Monday, May 13, 2019

সাইকিয়াট্রিস্ট এর জার্নাল ৪৬ঃপরিবহন শ্রমিকদের দ্বারা কেন ধর্ষণ বেশী হয়

বাসের ড্রাইভার, হেলপারদের দ্বারা নারী ধর্ষণ ও পরে হত্যার ঘটনা প্রায়শই আমরা সংবাদ পত্রের মাধ্যমে জেনে আসছি। কেন পরিবহন শ্রমিকদের দ্বারাই এরকম ঘৃন্য, নৃশংস কাজ বেশি হয়ে থাকে, সে সবের মনো-সামাজিক  বিশ্লেষণ নিয়ে একটি লেখার ইচ্ছে রয়েছে।
তবে আজ  শুধু একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করে এ নিয়ে স্বল্প দুচারটি কথা বলবো।
ঢাকা থেকে সোনার গা যাচ্ছিলাম বাসে করে। পথিমধ্যে পিছনে শোরগোল শুনে দেখি এক বৃদ্ধ লোক অজ্ঞান হয়ে গেছে। সবাই ওনাকে নিয়ে ব্যস্ত। আমি ও উঠে ওনাকে দেখে বোঝার চেষ্টা করলাম কি হতে পারে ও কি করা যায়।

পাশে তার ছেলেকে জিজ্ঞেস করে জানলাম তিনি হাই প্রেসার ও ডায়েবেটিস এর রোগী। তবে ইনসুলিন নিচ্ছে না এবং আজ রোজা ও ছিলেন না এবং কিছু ক্ষন আগেই নাস্তা করেছেন। তাই সুগার বেশি কমে যাওয়ার ( হাইপোগ্লাসিমিয়া) সম্ভাবনা কিছুটা কম মনে হলো।যাহোক আমরা নিকটেই একটি ক্লিনিকে ওনাকে নামিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করি যাতে প্রাথমিক ইমারজেন্সি চিকিৎসা পায় ও যেহেতু তাদের এম্বুলেন্স রয়েছে দুরুত ঢাকা মেডিকেলে নিতে পারে।

বৃদ্ধ ভদ্রলোক অনেকটা মোটা তাই তাকে তার ছেলে এই অবস্থায় একা নামাতে পারছে না। পিছন থেকে কয়েকজন হেল্পারকে ঢেকে বললো একটু সহযোগিতা করতে। সে সামনের গেইটে দাড়িয়ে বিরক্ত কন্ঠে বলছে, কেন তার আত্মীয় নেই?  আর আপনারাই বা কি করছেন?  তবুও সে উঠে আসেনি।

কোনভাবে আমরা অনেকে মিলে লোকটিকে দরজার কাছে নিয়ে যাই।গেইট থেকে নামানোর সময় হেল্পার লোকটিকে ধরে এমনভাবে নামিয়ে দিলো যেন একটি আপদ বিদায় করত পেরেছে। কোনরকমে নামিয়ে দিয়েই ঝট করে গেইট বন্ধ করে ড্রাইভারকে ইশারা করে দুরুত বাস চালাতে।

আমরা আশংকা করছিলাম রোগী বোধ হয় ঠিক মতন নামতে পারেনি এবং যেভাবে বাস দুরত টান দিয়ে ছেড়ে দিলো না, জানি তারা আহত হলো কিনা।কিন্তু হেল্পার, ড্রাইভারের ভয়ে বা ঝামেলা এড়িয়ে যাওয়ার জন্য হোক, কেউ কিছু বললো না।

আমি আমার স্বভাবগত প্রতিবাদ করার অভ্যাসের কারনে কিছু বলাতে হেল্পার, ড্রাইভার সহ এমনকি বাস যাত্রীদের কেউ কেউ এ নিয়ে কথা না বাড়াতে বলে। আমার অভিজ্ঞতা ও বলে কিছু বলে লাভ নেই।

অন্যায় হোক এমনকি খুন হোক, পরিবহন শ্রমিকদের বিরুদ্ধে কিছু বললে উল্টো নাজেহাল হতে হবে।

দেশের মানুষ ক্রমশ অনুভুতিহীন হয়ে পড়েছে। চোখের সামনে অন্যায়, অবিচার হলেও প্রতিবাদ, প্রতিরোধ করার কথা ভাবে না।কেউ চায় না ঝামেলায় জড়াতে। সবাই নিজের মানসম্মান বজায় রাখতে বেশি সচেষ্ট।

