১। বড় কিছু অর্জিত হলে,সফলতা পেলে, সুখী হবো -এমনটি না ভেবে
প্রতিদিনের সাদামাটা জীবনের চারপাশে যে ক্ষুদ ক্ষুদ্র আনন্দ, হাসি,সুখ,গর্ব ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, সেগুলো ধারন করে সুখী হোন
এবং
২।সে সব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সুখ,আনন্দ, সফলতা,অর্জন,গৌরব,সম্মানকে সানন্দে,সারম্ভরে উদযাপন করুন
( আমি করি -- আপনি করছেন তো?)
Sunday, May 13, 2018
সাইকোলজিক্যাল টিপস-৪২
Friday, May 11, 2018
সাইকিয়াট্রিস্ট এর জার্নাল --১৯:স্বেচ্ছা মৃত্যুর সুযোগ বাংলাদেশে ও চাই
অস্ট্রেলীয়ার ১০৪ বছর বয়সী বিজ্ঞানী ডেভিড গুডাল গতকাল সুইজারল্যান্ড এর লাইফ সার্কেল হাসপাতালে কষ্ট বিহীন ইনজেকশনে স্বেচ্ছা মৃত্যু বরন করেন।
আগেরদিন সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন
" আমার সামর্থ্য দিন দিন কমে আসছে...আমি সৌভাগ্যবান যে আমার শান্তি পূর্ন জীবনাবসান হচ্ছে আগামীকাল "।
এই সফল,সুখী, প্রকৃতি প্রেমিক বিজ্ঞানী স্বেচ্ছায় মৃত্যু বরনের সিদ্ধান্ত কি আপনাদের অবাক করে?
এটা কি অনুমোদন যোগ্য?
একজন সাইকিয়াট্রিস্ট হিসেবে কি আমি এমনটি সমর্থন করতে পারি?
এরকম শত প্রশ্ন অনেকের মনে জাগতে পারে
।আত্মহত্যা প্রতিরোধে আমরা সাইকিয়াট্রিস্টরা এবং আমি নিজেও প্রচুর লেখালিখি করছি।
তবে মানসিক রোগের কারনে বা অন্য যে কোন আবেগতাড়িত আত্মহত্যা কখনো সমর্থন যোগ্য নয়।
কেননা তাদের যথাযথ চিকিৎসা দিলে বা তাদের মনোকষ্ট বা আবেগীয় সমস্যার সমাধান হলে তারা আত্মহত্যা করতো না,বরং জীবনকে আরো আনন্দময় ও সফল করতে সচেষ্ট হতো।
কিন্তু সেচ্ছা মৃত্যু আর আত্মহত্যা এক জিনিস নয়।
একজন মানসিক ভাবে সুস্হ ব্যক্তি ও বৃদ্ধ বয়সে সবদিক থেকে সফল ও সুখী মানুষ হয়ে ও স্বেচ্ছায় মৃত্যু বরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
ফ্রয়েড এর পর সবচেয়ে বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী এরিকসন তার "লাইফ সাইকেল" বা জীবন বৃত্ত তত্বে জীবনকে কয়েকটি ধাপে ভাগ করেছেন
।একজন পরিপূর্ণ সফল ও সুখী মানুষ শেষ ধাপে জীবন সার্কেল সফলতার সঙ্গে সমাপ্ত করেন এবং যাপিত জীবন নিয়ে পূর্ন তৃপ্তি ও সন্তুষ্টি অর্জন করেন।
তখন তিনি জীবনকে পরিপূর্ণ ও সফল মনে করেন এবং আসন্ন মৃত্যুকে স্বাভাবিক ভাবে গ্রহন করতে মানসিক ভাবে প্রস্তুত থাকেন।
মৃত্যু তখন তার কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত, ভয়ের বা আফসোসের কোন বিষয় থাকে না।
এরকম জীবন সার্কেল সফলতার সঙ্গে পূর্ন করে সুখী,আত্ম তৃপ্ত মানুষের সংখ্যা কম হতে পারে, তবে কিছু তো রয়েছে।
