আমরা মনে করি জীবনে সবচেয়ে কষ্টদায়ক ঘটনা হচ্ছে
জীবন থেকে কোন একজন হারিয়ে যাওয়া যাকে আমরা খুব "মুল্য" দেই।
কিন্তু প্রকৃত সত্য হচ্ছে
জীবনের সবচেয়ে কষ্টদায়ক ঘটনা হলো
কাউকে অতিরিক্ত মুল্যে দিতে গিয়ে নিজের "মুল্য" হারিয়ে ফেলা
আমরা মনে করি জীবনে সবচেয়ে কষ্টদায়ক ঘটনা হচ্ছে
জীবন থেকে কোন একজন হারিয়ে যাওয়া যাকে আমরা খুব "মুল্য" দেই।
কিন্তু প্রকৃত সত্য হচ্ছে
জীবনের সবচেয়ে কষ্টদায়ক ঘটনা হলো
কাউকে অতিরিক্ত মুল্যে দিতে গিয়ে নিজের "মুল্য" হারিয়ে ফেলা
দুঃসংবাদ ঃ
আপনি কাউকে আপনাকে পছন্দ করতে, ভালবাসতে,বুঝতে,সম্মান করতে, গ্রহন করতে, সমর্থন দিতে বা আপনার সঙ্গে প্রীতি পূর্ণ থাকতে বাধ্য করতে পারেন না।আপনি তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে ও পারেন না
তবে -সুসঃবাদ হচ্ছে ঃ
এতে (আপনার) কিছু যায় আসে না
(ইট ডাজনট ম্যাটার)
অষ্টম শ্রেনীতে ভিত্তি পরীক্ষার জন্য গ্রাম থেকে চাঁদপুর মফস্বল শহরে যাই। বাংলা পরীক্ষায় রচনা এসেছে -তোমার জীবনের লক্ষ্য। আমি সাধারনত পরীক্ষায় তাৎক্ষণিকভাবে বানিয়ে নিজ থেকে উত্তর লিখতাম। মুখস্থ করার ও লেখার অভ্যাস ছিল না।
তাৎক্ষণিক ভাবে ঐ রচনায় লিখেছিলাম - আমি জাতিসংঘের মহা সচিব হতে চাই(তখন মহাসচিব ছিলেন -উথান্ট)
। কারন হিসেবে লিখেছিলাম জাতিসঙ্গ হচ্ছে পৃথিবীর সকল রাস্ট্রের যৌথ রাস্ট্র। এর মহাসচিব হওয়া মানে সারা পৃথিবীতে "শান্তি " আনার চেষ্টায় নিজকে নিয়োজিত রাখার অপূর্ব সুযোগ।
কোন একটি দেশের রাস্ট্র প্রধান হওয়ার চেয়ে পৃথিবীর সকল রাস্ট্রের সম্মিলিত সঙ্গের মহাসচিব হওয়া অনেক বেশি গৌরবের ও ক।ক্ষমতার।
(তখন কি জানতাম এটি একটি শিখন্ডি,মাকাল ফল?)।
এরপর রবীন্দ্রনাথ হবো,আইনস্টাইন হবো ইত্যাদি কতকিছু হওয়ার সাধ জাগতো।
কিন্তু কস্মিনকালেও এমপি হবো এ চিন্তা এই বোকার মাথায় আসেনি।
বুদ্ধি দুই ধরনের ১।সরল বুদ্ধি -এরা জ্ঞান আহরন করে, জ্ঞান বিতরণ করে ও জ্ঞান সৃজন করে। ২।কৌশলী বুদ্ধি বা কুট বুদ্ধি - এরা পরিস্থিতি, পরিবেশকে নিজ প্রয়োজন, স্বার্থে ব্যবহার করে ও বুদ্ধিকে "কৌশলের" হাতিয়ার হিসেবে বিনিয়োগ করে থাকেন। প্রথম শ্রেনির বোকা বুদ্ধির লোক এখন সমাজে খুজে পাওয়া মুশকিল। সবাই বুঝে গেছে (বিশেষ করে যাদের চোঙ্গা বুদ্ধি বেশি) যে বুদ্ধি হচ্ছে সেরা পুজি, যার কৌশলী ব্যবহার আখের ঘুচাতে সাহায্য করে।
আমাদের দেশে বহু দিন যাবত ছাত্র ছাত্রীরা স্কুলের পরীক্ষায় রচনার খাতায় "এইম ইন লাইফ" হিসেবে "ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ারিং, পাইলট " ইত্যাদি হতে চাইতো।তবে বর্তমানে তরুন তরুনীদের প্রধান স্বপ্ন "বিসিএস" ক্যাডার হওয়া।
সাম্প্রতিক কালে নির্বাচনকে ঘিরে "তারকা " খ্যাত খেলোয়াড়, নায়ক-নায়িকা,গায়ক-গায়িকা,বুদ্ধিজীবি,অর্থনীতিবিদ,বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক,বিশ্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষক ভিসি,বড় বড় ব্যবসায়ী - কে নাই যারা এমপি ইলেশনের নমিনেশন পেপার সাবমিট করছেন না?