তবে তরুণ ছাত্ররা কখনো কখনো প্রতিবাদ করে। তবে তারা ও নিস্তার পায় না। সংঘবদ্ধ পরিবহন শ্রমিকরা তাদের ঘেরাও করে কোন এক নিরাপদ জায়গায় নিয়ে অত্যাচার নির্যাতন করে ছেড়ে দেয়। ক্ষেত্র বিশেষে গুমও করে ফেলে।

কিছু দিন আগে এক তরুনকে বাসের আঘাতে আহত করে তাকে সে আহত অবস্থায়ই পাশের খালে ফেলে দিয়ে জীবন্ত মেরে ফেলার মতন নৃশংস ঘটনার কথা আমরা পত্রিকার মারফত জেনেছি।

এক্সিডেন্ট করে আহত করেই তারা ক্ষ্যান্ত হয়নি, আপদ যাতে না থাকে তার জন্য এই নিষ্ঠুর নির্মম লোক গুলো সে মুমূর্ষু তরুনকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো দূরে থাক, তাকে ওখানে এভাবে রেখে দিলেও হয়তো তরুনটি বেচে যেতো। পাষন্ডরা তাকে পানিতে ফেলে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

এই অভিজ্ঞতা গুলো আমাদের কি বলে?  পরিবহন শ্রমিকদের অনেকেই (সবাইকে ঢালাও দোষারোপ করা অন্যায্য হবে) বিভিন্ন জোরজবরদস্তি, মারামারি, অন্যায় করতে করতে এমন নির্মম,নিষ্ঠুর হয়ে উঠে যে, তাদের ভিতর মানবিকতার কোমল মনটি পাথরের মতন শক্ত হয়ে যায়।

শুধু এরা কেন যেসব কিশোর তরুণ ছোটকাল থেকে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন  বিষয় নিয়ে শক্তি প্রদর্শন, মাস্তানী করে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, তাঁরা সবাই পরে একেকজন ক্রিমিনাল ও নিষ্ঠুর হয়ে উঠে।

এছাড়া পরিবহন শ্রমিকরা মদ সহ বিভিন্ন মাদকে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে যা তাদেরকে অপরাধী ও নিষ্ঠুর কাজে প্রলুব্ধ করে, সাহসী করে তোলে।

সর্বোপরি এরা থাকে যৌন অতৃপ্ত। পারিবারিক বা বিবাহিত জীবন অনেকের জন্য নামকাওয়াস্তে থাকে। ফলে তারা ক্রমশ অসামাজিক, অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পরে( পতিতালয়ে যাওয়া) । মাদকের কুফল তো থাকেই।

তাহলে ব্যাপারটি দাড়াচ্ছে কিছু ক্ষুধার্ত ( যৌন অতৃপ্ত বা বিকৃত যৌন কামনায় উত্তেজিত)  শক্তিশালী ( পাওয়ারফুল-)  হায়েনার সামনে -  একটি  দুর্বল, নিরীহ শিকার ( নারী)  যখন একাকী, নির্জন এলাকায় পড়ে যায়, তখন এসব হায়েনা পাশবিক শক্তি নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে। খুবলে খুবলে মাংস টেনে হিছড়ে খেতে থাকে। শুধু তাই নয় এরপর এ আপদ রেখে বিপদে পড়বো কেন মনে করে, অবলীলায় ভিক্টিমকে নিষ্ঠুর ভাবে হত্যা করে।

তারা ধর্ষিতা নারীকে ময়লা আবর্জনার মতন বাস ট্রাক থেকে রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দেয়।ভাবখানা এমন এটি নোংরা, অপবিত্র জিনিস যা দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে একে দুরুত ফেলে দিয়ে বাসটিকে কল্ঙক ও কদর্য মুক্ত করলো। সর্বোপরি মনে করে কোন প্রমাণ রইলো না আমাদের আর ধরবে কে?
সমাধান নিয়ে সংক্ষেপে বলছি

১। পাওয়ারফুল  বা ক্ষমতাবান হওয়ার যে সিস্টেম পরিবহন খাতে চলে আসছে সেটার দিকে নজর দেওয়া। কোটি কোটি টাকার খেলা যেখানে সেখানে স্হানীয় রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি, মাস্তান গ্রপ,পুলিশ বাহিনী সহ অনেক রথি মহারথীরা জড়িত হয়ে পরে। এরকম অপকর্মের সহযোগী হয়ে তারা ও ক্রমশ মাস্তান, সাহসী, নির্মম,নিষ্ঠুর প্রকৃতির হয়ে উঠে। কিন্তু এ সিন্ডিকেট ভাঙ্গবে কে?

