Monday, July 3, 2017

সাইকিয়াট্রস্ট এর জার্নাল-৯: মানুষ কেন ও কিসে শ্রেষ্ঠ?

পর্ব-১: আমরা বলি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব মানুষ। আসলও কি তাই এবং হলে কেন?
আমার সম্ভাব্য প্রকাশিত বই "সুখী মানুষ "  থেকে কিছু তথ্য তুলে দিচ্ছি :

হোমোসেপিন্স বা প্রাজ্ঞ মানব অন্যদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ  তাদের ব্রেইনের আকার,ওজন ও গুনগত মানের জন্য।

১। মানুষের ব্রেইনের আকার  ও ওজনে বড়। তাছাড়া  এর বিশেষ কিছু অন্চল অনেক বেশী বিকশিত।

২। ব্রেইনের সামনের অংশকে বলা হয় " চিম্তার অংশ"। এই প্রি- ফ্রন্টাল অংশটি সম্পূর্ন কর্টেক্স এর ৩.৫%- কুকুরের বেলায়,১১.৫% বানরের বেলায় আর মানুষের ক্ষেত্রে এটি ৩০%।

৩। কিছু নিউরাল সার্কিটের অঙ্গ সংগঠনে ও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য। যেমন- ডোপামিন নিউরনগুলো  মানুষের ব্রেইনের অনেক বেশী অংশ জুড়ে থাকে।

৪। সবচেয়ে বড় পার্থক্য ব্রেইনের মূল অংশ কর্টেক্স এ।

এখানে রয়েছে ২২.৫ বিলিয়ন নিউরন।

এ নিউরনগুলো প্রায় ১৬৫ ট্রিলিয়ন স্নায়ু সংযোগ(সিনাপস) তৈরী করে।( সংখ্যাটি কত বড় কল্পনা করতে পারছেন?)

উল্লেখ্য যে ব্রেইনে যত বেশী স্নায়ু সংযোগ সে ব্রেইন তত বেশী উন্নত ও শ্রেষ্ঠ।

৫। এই নিউরনগুলোর ডেনড্রাইট শাখাগুলোর মোট দূরত্ব প্রায় ১২ মিলিয়ন কিলোমিটার ( ১ কোটি ২০ লক্ষ কিলোমিটার) । এদের এক্সন শাখাগুলোর মোট দূরত্ব প্রায় ১ লক্ষ কিলোমিটার।

৬। কর্টেক্স এর ৯০% এর বেশী জুড়ে রয়েছে নিউকর্টেক্স-

বিবর্তনের মাধ্যমে মানুষ যখন উন্নত ও সুসভ্য হয়ে উঠছিলেন এর বড় কারন এই নিউকর্টেক্স এর উদ্ভব।যত বেশী নিউকর্টেক্স তত উন্নত সে প্রানী।

মানুষের আদিম ব্রেইন কর্টেক্স এর ৯০% এর ও বেশী বিবর্তিত হয়ে নিউকর্টেক্স রূপান্তরিত হয়েছে।

৭। বেশ কিছু সার্কিট ও অন্চল বিশেষ ভাবে বিকশিত হয়েছে মানব ব্রেইনে( সেগুলো লম্বা আলোচনা - পরে একসময় বলা যাবে)
তাই মানুষ কেন ও কিসে শ্রেষ্ঠ তা সহজে অনুমেয়
কিন্তু শুধু্  মেধা দিয়ে কি শ্রেষ্ঠ? বিবর্তনের ও শ্রেষ্ঠত্বের ২য় পর্যায়ের কোন অংশে এখন আমরা? এটি বলবো আগামীকাল ২য় পর্বে

Tuesday, June 27, 2017

রোগ কাহিনী-১মিরপুরের " ভূতের বাড়ির- সেই রিতা- মিতা দুই বোনের কথা মনে আছে?

" be positive be happy " পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে বিলম্বিত/বকেয়া/( বা ঈদ উত্তর) ঈদের
    শুভেচ্ছা
কৈফিয়ত-১: বিলম্বিত শুভেচ্ছার কারন, "ঈদে" গ্রামে গেলে কোন নেটওয়ার্ক খুজে পেলাম না।তাই এ কদিন সামাজিক যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলাম।( ডিজিটাল বাংলাদেশ শুধু কি ঢাকায় সীমাবদ্ধ?  অনেক মোবাইল অপারেটর এর টেলিফোনিক কানেকশন ও মেলে না।বিদ্যুৎ যায় না,কদাচিৎ  এসে হাসি মুখ দেখিয়ে যায় মাত্র)
কৈফিয়ত-২: ঈদের ভাব- গাম্ভীর্য, জাক- জমক,বিশালত্ব, গ্রান্ডিওসিটি (ইদুর মার্কা) "ইদ"  দিয়ে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।জনগনের অভিপ্রায় হচ্ছে সকল আইন,প্রবিধান এর উৎস।এ কারনে ব্যাকরনেও রয়েছে নিপাতনে সিদ্ধ- রীতি।জয় জনগন
রোগ কাহিনী : সারাদেশ ব্যাপী ব্যাপক প্রচার পাওয়া ডাক্তার - ইন্জিনিয়র দুই বোন রিতা- মিতা আবার ভর্তি হয়েছিলেন হাসপাতালে।এবার তাদের ঠিকানা হয়েছিল খোদ " ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ,ঢাকায়"।
প্রথমবার  দীর্ঘ ৮-৯ বছর তাবৎ পৃথিবী থেকে বিযুক্ত থেকে নিজ গৃহে স্বেচ্ছায় গৃহবন্দী  ও গুরুতর মানসিক ব্যাধীতে আক্রান্ত এই দুই বোনকে ৮-১০