কিন্তু আমার সরল বুদ্ধিতে বুঝতে পারছি না- কি মধু ঐ এমপি গিরিতে?।
তারা জীবনে কি পাননি? টাকা পয়সা, মান সম্মান, খ্যাতি, প্রতিষ্ঠা -সবই পেয়েছেন। যেকোন এমপির চেয়ে এদের অনেকের পরিচিত, খ্যাতি অনেক বেশি। এমনকি টাকা উপার্জনের দিক থেকে তাদের কারো কারো অবস্থান ঈর্শ্বনীয়।
তারা চাইলে পছন্দের দলকে পরামর্শ দিয়ে, গাইড দিয়ে, প্রচার দিয়ে সাহায্য করতে পারতেন। কিন্তু নিজে এমপি হয়ে নিজের,দলের, এলাকার এমন কি বাড়তি উপকার করবেন?
বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এর আগে যারা এসেছেন তাদের কে কি করতে পেরেছেন জাতি তা দেখেছে।
এমনকি এদের কয়েকজনের করুন পরিনতি আমাদের মনকে আহত করে।
(সর্বোপরি মনোনয়ন পাওয়া এবং সুষ্ঠু নির্বাচনে জিতে আসার সম্ভাবনাই বা কতটুকু? সবাই কি আর মাশরাফি?)
আমি শঙ্কিত অন্য কথা ভেবে। তরুণ তরুনীরা সাধারণত স্বনামধন্য লেখক, সাহিত্যিক, কবি, বুদ্ধিজীবি,শিক্ষক, খেলোয়াড়, নায়ক নায়িকা, গায়ক গায়িকা -এদেরকে "মডেল " হিসেবে কল্পনা করে থাকে। এরা তাদের আইডল।তারা এদের মতন হতে চায়।
এখন থেকে আমাদের তরুণ তরুনীদের " মডেল " হবেন কারা? যদি সত্যিকার সুস্থ রাজনীতিতে তারা আগ্রহী হয়,তাহলে ভিন্ন কথা। সে ক্ষেত্রে দেশের রুগ্ন রাজনীতির আরোগ্য লাভ হতে পারে।আমি নিজও মনে করি নষ্ট, ভ্রষ্ট রাজনীতিকে পরিবর্তন করতে, রাস্ট্রের যথাযথ "মেরামতের " জন্য প্রতিভাবান, মেধাবী লোকদের রাজনীতিতে আসা উচিত। কেননা রাজনীতি সবার জন্য এতো গুরুত্বপূর্ণ যে একে এড়িয়ে চলা যায় না।তাই একে অপরাজনীতি থেকে মুক্ত করা দরকার।
কিন্তু নষ্ট রাজনীতির ক্রীড়নক হলে দেশ,জাতি তো ডুববেই নিজেরা ও না ডুবে যায়।
কাহিনী সংক্ষেপঃমিঠু,বয়স ২৮। ৩ বছর ধরে সমস্যায় ভুগছেন।
তার ভাষ্যে--অনেক বছর পর কোরান শরীফ পড়তে গিয়ে দেখি পারতেছি না।তখন এক তরুণ হুজুরের কাছে পুনরায় কোরান শিখতে যাই।
তাকে পারিশ্রমিক হিসেবে কিছু টাকা দেওয়ার কথা ছিল(তবে বাধ্যতামূলক ছিল না)।
৬ মাস পর হঠাৎ মনে হলো ঐ হুজুরকে তো টাকা দেওয়া হয়নি। এ চিন্তা সারাক্ষণ মাথায় আসতে থাকে ও দিনের পর দিন তা চলতে থাকে।
চিন্তায় তখন আমার মাথা নষ্ট। তখন অনেক রাতে তাকে ফোন দিয়ে বলি টাকা না দেওয়ার কারনে আমার দুঃশ্চিতায় রাতে ঘুম আছে না