দ্বিতীয়ত এরকম বিপদজনক পরিবেশ ও লোকদের কিভাবে এড়িয়ে চলতে হব কর্মজীবী নারী, ছাত্রী সহ অন্য নারীদের তা জানতে হবে। এ ব্যাপারে খুব সাবধান ও সচেতন হয়ে চলতে হবে। কেননা নিরাপত্তার ব্যাপারটি সর্বশেষে নিজেকেই নিশ্চিত করতে হবে।

৩য়ত দেশের সব নাগরিকের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। এমন সিস্টেম থাকতে হবে যাতে প্রতিটি পরিবহন কখন কি ঘটছে তা মনিটর করা যায় ও তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায় (সিসি ক্যামেরা, অন্য কোন ভাবে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা বা মালিক পক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের তত্বাবধান ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা -ইত্যাদি) ।

চতুর্থত পরিবহন শ্রমিকদের মাদক গ্রহণ বিষয়ে তল্লাশি, পরীক্ষা নিয়মিত করতে হবে।অন্য যেকোন সেক্টররে তুলনায় এখানে মদ সহ অন্যান্য মাদক গ্রহণের হার অধিক। সম্প্রতি জানা গেছে এদের ৫০% এর চোখের সমস্যা থাকে যা তারা ও জানে না চিকিৎসা তো নেয়ই না।চোখ পরীক্ষা সহ মাদক পরীক্ষা নির্দিষ্ট সময়ের পর পর করার বাধ্যবাধকতা থাকতে হবে।

৫ মত  সামাজিক প্রতিরোধ থাকতে হবে। চোখের সামনে রাস্তা ঘাটে অহরহ অপরাধ ঘটছে আমরা "ভদ্রলোক " সাজতে, মানসম্মান রাখতে বা বিপদ এড়িয়ে চলতে গিয়ে এসবকে এড়িয়ে যাই।কোন সরকার বা আইন এসব পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না যদি না নাগরিকরা এ নিয়ে  সোচ্চার হয়,প্রতিবাদী হয় ও এরকম অন্যায়কে তাৎক্ষণিক রুখে না দাড়ায়।

Friday, May 10, 2019

সাইকিয়াট্রিস্ট এর জার্নাল -৪৫ঃবিখ্যাতরা যখন অখ্যাতদের নকল করে

১। উইলিয়াম শেক্সপিয়ার ঃরবীন্দ্রনাথ থেকে শুরু করে শেক্সপিয়ার সহ অনেক বাঘা বাঘা লেখকই অন্যের লেখা নকল করেছেন। তবে অখ্যাত লেখকদের ও অনেকে নকল করেছেন।
শেক্সপিয়ার তার বিখ্যাত "ওথেলো " নাটকটি নকল করেছেন ইতালির অখ্যাত লেখক সিন্থিয়ার এক ছোট গল্প থেকে।

২। জর্জ অরওয়েল ঃ আ্যনিমেল ফার্ম বা নাইটিন এইটি ফোর এর লেখক জর্জ অরয়েল এর নাম সবাই জানেন। তার নাইটিন এইটি ফোর রুশ লেখক ইউজিন জামিয়াতিন এর "উই" উপন্যাসের নকল।
তাই আমরা চুনোপুঁটিরা কিছু নকল করলে এতো মাইন্ড খাইয়েন না

Tuesday, May 7, 2019

সাইকিয়াট্রিস্ট এর জার্নাল -৪৬ঃআইনস্টাইন কিসের জন্য নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন?

ভাববেন না তাঁর বিখ্যাত "আপেক্ষিক তত্ত্বের" জন্য নোবেল পেয়েছিলেন। তিনি নোবেলজয়ী হন "ফটো-তড়িৎ ক্রিয়া" ব্যাখ্যা করার জন্য।
কি সে ফটো তড়িৎ ক্রিয়া?

আসুন একটু খানি বিজ্ঞান চর্চা করিঃ
বর্তমানে আমরা টেলিভিশনে যে ছবি দেখি তা আলো-তড়িৎ ক্রিয়ারই ফল;স্মার্ট ফোন, কম্পিউটার সব কিছু এই আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ফলাফল। সর্বোপরি আলোর কনা ও তরঙ্গ ধর্মের যে আন্তক্রিয়া পরবর্তীতে এটাই "কোয়ান্টাম মেকানিক্স " এর ভিত্তি গড়ে দেয়।

