Thursday, March 7, 2019

সাইকিয়াট্রিস্ট এর জার্নাল -৩৯ঃগুনী জনে কহে

নোবেল জয়ী সাহিত্যিক গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ এর কিছু উক্তি ঃ

১। যিনিই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন,ক্ষমতা পেলে তিনি নিজেও স্বৈরাচার হওয়ার ঝুঁকি বহন করেন

২। নারী জগৎ সংসার চালু রাখে,সবকিছু ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা করে। তখন পুরুষ ইতিহাসকে সামনে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টায় রত থাকে। শেষ বিচারে বলা শক্ত দুই জাতের কোনটি বেশী উন্মাদ

৩। (আমার)  বইয়ের এমন কাটতি কেন, সে তথ্য জানাটা খুবই বিপজ্জনক হয়ে দাড়াতে পারে বলে , সাফল্যের গোপন সূত্র জানতে চাই না।

৪। যদি ঈশ্বরে বিশ্বাস না করো তো, অন্তত কুসংস্কারে বিশ্বাসী হও

Monday, March 4, 2019

রোগ কাহিনী -৫২ঃঅন্ধ দুচোখ থেকে হঠাৎ আলোর ঝিলিক বের হচ্ছে ও সব সময় সব জায়গায় তিনি গাছপালা, জীবজন্তু, রঙ দেখতে পাচ্ছেন

সংক্ষিপ্ত রোগ কাহিনী ঃ
মি. সাইফুল (ছদ্মনাম), বয়স ৫১। তিনি অনেক দিন যাবত ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন।

কিছু দিন আগে তিনি বাম চোখে ঝাপসা দেখতে শুরু করেন। তিনি চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখান

।ডাক্তার বলেন ব্রেইন স্ট্রোকের কারনে ওনার চোখে সমস্যা দেখা দিয়েছে।
কিন্তু দিন দিন ওনার দৃষ্টি শক্তি কমতে থাকে।

ক্রমশ তিনি দুচোখেই অস্পষ্ট দেখতে শুরু করেন।

ভালো চিকিৎসার জন্য তিনি ভারতে যান।তারা বলে তার চোখ ভালো হওয়ার সম্ভাবনা নাই।

তারা চোখ পরীক্ষা করে বলেন, যদি চোখ থেকে একটি আলো বের হতো তিনি দেখতে পেতেন। কিন্তু তেমন আলো দেখা যায়নি।

এরপর তারা দেশে ফিরে আসেন।বর্তমানে তিনি দুচোখেই দেখতে পারেন না

সকল ডাক্তারী চিকিৎসায় ব্যর্থ হয়ে তারা -সেরাজিম নামে একটি কোরিয়ান প্রতিষ্ঠানে যান,সারা দেশে যাদের অনেক শাখা রয়েছে।

সেখানে একটি ছোট মেশিনে ছোট ছোট গোল গোল পাথর রয়েছে। ওখান থেকে লাল,নীল, হলুদ ইত্যাদি কালার বের হয়।

মেশিনটি ওনার কপালে ও পিঠে ম্যাসেজ করা হতো এবং এতে তাপ লাগতো। এটি নাকি প্রতিদিন দিতে হয় যতদিন না ফল পাওয়া যায়।

ঐ মেশিন দিয়ে নাকি প্রায় সব রোগই ভালো হয়।

কিন্তু তিনি তেমন ফল পাননি।

ঐ কোম্পানির লাভ হচ্ছে একেকটি মেশিন তারা ১-২ লাখ টাকায় বিক্রি করেন।

কিন্তু হঠাৎ এক রাতে তিনি টের পান টিভিতে যেমন  জিরজির করে তেমন লাইট বের হতে দেখেন।পরে দেখেন দুই চোখ দিয়ে আলোর ঝিলিক বের হচ্ছে।