আমি মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই যে আমি নিজকে সেরকম পরিপূর্ণ সফল ও সুখী একজন মানুষ মনে করি।
এখন এ বয়সে মৃত্যু বা জীবনাবসান আমার জন্য খুব স্বাভাবিক।
তাই বিজ্ঞানী ডেভিড গুডালের মতন পরবর্তী কোন অসামর্থ্য বা পীড়ন থেকে মুক্ত থাকতে সফল,সুখী ও পরিপূর্ণ জীবনকে স্বেচ্ছায় ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছে পোষন করলে তা ভুল বা আপত্তিজনক হওয়া উচিৎ হবে না।
মনে রাখতে হবে মানসিক ও শারীরিকভাবে কাবুল হয়ে,হতাশ হয়ে, বিষন্নতার জন্য আত্মহত্যার চিন্তা
আর সুস্হ অবস্হায়,তৃপ্ত পূর্ন জীবন নিয়ে শেষ বয়সে মৃত্যুকে বীরের মতন আলিঙ্গন করাকে এক করে দেখা যাবে না।
আমি এখন যে কোন সময় স্বেচ্ছায় মৃত্যু বরনের জন্য প্রস্তুত।
স্বেচ্ছা মৃত্যুর মাত্র ২ দিন আগেও সিএনএন কে সাক্ষাতকারে এই মহান বিজ্ঞানী বলেন
" আমি আবার যদি ঘন জঙ্গলের মধ্যে হাটতে পারতাম.....
আমি এখনো পাখির কিচিরমিচির উপভোগ করি কিন্তু দৃষ্টি শক্তির সীমাবদ্ধতার জন্য সে সৌন্দর্য দেখতে পাই না"
কি অসম্ভব জীবনী শক্তি,প্রকৃতি প্রেম ও গভীর জীবন বোধ সম্পন্ন মানুষ তিনি।
তার পক্ষেই স্বেচ্ছায় মৃত্যু বরন করার মতন সাহস দেখানো সম্ভব।
এ ক্ষুদ্র মানুষটিও এ দলে
কিন্তু আমাদের দেশে সে মেডিকেলীয় ব্যবস্থা ও আইনি ব্যবস্থা অনুপস্থিত। বাংলাদেশে ও সেরকম সংস্কার চাই
Saturday, May 5, 2018
রোগ কাহিনী -২৯:মসজিদে গেলে সেখানে সামাজিক যুদ্ধ চলে কার ছেলে/মেয়ে কত ভালো করছে,কোথায় চান্স পেয়েছে-- যখন ক্লাশে ফার্স্ট হতে শুরু করলাম বাবাসহ সবাই বলতে লাগলো অন্য ছেলেরা কম পড়েছে তাই তুমি ফার্স্ট হয়েছো।
কাহিনী সংক্ষেপ :রোগীর মা বলেন স্যার দিনাজপুর থেকে এসেছি -
বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ নিউরোলজিস্ট দ্বীন মোহাম্মদ স্যার আমার সব কথা শুনে তাৎক্ষনিভাবে আপনার ঠিকানা দিয়ে বলেন এখনি ওনার কাছে চলে যান।
মা,খালা ও রোগী আজমি যা বললেন :
বাবা একটি সরকারী স্কুলের প্রধান শিক্ষক, মা প্রাইমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা।
আজমির বাবা গ্রাম থেকে উঠে আসা ব্রিলিয়ান্ট ছাত্র। বোর্ডে স্টান্ড করা।দারিদ্র ও পারিপার্শ্বিক কারনে তিনি পরবর্তীতে তত ভালো করতে পারেননি।
তাই তিনি এখন তার অপূর্ণ স্বপ্ন একমাত্র ছেলেকে দিয়ে পূরন করতে চান। ছেলেকে সব সময় কন্ট্রোল করা ও আগলে রাখার চেষ্টা করেন
প্রতিদিন ভোরে উঠার জন্য ১ বার,দুপুরে খাবার ব্রেকে ১ বার ও বিকেলে হাটতে গেলে ১ বার ফোন করবেনই।
