Tuesday, November 15, 2016

সাইকিয়াট্রিস্ট এর জার্নাল:৭

সন্তান বখে যাওয়া,উচ্ছৃঙ্খল,নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারন প্রতিকার:

পর্ব-১

মা-বাবা ও সমাজের সবচেয়ে বেশী ক্ষতি ও হতাশাজনক অবস্হা হচ্ছে যখন শিশু-কিশোররা অস্বাভাবিক সমাজ-বিরোধী এবং আইন ও নৈতিকতা বিরোধী কার্য কলাপে জড়িয়ে পড়ে।

ঐশীর কথা মনে আছে? 
মোটর সাইকেল কিনে না দেওয়াতে মা-বাবাকে পুড়িয়ে মারার ঘটনা ত সে দিনের।
এ রকম হাজার ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে।

কিন্তু কেন 
এর প্রতিকার কি

(আমার" শিশু বিকাশ-৩য় খন্ড: অটিজম- মৃগীরোগ,বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতা-আচরন সমস্যা-"- বইতে আমি এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।আগ্রহী পাঠক পড়ে দেখতে পারেন)
এখানে আমি সংক্ষপে ঐ বই থেকে নির্বাচিত কিছু অংশ তুলে ধরবো:
বখে যাওয়া বা আচরন সমস্যা বলতে কি বোঝায়?

সরল ভাবে বললে:
শিশু ও কৈশোর কাল থেকেই ধারাবাহিক ভাবে,অটল ভাবে বার বার এমন কাজ ও আচরন করা যা 

১।অন্যদের মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন করে(basic rights of others)  ও

২।সামাজিক আদর্শ,নীতি, রীতিকে ভঙ্গ করে(social norms and rules)।

মোটাদাগে এ ধরনের আচরনকে ৪ ভাগে ভাগ করা যায়:

১।আক্রমনাত্মক আচরন: যা অন্যকে ক্ষতি করে বা ক্ষতির জন্য হুমকিস্বরূপ(aggressive behavior)।

২।সম্পদের ক্ষতি সাধন

৩।প্রচ্ছন্ন আগ্রাসী আচরন(covert aggressive behavior): যেমন-- প্রতারনা,প্রবন্চনা করা,চুরি করা

৪।নিয়ম-রীতি ভঙ্গ করা(rule violation)

সারা বিশ্বেই শিশু কিশোরদের মানসিক সমস্যার মধ্যে এই আচরন সমস্যা সবচেয়ে কমন সমস্যা।

প্রশ্ন হচ্ছে আচরন সমস্যা কখন বলবো?

বেশীর ভাগ শিশুই মাঝে মধ্যে আচরনগত সমস্যা করে থাকে।
মা-বাবারা প্রায়ই ২য় বছরের শিশুকে  "ভয়াবহ,ভয়ঙ্কর" (terrible  two) বলে থাকেন; তিন বছরের শিশুকে "বিভৎস্য,ভয়াল" ( horrible three)  বলে থাকেন।

তাই এটি সামগ্রিক বিকাশের প্রেক্ষাপট থেকে বলতে হবে এবং সেটি যখন লাগাতার হয় ও ধ্বংসাত্মক বা বিপদজনক হয় তখন সেটিকে আমরা আচরন সমস্যা বলতে পারি

কিছু তথ্য:

মেয়েদের চেয়ে ছেলেদের মধ্যে আচরন সমস্যা ৪ গুন বেশী দেখা যায়,তবে কৈশোরে কমে ২ গুন হয়।

গ্রামের চেয়ে শহরে বেশী হয়

সুবিধে বন্চিত,অধিক জুকিপূর্ন শহরের অভ্যন্তরে,নিম্ন আয়,নিম্ন আর্থ সামাজিক অবস্হানে বেশী দেখা যায়

(ইদানীং ধনী,শিক্ষিত পরিবারেও বেশী দেখা যাচ্ছে।তবে সেগুলো সংবাদ মাধ্যমে বেশী হাইলাইট  হচ্ছে বলে)

এটি কি সামাজিক সমস্যা না মানসিক রোগ?

উত্তর হচ্ছে এটি দু'টিই

এটি সামাজিক সমস্যা কেননা:

সামাজিক সক্ষমতা অক্ষুন্ন থাকা সত্ত্বেও,মানসিক অবস্হা আপাত অক্ষুন্ন থাকা সত্ত্বেও, ব্যক্তি সামাজিক রীতি-নিয়ম মেনে চলতে ব্যর্থ হন।তাই এটি সামাজিক ভাবে নির্ধারিত।

এটি মানসিক রোগ ও কেননা:

আচরন সমস্যার পিছনে বংশ ধারা ও বায়োলজিক্যাল  কারন গুরুত্বপূর্ন।তাছাড়া এটি ঔষধ ও মনস্বতাত্বিক চিকিৎসায় ভালো করা সম্ভব।

৩টি উপবিভাগ রয়েছে:
১।আচরন সমস্যা শুধু নিজ বাসা/বাড়ীতে দেখা যায়,বাইরে তারা ভদ্র( গত রোগ কাহিনীর দানব সন্তান এ ধরনের)

২।অসামাজিক আচরন সমস্যা(unsocialized conduct disorder)  :এ ক্ষেত্রে তাদের কোন বন্ধু থাকে না

৩।সামাজিক আচরন সমস্যা( socialized):এ ক্ষেত্রে সঙ্গীদের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক থাকে।

লক্ষন সমূহ:

DSM- অনুসারে:

ক।মানুষ ও প্রানীর প্রতি আক্রমনাত্মক আচরন( aggression to peoples and animals) :