।তিনি বলেন-এটি কোন ব্যাপার না।আমি এমনি আপনাকে সাহায্য করেছি। এরপর সে টেনশন চলে যায়।
কয়েক দিন পর মনে হলো অনেক বছর নানা বাড়ি যাই না।
মামাদের সঙ্গে অনেক দিন যোগাযোগ নাই।
আমার মনে হলো আমি তাদের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেলেছি।
ধর্মে আছে আত্মীয়তা ছিন্নকারী জান্নাতে যেতে পারবে না।
এ চিন্তা সারাক্ষণ মাথায় আসতে থাকে। তখন হুজুরকে এ ঘটনা বলি। হুজুর বলেন এতে আত্মীয়তা ছিন্ন হয় না।
এতে ও মন শান্ত হয় না।
সকাল সন্ধ্যায় একই চিন্তা। পরে সিদ্ধান্ত নেই মামার বাড়ি যাবো।
বাড়ি গিয়ে এক মামার সঙ্গে দেখা হয়।কিন্তু মন পুরো শান্ত হয় না
,কেননা বাকি দুই মামা অন্য বাড়িতে।
মনে হচ্ছে ওনাদের কাছে না গেলে হার্ট ফেইল করবো। দুরুত সেই মামাদের কাছে যাই। এরপর মন ভাল হয়ে যায়।
এর ২ দিন পর আরেক চিন্তা ঢুকে। ১বছর আগে মেজ ভাইয়ের সঙ্গে বেশ কথা কাটাকাটি হয় ও তখন থেকে কথা বলা বন্ধ।
এখন মনে হলো ওনার সঙ্গে ও আত্মীয়তা ছিন্ন করে ফেলেছি। মনকে বোঝাই কিন্তু মন মানে না
।এভাবে ২-৩ মাস চলে। ঐ চিন্তা যায় না।মনে হয় জান্নাতে যেতে হবে।
না পেরে গ্রামে যাই ও মেজ ভাইয়ের কাছে মাফ চাই।
তিনি বলেন আমি কিছু মনে করিনি তুই ছোট ভাই, আমাকে তোর মত আগে বললেই পারতি। এরপর মন ভাল হয়ে যায়।
কিছু দিন পর ফুফাতো ভাই তার বিয়ের দাওয়াত দেয়।বড় ভাবীকে তা বলিও তাদেরকে ও যেতে অনুরোধ করি।
কিন্তু তাদের মধ্যে সম্পর্ক ভাল ছিল না বিধায় আমাকে যেতে নিষেধ করে। মুরুব্বী বলে তাদের কথা ফেলতে পারিনি।
১দিন পরই মনে হয় আত্মীয়তা ছিন্ন করে ফেললাম। তখন ফুফাতো ভাইকে ফোন করে সরি বলি, যে অন্য কাজ থাকাতে যেতে পারিনি। এরপর মন শান্ত হয়।
ডিপিএস করতে ব্যাংকে গেলে মনে হয় এগুলো সুদি ব্যাংক, এখানে একাউন্ট করা ঠিক হবে না
।কিন্তু ইসলামী ব্যাংক এ গিয়ে ও দেখি সুদের হার বরং বেশি। যদিও তারা একে মুনাফা বলে কিন্তু আমার কাছে কেমন যেন ফাকি মনে হয়।
ম্যাচে থাকি। সেখানে সবাই একত্রে খাই।সকালে মেন্যু পছন্দ হয়নি বলে ১টি ডিম নিজে ভেজে খাই।
এতে মনে হলো অন্যদের না জানিয়ে এরকম করা অপরাধ। কমন বাথরুমে কমন সাবান ব্যবহার করলেও মনে হয় কেন অন্যদের সাবান ব্যবহার করলাম? ।
অফিসে সবাই নাস্তার পর কিছু থেকে যায়।সেখান থেকে কিছু খেলে মনে হয় এর জন্য হাশরের দিন জবাব দিতে হবে।