আলো কি কণা না তরঙ্গ? ।তবে কণা তত্ত্ব আগেই বাতিল হয়ে গিয়েছিল। আইনস্টাইন যুগান্তকারী প্রস্তাব করেন যে আলো যুগপৎ তরঙ্গ ও কণা।
কোয়ান্টাম তত্বের উদগাতা ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক আলোর ক্ষুদ্র শক্তি গুচ্ছকে বলেছেন "কোয়ান্টা " বা প্যাকেট। সেখান থেকেই কোয়ান্টাম তত্ব নামটি এসেছে।

আইনস্টাইন আলোর সর্বনিম্ন সেই শক্তির প্যাকেট /কোয়ান্টাকে বললেন "আলোর কণা "। তিনি সেই কণার নাম দিলেন " ফোটন" কণা।
ফোটন ভরহীন কণা তবে গতিশীল ফোটনের ভরবেগ আছে।

ভরবেগ ও শক্তিসম্পন্ন কণাকে তিনি "কামানের গোলার" সাথে তুলনা করেন।তিনি বলেন আলোর কণা কামানের গোলার মতন প্রবল বেগে ধাতুর পরমাণুতে আঘাত হানে, তখন পরমাণুর ভিতর থেকে ইলেকট্রন ছিটকে বেড়িয়ে যায়।

যদি আলো তরঙ্গ  হতো তাহলে  ইলেকট্রন বের হতে প্রায় ৫০০ দিন সময় লাগতো। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে মুহূর্তেের মধ্যেই সোডিয়াম ধাতু ইলেকট্রন নির্গত করে ফেলে। সেটি এক ন্যানো সেকেন্ডের মধ্যে।

আলো কণা বলেই ফোটন কণা একটি ইলেকট্রনকে আঘাত করে  এবং ইলেকট্রন ঐ শক্তি গ্রহণ করে তীব্র বেগে বের হয়ে যায়।

যদি তরঙ্গ গুচ্ছ হতো তাহলে নির্দিষ্ট কোন আকার থাকতো না। তখন তরঙ্গের শক্তি ভাগ হয়ে যেতো পরমাণুর সব ইলেকট্রনে।

ফলে একক কোন ইলেকট্রন বের হয়ে আসার মতন পর্যাপ্ত শক্তি পেতো না। আরো অনেক তরঙ্গ ঝাক আসতে হতো কোন ইলেকট্রনকে বের করে দেওয়ার মতন শক্তি সন্চয় করতে। তারমানে অনেক সময় লেগে যেতো।

কিন্তু আলোর তড়িৎ ক্রিয়া কোন কালক্ষেপন করে না। তাই আলো যে এক্ষেত্রে "কণা " হিসেবে কাজ করে এটি ব্যাখ্যা করে আইনস্টাইন নোবেলজয়ী হন

Wednesday, May 1, 2019

ভ্রমণ মালয়েশিয়া -সিঙ্গাপুর ঃঅসমাপ্ত অংশ

পেনাং ভ্রমণ ঃ
১। লংকাভি থেকে পেনাং এলাম-সমুদ্র পথে, জাহাজে করে (এজেন্সি বিমানে নিতে চেয়েছিল।কিন্তু আকাশ পথে দেখার কিছু থাকে না। তাছাড়া জীবনে এই প্রথম জাহাজে সমুদ্র ভ্রমণের সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইনি)

২। লংকাভির চেয়ে পেনাং সম্পদশালী ও আধুনিক শহর। বেশির ভাগ চাইনিজ।বাংলাদেশী ও কম না।অনেক দোকানী,হোটেল কর্মী বাংলাদেশী।তাই খাবারের সমস্যা তেমন হয়নি।

৩। ঘুরলাম -উল্টা -পাল্টা স্টুডিও তে(অনেকটা ড্রাইভারের প্ররোচনায়।) সেখানে ছবি তোলে। সবই নাকি উল্টো দেখাবে । দেখুন তো আসলেও কি তাই দেখাচ্ছে?  আমার যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

৪। টেম্পল ঃ দাড়ানো বৌদ্ধ ও শায়িত বৌদ্ধের টেম্পল। শায়িত বৌদ্ধের এতো বড় মূর্তি নাকি বিশ্বে ৩টি।থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও এটি। তবে আমি তো কক্সবাজারে অনেক বড় শায়িত বৌদ্ধ মূর্তি দেখেছি।

৫।  আকাশ শহর ঃভূমি থেকে অনেক উপরে অতি উচু পাহাড়ের চূড়ায় তারা গড়ে তুলেছে এক নজরকাড়া, নান্দনিক শহর। খাড়া উঁচুতে ট্রেন দিয়ে উঠতে ও নামতে হয়।খুবই থ্রিলিং ব্যাপার।