তিনি তখন মনে করলেন ভারতের ডাক্তাররা যে বলেছিলেন চোখ থেকে আলো বের হলে তিনি চোখে দেখতে পারবেন এটি বোধ হয় সে রকম কিছু।  তাই তিনি জোর দিলেন আরো বেশি করে ঐ মেশিনের চিকিৎসা নিতে। তার আশা তাহলে হয়তো তিনি আবার দেখতে পারবেন।

কিন্তু দিন দিন তার অবস্থা আরো খারাপ হতে লাগলো।

তিনি সব সময়, এমনকি চোখ বন্ধ করলেও গাছপালা (ছোট ছোট গাছ,খেজুর গাছ,মরিচ গাছ ইত্যাদি) ;
জীবজন্তু (ছাগল, ভেড়া ইত্যাদি) ;
ঘর-বাড়ি, হাঁড়িপাতিল, চাটাইয়ের বেড়া,ছোট ছোট বাচ্চা, আগুন-ইত্যাদি দেখতে থাকেন।

তার চোখে মনে হয় ওনার বাসার ডাইনিং হল ১বিঘা,২ বিঘা জায়গা জুড়ে বিরাট হল।দেওয়ালে তিনি ছোপ ছোপ রঙ দেখেন।

এগুলো দেখতে দেখতে তিনি ক্লান্ত ও হতাশ।

তিনি বলেন এগুলো দেখা বন্ধ না হলে আমাকে আত্মহত্যা করতে হবে।
এরচেয়ে কিছু না দেখা ভালো ছিল।

বাংলাদেশের এক চক্ষু বিশেষজ্ঞ তাকে আমার কাছে রেফার করেন এ সমস্যার চিকিৎসা করার জন্য।
এই কেইস হিস্ট্রি থেকে কি শিখলাম ঃ

১। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ সঠিক ভাবে নিয়ন্ত্রণ না করলে হার্ট এটাক,ব্রেইন স্ট্রোক,কিডনি ফেইলিউর,অন্ধ হয়ে যাওয়ার মতন মারাত্মক পরিনতি হতে পারে।

২।যে চিকিৎসা সব রোগের উপশম করে মনে রাখবেন সে চিকিৎসা প্রকৃত কোন চিকিৎসাই নয়(যেমন সেরাজিম চিকিৎসা) ।

৩।মানুষ তীব্র হতাশায় ভুগলে অলৌকিক কিছুর প্রত্যাশা করে। হঠাৎ আলোর ঝিলিক কি ওনার প্রচন্ড ইচ্ছা শক্তির ফলাফল?

৪। মূলত আমাদের কোন বিশেষ অঙ্গ বিনষ্ট হয়ে গেলে  ব্রেইন এর কার্যকারিতা অন্য ভাবে বাড়ানোর চেষ্টা করে। তবে সে সুযোগ না থাকলে?

৫। সাইকোটিক জাতীয় মানসিক /ব্রেইনের রোগে মানুষ অস্বাভাবিক কিছু প্রত্যক্ষন করতে পারে।

হ্যালুশিনেসন তেমন কিছু। কমন হ্যালুশিনেসন হচ্ছে -অডিটরি বা শ্রবণেন্দ্রিয়। অর্থাৎ কানে গায়েবি কথা শোনা।
তবে কারো কারো দর্শনেন্দ্রিয় এর হ্যালুশিনেসন ও হতে পারে। যা অন্যরা দেখে না,তারা তেমন কিছু দেখে থাকেন

৬। এমনকি অন্ধ ব্যক্তির ও হ্যালুশিনেসন হতে পারে

Friday, March 1, 2019

সাইকিয়াট্রিস্ট এর জার্নাল -৩৮ঃজগত কি কেবলই মায়া (ইলুশন?)