ঘন্টার রুদ্ধশ্বাস নাটকীয় অভিযান শেষে উদ্ধার করার পর দেশ বরন্য কথা সাহিত্যিক, প্রখ্যাত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বন্ধুবর,সতীর্থ mohit kamal এর সুচিকিৎসায় তারা  আরোগ্য লাভ করেন।তখন  থেকেই এই দুই বোনের কাহিনী সারা দেশে ছড়িয়ে পরে।
গোড়ার কথা: রিতা,বয়স ৫৩, এমবিবিএস ১৯৮৮( সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ)।৯ম বিসিএস উত্তীর্ণ। সরকারি চাকরী ১৯৯৭-ঢাকার বাইরে।পূর্বের পিজি হাসপাতালে এফসিপিএস( হেমাটলজী) কোর্সে ঢুকেন।গ্রামে পোস্টিং, তাই সেখানে যাওয়া হয় না।ফলে বেতন বন্ধ। আবার এদিকে এফসিপিএস পাশ করাও  কঠিন।তাই বিরক্ত ও হতাশ।
ছোট বোন মিতা বুয়েট থেকে কেমিকেল ইন্জিনিয়ারিং পাশ করে সেখানেই কেমিকেল সেকশনে চাকরী হয়।মূল রোগ শুরু হয় ছোট বোন মিতার।তার সন্দেহ হয় অনেকে তার ও তার পরিবারের ক্ষতি করতে চায়।ডিপার্টমেন্ট এর সুপারভাইজার তাকে কেমিকেল ফিউম ছুড়ে মেরে ফেলার চেস্টা করছে।নানাবিধ ষড়যন্ত্রের কারনে দেড় বছর পর সে চাকরী ছেড়ে দেয়। বাবা সার্ভে অব বাংলাদেশের ম্যানেজার ছিলেন
১৯৮২ সনে মারা যান।বড় বোন কামরুন্নাহার হেনার ৯৪ সনে বিয়ে হয়ে যায়।
তিনি বলেন ৬ মাসের মধ্যে দেখি তারা বাসায় কাউকে ঢুকতে দিচ্ছে না।তাদের বিশ্বাস অন্যরা তাদেরকে মেরে ফেলবে,খেয়ে ফেলবে।তিনি বলেন বার বার প্রত্যাখ্যাত হয়ে এক সময় তাদের থেকে দূরে চলে যাই।চেষ্টা করেছি যোগাযোগ করার জন্য। এভাবে ৯ বছর চলে যায়।যখন অপারেশনের জন্য আমার ব্লাড লাগবে তখন বোনদের ডাকি।তারা আমাকে বোন হিসেবে অস্বীকার করে।আমার বাচ্চা পানি খেতে চাইলে বলে পানি নেই।
বাবার পেনশনের টাকা ও দোকান ভাড়া দিয়ে তাদের সংসার চলতো।রিতা বিয়ে করতে চায় কিন্তু মা বড় বোনকে  বলে একে বিয়ে দিস না,বিয়ে দিলে বাড়ীতে থাকতে পারবি না।রিতা বলে আমি কোরআন মুখস্হ করতাম।
৯৪ সনের দিকে স্বপ্নে দেখি কে একজন বলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করিও।পরদিন এ কথা ছোট বোন মিতাকে বলি(যিনি ইতিমধ্যে  মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে চাকরী ছেড়ে দিয়েছে)। মিতা এ সংবাদে আধ্যাত্বিতার আভাষ খুজে পান।সে বলে আজ রাতে মা সহ আমরা ৩ জন উপাসনা করে কাটাবো,কেননা এ খবর আল্লাহতালার কাছ থেকে এসেছে।সারা রাত তারা প্রার্থনা করে কাটায়( দোয়া ইউনুস পড়ে)। এরপর থেকে নিয়মিত তারা প্রার্থনা করতো।দিন রাত ২৪ ঘন্টা প্রার্থনায় মগ্ন থাকতো।রিতার ভাষায় এ সাধনায় মিতা অনেক গভীরে চলে যেতো।মিতা-ই হয় মূল নেতা।সে যা বলতো রিতা তাই মানতো।রিতা বোনের বিশ্বাসের অংশীদারত্ব পেয়ে যায়