উচুতে রয়েছে নানাবিধ বিনোদন পয়েন্ট। রয়েছে শত বছরের ব্রিটিশদের নির্মিত অভিজাত বাড়ীগুলো।এছাড়া আশেপাশের পাহাড় গুলোতে রয়েছে আবাসিক এলাকা 
৬। তবে একটি খারাপ অভিজ্ঞতা ও রয়েছে। এজেন্সি যে হোটেল ঠিক করেছে তা দেখতে ভালোই।কিন্তু এসব হোটেলের মূল আকর্ষণ ব্রেকফাস্ট এর বাহারি আয়োজন তাতে ঘাটতি ছিল।
ফলে বউ-ছেলেদের কাছে আমার প্রেস্টিজ ফানা ফানা অবস্থায়

Wednesday, April 24, 2019

সাইকোলজিক্যাল টিপস -৫৮ঃ

ইতিবাচক থাকা মানে এই নয় যে সব কিছু ওকে থাকবে
বরং ইতিবাচক থাকা মানে,
যা-ই ঘটুক আমি ওকে থাকবো

Sunday, April 14, 2019

সাইকিয়াট্রিস্ট এর জার্নাল --৪৫-ঃনুসরাত,আ্যাসান্জ ও কৃষ্ণ গহ্বর

"অবিচার দেখে ও  তার প্রতিবাদ না করতে করতে, আমরা নিজেদের চেতনাকে সেই অবিচারের প্রতি অসাড় হয়ে উঠার প্রশিক্ষণ দেই।এবং ধীরে ধীরে নিজেদের ও আপনজনদের রক্ষা করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলি।"

জনগণের গোয়েন্দা, উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান আ্যাসান্জ এর এই উক্তি, আমাদের সমাজের জন্য পুরোপুরি সত্য।

প্রতিদিন রাস্ট্রীয়,সামাজিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও পারিবারিক নানান রকমের অন্যায়, অবিচার হতে আমরা  দেখি।আমরা কতজন সেগুলোর প্রতিবাদ করি?
রাস্তা ঘাটে, বাস-ট্রেনে শত শত অবিচার ঘটে যায়। আমরা "ভদ্রলোকরা" মান সম্মানের ভয়ে বা "কি হবে প্রতিবাদ করে " মনে করে বা "এটি দেখার দায়িত্ব আমার না" মনে করে, চোখ বুঝে সেগুলো উপেক্ষা করে যাই।

এভাবে  অন্যায়,অবিচারের প্রতি আমাদের চেতনা বোধ অসাড় হয়ে পড়েছে।এসব এখন গা-সয়া হয়ে গেছে।

এজন্য অপশক্তি আরো বেপরোয়া ভাবে, প্রকাশ্যে নিজেদের অপকর্ম করার উৎসাহ পাচ্ছে।

আমাদের সমাজ আপোষকামীতা,তোষামোদি,সমঝোতা,  অন্ধ আনুগত্য, সুবিধাবাদিতাকে গ্রহনযোগ্য, উচ্চ "সামাজিক গুন" মনে করে পুরস্কৃত করে।

শুধু তাই নয় একে "বুদ্ধিমানের কৌশল" বলে অন্যদের  এরকম হতে উৎসাহিত করে।

আর যারা এরকম বিরূপ পরিস্থিতিতে ও সাহস করে প্রতিবাদ করে, তাদেরকে গোয়ার,, নির্বোধ, বে-খাপ্পা,অসামাজিক ইত্যাদি ভাষায় অভিহিত করে। 

তবে এর কিছু ব্যতিক্রম আছে। নুসরাত সে ব্যতিক্রম। সে ও তার পরিবার আপোষ করলে, তথাকথিত সমঝোতা করলে বা কৌশলী হয়ে অনুগত থাকলে, তাকে এভাবে পুড়ে মরতে হতো না।

বরং হুজুরের বদান্যতায় প্রশ্ন পত্র পেয়ে ভালো রেজাল্ট করতো, ভবিষ্যতে আরো গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ উপহার পেতো।

নুসরাত ও আ্যাসান্জের মধ্যে মিলটি হচ্ছে তারা ব্যক্তি হিসেবে নগন্য, ক্ষুদ্র হলেও, প্রতিবাদ করেছে শক্তিমানদের বিরুদ্ধে।

এরকম করতে গিয়ে তারা নিজের নিরাপত্তা, স্বার্থেের কথা একবার ও ভাবেনি।
চেতনায় অসাড় সমাজে নুসরাত বাংলাদেশের  মালালা,আরেক  বিপ্লবী প্রীতিলতা।