যদি ফোন রিসিভ না করে তাহলে ১৫-১৬ বার ফোন করতে থাকে( বলে তোমার কিছু হলে আমি বাচবো না)।
পড়ার সময় আত্মীয় স্বজন এলে বলে ওর কাছে যেওনা ওর পড়ার ডিস্টার্ব হবে,কিন্তু নিজে ছেলের পাশে বসে স্কুলের নানাবিধ সমস্যার কথা ছেলের কাছে শেয়ার করে।
বন্ধুদের বার বার ফোন করে জানতে চায় আজমি ক্লাশে আছে কিনা,কোথায় খাচ্ছে, কি খাচ্ছে।
এতে বন্ধুরা মজা পেয়ে তারা বলে আঙ্কেল ওতো ক্লাশ করে না,বাজে হোটেলে খায় ইত্যাদি।
এভাবে ওনার টেনশন আরো বাড়িয়ে দেওয়া হয়
।ছুটির দিনও হল থেকে বাসায় আসতে মানা করে কেননা এতে পড়াশোনার ক্ষতি হবে
।সারাক্ষণ খবরদারি করতো- টিভি দেখো কেন,এটা করা যাবে না,ওটা করা যাবে না-ইত্যাদি।
বানান ভুল করলে মারধর করতো।
বলতো ওমুকের ছেলের রোল ১ বা২ আর তুমি সবসময় ৮-৯ এ থাকো।
আজমি বলে ক্লাশ সিক্স এ উঠার পর আমার রেজাল্ট ভালো হতে থাকে।আমি ফার্স্ট হতে শুরু করি।
কিন্তু বাবাসহ অন্যরা বলে বাকী সবাই তেমন পড়াশুনা করে নাই, তাই তুমি ফার্স্ট হয়েছো
।সন্ধার পর কোন আড্ডায় যাওয়া নিষিদ্ধ। তুলনা করে বলে পাশের বাড়ীর মেয়েটি স্কলারশিপ পেয়েছে,ওমুকে তেমন করেছে।এরকম তুলনা করলে মন খারাপ হতো।
আজমি আরো বলে- স্যার মসজিদে নামাজ পড়ার পর এক সামাজিক যুদ্ধ বাধে- সবাই বড় গলায় বলতে থাকে কার ছেলে/ মেয়ে কত ভালো রেজাল্ট করেছে বা কত ভালো জায়গায় ভর্তি হতে পেরেছে।
এগুলো বাবার মনে জিদ তৈরি করে, আমার ছেলে পিছিয়ে থাকবে কেন?
আজমির সমস্যা শুরু ৫ বছর আগ থেকে যখন সে ক্লাশ টেনে পড়ে
।একসময় সে লক্ষ করে লিখতে গেলে তার আঙ্গুল শক্ত হয়ে যায়, লিখতে অসুবিধা হয়।তবে নিজেই মনের জোরে চেষ্টা করে ভালো হই
।আড়াই বছর পর আবার এ সমস্যা দেখা দেয় যখন এইচএসসি পরীক্ষার ২ মাস বাকী। একই সঙ্গে অতিরিক্ত স্বপ্ন দোষ হতে থাকে।ডাক্তার বলে এগুলো নরমাল।
আরো সমস্যা যোগ হয়- ঘাড় ভার হয়ে আসে,যেন কেউ একজন ঘাড়ে বসে আছে।
এই ভারে হাটতে গেলে মাথা নিচু হয়ে যেতো।পড়তে গেলে মাথা জ্বলে।
একদিন দেখি পুরো ঘরে ধোয়ায় ভরা,একটি লোকের লম্বা আঙ্গুল আমার গলা চেপে ধরতে আসছে।
আমি পা দিয়ে খাটে আঘাত করি যাতে শব্দ শুনে কেউ আসে।তারা আমার পা ও চোখ চেপে ধরে
।আয়াতুল কুরসি পড়তে থাকি।কিছুক্ষণ পর সব পরিস্কার।
এর সঙ্গে আরেক সমস্যা শুরু হয়- কে যেন বলে আমি জানালার পাশে আছি,তোকে মেরে ফেলবো।
মনে হয় কে যেন পা ধরে টানে,মনে হয় বাতাসে উড়ে বেড়াচ্ছি।এসব কারনে পড়া শুনা বন্ধ হয়ে যায়।
খালাতো ভাই হুজুর আনে।তিনি অন্য একজনের উপর জ্বীন ঢেকে আনেন।
সে বলে তাবিজ আছে,জ্বীন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।এসব বলে হুজুর বলে ওকে আর ঝামেলা করবেন না।