মহা বিশ্ব ব্যাখ্যায়  দুটি কার্যকর তত্ব রয়েছে -আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ব ও কোয়ান্টাম তত্ব।

প্রথমটি প্রযোজ্য বৃহত জগতে, দ্বিতীয়টি খাটে ক্ষুদ্রতর জগতে। এই দুই তত্বের সম্মিলন ঘটাতে পারলে  মহাবিশ্বের তাবুৎ কিছু ব্যাখ্যা করা যেতো। কিন্তু শত চেষ্টা সত্যেও সে সমাধান এখনো পাওয়া যায়নি।

কোয়ান্টাম জগৎ বড় বিস্ময়কর। যতসব অদ্ভুত সব কান্ড সেখানে ঘটতে দেখা যায়।

শুধু তাই নয় অবিশ্বাস্য ও পরস্পর বিরোধী অনেক উদ্ভট বিষয় ঘটতে দেখা যায়।
যেমন ঃ
১। এতে বলা হয় কনা শুধু কনা নয়,এগুলো একই সঙ্গে তরঙ্গ ও।

২। শুন্য স্হান একেবারে শুন্য নয়,সেখানে লুকিয়ে আছে  বল ক্ষেত্র।

৩। প্রতিটি বলের জন্য ( মহাবিশ্বে ৪টি মৌলিক বল রয়েছে) রয়েছে আলাদা আলাদা ক্ষেত্র। তেমনি প্রতিটি কনার(কোয়ার্ক, ইলেকট্রন)  জন্যও রয়েছে  আলাদা আলাদা ক্ষেত্র

৪। এই কোয়ান্টাম ক্ষেত্র গুলো আবার স্হির নয়,এগুলো কম্পনশীল।

৫। ক্ষেত্র গুলোর বিভিন্ন মাত্রার কম্পন জন্ম দেয় একেকটি কনার

৬। প্রতিটি ক্ষেত্রের বিস্তার গোটা মহাবিশ্বের স্থান-কাল জুড়ে

৭। যেমন পুরো  মহাবিশ্ব জুড়েই রয়েছে অদৃশ্য ইলেকট্রন ক্ষেত্র।এই ক্ষেত্রের বিশেষ কম্পন হলো একেকটি ইলেকট্রন। তেমনি বিদ্যুৎ চুম্বকীয় ক্ষেত্রের বিশেষ কম্পন তৈরি করে ফোটন(আলোর কনা)।

৮। স্হান কালের প্রতিটি বিন্দুতে রয়েছে  ক্ষেত্র গুলোর নির্দিষ্ট মান।এই মান ঠিক করে দেয়,ঐ ক্ষেত্র থেকে জন্ম নেওয়া কনাদের ধর্ম কি হবে

৯। কোয়ান্টাম তত্ব দাড়িয়ে আছে "অনিশ্চয়তা তত্ব" (থিওরী অব আনসারটেন্টি) এর উপর। এই অনিশ্চয়তা তত্ত্ব বলে

১০। কনা একই সঙ্গে কনা ও তরঙ্গ হলেও আপনি চাইলে ও একই সঙ্গে তা দেখতে পারবেন না

।যখন কনার তরঙ্গ ধর্ম মাপবেন তখন তরঙ্গই পাবেন, কনা হিসেবে পাবেন না।আবার কনা মাপতে গেলে কনা পাবেন, তরঙ্গের দেখা পাবেন না।

১১। আরো বিস্ময়কর  - এই তত্ত্ব বলে আপনি যখন কনাদের খোঁজ নিচ্ছেন না,তখন তাদের কোন অস্তিত্বই থাকে না।এগুলো "নাই " হয়ে যায়।

একথা শুনে আইনস্টাইন ক্ষেপে গিয়ে বলেন, তার মানে আমরা চাঁদের দিকে না তাকালে  চাঁদ কি আকাশে থাকে না?