বাসে উঠে নামার সময় ৫ টাকা ভাড়া দেওয়া হয়নি। পথে নেমে অনুশোচনায় মন ভরে উঠে।
কাছাকাছি মসজিদ খুজে সেখানে ৫ টাকা দান করে আছি। এরপর মন স্বস্তি পায়।
ভাইয়ের একটি সিগনেচার পেন আছে খুব সুন্দর। সেটি নিয়ে যাওয়ার পর মনে হয় দোজখে যেতে হবে, তাই আবার ফিরিয়ে দেই।
রুমমেট এর তোয়ালে পড়ে থাকলে মনে হয় সে এসে জবাব চাইবে।
বেসিনে হাত ধোয়ার সময় অন্যরা দাড়িয়ে থাকলে তাড়াহুড়ো করে চলে যাই যদি তারা কিছু মনে করে।
ফিল্টার থেকে পানি নিলে শঙ্কিত থাকি যদি কেউ বলে বেশি পানি নিয়ে ফেলেছি।
এভাবে অসংখ্য সমস্যার মধ্যে তার দিন কাটে।
তিনি বলেন স্যার আমি মোটেই তেমন ধার্মিক তা নয়।আমি ঠিকমতো নামাজ রোজাও করি না। এগুলোর সঙ্গে ধর্মীয় তাগিদ নাই। তথাপি এমন হয় কেন স্যার?
ফেইসবুকে আমার পরিচয় পেয়ে তিনি চেম্বারে আসেন।
ঔষধ চিকিৎসা ও কাউন্সিলিং করার পর তিনি এখন প্রায় ৯০% সুস্থ হয়েছেন।
এ কেইস থেকে আমরা কি শিখলাম ঃ
১। এটা কি ধর্মীয় বোধ, বিবেক, না রোগ?
২। এটি অবশ্যই একটি মানসিক রোগ।তবে কি রোগ?
৩।এক নজরে দেখলে একে ওসিডি বা অবসেসিভ কনভালসিভ ডিসঅর্ডার বলা যায়।তবে এটি পুরোপুরি মিলে না।
৪। অবসেশনে এভাবে অনুশোচনার অবসান হয়ে যায় না
৫। অবসেশনে সাধারণত যেসব চিন্তা আসে সেগুলো মূলত ধর্ম বিরোধী।
যেমন গতকালই সোনারগায়ে এক মেয়ে রোগী আছে যার মধ্যে চিন্তা ছিল যে বাংলায় প্রথম কোরান শরীফ অনুবাদ করে একজন হিন্দু মানুষ। কিন্তু এটি হেদায়েত গ্রন্থ হলেও ঐ লোক মুসলমান হলো না কেন? চোখে ভাসে কোরান শরীফের উপর পা দিয়ে আছি - ইত্যাদি।
আজ জানাতে চাই একটি "ভাল বই" অনেক সময় কিভাবে "শ্রেষ্ঠ চিকিৎসক " হিসেবে ও কাজ করতে পারে।
মানসিক সমস্যা বা রোগ চিকিৎসায় ঔষধ লাগে বা কাউন্সিলিং/সাইকোথেরাপি।
কিন্তু নিছক একটি বই পড়ে মাত্র ২০ দিনে অনেক অভিজ্ঞ মনোচিকিৎসকের সাইকোথেরাপির চেয়ে অনেক ভাল ফলাফল হলে সেটা অবশ্যই শ্লাগার বিষয়, গৌরবের বিষয়।
আর সে বই যদি হয় নিজের তাহলে সে আনন্দ, গৌরব আর তৃপ্তি হয় অসীম।
আমি গর্বিত, সম্মানিত, সফল ও তৃপ্ত জীবনের প্রায় সকল দিক থেকে
(বিশ্বাস করি পরম করুনাময় আল্লাহ তালার অশেষ রহমত ছাড়া এমন সৌভাগ্য বান কম লোকই হতে পারে। কার দোয়ায় বা কোন পূন্য গুনে স্রষ্টার এরকম অনুগ্রহ পেয়েছি জানি না।তবে অসংখ্য রোগী ও তাদের অভিভাবকদের প্রীতি, ভালোবাসা ও দোয়া যে ছিল, আছে, তা মর্মে মর্মে অনুভব করি)।