আমাদের দেশ এককেন্দ্রিক শাসিত । কিন্তু স্হানীয় পর্যায়ে এমনকি প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে, আমরা একেকটি "মোঘল সাম্রাজ্য " তৈরি করে রেখেছি।

এখানে একেকটি গোষ্ঠী স্হানীয় সব ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখে।স্হানীয় রাজনীবিদ,সমাজ-নেতা,জনপ্রতিনিধি, আইনশৃংখলা বাহিনী ও অন্যান্য শক্তি মিলে একটি নিজস্ব "বলয়" তৈরি করে রাখে।
এই ক্ষমতা বলয়ের চারপাশে ঘিরে থাকে, একদল সুবিধা ভোগী মাস্তান চক্র।
নুর উদ্দীন, শামিমরা হচ্ছে সেই লাঠিয়াল বাহিনী।

অন্যদিকে বাকি সব আমজনতা "ভয়ে বা লোভে" এই বলয়ের অন্ধ আনুগত্য করে, তোষামোদি বা চামচামি করে থাকে।

যেসব শিক্ষক ও ছাত্র ছাত্রী অধ্যক্ষ রক্ষায় মিছিল ও আন্দোলন করেছে, এরা হচ্ছে সেই তোষামোদকারী, অন্ধ অনুগত বাহিনী।

এই চিত্র শুধু সোনাগাজীর নয়,এটি সমগ্র বাংলাদেশের চিত্র।

ভালো মানুষ, সৎ,মানবিক, মেধাবী মানুষদের এখন কোন সামাজিক কদর,সম্মান নেই। বিভিন্ন স্তরে বিরাজমান সামাজিক, রাস্ট্রীয়,প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা কেন্দ্র গুলো নিয়ন্ত্রিত হয়, ঐ রকম গোষ্ঠী গত অপশক্তি দ্বারা।
সেখানে  মেধাবী, মানবিক মানুষরা থাকে অপাংক্তেয় হয়ে।
তাদেরকে কোনঠাসা করে, হেয়,নীচ করে রাখা হয়।ফলে সাধারণ মানুষ তাদেরকে অনুসরণ করবে দূরে থাক, তাদেরকে করুনা করে, তাচ্ছিল্যের চোখে দেখে।

প্রতিটি হত্যা, ধর্ষণের আলাদা আলাদা কার্যকারণ থাকে। তবে এদের মধ্যে কমন কিছু ফ্যাক্টর ও থাকে।

নুসরাতকে যৌন হেনস্তা করা ও পরবর্তীতে প্রতিশোধ হিসেবে আগুনে পুড়িয়ে মারার ক্ষেত্রে, কয়েকটি বিষয় বিশেষ বিবেচনায় নিতে হবে।

প্রথমতঃপূর্বে বর্নিত সামাজিক, প্রাতিষ্ঠানিক, পুলিশী ছত্রছায়ায় যে শক্তির নেক্সাস তৈরি হয়ে রয়েছে, সে ক্ষমতা বলয়ের কারো অপকর্ম,অনাচারকে অবনত মস্তকে মেনে না  নিয়ে, তাকে/তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করা, প্রতিবাদ করার অনিবার্য খেসারত হচ্ছে এরকম পরিনতি।

ঐ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আপোষ না করে "সম্মানিত হুজুরকে" কারাগারে নেওয়াকে ঐ অধ্যক্ষের অন্ধ অনুগত দাসগুলো "অমার্জনীয় অপরাধ" হিসেবে গন্য করেছে। তারা আরও মনে করেছে এর মাধ্যমে সমগ্র আলেম সমাজকে হেয় করা হয়েছে। তাই  নুসরাতকে সর্বোচ্চ শাস্তি পেতে হবে।
অন্য দিকে ঐ মাদ্রাসার কিছু শিক্ষক ও ছাত্র ছাত্রী, যাদের রয়েছে  ক্ষমতাবান হুজুরের প্রতি অন্ধ আনুগত্য ও দায়, তারা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে "পরম শ্রদ্ধেয়" হুজুরের অসম্মানে ও তাদের গর্বের, গৌরবের প্রতিষ্ঠানের (মাদ্রাসার)  "ভাবমূর্তি " ক্ষুন্ন হওয়ার কারনে।

এই ব্যক্তি পূজা ও প্রতিষ্ঠান পূজার উদাহরণ কিন্তু সর্বত্র। সম্প্রতি কিছু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ও ছাত্রী যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠে।
ছাত্র ছাত্রীদের আন্দোলনের চাপে ও মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হওয়ার কারনে, ভার্সিটির কতৃপক্ষ তাদেরকে সাময়িক বরখাস্ত ও নামকাওয়াস্তে তদন্ত কমিটি গঠন করে।