আইনস্টাইন  নিজে ছিলেন কোয়ান্টাম তত্বের প্রথম দিকের একজন প্রবক্তা । অথচ এই তত্ত্বের উদ্ভট সব ভবিষ্যতবানী দেখে তিনি বলেন "ঈশ্বর পাশা খেলেন না"।

কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে যত অদ্ভুত ও অবিশ্বাস্য হোক, কোয়ান্টাম তত্বের বেশির ভাগই প্রমানিত সত্য। তবে সেগুলো শুধু খাটে কনা  জগতের ক্ষুদ্র সীমানায়,বৃহত ক্ষেত্রে নয়।

১২। কোয়ান্টাম ফিল্ড থিওরি বলে আমরা যখন কোয়ান্টাম ফিল্ড পর্যবেক্ষণ করি,তখনই কনাদের আবির্ভাব হয়।পর্যবেক্ষণ যখন করি না,তখন তখন তাদের কোন অস্তিত্ব থাকে না।

১৩। তার মানে কনারা হলো অলীক,যখন আমরা এদের দেখতে চাই, তখনই তারা দেখা দেয়,তানাহলে এদের কোন অস্তিত্বই নাই।

**কি আজব কথা -

এজন্যই কি অনেক তাত্ত্বিক বলেন - মহাবিশ্ব শুধু একটি মানসিক প্রপঞ্চ, বাস্তব নয়।

তাহলে কি মরমি বাদের কথাই সত্যি?

এ জগত শুধুই মায়া(ইলুশন)  -আর কিছু নয়

Thursday, February 28, 2019

সাইকিয়াট্রিস্ট এর জার্নাল -৩৭ঃসত্যেন বোসের পর আবারও আরেক বাংলাদেশীর বিজ্ঞানে নোবেল পাওয়ার সম্ভাবনা

এক সময়ে বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন -এই তিন মৌলিক কনা দিয়েই মহাবিশ্ব তৈরি। কিন্তু ১৯৬৭ সালে মার্কিন বিজ্ঞানী মারে-গেলম্যান এর পরীক্ষায় দেখা গেল ইলেকট্রন অভিবাজ্য কনা হলেও প্রোটন ও নিউট্রন তা নয়।তিনি বলেন, কোয়ার্ক নামক আরো ক্ষুদ্র কিছু কনা দিয়ে  প্রোটন ও নিউট্রন তৈরি।

কোয়ার্ক ৬ প্রকার।এই ৬ প্রকার বা ফ্লেভারের (আসলে কোন গন্ধ নয়) রয়েছে ৩টি করে কালার(এগুলো ও কোন  প্রকৃত রঙ নয়)।

সর্বশেষ কনা সংযোজিত হয়-ভাইল ফার্মিয়ন

।জার্মান বিজ্ঞানী হারম্যান ভাইল এরকম কনার ভবিষ্যত বানী করেন,যেটির কোন ভর থাকবে না,তবে চার্জ বহন করবে। সাধারণত ফার্মিয়ন কনাগুলো ভরযুক্ত হয়।তাই ভরবিহীন ভাইল হবে ব্যতিক্রম।

একসময় বিজ্ঞানীরা নিউট্রিনো কনাকে ভরহীন মনে করতেন। কিন্তু ১৯৯৮ সনে প্রমানিত হয় নিউট্রিনো ভরহীন কনা নয়।

তাহলে ভাইল কনা কোনটি?

২০১৩ সালে সার্নের বিজ্ঞানীরা বহুল কাঙ্ক্ষিত হিগস বোসন কনা(যাকে ঈশ্বর কনা ও বলা হয়) খুজে পান। এই বিজ্ঞানীরা সাজেশন দিলেন বিশেষ এক প্রক্রিয়ায়, সেই অজ্ঞাত ভাইল কনা পাওয়া যেতে পারে।

সেই পরামর্শ মোতাবেক বাংলাদেশী আমেরিকান বিজ্ঞানী,প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জাহিদ হাসান কাজ শুরু করেন।আনন্দের কথা ২০১৫ সালে জার্নাল -"সায়েন্সে " প্রবন্ধ লিখে তিনি  ভাইল কনা আবিস্কারের ঘোষণা দেন।