চিকিৎসক হিসেবে রোগীদের কাছ থেকে যে কৃতজ্ঞতা, সম্মান, খ্যাতি পেয়েছি তার ছোট্ট একটি লিস্ট দিলেও অনেকে ভাববেন, এটি আত্মপ্রচার, আত্ম-অহমিকা।
(তবে আমার যে কোন রোগী /তাদের অভিভাবকদের কাছ থেকে গোপনে এর প্রমাণ খুজে নিতে পারেন)।
পরিমাণে বহু রোগী দেখি তা হয়তো নয়,তবে যে কয়জন রোগী দেখি তার গুনগত মান বিচারের ভার ঐ রোগী ও তাদের অভিভাবকদের।
লেখক হিসেবে, চিকিৎসক হিসেবে যে সম্মান,প্রশংসা পেয়েছি /পাচ্ছি , সেটি যত না আমার যোগ্যতা ও কৃতিত্বের জন্য
তার চেয়ে বেশি এদেশের রোগী, পাঠকদের বড় মন
ও ঔদার্যের কারনে।
এমনকি আপনদের দোয়ার আমার বই গুলো ও বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে, বিশেষ করে আত্ম উন্নয়ন ও আত্ম নির্মাণ বিষয়ক বই " মন ও মানুষ "।
প্রচুর পাঠক /পাঠিকা বইটির অকুন্ঠ প্রশংসা করেছে। তাদের জীবন বদলে দেওয়া একটি বই বলেও উল্লেখ করেন।
কিন্তু এই বই টি পড়ে মাত্র ২০ দিনে মানসিক সমস্যা গ্রস্ত কোন ব্যক্তি তার দীর্ঘ ১০ বছরের অমানষিক কষ্ট থেকে মুক্ত হবেন এবং কঠিন তবে সফল সাইকোথেরাপি " সিবিটি"এর (কগনেটিভ -বিহেইভিয়ার থেরাপি) মূল নীতি এই বই থেকে শিখে নিয়ে, নিজে এমন সফলতার সহিত প্রয়োগ করতে পারবে, সেটি ছিল অবিশ্বাস্য।
আসুন দেখি মাত্র ২০ দিনে এই বই পড়ে তিনি কতটুকু তার চিন্তা, বিশ্বাস, দৃষ্টি ভঙ্গি বদল করতে পেরেছেন।
১। আগে প্রায়ই রেগে গিয়ে বাচ্চাদের মারতাম-এখন মনে হয় ওদের ছোট্ট অপরাধকে এতোদিন বড় অপরাধ মনে করে এমনটি করতাম।
এবিসি মডেল ব্যবহার করে বুঝলাম আমার ধ্যান ধারনায় অনেক ভুল ছিল।
অনেক জীবন জটিলতার কারনে মন হতাশ,উদ্বিগ্ন থাকতো, তাই বাচ্চাদের ছোট খাট ক্রুটি দেখেই রেগে যেতাম।
এখন তাদের কাছে ডাকি,আদর করি- তারা অবাক হয়,বাবা এমন বদলে গেল কিভাবে?
ওদের দাদীর সামনে দুই ছেলেকে দুদিক থেকে জড়িয়ে বলি মা দেখো, আমার একদিক ২০০ কোটি টাকার সম্পত্তি, অন্য দিকেও ২০০ কোটি টাকার সম্পত্তি - মোট ৪০০ কোটি টাকার সম্পত্তি আমার( মা এগুলো দেখে মৃদু হাসে)।
২। আগে কেউ গান করলে বিরক্ত হতাম,রেগে যেতাম।
এখন ভাবি গান তো ভাল জিনিস, আর আমার ভাল না লাগলেও যে গাইছে তার তো ভাল লাগছে। এতে আমার সমস্যা কি?