এরপর হাত ঠিক হয়ে যায়।পরীক্ষার আর মাত্র ৩ দিন বাকি। তবু ও পড়া শুরু করি।
পরীক্ষার আগেরদিন কাউকে চিনি না,উদভ্রান্ত হয়ে পড়ি।
সকালে ৪ জনে ধরে নিয়ে হলে বসিয়ে দেয়( বাবা চান না ইয়ার লস হোক)। ম্যাডাম বলে যা পারো লেখো।
৫ বার উঠি,ম্যাডাম প্রতিবার বসিয়ে দেয়( যেহেতু বাবা বলে গেছে)। সে পরীক্ষায় ৮৬% এন্সার করে ৮২% মার্ক পেয়েছিলাম।
পরের দিন পরীক্ষা দেবো না।তখন নিউরোলজিস্ট দেখানো হয়।তিনি সিটি স্ক্যান করে বলেন কোন সমস্যা নাই।তবু পরীক্ষা দেই
।বন্ধুরা,বিশেষ করে মেয়েগুলো বলতে থাকে বেশী বেশী পড়তো বলে আজ এ অবস্হা।
প্রতিটি পরীক্ষা দেই আর হাতের সমস্যা তত বাড়তে থাকে।শেষদিন হাতের আঙ্গুল একেবারে বেকে যায়,কোন রকমে টেনে টেনে লিখা শেষ করি।
এরপর খালার বাসায় নিয়ে অন্য হুজুর দেখানো হয়।তিনিও একই কথা বলেন।এরপর হাতের সমস্যা কমে যায়।
খালা বলে স্যার ওর সমস্যা দেখা দিলেই হুজুরকে ফোন করে, আর হুজুর টাকা চায়। এভাবে অনেক টাকা দেওয়া হয়ে গেছে।
এরপর ভার্সিটির এডমিশন টেস্ট। সেখানেও কষ্ট করে পরীক্ষা দেই।তবু বি- ইউনিটে ৩৪ তম হয়ে ঢাকা ভার্সিটিতে ' ল সাবজেক্টে ভর্তি হই( জগন্নাথে ২১ তম হই)।
এরপর হাতের সমস্যার জন্য অর্থোপেডিক ডাক্তার দেখাই।একজন বলেন ট্রিগার আঙ্গুলে সমস্যা কিন্তু পিজিতে বলে কোন সমস্যা নেই
।কোনভাবে ফার্স্ট টার্ম দেই।সেকেন্ড টার্মের আগে আব্বুকে বলি দ্বীন মোহাম্মদ স্যারকে দেখাতে।ভালো হইনি।
তখন ম্যাডামের অনুমতি নিয়ে " রাইটার" নিয়ে ৬টি পরীক্ষা দিলাম।
এরপর অন্য সমস্যা দেখা দেয়-ঘুমাতে যাই কে যেন পা টেনে অন্য দিকে নেয়,আঙ্গুল শক্ত করে দেয়,হাত- পায়ের রগ দিয়ে বাতাস ঢুকে আমাকে অস্হির করে তুলে- মনে হয় সবাইকে মেরে ফেলবো,ভাংচুর করবো।
এবার দ্বীন মোহাম্মদ স্যারের কাছে গেলে সরাসরি আপনার কাছে পাঠিয়ে দেয়।
এ কাহিনী থেকে যা শিক্ষনীয়:
১। লিখতে গেলে আঙ্গুল শক্ত হয়ে গিয়ে লিখতে না পারার রোগের নাম " writer's cramp"।
২। এটি একটি উদ্বেগ জনিত রোগ হলেও মূলত যারা পারফেক্টশনিস্ট( অতিরিক্ত নিখুত হতে চায় ) তাদের এ সমস্যা বেশি দেখা দেয়।
৩। শিশু লালন পালন পদ্ধতি : মূলত ৪ ধরনের।তবে এখানে বাবাকে একাধারে অতি নিয়ন্ত্রণ ও অতি আগলে রাখার প্রবনতা দেখতে পাচ্ছি ( over control and over possessiveness)। এটি একটি মিশ্র পদ্ধতি।উভয় প্রবনতাই ক্ষতিকর।
৪। নিজেদের অপূর্ন স্বপ্ন সন্তানদের দ্বারা পূরন করার অবাস্তব চেষ্টা তাদের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করে।