এর মাধ্যমে ৮৬ বছরের অপেক্ষার অবসান হলো।

সত্যেন বোসের পর  পদার্থ বিজ্ঞানে কোন বাঙ্গালীর  এটি হচ্ছে  যুগান্তকারী ও বিস্ময়কর আবিস্কার। এই অসামান্য আবিস্কারের জন্য জাহিদ হাসান নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হবেন বলে সকল মহল প্রত্যাশা করছেন।
তবে সত্যেন বোস কিন্তু বাংলাদেশী ছিলেন না।
সে হিসেবে বিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ী প্রথম বাংলাদেশী হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা জাহিদ হাসানের।

Monday, February 25, 2019

সাইকিয়াট্রিস্ট এর জার্নাল -৩৬ঃএকক প্রযোজিত,একক অভিনীত নাটকের হতাশাজনক যবনিকাপাত

বিমান হাইজ্যাক নাটক?
অপর্যাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে,একটি অকালিন,অসম্পূর্ণ মূল্যায়ন

সতর্কতা ঃএটি কেমন ধরনের হাইজ্যাক বা আদৌ হাইজ্যাক কিনা, কিভাবে নিরাপত্তা বুহ্য ছেদ করলো, কেন এতো কাচা,অগোছালো প্রচেষ্টা, কেন খেলনা পিস্তল বা প্লাস্টিকের পাইপ বহনকারী একক ব্যক্তিকে জীবিত আটক করা গেলো না-ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তর নিয়ে এই পর্যালোচনা নয়।

আমি শুধু পলাশের প্রোফাইলটি একটু তদন্ত করে দেখতে চাইবো।

এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ঃ

১। পলাশ নামের ছেলেটি মাদ্রাসা পড়া ছেড়ে দিয়ে মা-বাবার অজান্তে ঢাকা চলে যায়। তার মানে স্বাভাবিক পথ থেকে তার বিচ্যুতি ঘটেছে

২। ঢাকায় গিয়ে সে প্রকৃত পক্ষে কি করতো তা তার পরিবার বা এলাকার লোকেরা জানতো না বা জানার চেষ্টা ছিল না।তার মানে বিচ্যুত জীবন আরো পাকাপোক্ত হচ্ছিল।

৩। তার অধপতনের লক্ষন ঠিকই পরিবার ধরতে পেরেছিল,যে জন্য বাবা নিজেই বলেন সে বখাটে হয়ে গিয়েছিল।

৪।সে মাঝে মাঝে বাড়ি যেতো টাকা আনতে। শুধু তাই নয়,বিভিন্ন জনের থেকে প্রতারণা করে টাকা আনতো।
এমনকি নিজে অপহরিত হয়েছে বলে মিথ্যে নাটক সাজিয়ে বাবার কাছ থেকে টাকা আদায় করেছে -সেই অল্প বয়সেই। অসততা, অনৈতিকতা,অপরাধ প্রবনতার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

৫। বাইরে ও অপহরণ সহ অন্যান্য সন্ত্রাসী উপায়ে টাকা উপার্জন করতো। এ জন্য সে পুলিশের হাতে ধরা ও পড়ে।
তার নাম অপরাধীর তালিকায় উঠে যায়।মানে হলো সে দাগী অপরাধী হয়ে গেছে।

৬। বিভিন্ন সন্ত্রাসীদের সঙ্গে তার ওঠাবসা ছিল।

৭। সে দুবার বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়ে বিদেশ যায়, কিন্তু সব টাকা খুইয়ে দেশে ফিরে।

আদৌ বিদেশ গেছে না বিদেশে যাওয়ার নাম করে টাকা এনে সিনেমা বানানো, বড়লোকী ভাব দেখিয়ে নায়িকা থেকে অন্য প্রভাবশালীদের ইমপ্রেস করার কাজে লাগিয়েছে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

৮। সে ঢাকায় কিছুই করতো না।অথচ সিনেমায় অভিনয়, সিনেমা প্রযোজনার টাকা দেওয়া, শানশওকতের সহিত চলা,হিরা সুলভ ভাব- বনিতা সবই করতো।

কোথায় পেতো এতো টাকা?  খোঁজ নিলে সে অন্ধকার জগতের কথা জানা যাবে।

৯। এরকম একটি আন্ডার ওয়ার্ল্ডে তার আরো অনেক সহযোগী থাকার কথা। অনেক পৃষ্ষ্ঠপোষক ও থাকার কথা। তারা কারা?