১।প্রায়ই সঙ্গী সাথীদের উক্তত্য করা;উপহাস করা;হুমকি দেওয়া;ভয় দেখিয়ে বশে আনার চেষ্টা করা।

২।প্রায়ই মারামারিতে লিপ্ত হওয়া

৩।তেমন অস্ত্র ব্যবহার করা  যা অন্যের শরীরে গুরুতর ক্ষতি সাধন করতে পারে(ব্যাট,ইট,ভাঙ্গা বোতল,ছুরি,বন্দুক)

৪।মানুষের সহিত বা প্রানীর প্রতি শারিরীক ভাবে নিষ্ঠুর, নির্দয় আচরন করা

৫।চুরি,ছিনতাই,ডাকাতি করা

৬।কাউকে যৌনতায় অংশ গ্রহনে জোর করে বাধ্য করা

খ।সম্পত্তির ধ্বংস সাধন করা:

১।ক্ষতি করার জন্য ইচ্ছে করে আগুন লাগিয়ে দেওয়া

২।ইচ্ছাকৃত ভাবে অন্যান্য উপায়ে সম্পত্তির ক্ষতি সাধন করা

গ।প্রতারনা,প্রবন্চনা,বা চুরি করা:

১।অন্যের বাসায় ঢুকে পড়া ও চুরি করা

২। কিছু পাওয়ার আশায় বা দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার জন্য প্রায়ই মিথ্যে কথা বলা

৩।ভেঙ্গে ঢুকে না পরেও অন্য ভাবে চুরি করা
,জালিয়াতি করা,প্রতারনা করা

ঘ।রীতি-নিয়ম গুরুতর ভাবে লঙ্গন করা:

১।১৩ বছরের পূর্বে থেকেই মা- বাবার নিষেধ সত্বেও রাতে বাইরে থাকা

২।কম পক্ষে ২ বার বাসা থেকে পালিয়ে যাওয়া ও বাইরে রাত কাটানো

৩।১৩ বছরের পূর্ব থেকেই প্রায়ই স্কুল ফাকি দেওয়া বা স্কুল পালানো

ঙ।আচরন সমস্যা তার সামাজিক,একাডেমিক বা পেশাগত জীবনকে গুরুতর ভাবে ব্যাহত করে

চ।উপরোক্ত লক্ষনের মধ্যে  ৩ বা ততোধিক লক্ষন থাকতে হবে


পরবর্তী পর্বে: শ্রেনীভেদ,কারন ও প্রতিকার

Thursday, November 10, 2016

রোগ কাহিনী/রোগী কাহিনী:৮

কোন দানব প্রজন্ম তৈরী করছি আমরা?

মোটর সাইকেল না দিলে তোমাদের ঐ ছেলের মতন পুড়িয়ে মারবো:

আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে কিছু দিন আগে এক দানব সন্তান নতুন মডেলের মোটর সাইকেল কিনে না দেওয়াতে মা-বাবাকে পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে নৃশংস ভাবে হত্যা করেছে?

আমাদের আজকের রোগ কাহিনীর এই "সু সন্তানের " কাহিনী তার চেয়ে জগন্য এবং তার দানবীয় নৃশংসতা শুরু এরও অনেক আগ থেকে

কাহিনী সংক্ষেপ:

কামরান(ছদ্ম নাম) বয়স ২৫
২০১০ এ এসএসসি পরীক্ষার  পূর্বে বাবার কাছে মোটর সাইকেল চায়(বুঝতেই পারছেন এ ঘটনা ঐ ছেলের ঘটনার অনেক আগের ঘটনা)।

তার মানে পুড়িয়ে মা-বাবা মারার বহু ছেলে আমাদের ঘরে ঘরে আছে, শুধু হেড লাইন হচ্ছে না সত্যি করে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা এখনো হয়নি বলে।
বাবা আশ্বস্ত করেন এ+ পেলে মোটর সাইকেল কিনে দিবেন।
যথারীতি পুত্রধন এ+ পেতে ব্যর্থ হন।তাই মোটর সাইকেল দেওয়া হয়নি।

রাজপুত্র এতে খুব ক্ষিপ্ত হন।তিনি ঘরে ভাংচুর করেন। তিনি নতুন আবদার তুলেন মোটর সাইকেল না দিলে তিনি আর পড়াশোনা করবেন না।
বাবা এবার খুব কঠোর হন,বলেন ভাংচুর যত করো মোটর সাইকেল পাবে না।

রাগ করে আমাদের সোনার ছেলে ১ বছর কোন লেখা পড়া করেনি।

কিন্তু তাকে বোঝানোর চেষ্টা অব্যাহত আছে।সবাই বলছে আব্বু পড়াশোনা শুরু করো এক সময় তুমি মোটর সাইকেল পাবে।

ঘুষ দেওয়ার প্রতিশ্রতিতে ওনার মন নরম হয়।তিনি পড়াশোনা শুরু করেন।

কিন্তু এক বছর যেতে না যেতেই তিনি বেকে বসেন।পড়াশোনায় উনার মন বসে না।
তিনি আবদার করেন তার কলেজ চেইন্জ করে দিতে হবে।
তথাস্ত, তাই হলো।সেখানেও এক ম্যাডামের সঙ্গে গন্ডগোল বেধে যায়।
তিনি এসএসসির টেস্ট এ এলাউ হননি।
অনুরোধ করাতে আরো দু'বার সুযোগ দেওয়া হয়।কিন্তু উনি কৃতকার্য হতে পারেননি।ফলে পরীক্ষা দেওয়া হয় না।এর পরের বছর ও তিনি পারলেন না।