অন্ধের মতন সে ছোট বোনকে পীর মানতো।উপর থেকে মিতার কাছে " গাইডেন্স" আসতো।রিতা মিতার সে গাইডেন্স অনুসরন করতো।এক সময় মিতার কাছে গাইডেন্স আছে হিন্দি গান গাওয়ার।এটাও নাকি প্রার্থনা ( মিতার নির্দেশে রিতা আমাদেরকে গান শোনায়-শুনো হে মুসলমান এ দুনিয়া ফানা হবে কিছু রবে না.....
পরে দুবোন মিলে একটি হিন্দি  গানও গায়।আমি হিন্দি বুঝি না
তবে সঙ্গে থাকা এক ছাত্রী বললো স্যার এটাতো প্রেমের গান)। তারা নিজেরাও জানে না এরকম চটুল গান কিভাবে ধর্মীয় সাধনা হয়।কিন্তু তারা বিশ্বাস করে এটি অতি উচ্চ স্তরের সাধনা।এর মাধ্যমেই তারা আধ্যাত্বিকতার উচ্চ স্তরে পৌছে যাবে। এক সময় মিতার কাছে গাইডেন্স আসে যে তাকে "অনারেবল রিলিজিয়াস লিডার অব দ্য ওয়ার্ল্ড আর. এইচ( রহমাতুল্লাহ আলায়েস সালাম " ঘোষনা করা হয়।পরে আরো উচ্চতর পদ " অনারেবল লিডার অব মিলিনিয়াম " দেওয়া হয়।এ সবই রিতা বিনা বাক্যে মেনে নেয় ও সেই এই গ্রেট রিলিজিয়াস লিডারের এক মা্ত্র ফলোয়ার।।তারা মনে করে তাদের বড় বোন ও দুলাভাই হচ্ছে গ্যাং লিডার যারা তাদের ক্ষতি করতে চায়।তাদের প্রশ্ন করতে গেলে রিতা বলে আমি ডাক্তার সিজোফ্রেনিয়া নিয়ে অনেক পড়াশোনা করেছি।আমাদের কোন হ্যালুসিনেশন,ডেলুশন নেই।যা কিছু বলে রিতাই বলে।মিতা আধ্যাত্বিক নেতার ভূমিকা নিয়ে কালে ভদ্রে দুএকটা নির্দেশ রিতাকে দিতো( মূলত মিতা মূল রোগিনী বলে ও তার চিন্তা বিভ্রান্তি বেশী বলে সঠিকভাবে সে কারো সঙ্গে কমিউনিকেশন করতে পারতো না।তার হয়ে রিতা গুছিয়ে সব কথার উত্তর দিতো।রিতার মধ্যে শুধু মিতার ভ্রান্ত বিশ্বাস গুলো ধারন করা ছাড়া অন্য কোন অস্বাভাবিকতার লক্ষণ নেই)।
মিতা বলে তার ছবি নাকি  প্রতিদিন পত্রিকার পাতায় আসে।বলে পাতা খুললেই দেখবেন আমার ছবি দিয়ে ভরা।এক ছাত্র পাশের বেড থেকে একটি পত্রিকা এনে কোথায় তার ছবি দেখাতে বলে।সে পত্রিকার সব ছবিই তার ছবি দাবী করে।কে ছবি দেয় জিজ্ঞেস করলে বলে" ডেভিল অব গড" এসব দেয়।আল্লাহ নাকি বলেন রিতার দায়িত্বহীনতার কারনে তাদের সাধনা পুরো সিদ্ধ হচ্ছে না।সে বলে রিতার অপদার্থ  স্বভাবের কারনে অনেক কিছু ভন্ডুল হয়ে যায়।সে রিতার ভুল সংশোধন করে দেয়।তখন রিতা তওবা করে।রিতা বলে সাধনা সিদ্ধির পর মিরপুরের রাস্তায় প্রচার করতে যাই।ছেলেরা বলে টিউশনি করেন না কেন?  এরপর এলিনা ধরে নিয়ে আসে।

তাদের বর্তমান দায়িত্ব হচ্ছে একটি গানের দল বানানো।পরে সারা পৃথিবীতে সে দল ছড়িয়ে পড়বে এবং এভাবেই নাকি তারা ধর্ম প্রচার করবে।রিতা বলে পুরো বাংলাদেশ মিতার তালুক।
দেশের বাইরেও মিতার প্রচুর ধন সম্পদ রয়েছে। এসব মিতার দাবী,রিতা তা বিশ্বাস করে মাত্র।মিতা কার কি কাজ তা লিখে দেবে তখন সবাই তার নির্দেশে সে অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে।জিজ্ঞেস করি নামাজ রোজা করেন? মিতার উত্তর বন্দিনীদের জন্য নামাজ রোজা জায়েজ না( তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে জোর করে আটকে রাখছে তাই তারা বন্দিনী) ।

