার খোলা যায়।ঢাকার জাতীয় মানসিক স্বাস্হ্য ইনস্টিটিউটেও এখনি বাড়তি কোন জনবল ও পয়সা খরচ ছাড়া কমিউনিটি সাইকিয়াট্রি টিম কাজ করতে পারে এবং এখানেও কয়েকটি বড় রুম নিয়ে রিহ্যাব সেন্টার খোলা সম্ভব








Friday, June 16, 2017

সাইকোলজিক্যাল টিপস-৩১: আপনি কতটুকু আত্ম মর্যাদাশীল?

পর্ব-৩(শেষ পর্ব)
অবশেষে জানা গেলো কেন উনার নাম- চিকুনগুনিয়া: শরীর  চিপতে চিপতে ( ব্যথা দিতে দিতে)  শরীরকে নিদারুন চিকন করে ফেলে( খুবই কাহিল,দূর্বল করে ফেলে) বলে এরকম নামকরন।স্বার্থক নাম তোমার বাবা।
দীর্ঘ ১৬-১৭ দিন এর সঙ্গে  যুদ্ধে জেতার পর আবার শুরু করলাম নিয়মিত বিভাগ
( অবিশ্যি পূর্বের ২ পর্ব পড়ে নেবেন)

৯।আপনি ঘৃনা,ক্ষোভ পুষে রাখেন? নিজের ইগোর কারনে অন্যকে ক্ষমা করা কঠিন মনে হয়?
তার মানে আপনার কাছে " সম্পর্কের" চেয়ে " ইগো" বড়।এই বড় ইগো আপনার সম্পর্কগুলো নষ্ট করে দিচ্ছে তথাপি " গো" ধরেছেন ভাঙ্গবেন তবু মচকাবেন না( এই অসুস্হতার সময় ১ বছর পূর্বের লেখা টিপস-২১ ফেইসবুক পুন স্মরন করিয়ে দেয়। লক্ষ্য করে দেখবেন দুএকজন সেখানে মন্তব্য করেছে সবাইকে, সব কিছুকে ক্ষমা করা যায় না।তাদের এই " গো" ধরার মূল কারন ইগো।ক্ষমা না করে ঐ বিষয় নিয়ে সারাজীবন নিজকে যন্ত্রনার মধ্যে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ? এতে ঐ লোকের কিছু যায় আসে কি?ক্ষমা করতে হবে নিজের মনের শান্তি আনার জন্য, ঐ লোকের প্রতি উদারতা দেখানোর জন্য নয়)
মনে রাখবেন উচ্চতর আত্ম মর্যাদাসম্পন্ন লোকেরা নিজকে " সঠিক" প্রমান করার চেয়ে " সম্পর্ককে" বেশী গুরুত্ব দেয়
১০। অন্য দিকে আপনি নিজকেও ক্ষমা করতে পারেন না?
আপনি নিজেই নিজের বড় সমালোচক? আপনি তাহলে নিজের ভুল থেকে শেখার চেয়ে "ভুলের ভারে" অবনত হয়ে থাকেন।নিজের প্রতি সদয় হোন,নিজকে ভালোবাসুন।ভুল,অন্যায় অন্যরা করলে যেমন ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন,নিজের বেলায় সেটি করা আরো গুরুত্বপূর্ণ। দৃড় আত্ম মর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তিরা নিজকে " আসামী" করে রাখে না,নিজকে খারাপ, মন্দ ভেবে হীনমন্যতায় ভুগে না।তারা নিজকে ভালোবাসে,শ্রদ্ধা করে তাই নিজকে ক্ষমা করে দেয় অনায়াসে
১১। আবার কোন ভুল, অন্যায় করলে তার জন্য " ক্ষমা" চাইতে ইগোতে বাধে? উচ্চ আত্ম মর্যাদাবোধ থাকলে  ভুল স্বীকার ও তার জন্য  ক্ষমা চাইতে কুন্ঠা বোধ থাকার কথা নয়।
এতে ছোট হয়ে যাবো, মাথা নীচু হয়ে যাবে এরকম ভাবনাই বরং হীনমন্যতার লক্ষণ। ভুলের জন্য  যেমন নিজকে অপরাধী করে রাখবেন না।তেমনি এর জন্য ক্ষমা চেয়ে নিজকে "ভারমুক্ত" রাখার ক্ষেত্রে কুন্ঠা বোধ করবেন না।

১২। প্রায়ই অন্যদের সমালোচনা,বদনাম করে বেড়ান? সব বিষয়ে,সবাইকে সমালোচনা করা মানে আপনি কোন কিছুতে খুশী নন।অন্যদের কাছ থেকে অনুমোদন, প্রশংসা যেমন ভিক্ষা করে বেড়াবেন না,তেমনি অন্যদের সার্বক্ষণিক সমালোচনা করে যাবেনএটিও ঠিক নয়। দুটিই প্রমান করে আপনার আত্ম শ্রদ্ধার ঘাটতি আছে।

লাও জু( lao tzu)বলেছেন"যখন আপনি নিজের মতন থাকতে তৃপ্তি পাবেন ও অন্যের সঙ্গে তুলনা করবেন না বা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না- তখন দেখবেন সবাই আপনাকে সম্মান করছে।"
আজ থেকে এরকমটি চেষ্টা করুন এবং দেখুন কেমন অনুভব  করছেন।
আত্ম মর্যাদাবোধ সবল থাকলে আমরা অন্যদের শ্রদ্ধা  এমনিতেই পাবো,যা পেতে আমরা তাদের তুষ্ট  করার নানান চেষ্টা করি।আবার আত্ম মর্যাদাবোধ উচু থাকলে আমরা নিজকে ভালোবাসতে শেখবো, এমনকি যদি তেমনটি অন্যদের কাছ থেকে নাও পেয়ে থাকি