৫। সারাক্ষণ অন্যদের সঙ্গে তুলনা করে আমরা সন্তানদের মনোবল ভেঙ্গে দেই,তাদের মনে হীনমন্যতা ঢুকিয়ে দেই।
৬। সামাজিক যুদ্ধ - কার ছেলে/মেয়ে কত ভালো করেছে- এটি আমাদের সমাজে একটি ব্যাধি হয়ে দাড়িয়েছে।জিপিএ-৫ এর নেশায় অভিভাবকরা মরিয়া হয়ে সন্তানদের পিছে লাগছে
৭। বাবার অতি নিখুত হওয়ার প্রবনতা আজমি পেয়েছে,অতি নিয়ন্ত্রণ, আগলে রাখার কারনে আত্মবিশ্বাস দুর্বল হয়েছে, অতি সামাজিক তুলনা ও সমালোচনায় হীনমন্যতা তৈরি হয়েছে,অতি প্রত্যাশা মনে আশঙ্কা তৈরি করেছে।
সব মিলিয়ে পরীক্ষা তার কাছে মূর্তিমান দৈত্য হিসেবে হাজির হয়- তার অবচেতন মন শঙ্কা ও উদ্বেগে ভারাক্রান্ত হয়।ফলে পরীক্ষার সামনে লিখতে গেলে তার " রাইটারস ক্রাম্প" শুরু হয়।
৮। একই মানসিক দ্বন্দ্ব, সংঘাতের কারনে তার অবচেতন মনে অনেক চাপ পরে, যা তার ধারন ক্ষমতার বাইরে।
ফলে"dissociative- conversion"- রোগের লক্ষণ দেখা দেয়-
যার বেশীরভাগ লক্ষণকে আমাদের দেশে " জ্বীন-ভুতে" ধরার লক্ষণ মনে করা হয়।
৯। মনে রাখতে হবে শুধু মেধা থাকলে হবে না,মানসিক জোর,আত্মবিশ্বাস ও থাকতে হবে।তানাহলে মেধা কোন কাজে আসবে না।
১০। যেহেতু মানসিক রোগ - তাই হুজুর ও ধর্ম বিশ্বাস -রোগীর মনে এই বিশ্বাস ও আস্হা তৈরি করে যে এবার সে জ্বীনের কবল থেকে মুক্ত হয়েছে,তাই সাময়িকভাবে সে লক্ষণ মুক্ত হয়( আমরা একে বলি " placebo effect "।
১১। কিন্তু রোগের মূল যে কারন তার অবচেতন মনের চাপ,দ্বন্দ্ব সেটির নিরসন না হওয়ার কারনে এবং মানসিক সক্ষমতা না বাড়ানোর কারনে, যখনি পরীক্ষা বা কোন চাপের মুখে পড়ে তখনি তার পূর্বের সমস্যা আবার দেখা দেয়।
১১। তাই জ্বীন- ভূত তাড়ানো নয়,তাদের দরকার মনোরোগ বিশেষজ্ঞের চিকিৎসা
Friday, May 4, 2018
তাসফিয়ার মৃত্যু ও আমাদের দায়
কিশোরী তাসফিয়া ফেইসবুক বন্ধু আদনানের সঙ্গে তাদের "প্রেমের?) ১ মাস পূর্তি উপলক্ষে রেস্টুরেন্ট এ একত্রে উৎসব করে ফেরার পর " না ফেরার " দেশে চলে গেলেন।এই নির্মম হত্যাকান্ডে এখনো পর্যন্ত ঐ বয়ফ্রেন্ড আদনান ও তার " কিশোর গ্যাং কে দায়ী করা হচ্ছে।আদনান ঐ কিশোর গ্যাং এর প্রধান।তাসফিয়ার বাবা তাদের সম্পর্ক সমন্ধে জেনে গেলে তিনি আদনানকে শাসিয়ে দেন ও তাসফিয়ার ফেইসবুক একাউন্ট বন্ধ করে দেন।এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আদনান তাসফিয়াকে তার বন্ধুদের হাতে তুলে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এরকম ঘটনা আগেও ঘটেছে এবং যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যৎ এ ঘটবে।আমরা কি একটু নির্মোহ দৃষ্টিতে এরকম ঘটনার পিছনে আমাদের দায় কতটুকু তা একটি ভেবে দেখবো?