তারা কিভাবে ধরা পরলো জানতে চাইলে বলে এই গান গাওয়ার সাধনায় ঘাটতি ছিল তাই ধরা পড়েছে।তারা বলে ৯ বছর ঘরের বাইরে যেতাম না।রিতা চুপিসারে মাঝে মধ্যে দোকান থেকে যা পারতো নিয়ে আসতো। ঐ দিয়েই কয়েকদিন চালিয়ে  নিতো।ঘরের বৈদ্যুতিক বাতি ও রাখতো না।বড় বোন হেনা বলে এক সময় আমি একজন সাইকিয়াট্রস্ট এর কাছে বোনদের কথা জানাই কিন্ত তাদের জোরকরে কেমনে বাইরে আনবো? এরমধ্যে তাদের মা বিনা চিকিৎসায় ঘরে মারা যায়।দুবোন মায়ের লাশ ঘরেই রেখে দেয়,কাউকে জানায় না।মধ্যরাতে  হ্যারিকেন নিয়ে তারা ঘরের বাইরে যায়। তখন অন্যরা দেখে ফেলে।
হেনা বলেন ইনকিলাব পত্রিকায় পড়ি যে মা মারা গেছে,লাশ ঘরে রেখে ঘরেই কবর দিতে চেয়েছিল।এডভোকেট এলিনা পুলিশ নিয়ে তাদের উদ্ধার করে।সেখানে বাড়ির ঠিকানাও ছিল। পেপার পড়ে সেখানে যাই।দেখি অনেক লোকজন( লাশ ঘরে অনেকদিন ছিল)। লাশ পুলিশ বাসার পাশে কবর দেয়।ওরা বলে আমার বোন আমাদের সম্পদ চায়।পুলিশ কিছু করে না।
ওদের উদ্ধার করে সেন্ট্রাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।কঙ্কালসার অবস্হা,প্রায় মরনদশা।একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এর পাশাপাশি ডা. মোহিত কামালের অধীন মানসিক চিকিৎসা চলে।তারা সুস্হ হয়ে উঠে।প্রচুর লেখালেখির কারনে সবার নজরে থাকে তাদের দিকে।
রিতাকে বিএসএমএম ইউতে একটি চাকরি ও দেওয়া হয়,পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে।কিন্তু সে নিয়মিত অফিস করে না,ঔষধ ও খায় না।তাই চাকরি চলে যায়।তারা আবার ২০০৭ সনে বিএসএমএমইউতে ৪ মাস চিকিৎসাধীন থাকেন।বড় বোন জাফরাবাদে ভাড়া বাসায় এনে তাদের রাখে।কিন্তু তারা ঔষধ খায় না।নিজেরা একত্রে গান গায়( উপাসনা করে)। কারো সঙ্গে মিশে না।তাদেরকে খাবার দেওয়া হয় তারা তা খেয়ে নিয়ে নিজেদের মতন চলতে থাকে।ফলে ২০১১ সনে তাদের আবার ভর্তি করা হয় বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।এরপর হেনা নিজ বাসায় নিয়ে রাখে।কিন্তু তারা তাদের মতনই থাকে।২০১৩ এ তারা বাসা থেকে গোপনে পালিয়ে বাসে করে বগুড়ায় চলে যায়।
একটি হোটেলে কয়েক মাস থাকে।টাকা শেষ হলে হোটেলের লোকেরা তাদেরকে একটি সমাজ সেবা কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেন।সেখান থেকে এডভোকেট এলিনা  ও বড় বোন গিয়ে তাদের ঢাকায় নিয়ে আসে।একইরকম অবস্হায় বোনের বাসায় তারা থাকে।
কিন্তু গত কিছুদিন যাবৎ তারা খাওয়া দাওয়া একদম বন্ধ করে দেয়।কোনভাবেই তাদের খাওয়াতে না পেরে বড় বোন এবার তাদেরকে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য  ইনস্টিটিউটে ভর্তি করান
যা শিক্ষনীয়:
১। মানসিক রোগ সম্বন্ধে ন্যুনতম ধারনা থাকলে তাদের পরিবারের লোকদের,আত্মীয়দের সহজেই বোঝার কথা ছিল যে মিতার এই অহেতুক সন্দেহ প্রবনতা বড় ধরনের মানসিক রোগের লক্ষন।তখন তাকে সুচিকিৎসা দিলে তার চাকরি ছাড়তে হতো না,রিতাও তার প্রভাবে আক্রান্ত হতো না।এক কথায় পরবর্তী এতো অঘটনের কোন কিছু ঘটতো না।
২। মায়ের লাশ নিয়ে ঘরে বসে আছে জানার পরও পুলিশ জানতে চেষ্টা করেনি তারা মানসিক রোগী কিনা।অন্তত তখনই তাদেরকে চিকিৎসার আওতায় আমাী উচিৎ ছিল।
৩। যে কয়বার হাসপাতালে ভর্তি করে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়,শুধু সে সময়টুকুতে তারা পূর্ন চিকিৎসার আওতাধীন  ছিল ও ভালো হয়ে গিয়েছিল।কিন্তু বাকী সময়গুলোতে তারা নিজের মতন চলতো,ঔষধ খেতো না।এক কথায় চিকিৎসা বিহীন অবস্হায় থাকতো
৪। এর জন্য বড় বোনকে দায়ী করা অন্যায় হবে।কেননা এ রকম বড় ধরনের মানসিক রোগীরা নিজদেরকে রোগী মনে করে না।তাই তারা চিকিৎসা গ্রহনে রাজী থাকে না
৫। মূল রোগিনী হচ্ছে মিতা।রিতা মিতার উপর নির্ভরশীল হয়ে তার লালিত ভ্রান্ত বিশ্বাসগুলোর অংশীদারিত্ব পেয়ে যায় ( শেয়ার হয়ে যায়)। একে বলা হয় " শেয়ার্ড ডেলুশন"। তুলনামূলক ভাবে এটি নিরাময় করা সহজ,যদি মূল রোগিনী থেকে তাকে " বিচ্ছিন্ন " রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়।কিন্তু কোন বারেই তা হয়নি।বরং তারা সব সময় শুধু নিজেদের মধ্যে থাকতো।ক্ষনকালের জন্য ও দূরে থাকতো না।
৬। যেহেতু এ ধরনের ক্রনিক রোগীরা ঔষধ খেতে চায় না,তাই বিদেশে কমিউনিটি সাইকিয়াট্রিক টিম নিজ দায়িত্বে নির্দিষ্ট সময় পর পর ঔষধ, ইনজেলশমএসহ নিয়মিত বাসায় গিয়ে চিকিৎসা দিয়ে আসা হয় ও ফলো আপে রাখা হয়।তাছাড়া যাদের দীর্ঘ মেয়াদী চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের প্রয়োজন তাদের জন্য সরকারী ভাবে হোস্টেল,রি- হ্যাব সেন্টার রয়েছে।
৭। আমাদের দেশে এখনো এই সার্ভিসগুলো চালু হয়নি।কিন্তু পাবনা মেন্টাল হাসপাতাে যে বিশাল অবকাঠামো রয়েছে, অনায়সে সেখানে বড় মাপের দুটি রি- হ্যাব সেন্টার খোলা যায়।ঢাকার জাতীয় মানসিক স্বাস্হ্য ইনস্টিটিউটেও এখনি বাড়তি কোন জনবল ও পয়সা খরচ ছাড়া কমিউনিটি সাইকিয়াট্রি টিম কাজ করতে পারে এবং এখানেও কয়েকটি বড় রুম নিয়ে রিহ্যাব সেন্টার খোলা সম্ভব








Friday, June 16, 2017

সাইকোলজিক্যাল টিপস-৩১: আপনি কতটুকু আত্ম মর্যাদাশীল?