এবার তিনি  তার বাবাকে বলে প্রিন্সিপ্যালকে মারতে হবে(বাবা যেহেতু  পুলিশ প্রশাসনের)। তার ভাষায় তোমার ক্ষমতা আছে তাদের শায়েস্তা করার তুমি করছো না কেন?
অসহায়,নিরীহ বাবা গালমন্দ খেতে থাকেন।
এর পর থেকে সে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে।
একমাত্র বোন তাকে গালিগালাজ, মারধর করে।
বাবাকে বাবা বলতে অস্বীকার করে।

এক মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক হয়, কিন্তু মেয়ে রাজী না।
তার আবদার ঐ মেয়েকে এনে দাও না হয় গাড়ী দাও

চাচার সঙ্গে বাবার দ্বন্ধ,তাই বাবাকে বলে চাচাত ভাইকে জেলে দাও

বাবা এ সব না করলে তাকে গালি দেয়,লাথি মারে,ঘুষি মারে,গলা চেপে ধরে মেরে ফেলবে।

ইন্টারনেট ঘেটে গালি বের করে,যাতে সবাইকে অশ্রাব্য গালিগালাজ করতে পারে।

এরই মাঝে মোটর সাইকেল না পেয়ে মা-বাবাকে পুড়িয়ে মারার ঐ ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে আসার পর সে বলে, তোমাদেরকেও এমন ভাবে মারা হবে।

সে আর্মির পোষাক পরে,বুলেটপ্রফ জ্যাকেট পরে,পিস্তলের খাপ, বুট জুতা পরে  এমন ভাবে  থাকে যেন সে যুদ্ধে যাচ্ছে

ইতিমধ্যে বাসার টিভি,ফ্রিজ,ট্যাব,মোবাইল সব ভেঙ্গে ফেলেছে।

তবে সে নেশা করে না
সব অত্যাচার তার ঘরে, বাইরে সে ভদ্র।

এখন তার দাবী
গাড়ী দাও,মোটর সাইকেল দাও,ঐ মেয়েকে এনে দাও,আমার হারানো ৬ বছর এনে দাও।

তা নাহলে এক দিনে মারবো না,কষ্ট দিয়ে দিয়ে তিলে তিলে মারবো
(কিন্তু তার বাবা ও বোনের আশঙ্কা যে কোন সময় সে তাদের খুন করে ফেলবে)।

কাহিনী আপাতত শেষ

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কি ভাবে নিজ ঘরে এমন দানব গড় উঠে?

কি ভাবে তোমার বধিবে যে গোকুলে বাড়িছে সে?

( পরবর্তী লেখায় তা নিয়ে আলোচনার আশা রাখি)

Thursday, November 3, 2016

সাইকিয়াট্রিস্ট এর জার্নাল- ৬

নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করে জিতে যাচ্ছি স্যার

এটি ছিল কাউন্সিলিং থাকা নিজকে বদলে ফেলা এক সফল রোগিনীর আত্ম-তৃপ্ত ও আত্ম বিশ্বাসী  গর্বিত উক্তি

অনেকেই হয়ত জানেন, আমাদের সিংহভাগ রুগীকে শুধু ঔষধ চিকিৎসা দিয়ে পূর্ন আরোগ্য লাভ সম্ভব না।
আর রোগকে মূল থেকে উৎপাটিত করতে  হলে রুগীর চিন্তা,মনন,দৃষ্টিভঙ্গিতে আমূল পরিবর্তন আনতে হয়।

এর জন্য সাইকোথেরাপি বা কাউন্সিলিং এর বিকল্প নেই।
কাউন্সিলিং ও সাইকোথেরাপির মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে(এখানে সেটি বিস্তারিত বলার সুযোগ নেই)।
আবার সাইকোথেরাপিরও রয়েছে নানা ভাগ,নানা প্রকারেরর।

এর মধ্যে সিবিটি(কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি) হচ্ছে সারা বিশ্বে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সব চেয়ে কার্যকর সাইকোথেরাপি,বিশেষ করে ডিপ্রেশন চিকিৎসায়।

আমি সিবিটির একনিষ্ঠ ভক্ত।

 মূলত সংক্ষিপ্ত, ঘনবদ্ধ ও লাগসই( brief, condensed,case and context appropriate)  সিবিটি আমি রোগী চিকিৎসায় প্রয়োগ করে থাকি।
(চেম্বারে লম্বা সময় নিয়ে সাইকোএনালাইসিস পদ্ধতি ব্যবহার বাস্তব সম্মত নয়)

রোগ কাহিনী:রোগ কাহিনী নামে আমাদের একটি স্বতন্ত্র বিভাগ রয়েছে।এখানে রোগকাহিনী গুরুত্বপূর্ন নয়।

কিভাবে থেরাপি রুগীকে বদলে ফেলে তার দৃষ্টান্ত দেখানোর জন্য এই ডায়রী লেখা।
বেশ কিছু সমস্যা নিয়ে তিনি আমার চেম্বারে আসেন।ইতিহাস নিয়ে যা জানা গেলো:

রোগীনি একটি কলেজের সহকারি  অধ্যাপক।
তার ভাষায়,স্যার আমি ও আমার পরিবার সফট মাইন্ডেড,উচ্চ শিক্ষিত।
বাবা ছিলেন কলেজের প্রিন্সিপ্যাল, অন্যান্য আত্মীয়রাও উচ্চ পদস্হ ও উচ্চ শিক্ষিত।
আমরা বই পড়া,সাংস্কৃতিক চর্চায় বেশী আগ্রহী।অন্যদিকে স্বামী ব্যবসায়ী, তবে তিনি আমার অবস্হা বুঝেন।
কিন্তু আমার শ্বশুড় বাড়ীর প্রায় সবাই রূড,হার্ড ও বেপরোয়া।তারা আমাকে,আমার শিক্ষাকে ত কোন দাম দেয় না-ই,উপরোন্ত এ নিয়ে টিটকারী করে।
তার(স্বামীর) বোনেরা আমাকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে,উপহাস করে,প্রায়ই আমার সঙ্গে বেয়াদবী করে। তারা এমন এমন কথা ও আচরন করে যে সারাক্ষন আমার মনে রক্ত ক্ষরন হতে থাকে়।
আমি যন্ত্রনায় বিদ্ধ হই।স্বামীকে বললে তারা সব এক জোট হয়ে তা অস্বীকার করে ওআমাকেই অপরাধী,দোষী সাবস্ত্য করে।
আমি এদের সঙ্গে পেরে উঠছি না স্যার।
সামাজিক ও পারিবারিক চাপের কারনে সংসারও ত্যাগ করতে পারছি না।তবে স্বামী সব সময় সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে।কিন্তু আমার মন-যন্ত্রনা কমছে না।

তিনি বলেন টেনশনে আমার ঘুম হয় না,নিজকে ছোট মনে হয়।মনে হয় আমি হয়ত শিক্ষিত কিন্তু বুদ্ধি,দক্ষতা,ব্যক্তিত্বে  আমি ঐ অল্প শিক্ষিত মেয়ে গুলোর চেয়ে অনেক পিছিয়ে।
তারা সুখী,সাহসী ও সবার প্রিয়।
অথচ আমি সঙ্কোচিত,বিব্রত,অসুখী ও সবার কাছে অপ্রিয়।এমনকি আমার মা বাবার কাছেও।
তারাও বলে তোমার ঘাটতি আছে,সমস্যা আছে তা না হলে এমন হবে কেন?

স্যার ঐ সব বিদূপাত্মক কথা ও আচরন আমি ভুলতে পারি না।সারাক্ষন অস্হির থাকি,ভয়ে থাকি

টেনশন আসলেই বুক চেপে আসে,মন চুপসে যায়।

ঔষধ সহ সাইকোথেরাপির ডেট দিয়ে দিলাম।
৪-৫টি থেরাপিতেই তিনি আরোগ্য লাভ করলেন।

গতকাল এসে তিনি তার ঐ প্রত্যয় দীপ্ত উচ্চারন করলেন।

চিকিৎসকের প্রধান গর্ব,শ্রেষ্ঠ  পুরস্কার ও তৃপ্তি রোগীকে রোগ থেকে পূর্ন মুক্তি দিতে পারা।
একমাত্র সাইকেথেরাপি যদি সফল হয়, তখনই মাত্র এমন কৃতিত্ব একজন সাইকিয়াট্রিস্ট পেতে পারেন।।

বিনীতভাবে হলেও যথেষ্ট তৃপ্তির সঙ্গে বলতে পারি এমন গর্ব, তৃপ্তি আমি অনেকবারই পেয়েছি।

তারই একটি উদাহরন আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করছি।

আমি বললাম,কিভাবে জিতে যাচে্ছন?।উদাহরন দিন।
তিনি বললেন গত সপ্তাহে এক পারিবারিক ইনফর্মাল মিটিং এ আমি কায়দা করে,সবার সামনে আমাকে নিয়ে চরম অপমানজনক কথার প্রসঙ্গটি উঠাই (অনেক অপমানের একটি) ও বলি, যদি অন্য কেউ  তেমন কথা বলতো আমি সরাসরি তাকে জোরসে চড় মেরে দিতাম।
ঐ মেয়েও সেখানে ছিল। লক্ষ্য  করলাম সে বিব্রত ও সংকুচিত হয়ে চুপসেে গেল(মুরুববীরাও ছিল)।এক পর্যায়ে তারা আমার কাছে দুংখ প্রকাশও করে।

এই প্রথম বার তিনি এসারটিভ (  assertive)আচরন করতে পেরেছেন, ফলে তার ক্ষোভ,যন্ত্রনার উপশম হয়।
আমরা মূলত নিজেদের অধিকার আদায়ে,মতামত প্রকাশে  ৩ ভাবে প্রতিক্রিয়া করে থাকি।

১।আক্রমনাত্মক ভাবে(aggressive) - নিজের মত ও ইচ্ছা জানাতে, নিজের সুযোগ ও অধিকার আদায়ে কেউ কেউ  আক্রমনাত্মক আচরন করে  থাকে।
২। আত্ম সমর্পনমূলক( submissive) :
কেউ কেউ উল্টো রকমের।তারা নিজের মত অভিমত প্রকাশে বা নিজের ন্যায্য অধিকার আদায়ে ও আত্ম সমর্পনমূলক আচরন করে থাকেন।
তারা নিজকে গুটিয়ে রাখেন,সংকুচিত থাকেন,লাজুক-ভীতু প্রকৃতির হন।ফলে অন্যরা তাদেরকে মাড়িয়ে যায়,তুচ্ছ করে,অপদস্ত করে বাতিলের খাতায় ফেলে রাখে।(যেমন আমাদের আজকের রুগিনী)।

৩।দৃড়, তবে ভদ্র ভাবে নিজের মত প্রকাশ( assertive) :
এটি হচ্ছে উত্তম পদ্ধতি,ঐ দু'এর মাঝখানের অবস্হান।
এখানে ব্যক্তি সাহস ও দৃড়তার সহিত অথচ মার্জিত,ভদ্র ভাবে নিজের মত তুলে ধরেন ও অধিকার আদায় করে নেন।অন্যকে অসম্মান না করেও নিজের স্বাধীন মত প্রকাশে তারা কুন্ঠাহীন