তবে কর্তৃপক্ষ এবং তাদের কিছু সহকর্মী তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের তথাকথিত "ভাবমূর্তি " রক্ষায় নানান রকমের ছলচাতুরী, বাহানার আশ্রয় ও নিয়ে থাকে। তাদের কাছে ও ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি রক্ষা মূখ্য বিষয় হয়ে দাড়ায়।

অথচ  এরকম অপকর্মই যে ভাবমূর্তি হারানোর মূল কারণ এবং এর যথাযথ শাস্তি প্রদানই যে, সে ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের একমাত্র পথ, এই উচ্চ শিক্ষিত মানুষ গুলো ও সেটি ভুলে যায়।

২য়ত  শামীম নামক ছেলেটি নুসরাতকে বার বার প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়।অথচ সে স্হানীয় ভাবে শক্তিশালী।
নুরউদ্দীন,শামিমরা হচ্ছে ঐ অধ্যক্ষের লাঠিয়াল বাহিনী। এর আগে ও প্রত্যাখ্যানের জন্য নুসরাতকে অপদস্ত করা হয়েছিল। তাকে চুনকালি মেখে আহত করে। এতে তাকে হাসপাতালে পর্যন্ত ভর্তি হতে হয়।

ঐসব  অপরাধ করে ও তারা ঐ খুটির জোরে পার পেয়ে যায়।অপরাধের শাস্তি না হওয়াতে এরা আরো উদ্ধত, বেপরোয়া হয়ে উঠে।

শামীম এবার তার প্রেম প্রত্যাখ্যানের শোধ নেওয়ার সুযোগ পেয়ে যায়।গোপন মিটিংয়ে নুসরাতকে কিভাবে মারবে তার পথ বাতলাতে শামীমই প্রস্তাব করে, আগুনে পুড়িয়ে মারার কথা।
জিঘাংসা কতো নির্মম, কুৎসিত হলে মানুষ এতো জগন্য প্রস্তাব করতে পারে? 

৩য়ত ঐ হুজুরের বিরুদ্ধে আগে ও এরকম অনেক অনৈতিক, অপরাধের অভিযোগ ছিল। যারা প্রতিবাদ করেছে বরং তাদেরকে সে শোকজ নোটিশ পাঠায়।

স্হানীয় পর্ষদ, পুলিশ কেউ ঐসব অপরাধের বিচারে ভূমিকা নেয়নি। এভাবে বিচারহীনতার কারনে অপরাধ প্রবনতা বৃদ্ধি পায়।হুজুর ও নিজেকে সবকিছুর ধরাছোঁয়ার বাইরে মনে করেছে।

তানাহলে সে এতো উদ্ধত হয়ে নুরউদ্দীনকে বলতো না তোরা আমার জন্য কি করলি?। এর মাধ্যমে সে তার মাস্তান বাহিনীকে একশনে যেতে ইঙ্গিত দেয়।
এর পরিনতি কি হবে তা ভাবেনি।বরং ভেবেছে আগের মতনই সব ম্যানেজ করে ফেলবে।

৪র্থ বিষয়টি হচ্ছে সব অপরাধের মূল কারণ।
মানুষ অপরাধে জড়িয়ে পড়ে

১। ব্যক্তিত্বের আদিম স্তর "ইদ" (id) কে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার কারণে।

সকল লোভ,লালসা,কামনা বাসনা তাৎক্ষনিক ও যেকোন উপায়ে চরিতার্থ করতে চায় ইদ।ইদের চাহিদা যাদের বেশি, তারা অপরাধে জড়িয়ে পরে সহজে।

ছোট কালে পরিবার থেকে সুশিক্ষা পেলে, ইদের লাগামহীন চাহিদার মাত্রা কমে আছে। কিন্তু কয়টি পরিবারে সে সংযম,ধৈর্য শিক্ষার পরিবেশ রয়েছে  ও তাৎক্ষণিক তৃপ্তি মেটানোর দাবীকে অগ্রাহ্য করার শিক্ষা দেওয়া হয়?  