পর্ব-৩(শেষ পর্ব)
অবশেষে জানা গেলো কেন উনার নাম- চিকুনগুনিয়া: শরীর  চিপতে চিপতে ( ব্যথা দিতে দিতে)  শরীরকে নিদারুন চিকন করে ফেলে( খুবই কাহিল,দূর্বল করে ফেলে) বলে এরকম নামকরন।স্বার্থক নাম তোমার বাবা।
দীর্ঘ ১৬-১৭ দিন এর সঙ্গে  যুদ্ধে জেতার পর আবার শুরু করলাম নিয়মিত বিভাগ
( অবিশ্যি পূর্বের ২ পর্ব পড়ে নেবেন)

৯।আপনি ঘৃনা,ক্ষোভ পুষে রাখেন? নিজের ইগোর কারনে অন্যকে ক্ষমা করা কঠিন মনে হয়?
তার মানে আপনার কাছে " সম্পর্কের" চেয়ে " ইগো" বড়।এই বড় ইগো আপনার সম্পর্কগুলো নষ্ট করে দিচ্ছে তথাপি " গো" ধরেছেন ভাঙ্গবেন তবু মচকাবেন না( এই অসুস্হতার সময় ১ বছর পূর্বের লেখা টিপস-২১ ফেইসবুক পুন স্মরন করিয়ে দেয়। লক্ষ্য করে দেখবেন দুএকজন সেখানে মন্তব্য করেছে সবাইকে, সব কিছুকে ক্ষমা করা যায় না।তাদের এই " গো" ধরার মূল কারন ইগো।ক্ষমা না করে ঐ বিষয় নিয়ে সারাজীবন নিজকে যন্ত্রনার মধ্যে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ? এতে ঐ লোকের কিছু যায় আসে কি?ক্ষমা করতে হবে নিজের মনের শান্তি আনার জন্য, ঐ লোকের প্রতি উদারতা দেখানোর জন্য নয়)
মনে রাখবেন উচ্চতর আত্ম মর্যাদাসম্পন্ন লোকেরা নিজকে " সঠিক" প্রমান করার চেয়ে " সম্পর্ককে" বেশী গুরুত্ব দেয়
১০। অন্য দিকে আপনি নিজকেও ক্ষমা করতে পারেন না?
আপনি নিজেই নিজের বড় সমালোচক? আপনি তাহলে নিজের ভুল থেকে শেখার চেয়ে "ভুলের ভারে" অবনত হয়ে থাকেন।নিজের প্রতি সদয় হোন,নিজকে ভালোবাসুন।ভুল,অন্যায় অন্যরা করলে যেমন ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন,নিজের বেলায় সেটি করা আরো গুরুত্বপূর্ণ। দৃড় আত্ম মর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তিরা নিজকে " আসামী" করে রাখে না,নিজকে খারাপ, মন্দ ভেবে হীনমন্যতায় ভুগে না।তারা নিজকে ভালোবাসে,শ্রদ্ধা করে তাই নিজকে ক্ষমা করে দেয় অনায়াসে
১১। আবার কোন ভুল, অন্যায় করলে তার জন্য " ক্ষমা" চাইতে ইগোতে বাধে? উচ্চ আত্ম মর্যাদাবোধ থাকলে  ভুল স্বীকার ও তার জন্য  ক্ষমা চাইতে কুন্ঠা বোধ থাকার কথা নয়।
এতে ছোট হয়ে যাবো, মাথা নীচু হয়ে যাবে এরকম ভাবনাই বরং হীনমন্যতার লক্ষণ। ভুলের জন্য  যেমন নিজকে অপরাধী করে রাখবেন না।তেমনি এর জন্য ক্ষমা চেয়ে নিজকে "ভারমুক্ত" রাখার ক্ষেত্রে কুন্ঠা বোধ করবেন না।

১২। প্রায়ই অন্যদের সমালোচনা,বদনাম করে বেড়ান? সব বিষয়ে,সবাইকে সমালোচনা করা মানে আপনি কোন কিছুতে খুশী নন।অন্যদের কাছ থেকে অনুমোদন, প্রশংসা যেমন ভিক্ষা করে বেড়াবেন না,তেমনি অন্যদের সার্বক্ষণিক সমালোচনা করে যাবেনএটিও ঠিক নয়। দুটিই প্রমান করে আপনার আত্ম শ্রদ্ধার ঘাটতি আছে।

লাও জু( lao tzu)বলেছেন"যখন আপনি নিজের মতন থাকতে তৃপ্তি পাবেন ও অন্যের সঙ্গে তুলনা করবেন না বা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না- তখন দেখবেন সবাই আপনাকে সম্মান করছে।"
আজ থেকে এরকমটি চেষ্টা করুন এবং দেখুন কেমন অনুভব  করছেন।
আত্ম মর্যাদাবোধ সবল থাকলে আমরা অন্যদের শ্রদ্ধা  এমনিতেই পাবো,যা পেতে আমরা তাদের তুষ্ট  করার নানান চেষ্টা করি।আবার আত্ম মর্যাদাবোধ উচু থাকলে আমরা নিজকে ভালোবাসতে শেখবো, এমনকি যদি তেমনটি অন্যদের কাছ থেকে নাও পেয়ে থাকি