প্রথমত: এলাকায় একটি কিশোর গ্যাং তৈরি হয়েছে, তারা যাবতীয় অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে অথচ অভিভাবক হিসেবে আমরা তা জানবো না, আমার সন্তান সেখানে জড়িত কিনা তার খোজ নেবো না,খোজ পেলে সন্তানকে ঐ পথ থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা নেবো না- যদি তাই হয় তাহলে অভিভাবক হিসেবে আমরা এর দায় এড়াবো কিভাবে?। প্রতিটি মা- বাবাকে তার সন্তানের বখাটেপনা, অপরাধের জন্য দায় নিতে হবে,সমাজ ও আইনের কাছে জবাবদিহিতা করতে হবে।এলাকার মুরুব্বীরা,পুলিশ প্রশাসন প্রথমে মিটিং করে এই দায়ভার ঐ অভিভাবকদের ঘাড়ে ন্যস্ত করবেন যাতে পরবর্তী যে কোন অপকর্মের জন্য সরাসরি মা-বাবাকে তার জন্য কৈফিয়ত দিতে হবে।
২য়ত: এলাকার মুরুব্বীরাদেরকেও এর দায় নিতে হবে।এলাকায় মাদক বিক্রি হয়,কেনা হয় ; এলাকায় নানাবিধ অনাচার, অপরাধ ঘটছে স্হানীয় সমাজপতি, জনপ্রতিনিধি, মুরুব্বীরা কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না বা নিতে ভয় পারছে।একসময় আমাদের সমাজে মুরুব্বীরা তেমন দায়িত্ব পালন করতো।এখন ভয়ে কেউ এগিয়ে আসছে না।এ ভয় কাটাতে হবে।
তবে সবচেয়ে বেশী দায় নিতে হবে স্হানীয় পুলিশ প্রশাসনকে।তাদের নাকের ডগায় এতো কিছু ঘটছে তা কিভাবে সম্ভব? উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এরকম প্রতিটি অপরাধ ঘটার জন্য তাদের কাছে কৈফিয়ত চাইবে কেন আগ থেকে।প্রতিরোধ করা হলো না,কেন তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এভাবে সবার স্ব স্ব দায়িত্বহীনতার জন্য যদি জবাবদিহিতা ও কৈফিয়তের ব্যবস্থা কঠোর ভাবে পালন করা হয় তাহলে এরকম অপরাধ নাটকীয় ভাবে কমে আসবে।কিন্তু বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাধবে কে?
এতে
Monday, April 30, 2018
সাইকোলজিক্যাল টিপস:৪১
১। নিজের জন্য কারো কাছে কৈফিয়ত বা সাফাই গাইতে যাবেন না
কেননা যারা আপনাকে পছন্দ করে তাদের এটি প্রয়োজন নেই
আর যারা আপনাকে পছন্দ করে না,তারা এটি বিশ্বাস করবে না
২। নিজের দুংখ- কষ্টের কথা জনে জনে বলে বেড়াবেন না
কেননা ৫০% লোকের আপনাকে নিয়ে কোন মাথাব্যথা নেই
আর বাকি ৫০% বরং এনিয়ে হাসি- তামাশা করবে
Thursday, April 26, 2018
রোগ কাহিনী -২৮: যৌন হেনস্হা শুধু মেয়েরা হয় না,ছেলেরাও হয়
কাহিনী সংক্ষেপ : ৭ বছরের অর্থকে নিয়ে আসে মা- বাবা দুজনেই।সে ক্লাশ টুতে পড়ে।দেড়- দুই বছর পূর্বে গ্রামে বেড়াতে গেলে তার চাচাতো ভাই(বয়স-১৫) তার সঙ্গে শারিরীক সম্পর্ক করে
।এতোদিন এ নিয়ে সে কিছু বলেনি।হঠাৎ সপ্তাহ খানেক আগে ঐ ছেলে বিয়ে খাওয়া উপলক্ষে তাদের বাসায় আসে।