আমাদের রুগিনী জীবনে এই প্রথম বারের মতন নিজের অভিযোগ,ক্ষোভ এমনকি ক্রোধ ও বাদানুবাদ না করে,ঝগড়া ফ্যাসাদ না বাধিয়ে প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছেন।এতে তার ক্ষোভ,যন্ত্রনার লাঘব ঘটে।তিনি আত্ম বিশ্বাস ও আত্ম সম্মান বোধ ফিরে পান।তার মন অটোমেটিক প্রশান্তি লাভ করে,তিনি ভিতর থেকে রিলিফ ফিল করেন।

২য় উদাহরন জানতে চাইলে তিনি বললেন,গতকাল তার বস(প্রিন্সিপ্যাল) ) সভায় থাকায় তিনি  আগে আগে বাসায়  চলে আসেন।
বাসায় আসার পর  তার ভয় করতে লাগলো তাকে না দেখে বস রেগে যেতে পারেন।

তিনি বলেন তখন আমি নিজকে বললাম যদি তেমন হয় ও আমাকে জিজ্ঞেস  করেন, তাহলে বলবো শরীর খারাপ হওয়াতে চলে আছি।
এমনটি মনকে বলার  সঙ্গে সঙ্গে  উনার মনের ভীতি,অস্হিরতা, টেনশন নিমিষে চলে যায়।

আমি ব্যাখ্যা করি যে বেশীর ভাগ উদ্বেগ-টেনশনের কারন হচ্ছে  মনের ভিতর জানা/অজানা আশঙ্কা,হুমকির বোধ কাজ করা।উনার বস নাখোচ হলে,বিরক্ত বা  ক্রোধান্বিত হলে  উনার উপর হয়রানি হবে এই আশঙ্কাই উনার উদ্বেগের মূল কারন ছিল।
যেই মাত্র তিনি তার মনকে  এই বলে আশ্বস্ত করতে পারলেন যে উনার অসুস্হতার কথা শুনলে তিনি আর রাগ করে থাকবেন না, তখনই উনার মন থেকে দুঃশ্চিন্তার পাথর নেমে গেল।
তিনি রিলিফ ফিল করলেন।

চিন্তা>অনুভূতি/আবেগ>আচরন

উপরের চার্টটি লক্ষ করুন:
আমাদের চিন্তা আমাদের আবেগ/অনুভূতির উপর প্রভাব ফেলে;
আবার অনুভূতি আমাদের সার্বিক আচরনকে প্রভাবিত করে।
আর আচরন নির্ধারন করে আমরা সুখী হবো না অসুখী হবো;সফল হবো না অসফল হবো;সম্পর্ক ভালো থাকবে না মন্দ হবে।

তাই  নেতিবাচক,অকার্যকর,অশুভ  অসুস্হ চিন্তাকে বদলে ফেলে যদি বিকল্প ইতিবাচক, কার্যকর,কল্যানমূলক মূলক সুস্হ চিন্তা মনকে দিতে পারি তাহলেই জীবন বদলে যাবে
যেমমটি ঘটেছে আমাদের রুগিনীর ক্ষেত্রে।

সাইকোথেরাপির মূল লক্ষ্য হচ্ছে রুগী যাতে নিজ সক্ষমতায় নিজকে ভালো রাখতে পারে সে রকম দক্ষ করে তাকে গড়ে তোলা।
তিনি এখন থেকে তেমনটি পারবেন বুঝতে পেরে আমার মন গর্বে ও আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে উঠলো।

Sunday, October 30, 2016

#সাইকোলজিক্যালটিপস
সংখ্যা:২৩
.........................................................
সবাই তো সুখী হতে চায়

      তবু....কেউ সুখী হয়

কেউ হয় না
..........................
কেন হয় না?

সবাই মৃত্যুর স্বাদ নেয়

অল্প কয়েকজন মাত্র জীবনের স্বাদ নেয়
---------জালালউদ্দীন রুমি

(দুংখ প্রকাশ:গত ২০ আগস্ট সাইকোলজিক্যাল টিপস ২২ ( চাই বড় হৃদয়,  বড় ইগো নয়)দিয়েছি।
২ মাসেরও বেশী হয়ে গেল পরবর্তী টিপস দিতে।
অথচ এই বিভাগ সবার এমনকি আমার নিজেরও খুবই প্রিয় বিভাগ।
এখন আমার এই পেইজে নিয়মিত ভাবে ৬টি বিভাগ চালু রয়েছে।সপ্তাহে একটি পোস্ট দিলেও ৬ সপ্তাহ লাগে পরবর্তী পোস্ট দিতে।
আবার অন্য সমস্যা, একবারে বড় পোস্ট দিলে অনেকেই পড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।যেমন আজকেরটিও।

উভয় সঙ্কট।আপনাদের পরামর্শ চাচ্ছি)
....................
টিপস-২৩

যদি কাউকে প্রশ্ন করা হয়,জীবনে কি চান? নিশ্চিত বলা যায় সবাই বলবেন "সুখী" হতে চাই।

আধ্ব্যাতিক পুরুষ রুমি যে বলেছেন সবাই জীবনের স্বাদ নিতে পারে না,কেন সেটা?