Saturday, May 27, 2017

সাইকোলজিক্যাল টিপস-৩১: আপনি কতটুকু আত্ম মর্যাদাশীল

পর্ব-২:
( পর্ব-১ পুনরায় দেখে নিন)
৪।" টক্সিক" মানুষদের টিটকারি, অপমান,অবজ্ঞা, শ্লেষ মেনে নিয়ে জীবন যাপন করছেন? এই টক্সিক বা বিষাক্ত মানুষ গুলো থাকতে পারে আপনার কর্মস্হলে,সামাজিক জীবনে কিংবা পরিবারেও।এদেরকে সহ্য করে যাওয়া,এদেরকে " বাতিল" করে দিতে না পারা মানে আপনি ভীত, শঙ্কিত এই ভেবে যে এদের ঘাটলে,ক্ষেপালে আপনি একাকী হয়ে পড়বেন,আরো আক্রমন,প্রতিহিংসার সম্মুখীন হবেন।একটি স্বাধীন,মুক্ত,উন্নত মস্তক নিয়ে আত্ম মর্যাদাশীল, সম্মানিত জীবন বাদ দিয়ে ঐ দূর্বৃত্ত,বিষাক্ত কীটদের ছোবল খেয়েও তাদের সঙ্গে আপোষ করে,মাথা নত করে,হীন,মর্যাদাহীন জীবন যাপন বেছে নেওয়া মানে ন্যুনতম আত্ম মর্যাদা না থাকা।এখন সিদ্ধান্ত আপনার
৫। আপনি সব সময় প্রোডাক্টিভ কিছু করার তাড়নায় থাকেন? বিশ্রাম, বিনোদনে সময় ব্যয় করলে নিজকে অপরাধী মনে হয়, লজ্জা অনুভব করেন? নিজকে অকাজের মনে হয়? তার মানে বসকে তুষ্ট করতে,কলিগদের টেক্কা দিয়ে নিজে অনেক দায়িত্ববান, কাজের লোক প্রমান করার তাগিদ আপনার বেশী। অবশ্য নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবেন, কিন্তু প্রয়োজনীয় বিশ্ামর,বিনোদন বাদ রেখে নয়।( কোন প্রতিষ্ঠান ই আপনার একার উপর নির্ভরশীল নয়।নিজকে অপরিহার্য  প্রমান করে সাময়িক সুবিধা পাবেন কিন্তু হারাবেন নিজের মতন,মুক্ত,আত্ম মর্যাদাশীল জীবন। এটি অন্তর্গত মানসিক দারিদ্রতা মাত্র। কেউ আছেন পরিবারে অশান্তি তাই অফিসেই সারাক্ষণ থাকি,কলিগরা দায়িত্বহীন, অকাজের,আমি ছাড়া প্রতিষ্ঠান অচল ইত্যাদি কারনে দিনরাত কাজ পাগল হয়ে থাকেন।মনে রাখবেন প্রোডাক্টিভ মানুষের চেয়ে সমাজে সৃজনশীল মানুষ বেশী দরকার।
৬। অতীতে যা ঘটে গেছে তা সহজে ভুলতে পারেন না? অতীত আপনাকে বিষন্ন,হতাশ,হেয়,ছোট করে রাখে? পীড়ন,যন্ত্রনা,অপমান,ব্যর্থতা কোন কিছুই ভুলতে পারছেন না? তার মানে অন্যদের  ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কে কি বলেছে,করেছে সে ক্ষেদ,ক্ষোভ মন থেকে মুছতে পারছেন না এই জন্য যে আপনি তাদেরকে  বেশী গুরুত্ব দিচ্ছেন।আত্ম মর্যাদা সম্পন্ন মানুষ নিজের চেয়ে অন্যকে এতো প্রাধান্য দেয় না।তারা তাদেরকে এতো গুরুত্বপূর্ণ ভাবে না যে তাদের কথা,মন্তব্য, আচরন তাকে দিনের পর দিন কষ্ট দিয়ে যাবে
(৩য় পর্ব,- আগামীকাল)

Friday, May 26, 2017

ডাক্তার- রোগী সম্পর্ক : ডাক্তারের কৈফিয়ত

হডাক্তার- জনগন সম্পর্ক সব দেশে সব সময় একটি অতি সংবেদনশীল ও নাজুক সম্পর্ক।ডাক্তারদের উপর জনগনের নির্ভরতা এতো বেশী যে অনেক সময় বলা হয় ডক্টর ইজ নেক্সট টু গড।কিন্তু নির্ভরতা যেখানে বেশী আস্হার সঙ্কট ও সেখানে মাঝেমধ্যে তীব্র হতে পারে।সম্প্রতি সেন্ট্রাল হাসপাতালে ঢাবির এক ছাত্রী রক্ত ক্যানসারে মারা গেলে আবারো ডাক্তারদের উপর হামলা,ক্লিনিক  ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।প্রায়ই  চিকিৎসায় " গাফিলতি,অবহেলার" অভিযোগে এমনকি " ভুল চিকিৎসার" অভিযোগে ডাক্তারদের উপর হামলার ঘটনা ঘটছে।কেন এই ভুল বোঝা- বুঝি? এর নিরসন হবে কিভাবে? এসবই এখন জাতির সামনে প্রশ্ন।
আমি মোটা দাগে বিষয়টি আলোচনা করতে চাই। জামা ইন্টারন্যাশনাল মেডিসিন জার্নালে এক গবেষনায় দেখানো হয়েছে কি কি কারনে ডাক্তার- রোগীর মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়।গবেষনায় দেখা যায় দ্বন্দ্ব সৃষ্টির কারন:১। অনুচিত,অসহায় অবস্হায় রোগী রেখে দেওয়া(৩২%) ২। রোগী ও তার স্বজনদের মতামতকে কম মুল্য দেওয়া(২৯%) ৩। তথ্য সরবরাহ ভালোভাবে না করা(২৬%) ও ৪। রোগী ও তার স্বজনদের মনোগত অবস্হান ও প্রেক্ষিত  বুঝতে না পারা(১৩%)।  এক কথায় জনগনের কিছু " ধারনাগত"( পারসিভড) বিশ্বাস এর কারনে এই অসন্তুষ্টি  ও ক্ষোভের জন্ম হয়।আমি মনে করি একই কার্যকারন আমাদের দেশের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
প্রথমেই স্বীকার করে  নেওয়া ভালো যে অন্তত কিছু সংখ্যক ডাক্তারের আচরন,পেশাগত দক্ষতার ঘাটতি নিয়ে জনমনে যে প্রশ্ন তার প্রতিবিধানের দায়িত্ব বিএমডিসি সহ ডাক্তার সমাজের কর্নধারদেরকে নিতে হবে।কানাডিয়ান মেডিকেল প্রোটেকটিভ এসোসিয়েশন এক জরীপে দেখিয়েছেন রোগী ও স্বজনদের অন্তত ১৫% থাকেন " ডিফিকাল্ট " যাদের হ্যান্ডেল করা ডাক্তারদের জন্য সত্যি দুরুহ কাজ।তেমনি ১০-১৫% ডাক্তারদের কারনে পুরো ডাক্তার সমাজকে অপবাদ দেওয়া কতটুকু সুবিবেচনার কাজ তাও সবাইকে ভেবে দেখতে হবে।অনেকে এ দাবী মানতে চাইবেন না,কেননা তারা স্বাস্হ্য ব্যবস্হাপনার সকল ক্রটি,গাফিলতি,দূর্নীতিকে ঢালাও ভাবে ডাক্তার সমাজের উপর চাপিয়ে দেন।আসুন দেখি ডাক্তারদের বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ তার কতটুকু স্বাস্হ্য ব্যবস্হাপনার ক্রটি( যা মূলত স্বাস্হ্য প্রশাসনের অংশ) ও আমাদের জাতিগত বৈশিষ্ট্য  আর কতটুকু সংশ্লিষ্ট ডাক্তারদের।
১। হাসপাতালে রোগীর জটের কারনে ও স্বল্প সংখ্যক ডাক্তার থাকার কারনে দায়সারা গোছের রোগী দেখা,সব ঔষধ না পাওয়া,ঔষধ বাইরে চুরি হওয়া,বেড না পাওয়া,খাবারের মান ভালো না,বাথরুমসহ সব নোংরা,আয়া- সুইপার- দারোয়ান- ওয়ার্ড বয়দের দৌড়াত্ব,দূর্নীতি ও হয়রানি -ইত্যাদি। এসবের কোনটির দায়ভারই ডাক্তারদের নয়,এগুলো পুরোপুরি প্রশাসনের দায়িত্ব,যা বাইরে থেকে জনগন বুঝতে পারেন না।দেশের সকল সরকারী অফিসে ও এরকম হয়রানি,দূর্নীতি হয় তবে সেনসিটিভ বলে হাসপাতালের দিকে মানুষের কড়া নজর। আমরা ডাক্তাররাও চাই একটি জবাবদিহিমূলক,স্বচ্ছ  ও রোগী - বান্ধব পরিবেশ।সংবাদ মাধ্যম এসবের জন্য ডাক্তারদের দায়ী না করে স্বাস্হ্য প্রশাসনকে চাপ দিলে অবস্হার উন্নতি ঘটতে পারে।