রাতে অর্থ কান্নাকাটি করে।কেন কাঁদছে জানতে চাইলে বলে সে আমার সঙ্গে এসব নোংরা কাজ করেছে।
বাবা বলে, ঠিক আছে তাকে পরদিন বাসা থেকে বের করে দেবো।কিন্তু অর্থ মানে না এরাতেই ওকে বের করে দাও।কোনভাবে রাত পেরোলে ঐ ছেলেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
কিন্তু তার কান্না থামে না।বলে আমার বার বার ঐ কথা মনে পড়ে।
সে এখন অন্য ছেলেদের নামেও বদনাম করে যে তারাও তার সঙ্গে নোংরা কাজ করেছে।গনহারে অভিযোগ করতে থাকে।
কোন বাচ্চা মেয়েকেও সে পাশে বসতে দেয় না।চিৎকার করে,বলে তাকে চলে যেতে বলো।রাতে বেশি কাদে,খায় না,স্কুলেও যায় না
এদিকে মা- বাবার মধ্যে বনিবনা হয় না,তাই মা বলতো আল্লাহ আমাকে নিয়ে যাও,ওকে ও ( ছেলেকে) নিয়ে যাও আর সহ্য হয় না।
তাই এখন অর্থ কাদে বোধ হয় আম্মু মরে যাবে,আমি আম্মু কোথায় পাবো? সবাই মরে কেন? আমি মরবো কবে? মরে গেলে কি আবার জন্ম হবে?
সে বলতে থাকে পৃথিবীর কেউ ভালো না।
বাবা ঐ বিয়ের ভিডিও দেখালে সেখানে ঐ ছেলের ছবি দেখে আবার চিৎকার,আরো কান্না
।সে বলে আমার বার বার ঐ নোংরা কথাগুলো মনে পড়ে( দিনে ৮-৯ বার)।
মাকে জড়িয়ে বলে আম্মু তুমি মরে যেও না,চলে যেওনা,আমি কার কাছে থাকবো?
কি বার্তা দেয় এই কেস হিস্ট্রি?
১। শুধু মেয়েরা নয়,ছেলেরাও এ ধরনের নোংরা কাজের শিকার হন
২।ছেলে শিশু,মেয়ে শিশু সবাইকে নিরাপদ রাখতে অভিভাবকদের আরো সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে
৩। তথাকথিত আত্মীয়,ঘনিষ্ঠ জন মনে করে বেখেয়াল হলে চলবে না
( দুলাভাই -শালি একটু মজা করতে পারে- এ জাতীয় কুসংস্কৃতি বদলাতে হবে)
৪। শিশুরা ভয়ে বা লজ্জায় এগুলো প্রকাশ করে না( যদি না অর্থের মতন মানসিক ভারসাম্য হারায়)।
তাই অভিভাবকদের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে কিছু শারিরীক ও মানসিক লক্ষণের দিকে যাতে প্রাথমিক ভাবেই বুঝা যাবে সে এমন নির্যাতনের শিকার হয়েছে কিনা?
৫। এরকম ট্রমাটাইজড শিশুদের অবশ্যই মনোচিকিৎসক দ্বারা কাউন্সিলিং করিয়ে নেবেন
।তানাহলে পরবর্তীতে বড় ধরনের মানসিক সমস্যার সম্ভাবনা থাকে
৬। স্বামী স্ত্রী সম্পর্ক খারাপ বলে শিশুর কাছে নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে শিশুকে আবেগীয়ভাবে দুর্বল করবেন না
সে
Friday, April 20, 2018
সাইকোলজিক্যাল টিপস:৪০
আপনার মন ডাস্টবিন নয় যে
সেখানে হিংসা,বিদ্বেষ, ঘৃনা,প্রতিহিংসা, ক্রোধের আবর্জনা জমে থাকবে
আপনার মন বেহেস্তী বাগান
যেখানে থাকবে- হাসি,আনন্দ, ,দয়া,করুনা,মমত্ব,প্রেম,ভালোবাসা