প্রতিদিন জীবনের স্বাদ নিতে হবে,সুখী হতে হবে।
কিছু নিয়ম প্রতিদিন মেনে চলতে হবে:

১।নিজকে অনুমতি দিন(give yourself permission) :
.........................................................
আমরা অনেক কিছুর  জন্য অন্যদের কাছ থেকে পারমিশন চাই।
কিন্তু নিজকে পারমিশন দিচ্ছেন তো?

আপনি যা বা যেমন,তেমন থাকার পারমিশন?

প্রান খুলে হাসতে; প্রয়োজন হলে কাদতে;
দীপ্তময় ব্যর্থতাকে বরন করতে; গুরুত্বহীন কাজ বা বোকার মতন কাজ করতে?

বাস্তবতার চাপে সাময়িক ভাবে ভেঙ্গে পড়তে বা পতিত হতে এবং পরবর্তীতে দ্রত উঠে দাড়াতে,ঘুরে ফিরতে?

যদি সন্তান বা প্রিয়জন উপরোক্ত পরিস্হতিতে পড়ে তাকে পারমিশন দেন না?

তাহলে নিজকে নয় কেন? নিজকে এতো কম ভালোবাসেন?

সবার থেকে ভিন্ন হওয়ার,অনন্য হওয়াকে গুরুত্ব দিন।

(আমি তো দশকে ছাড়িয়ে রবীন্দ্র নাথের ভাষায় নিজকে একাদশে নিতে শ্লাঘা অনুভব করি)।

নাকি অন্যদের উপহাস,সমালোচনা,এড়িয়ে চলা দেখে মুছড়ে পরেন?

নিজের স্বপ্ন পূরনে বহুদূর যেতে কি নিজকে অনুমতি দেন? নাকি অল্পতেই হাল ছেড়ে দেন?

এ সব জরুরী প্রশ্ন।
সুখী হতে হলে,গর্বিত, তৃপ্ত হতে হলে,সম্মানিত গুরুত্বপূর্ন হতে হলে আপনাকে প্রতিনিয়ত নিজকে এ সব পারমিশন দিতে হবে।

রাজী? অঙ্গীকার করুন
নিজের কাছে

নিজকে ভালোবাসবেন গভীর ভাবে
নিজকে ওসব পারমিশন দেবেন উদার ভাবে

২।নিজকে এতো সিরিয়াসলি নেবেন না(don't take yourself so seriously) :

আমরা যখন কারো সঙ্গে সহজ থাকি,ফুরফুরে মেজাজে থাকি, তখন তার সঙ্গে যে রকম সহজ ভাবে হ্যান্ডশ্যাক করি,নিজের হাতকে তেমন কোমল,নরম ভাবে ধরুন।

 নিজের ব্যক্তিত্ব,চরিত্রের গৌন দিক বা দুর্বলতা নিয়ে পরিহাস করুন,হাসি-তামাসা করুন।

দেখবেন তখন অন্যরা আপনার দুর্বলতাকে ইঙ্গিত করে "ঘায়েল" করার ব্যর্থ চেস্টা করতে উৎসাহ বোধ করবে না।
কেননা তারা জেনে গেছে আপনি এসবকে থোরাই কেয়ার করেন।

যখন জীবনে কঠিন সময় আসবে,কাধ ঝাকিয়ে বলুন

"ওহ তাই! সো ওয়াট?

মনে রাখবেন, কোন  সমস্যাই  এতো বড় নয়,এতো বিপর্য্যয়কর নয়,যেমনটি আপনার মন ভাবছে।

সুখী মানুষ বিশ্বাস করে যা কিছু মন্দ  জীবনে ঘটুক না কেন,সেটির পরিবর্তন হবে।পৃথিবীতে কোন কিছুই অপরিবর্তনীয় নয়।

যখনই বাধার মধ্যে পরবেন বা সঙ্কটে পরবেন তখনই স্বভাবগত ভাবে বলে উঠুন

সো ওয়াট? হু কেয়ারস? হোয়াই নট? হা হা হা হা
............................................

৩।আপন মনে জাবর কাটবেন না(don't self ruminate):

সুখী মানুষ নিজদেরকে সমস্যার মধ্যে বা নিজের মধ্যে আটকে রাখে না,বেধে রাখে না।

তারা সে সবকে অতিরিক্ত বিশ্লেষন করে না।

তারা সমস্যার বাইরে চলে যান

,নিজের কাজে ফিরে যান,হাস্য কৌতুক করার পরিকল্পনা করেন।
...........................................
৩।নিজকে কারো সঙ্গে  তুলনা করবেন  না(don't compare):

তুলনা হচ্ছে ছোট খাট মৃত্যর সমান।

যখনই কারো সঙ্গে তুলনা করবেন,নিজের সত্মাকে হত্যা করবেন।
আমরা যখন তুলনা করি, নিজকে আহত করি।

সুখী মানুষ জানে তারা অন্যদের চেয়ে বেশী ভালো বা বেশী মন্দ তা  নয়।

যে কোন ব্যক্তি কোন এক সময়"একটু ভালো" অবস্হায় থাকে,
আবার অন্য সময় "একটু মন্দ" অবস্হায় থাকে।

তাই কেউই আপনার চেয়ে অধিক সুখী বা অধিক সম্মানিত তা নয়,আবার তারা কম সুখী বা কম সম্মানিত তাও নয়।

আপনার মনোযোগ থাকবে কিভাবে সর্বোত্তম থাকবেন।

ব্যস, দ্যাটস অল
..............................
৫।খাপ-খাইয়ে নিন(make adjustment) :

যখন জীবন আপনার পথে চলে না,আপনার মন খারাপ থাকে,ম্যুড অফ থাকে--তখন আত্ম সচেতন হন।

পরিস্হতির সঙ্গে অভিযোজন করে নিজের শক্তিমত্মাকে ফাইন টিউন করে নিন।...