২। ল্যাবরেটরি পরীক্ষা নিরীক্ষায় চার্জ বেশী, ভুল রিপোর্ট হয়,একেক জায়গায় একেক রিপোর্ট - ইত্যাদি। অনেকেই জানেন না বেশীরভাগ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক এর মালিক ডাক্তার নন,ব্যবসায়ী।উপরোক্ত অভিযোগ গুলো আমাদের ডাক্তারদের ও।এসবের প্রতিকার না হলে ভালো চিকিৎসা দেওয়াও কঠিন।এসব তদারকীর জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বিশেষ সেল আছে।জনগন ও সাংবাদিকরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রনালয়ের অব্যবস্হাপনাকে ও ডাক্তারদের গাফিলতি,অবহেলা মনে করেন।
৩। ডাক্তাররা কমিশন খায়- অর্থলোভী ডায়াগনস্টিক সেন্টারের  মালিকরা ব্যবসা জমানোর জন্য এই কমিশন প্রথা চালু করেছে।কিছু সংখ্যক লোভী ডাক্তার এতে অংশ নেয়।বর্তমানে এটি একটি প্রতিষ্ঠিত সিস্টেমে দাড়িয়ে গেছে।এখন যদি কোন ডাক্তার কমিশন নাও নেন, তাতে রোগীর কোন লাভ নেই,কেননা তারা রোগীর কাছ থেকে ঐ একই হারে চার্জ রাখে।ফাকতালে  ডায়াগনস্টিক সেন্টার এই টাকা হাতিয়ে নিয়ে আরো লাভবান হচ্ছেন।তাই  দেশের অন্যান্য দূর্নূতির সিন্ডিকেট যেভাবে ভাঙ্গতে হবেএই সিন্ডিকেটকে ও সেভাবে মোকাবিলা করতে হবে।এর জন্য গরিষ্ঠ সংখ্যক ডাক্তারকে বদনাম দেওয়া অন্যায্য কাজ।
৪। ডাক্তারদের প্রতি আস্হাহীনতার কারনে রোগীরা দলে দলে ইন্ডিয়াসহ বিদেশগামী হচ্ছে: প্রকৃত বাস্তবতা হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাস্হ্য ব্যবস্হার মান অনেক দিক দিয়ে ইন্ডিয়ার চেয়ে উন্নত।এটি ইন্ডিয়াসহ,বিশ্ব স্বাস্হ্য সংস্হা স্বীকার করে।সরকারও ঢাক- ঢোল পিটিয়ে এ শ্রেষ্ঠত্বের কথা প্রচার করে থাকে।যারা ইন্ডিয়াসহ বিদেশ যান তারা কি সেখানকার কোন সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান? নাকি কর্পোরেট বানিজ্য করা দামী প্রাইভেট হাসপাতালে যান? কদর তাহলে হবে না কেন? বিদেশী রোগী হলে একটু বাড়তি মনোযোগ, বাড়তি সমাদর কে না করবে? তারপরও যতজন ভালো হয়ে আসেন তাদের কথা আমরা বেশী শুনছি।কতজন যে ব্যর্থ হয়ে,ধোকা খেয়ে আসছেন তাদের কাহিনী মিডিয়াতে প্রচারিত হয় না।এই সেদিন মুক্তিযোদ্ধা, আবৃতিকার আরিফ আমেরিকায় চিকিৎসা করাতে গিয়ে অপারেশন  টেবিল থেকেই জীবিত ফিরে আসতে পারেনি।হুমায়ুন আহমেদের কথাও আমরা জানি।যদি বাংলাদেশে এ ঘটনাগুলো ঘটতো তাহলে ডাক্তারদের চামড়া তুলে নেওয়া হতো।তদুপরি হেলথ ট্যুরিজম এর মাধ্যমে এ দেশের ডাক্তারদের ও চিকিৎসা ব্যবস্হা সমন্ধে নেতিবাচক প্রচারনা চালিয়ে রোগী  বিদেশে ভাগিয়ে নেওয়ার একটি চক্রও গড়ে উঠেছে।দেশের স্বার্থে আমাদেরকে এদিকেও নজর দিতে হবে।
৫। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ " ভুল চিকিৎসায়" রোগীর মৃত্যু : চিকিৎসায় ভুল হয়েছে কিনা এটি একমাত্র আরো উচ্চতর,অভিজ্ঞ  সিনিয়র ডাক্তার ছাড়া অন্য কোন কারো পক্ষে বকা সম্ভব না।ডাক্তারি একটি জটিল বিজ্ঞান। তাই রোগীর স্বজনদের মনে হলো বা কোন সাংবাদিকের মনে হলো "ভুল চিকিৎসা " আর সেটি ফলাও করে সংবাদ মাধ্যমে প্রচার করা মানে প্রমান ছাড়া ডাক্তারকে খুনী বলা। অন্য আর যে কোন অভিযোগ কমনসেন্স দিয়ে জরা গেলেও ভুল চিকিৎসা বলার যোগ্যতা কোন সাংবাদিক রাখে না।এ ব্যাপারে সংবাদ মাধ্যম সর্বোচ্চ সাবধানতা অবলম্বন করবেন এটি বিবেকবান সবার প্রত্যাশা।তবে তেমন আশঙ্কা যদি সত্যি মনে জাগে সে ক্ষেত্রে বিএমডিসির কাছে অভিযোগ করতে হবে এবং বিএমডিসিকেও লোক দেখানো নয়,দ্রত ন্যায় বিচার নিশ্চিত করে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে আস্হায় নিতে হবে।