২। ইগো-যদি দুর্বল হয় তাহলেও মানুষ অপরাধ প্রবন হবে।
ইগোর কাজ হচ্ছে ইদের অনৈতিক চাহিদাকে বাস্তব সম্মত করা বা নিয়ন্ত্রণে রাখা। ইগো দুর্বল হলে তাই প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পরে।

ইগো  নিয়ন্ত্রণে থাকে আইনের ভয়ে, সমাজের ভয়ে বা ধর্মীয় অনুশাসনের কারণে।

কিন্তু আইনের শাসন, সুবিচার কিংবা সামাজিক ন্যায্যতা কি আমরা নিশ্চিত করতে পেরেছি? ।  

৩। সুপার ইগো বা বিবেকঃ বিবেক ভালো ভাবে গড়ে না উঠলে বা পরবর্তীতে বিবেক মরে গেলে, মানুষ আর মানুষ থাকে না।তখন সে দানবের মতন,পশুর মতন পাপ কার্য করে বেড়ায়।

প্রশ্ন হচ্ছে আমাদের নৈতিকতা, মূল্যবোধের অবস্থান কোথায়? সার্বিকভাবে দেশে,সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয় হয়েছে এটি এখন কেউ অস্বীকার করতে পারবে না।

কিন্তু আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে যারা নৈতিকতা শেখাবেন তারা নিজেরাই নৈতিক অধপতনের চূড়ান্ত সীমায়।

কোথায় নৈতিকতা শিখবেন? 

পরিবারে? আমরা কি নিজেরা তেমন উত্তম "রোল মডেল "?

শিক্ষালয়ে? যেখানে উপরের নির্দেশে পাশের হার ও জিপিএ -৫ এর হার গনহারে বাড়িয়ে দেয় শিক্ষকরা-সেখান থেকে? 

সর্বশেষ আশ্রয় স্হল হলো ধর্মীয় শিক্ষা ও প্রতিষ্ঠান। মাদ্রাসা যাকে আমরা নিছক প্রচলিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভাবি না,যাকে ভাবা হয় নৈতিকতা ও আদর্শবাদিতা শেখার মূল কেন্দ্র, সেখানে ও ঘটছে অবিশ্বাস্য কিছু ঘটনা (সব মাদ্রাসা বা হুজুরকে ঢালাওভাবে অভিযুক্ত করা ঠিক না)।

যে হুজুর তার ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে অন্যায়,অপকর্ম থেকে বিরত থাকার নৈতিক ও ধর্মীয় আদর্শের বীজ রোপণ করবেন, সে কি করে পরীক্ষার প্রশ্ন পত্র পাইয়ে দেওয়ার মতন অনৈতিক প্রস্তাব করতে পারেন?

তদুপরি তিনি সেটি স্নেহবশত করলে ও অনৈতিক হতো, কিন্তু তিনি সেটি করেছেন অত্যন্ত জগন্য একটি পাপাচারের প্রস্তাব দিয়ে।
ইসলাম ধর্মে এরকম গর্হিত পাপাচারের শাস্তি কত ভয়ঙ্কর, মাদ্রাসার আলেম হিসেবে ওনার এটি ভালো জানার কথা।

৫মত পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সবাই প্রশ্ন তুলেছে। পুলিশ শুধু উর্ধতনদের আদেশ পালন করে তা নয়,স্হানীয় পর্যায়ে যে নেক্সাস, এর অন্যতম অনুঘটক থাকে কিছু সংখ্যক পুলিশ।

ক্ষমতাশালী নেতৃত্ব যে বলয় তৈরি করে, তাদের ইচ্ছে পূরনে তারা বাধ্য থাকে বা নিজ স্বার্থে একজোট হয়ে কাজ করে।

সার্বিক ভাবে বললে নৈতিক, মানবিক সমাজ নির্মাণে আমাদের ব্যর্থতা এবং রাস্ট্রীয় ও সামাজিক ন্যায়বিচারের অনুপস্থিতি 
একটি নষ্ট, পচনশীল, অধপতিত পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
আমাদের সমাজ ক্রমশ সেই অন্ধকার, পিচ্ছিল গহ্বরে তলিয়ে যাচ্ছে।

মহাবিশ্বে  কৃষ্ণ গহ্বর যেমন সবকিছু গ্রাস করে নেয়, এমনকি আলো পর্যন্ত সেখান থেকে ফিরে আসতে পারে না। তেমনি আমরা ও মনে হচ্ছে তেমন এক রাহুগ্রাসের কবলে পড়ে, ক্রমশ কৃষ্ণ গহ্বরে চিরতরে তলিয়ে যাওয়ার পথে রয়েছি।

এই অধপতন ও তলিয়ে যাওয়া রোধ করার কোন উপায় কি নেই? কারা ঠেকাবে  কৃষ্ণ গহ্বরে হারিয়ে যাওয়ার তীব্র পিছু টানকে?