৩। ১ বছর আগে এক লোক ৭৫ হাজার টাকা নিয়ে আর ফেরত দেয়নি। এর জন্য তার পিছনে ঘুরতে ঘুরতে টাকা তো পাইনি বেড়েছে যন্ত্রনা,কষ্ট, হতাশা।
এখন ভাবি আমি তো বুঝতেই পারছি টাকা পাবো না, খামোখা এটার পিছনে না ছুটে নিজের কাজে মনোযোগ দিলে অনেক টাকা লাভ হতো, এতো মনোযন্ত্রনা ও পেতাম না।
এরকম ভাবার পর মনটা অনেক হাল্কা হয়ে যায়
৪। আমার মন এত দিন শুধু মন্দ দিকগুলো, ব্যর্থতার স্মৃতিগুলোর দিকে চলে যেতো।
কেউ যখন কোন অঙ্ক ১০ বার অনুশীলন করে ১১তম বার তার কাছে ঐ অঙ্ক অনেক সহজ মনে হবে। কেননা আগের ১০ বারের স্মৃতি তাকে সাহায্য করে।
তেমনি আমি বার বার নেতিবাচক চিন্তা করতাম বলে, অতি সহজে আমার মনে নেতিবাচক স্মৃতি গুলো বেশি বেশি চলে আসতো।
স্যার এখন আপনার কাছ থেকে থেরাপি নিলে নিশ্চয়ই ইতিবাচক চিন্তা,স্মৃতিগুলো একই কারনে সহজে ও বারবার আমার মনে আসতে থাকব?
এতে নিশ্চয়ই আমি আরো দুরুত ভাল হয়ে যাবো।
৫। স্যার আপনার বইটি পড়ে মাত্র ২০ দিনে আমার ১০ বছরের অমানষিক যন্ত্রনার অনেকটা লাঘব হয়েছে। এখনো শারিরিক কিছু সমস্যা রয়ে গেছে।
আমি এখন জানি এগুলো ও মানসিক কারনে। আপনি এগুলো ও ভাল করে দিন।
আমার দৃড় বিশ্বাস এই ১০ বছরের ক্ষতি আমি ইনশাল্লাহ কাটিয়ে উঠতে পারবো।
# রোগীর এই আত্ম-উপলব্ধিগুলো কারো কাউন্সিলিং/সাইকোথেরাপিির ফল নয়।ফেইসবুকে আমার বইয়ের পরিচিত পেয়ে তিনি অনেক চেষ্টা তদ্বির করে "মনও মানুষ " বইটি সংগ্রহ করে পড়েন।২০ দিন পর অনেক কষ্টে আমার ঠিকানা জোগাড় করে চেম্বার ও আসেন
এসে প্রথম দিনেই তিনি এই বই পড়ে কি উপকার পেয়েছেন তা বলছিলেন( আমার কোন প্রকার চিকিৎসা দেওয়ার পূর্বেই)।
আমি কি ধরনের উপকার তার উদাহরণ দিতে বললে তিনি উপরোক্ত "আত্ম-উপলব্ধির" কথা গুলো আমাকে শোনান
-যা আমাকে আনন্দিত,গর্বিত শুধু করেনি, বিস্মিত ও করেছি। একারনেই সে অভিজ্ঞতা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করলাম ( ওনার পুরো রোগ কাহিনী পরে দেবো)
কাহিনী সংক্ষেপঃনাদিয়া,বয়স ১৭,দশম শ্রেনীর ছাত্রী।
সে একটু আহ্লাদী ধরনের।
ফুপা,খালাতো বোনদের কাছে ঘন ঘন যেতে চায়।পড়াশোনার চেয়ে হই হুল্লোড় ও আড্ডা মেরে মজা পায় বেশি।
তাই বাসা থেকে তাকে বাধা দেওয়া হয়।সে অল্পতেই রাগ-অভিমান করে,দরজা বন্ধ করে,না খেয়ে থাকে। অনেক সাধাসাধির পর অভিমান ভাঙ্গে।
ইদানিং পরিবার থেকে তার উপর চাপ বেড়ে যায়।তার ভাই বলে ছাদ থেকে নীচে ফেলে দেবো,মা বলে ঘরের বাইরে আর যাওয়া যাবে না।
৮ দিন আগে হঠাৎ মাথা ঘুরে সে সেন্সলেস হয়ে পরে।তাকে একটি ক্লিনিকে ভর্তি করানো হয় ও পরদিন বাসায় ফিরে।