তাই সার্বিক বিবেচনায় আমাদের দেশের ডাক্তারদের নামে যেসব অভিযোগ, নালিশ করা হয় তার অন্তত ৮০-৮৫% এর দায়ভার তাদের উপর বর্তায় না।কিছু ডাক্তারের অভব্য আচরন,উন্নাসিকতা, দায়িত্বে অবহেলা শুধু সাধারন মানুষকে ক্ষুব্ধ করে না,অনেক ডাক্তার ও তাদের আত্মীয়দের জন্য ও সেগুলো অপমানজনক,কষ্টদায়ক।শুধু পাঠ্য পুস্তকে " বিহেভিয়ারাল সায়েন্স " বা " নৈতিক" শিক্ষা ঢুকিয়ে দিয়ে কাউকে সদাচারন শেখানো যায় বা নৈতিকতা শেখানে যায় বলে আমি বিশ্বাস করি না।মূল্যবোধ, সদাচারন এগুলো পরিবার, সমাজ থেকেই শিখে আসতে হবে।তবে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা ও থাকতে হবে।প্রতিদান ওয়ার্ড রাউন্ডে,সাপ্তাহিক রোগী ব্যবস্হাপনা মিটিং এ সিনিয়র ডাক্তার/ প্রফেসররা এ সব ব্যাপারে তদারকি ও নজরদারি করতে পারেন,রোগী ও তাদের স্বজনদের কাউন্সিলিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে পারেন। আমরা শুধু " রোগ" চিকিৎসা করিনা,পুরো মানুষটিকে ও তার প্রতিবেশকে বিবেচনায় নিতে হয়( এ সপ্তাহেই ওয়ার্ড রাউন্ডের সময় রোগীর স্ত্রী তার স্বামী তাকে যে নোংরা,কদর্য ভাবে সন্দেহ করে তার বর্ননা দিচ্ছিল। রোগীর চিকিৎসা দিয়ে আমি শিক্ষার্থীদের বললাম কিন্তু রোগীর স্ত্রীর ব্যাপারেও তোমাদের কিছু করনীয় আছে কিনা- যদিও সে তোমাদের রোগী নয়)।
সর্বোপরি রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ বিএমডিসি দ্রত নিরপেক্ষ তদন্ত করে,ন্যায় বিচার নিশ্চিত করে তা সর্ব সাধারনকে জানিয়ে দিতে হবে। যদি জনগন দেখতে পায় প্রতিকার পাওয়ার সঠিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাহলে হয়তো আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রবনতা কমে আসবে।আর ক্রিটিক্যাল সিচুয়েশন হ্যান্ডেল করার জন্য ডাক্তারদের "দ্বন্দ্ব নিরসন"( কনফ্লিক্ট রিজুলেশন) এর মনো- সামাজিক কৌশল বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া  যেতে পারে।
সর্বশেষে বলবো ডাক্তাররা দেবতাও না আবার দানব ও না।তারা আপনার আমার পরিবারেরই কেউ।সমাজের সব জায়গা কলুষিত থাকবে আর শুধু ডাক্তাররা ফেরেস্তা হয়ে থাকবেন এরকম প্রত্যাশা বাস্তব সম্মত নয়।তথাপি ডাক্তারদের প্রতি সাধারন মানুষের যে ভক্তি,সম্মান ( ব্যক্তিগত ভাবে আমি এই মানুষগুলোর ভক্তি দেখে নিজেই লজ্জা পাই- টাকা নিয়েও এতো সম্মান পাওয়ার কি উপযুক্ত আমি?) সেটির প্রতিদান আমাদেরকে দিতে হবে।কোন অজুহাতেই যে মহান দায়িত্ব আমরা স্বেচ্ছায় কাধে তুলে নিয়েছি তার ব্যত্যয় ঘটতে দিতে পারি না।আমরা রোগী ও স্রষ্টার কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
প্রফেসর ডা. তাজুল ইসলাম
সোশাল সাইকিয়াট্রিস্ট
অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান
কমিউনিটি এন্ড সোশাল সাইকিয়াট্রি বিভাগ
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য  ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল,ঢাকা
ইমেইল :drtazul84@gmail.com
phone :01715112900