যদি দেখেন কিছু খেলে শরীর খারাপ হয়,কেন সেটি খাবেন?

যখন মনে হবে আটকে গেছেন,বিপর্যস্ত হয়ে পরেছেন--
 হাটুন;গতানুগতিক এর বাইরে কিছু করুন;কোন বন্ধুর সঙ্গে দেখা করুন

যদি অতিরিক্ত উদ্বেগ,চাপে থাকেন
ভালো ঘুম দিন,মেডিটেশন করুন,ইয়োগা করুন।

নিজকে যে কোন পরিস্হতির সঙ্গে ফাইন টিউন করে নিন।
...............................................

৬।নিজের যত্ন নিন,অন্যকে সেবা দিন(be of service and know how to take care of yourself) :

সুখী মানুষ যত পায়,তার চেয়ে বেশী ফেরত দেয়।

তারা সব ব্যাপারেই শেয়ার করে

তারা ভলান্টিয়ার হয়,সমাজ সেবা করে,অন্যের সহায়তায় এগিয়ে যায়,কিন্তু বিনিময়ে কিছু প্রত্যাশা করে না।

তবে একই সময়ে তারা নিজেদের যত্ন নিতেও ভুল করে না।

যখন শক্তি কমে আসে তখন শক্তি পুনরুদ্ধার করে,অবশেষটুকু নিংশেষ করে দেন না।

নিজের শারিরীক,মানসিক,আধ্বাতিক,আবেগ গত স্বাস্হ্যের প্রতি নজর রাখুন।

নিজের যত্ন
 নিতে হবে যাতে অন্যেকে অধিক সেবা দিতে পারেন।
.....................

৭।বন্ধুত্বের মান বাড়ান(uplifting friendship):

যখন আমরা কথা-বার্তায়,বন্ধুত্বে, সহযোগীতামূলক থাকি,ভালোবাসায় পূর্ন থাকি

,আত্মিকও আবেগগত ভাবে পরস্পরকে উচ্ছসিত করি

,নৈতিক অনুপ্রেরনামূলক মানসিক উৎকর্ষতা বৃদ্ধি পায় তেমন প্রভাব রাখি

তখন
আমরা আলোকিত সড়কে দুরুত ধাবমান হতে পারি।

যদি আপনি এমন কারো সঙ্গে সময় কাটান,যে পরবর্তীতে উচ্ছসিত,উৎকৃষ্ট, উৎফুল্ল মনে না হয়

তাহলে সে রকম বন্ধুর চেয়ে আরো উত্তম বন্ধু খুজুন।

বুঝতে চেষ্টা করুন কোন বন্ধুরা আপনার সুখকে বাড়িয়ে দেয়,

সে সব বন্ধুত্বকে বেশী বেশী পরিপুষ্ট করুন।
....  ।।.............

৮।সুখী হওয়ার চেয়ে মনের শান্তি বজায় রাখতে বেশী মনোযোগী হন
(be lees interested in being happy and more  interested in your peace of mind):

আমরা মনে করি সুখী থাকা মানে সব সময় "পরমানন্দে" থাকা।

নিজের হতাশা,বিষন্নতাকে কাটিয়ে উঠার জন্য আমরা অবশ্যই সম্ভব সর্বোচ্চ ভালো থাকার চেষ্টা করবো।

কিন্তু মনে রাখবেন যত উচুতেই থাকুন না কেন

,আপনাকে এক সময় নীচে নেমে আসতে হবে।

এটাই প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম।

( গত রোগ কাহিনীতে, ম্যানিয়া রোগের উল্লেখ করে বলেছিলাম, সব সময় সুখে থাকা প্রকৃতি বিরুদ্ধ রীতি। এটি একটি গুরুতর একটি মানসিক ব্যাধি)

এর চেয়ে বরং শান্তিপূর্ন,সহজ,স্বাচ্ছন্দ্য জীবন-যাপনে অধিক মনোযোগী হোন।

যখন আপনি শান্তিতে থাকবেন
তখন উচ্চ-নীচের মধ্যে একটি ভারসাম্য থাকে।

এবং তখন স্হায়ী সুখ শান্তিতে থাকার সম্ভাবনা ও বেড়ে যায়।
.................

৯।নিজের সেন্স গুলো ব্যবহার করুন(use your senses):

কথায় আছে সাধারনই অসাধারন
(ordinary is extraordinary) :

সুখী মানুষ জানে কি ভাবে প্রতিদিনের সাধারন,সহজ বিষয় থেকে সুখ পেতে হয়।

এগুলোর বেশীর ভাগই আমাদের পন্চ ইন্দ্রিয়ের(সেন্স) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

জীবনের ও চারপাশের সব দিকে নজর রাখুন।

দেখবেন চারপাশে প্রতি দিন সুখী হওয়ার,মুগ্ধ হওয়ার অনেক কিছুই আছে।

শুধু দরকার দেখার মতন চোখ,শোনার মতন কান,ঘ্রান নেওয়ার মতন নাক,স্বাদ নেওয়ার মতন জিহ্বা,স্পর্শ নেওয়ার মতন চর্ম।
কিছু উদাহরন:
১।শীত কালে চায়ের কাপে হাত দিয়ে কি উষনতা টের পান?
২।ঘাড় চকলেটের প্রবাহ যখন জিহবা দিয়ে গড়িয়ে পরে তখন কি সে স্বাদ পূর্নভাবে অনুভব করেন?