আসার কয়েক ঘন্টা পরই আবার তার বুকে চাপ লাগে, শ্বাস বন্ধ হয়ে আছে,কে যেন বুকে পাড়া দিচ্ছে - এভাবে আবারো সেন্সলেস হয়ে পরে।জ্ঞান ফেরার পর বলে মাথা জ্বলছে, মাথা ব্যথা করছে।
এর কিছু ক্ষন পর চুপচাপ হয়ে যায়, চোখ দিয়ে পানি পরে,ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে।
এরপর থেকে সে কয়েক ঘন্টা পরপর ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির মতন আচরণ করতে থাকে।
যেসব ব্যক্তির রূপ তার মধ্যে দেখা দেয় সেগুলো হলোঃ
১ খুশবোঃ
এটি তার মূল চরিত্র (তার ডাক নাম)। কিন্তু অতি স্বল্প সময় সে এই আসল রূপে থাকে (১০-১৫ মিনিট) ।
এ সময় সে তার স্বাভাবিক যে আচরণ তা করে থাকে এবং অন্য ব্যক্তির রূপ গ্রহণ করে তা মনে করতে পারে না।
২। আপনঃ
এটি তার ছেলে রূপ।তখন সে সবাইকে তুই করে বলে(তুই বস,আমার সঙ্গে দুষ্টুমি করবি না ইত্যাদি) ।
তখন সে ছেলেদের ভয়েসে কথা বলতে চেষ্টা করে ও আদেশ,উপদেশ দিয়ে থাকে। এই রূপ ৪-৫ ঘন্টা থাকে।
৩। রিমজিমঃ
এটি তার নর্তকী ও দেবী রূপ।সে বিভিন্ন মন্দিরের কথা বলে,ত্রিশূলের মতন ভ্ঙ্গি করে থাকে যেন শয়তান বধ করতে দেবী দাড়িয়ে আছে।
সে তখন নাচে,গান গায়।এই রূপ ২-৩ ঘন্টা থাকে।এ অবস্থা থেকে তার ভাই যদি বলে খুশবুকে এনে দাও সে তখন ওজু করে ও মুহূর্তে খুশবু হয়ে গিয়ে বলে ভাইয়া দেখো খুশবু এসেছে, খুব ক্ষিদে পেয়েছে, কিছু খেতে দাও।
৪। দুঃখ ঃ এটিও স্বল্প সময় থাকে। এ সময় সে শুধু কাদতে থাকে।
৫।সখিনা বিবিঃ
এ সময় সে প্রেগন্যান্ট মহিলার মতন আচরণ করে, যার বাচ্চা তার শ্বশুর শ্বাশুড়ি পেটে থাকতে মেরে ফেলছে।
৬ বেবী (শিশু রূপ)ঃ
আমার চেম্বারে যখন তারা আছে তখন সে এই রূপ নিয়ে আছে।
সে নাকি বেবী। শিশুদের মতন কথা বলে, চন্চলতা দেখায়।বলে আমি এবিসি শিখছি, অনেক নামতা পারি। আমাকে বলে তোমার বাসায় আমাকে নেবে?
এই বিভিন্ন ব্যক্তির রূপ ধারন পর্যায় ক্রমে হতে থাকে।
তার চিকিৎসার জন্য হুজুরের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।হুজুর বলে জ্বীনের প্রভাব আছে এবং তিনি ঐ জ্বীনকে "বোতল বন্ধি" করতে চান।
কিন্তু জ্বীন বলে আমি আসবো না,আমি খুশবুর বোন।তার থেকে আমাকে আলাদা করলে খুশবুর ক্ষতি হবে।
এরপর আরেক হুজুর জ্বীন বন্ধি করে তবে বলে তাকে সাইকিয়াট্রিস্ট দেখান,এর মানসিক রোগ হয়েছে।
ঐ হুজুরের কথায় তারা সাইকিয়াট্রিস্ট দেখাতে আমার চেম্বারে আছে।
এই কেইস হিস্ট্রি থেকে কি শিখলাম ঃ
১। হিস্ট্রিয়নিক পার্সোনালিটি যাদের তাদের এরকম রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। (খুশবুর মধ্যে এর অনেক লক্ষণ রয়েছে) ।
২। অপরিপক্ব ব্যক্তিত্ব যাদের তারা ও অধিক ঝুঁকি পূর্ণ (বয়স অনুপাতে ও খুশবু অনেক অপরিনত)।