(আমি যে দিন কোন খাবারে ভালো স্বাদ পাই,তখন সঙ্গে সঙ্গে পানি খাই না।কিছুক্ষন সে অমৃত  স্বাদ উপভোগ করতে থাকি)
৩।সাইকেল চালানোর সময় ড্যান্স মিউজিকের আন্দোলন টের পানন?

৪।পথে ঘাটে কোন আগন্তুকের হাসি মুখ দেখে মন আনন্দে ভরে উঠে?
( আমি চাদপুর প্রাকটিস করতে লন্চে আসা যাওয়ার সময়টিতে,বিশেষ করে সন্ধার সময়টি বাইরের নান্দনিক দৃশ্য দেখে আপ্লুত হ।,বিদেশ গেলেও হেটে ঘুরার চেষ্টা করি চারপাশের জন জীবনও প্রকৃতিকে অন্তরঙ্গ নিবিড় ভাবে দেখতে)

বড় বড় অর্জন হলেই সুখী হবো সে চিন্তা করলে বরং হতাশ হতে পারেন।
বরং প্রতিদিনের চারপাশ থেকে,নিজের সাদামাঠা জীবন থেকে সুখের খনি খুজে নিন।
.............

১০।অন্তরঙ্গ সম্পর্ককে সব কিছুর আধার বানাবেন না:

সুখী মানুষ জানে যারা তাদের ঘনিষ্ট মানুষ,তারা বাড়তি কিছু,তারা সম্পূর্নতার অংশ নয়।
তারা জীবনকে পূর্নভাবে যাপন করে,যাতে দিনের শেষে তাদের এত
 অধিক থাকে যে, তারা শেয়ার করতে পারে।

আপনার মন,ম্যুড ভালো করারার জন্য,
আপনার ক্ষত মোছনের জন্য,
আপনার শুন্যতা পূরনের  জন্য
আপনার পার্টনারের উপর নির্ভর করবেন না।

উল্টোটিও সত্য।

সহযোগীতা হচ্ছে সম্পর্কের  গুরুত্ব পূর্ন অংশ।
সঙ্গী সাথীদের সাথে আমরা  দুঃসময়ে মমতা করুনা,,দয়া দিয়ে সময় কাটাই।
আবার সুসময়ে তাদের সঙ্গে আনন্দ উল্লাসে জীবন  কাটাই।

তথাপি আমরা মূলত নিজেদের সুখের জন্য নিজেরা দায়ী।

আমরা চেষ্টা করবো তাদের জন্য একটু  জায়গা ছেড়ে দিতে যাতে, তারা নিজেদপর সুখ নিজেরা খুজে নিতে পারে।

Tuesday, October 25, 2016

Saturday, October 22, 2016

how to fight with life

PSYCHOLOGICAL TIPS: 19 ENGLISH version

WHAT TO DO WHEN YOU ARE SO EXHAUSTED WITH THE HARSHNESS OF LIFE?

Sometimes the demands of life seem so hard to get along. It feels like we tire enough to manage it anymore. What to do then?

i. First to remember that it is only YOU WHO COULD BE YOUR SOLE COMPETITOR. You are not here to prove yourself better than others….What you can do is to develop yourself better than before…..it could be  your professional skill, your relationship, your outlook and attitude, your goodness, your spirituality, your way of solving problem etc.

Dear friends, please don’t forget that  you are to walk along on your own way and time…………..you are never here to shape your way by others choices.

ii. Remember one thing. You must get what you want earnestly. Life is not just a tale of  several  sporadic or isolated events. It’s a planned, well organized, neatly woven flow.............................

When you feel you cant bear the stressors anymore, just stop yourself ,……… be calm.  All life events follow a single rule as wise people say.

You are given a challenge to learn from it. THIS IS HE WHO HAS GIVEN YOU THE CHALLENGE, AND THIS IS HE WHO HAS GIVEN YOU THE STRENGTH AND RESOURCES TO OVERCOME IT. And you must come out of it. We all have the ability to overcome any obstacle to move on in life again……………this is a universal rule happened to everyone. HAVE PATIENCE, HAVE TRUST.

iii. NEGATIVE ATTITUDE SIMPLY FAILS  TO PRODUCE ANY POSITIVE OUTCOME. This is a rule of thumb.

Hence, if we could change our negative perception (appraisal) to positive ones, it must create a positive emotion (mood) as well as positive outcome.  So, replace your negative thought with positive one….like…thought of love, tranquility, better future, about happiness, BE OPTIMISTIC.

iv. HAVE TRUST THAT ALWAYS YOUR ARE GOING TO BE GIVEN A NEW AMAZING EVENTS which will enrich yourself with new understanding and new dynamics.

Distract your mind from the current problem for a while. 

HAVE YOUR FAITH THAT ALL WE ARE SURROUNDED BY INCREDIBLY WONDERFUL MAGIC IN  LIFE.

KEEP YOUR DREAM AND DESIRE ALERT.
MY FRIENDS, THEY MUST TAKE THEIR BIRTH IF YOU TRUELY WANT AND PERUSE IT.

v. Try to think that THE DAY YOU HAVE STARTED TODAY IS THE BEST ONE. And this is the time to make you free from all fear, apprehension, conflict. What undesired events happened in your life, it has happened. JUST LET IT GO,
MY DEAR,,,,,,,,,,,,,you have to go a long way…………Prepare yourself, Unburden yourself….do something light,,.talk something light with others….let the time pass……LET IT GO.

Yes, it is YOU WHO WOKE UP TODAY  WITH ABUNDANT POSSIBILITIES,   BOUNDLESS OPPORTUNITIES AND HIS UNLIMITED GRACE ON YOU.

Keep smiling…….be happy (to be ended in the next post)