৩। তথাকথিত জ্বীন-ভুতে ধরা রোগী সবাই মানসিক /ব্রেইনের রোগী।
ইদানিং জ্বীন তাড়ানো হুজুরাও তা বুঝতে শিখেছে।
তাই তারা চিকিৎসার নামে জ্বীন তাড়িয়ে ও বলে জ্বীন তাড়িয়ে দিয়েছি, সব ঠিক হয়ে গেছে তবে" একটু বাকি " আছে সেটি মানসিক ডাক্তারকে দেখান।
৪। একারনে বর্তমানে আমরা অনেক এরকম রোগী পাচ্ছি যাদেরকে হুজুররা আমাদের কাছে রেফার করে থাকে।
৫।পরিবার বা অন্যরা ঐ রোগের লক্ষন প্রকাশ পেলে বেশি মনোযোগ বা যত্ন দিয়ে থাকে যা ঐ রোগকে দীর্ঘায়িত করে।
একে আমরা বলি "সেকেন্ডারি গেইন" বা সোশ্যাল রি-ইনফোর্সমেন্ট।
অসুস্থ আচরণকে ইগনোর করে ,সুস্থ আচরণকে " পুরস্কৃত " করতে হবে- তাহলেই রোগী দুরুত আরোগ্য লাভ করবে।
৬। মানসিক দ্বন্দ্ব বা চাপের যে কষ্ট, অস্বস্তি সেটি থেকে "সাময়িক মুক্তি" পেতে ব্রেইন এ ধরনের "অবস্থা " তৈরি করে।
৭।তবে এগুলো রোগীরা ইচ্ছে করে তৈরি করে না।তাই তাদের কোন রোগ নাই, বানিয়ে বানিয়ে করছে ভাবা অন্যায় হবে
৮। এই রোগের নাম multiple personality disorder - যা dissociative disorder এর একটি রূপ।
বচন-১ঃস্বর্গের পথ নির্জন
(দল করে স্বর্গে যাওয়া যাবে না,একা ও নির্জন পথেই যেতে হবে)
বচন-২ঃযতদিন যাবে তত ভৃত্য জন্ম নেবে
(স্বাধীন দেশে কি দিন দিন "ভৃত্য" সংখ্যা বাড়বে, স্বাধীন, সাহসী মানুষ নয়?)
বচন-৩ঃএ যেন এক প্রতিযোগিতা চলে আমাদের ভেতরে - আমরা কে কত খারাপ দিক আবিস্কার করতে পারি বাঙ্গালী জনের ও বাঙালি জাতির.....
.( তার বিপরীতে) চ্যালেঞ্জের মতন আহ্বান করি
"আসুন তবে দেখা যাক আমাদের বিষয়ে ভাল কি কি তা ভেবে দেখি" (বি পজিটিভ বি হ্যাপি)
বচন-৪ঃ -কাল তিনটা না আরো একটা আছে
-শুন্য কাল
( এক পল্লী গায়কের বরাত দিয়ে)
এই শুন্য কাল থেকে আমরা কবে বের হয়ে আসবো)
বচন-৫ঃ(আলবেয়ার কামুর উপন্যাস দ্যা প্লেগ থেকে উদ্ধৃত করে, পত্রিকার সম্পাদককে এক সাহসী সাংবাদিকের বলা উক্তি )
-যে কথা হাতে রেখে বলা হয়,সে কথায় আমার কোন উৎসাহ নেই.. আমি আমার পরিপার্শ্বের জগত নিয়ে ক্লান্ত ও অসুস্থ- সত্যকে গোপন বা বিকৃত করা এবং অবিচার -অন্যায়ের মধ্যে বাস করা, এমন সমাজের সঙ্গে কোন সম্পর্কই রাখবো না।
সৈয়দ হক এরপর মন্তব্য করেন-"আমাদেরও যেন এমন দিন না আসে,আমাদেরও যেন বলতে না হয়,এমন সমাজের সঙ্গে সম্পর্কই রাখবো না।
( হায় সেদিন কি আসেনি?)
আমি ও বর্তমান সমাজ নিয়ে ক্লান্ত ও অসুস্থ -তাই পচনশীল সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবো না এ ঘোষণা প্রকাশ্যেই দিয়েছি
( সময় পেলে পাবলিক লাইব্রেরিতে আসি বই পড়তে। আজ পড়ছিলাম প্রয়াত সৈয়দ শামসুল হকের "স্বর্গের পথ নির্জন " বইটি। সেখান থেকে লাইব্রেরিতে বসেই এ পোস্ট দিলাম)