১০। এমনকি ঢাকায় যাদের সঙ্গে চলতো তারা ও ঠিক ভাবে জানতো না সে কি করে, কোথায় থাকে, আয়ের উৎস কি,শিক্ষা কতটুকু।

১১। সিমলার মতন পুরস্কার প্রাপ্ত নায়িকা ও তাকে বড় প্রযোজক মনে করে, শিক্ষিত,সম্ভাবনাময় উঠতি "নায়ক" মনে করে প্রেমে পড়ে যায়?
শুধু তাই নয় কি লোভে, কি আশায়, কি মোহে তাকে বিয়ে ও করে ফেলে? 

এদেশের অনেক শিক্ষিত,রূপসী, আধুনিকা মেয়েকেও দেখেছি চালচুলো নেই, আয় উপার্জন নেই, সঠিক ঠিকানা জানা নেই, তবুও তেমন " মাকাল ফলের" প্রেমে পড়ে, বিয়ে ও করে ফেলে।

এবং অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই টের পায় কি সর্বনাশা পথ বেছে নিয়েছে।

১২। উপরোক্ত বিষয় গুলো বিবেচনা করলে দেখা যায় পলাশ ছোটকাল থেকেই "আচরণ সমস্যা " যাকে আমরা "কন্ডাক্ট ডিসঅর্ডার " বলি সে সমস্যাগ্রস্ত ছিল।

এরাই পরে এন্টি-সোশাল বা সাইকোপ্যাথ হয়ে উঠে।

এদের মধ্যে যাদের চতুরতা থাকে, সামাজিক দক্ষতা থাকে, চেহারা ভালো থাকে, তারা এক দিকে একটি "ফেইক সামাজিক " চরিত্র ধরে রাখে,অন্যদিকে তাদের প্রকৃত স্বরূপ "সমাজ বিরোধী, রাস্ট্র বিরোধী ও আইন বিরোধী " চরিত্র চলমান থাকে।

১৩। যেহেতু এরা  ক্রটিপূর্ন ব্যক্তিত্বের অধিকারী ও আচরণ সমস্যা যুক্ত মানুষ, তাই বিয়ের অল্প দিনের মধ্যেই তাদের অস্বাভাবিক, অগ্রহণযোগ্য স্বভাব ধরা পড়ে।

সিমলা হয়তো সেরকমটি টের পেয়ে সে দুরুত তার "ভুল"? সংশোধন করে তাকে ডিভোর্স দেয়।

১৪। এই " বিচ্ছেদ " যন্ত্রণা সহ আরো জানা অজানা হতাশার কারণে পলাশের মধ্যে জিদ,ক্রোধ, ঘৃনা,জিগাংসা জাগতে পারে।

১৫। তার স্বভাবজাত উগ্রতা, উচ্ছৃঙ্খলতা ও  জোকের মাথায় কাণ্ডজ্ঞানহীন কাজ করে বসার যে প্রবনতা এর সঙ্গে ঐ হতাশা, ক্ষোভ, ঘৃনার  মিশেলে তার মধ্যে তাৎক্ষণিক অপরিনামদর্শী, অগোছালো, অর্বাচীন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

১৬। এরা যেহেতু সব ধরনের অপকর্মে জড়িত থাকে তাই মাদক গ্রহণের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

১৭। সব মিলিয়ে তার নিজ প্রযোজনায়,একক অভিনীত, অপরিপক্ক, অগোছালো, আবেগতাড়িত অতি স্বল্প দৈর্ঘ্যের, অতি উত্তেজিত, শিহরিত নাটকের "নাটকীয় " যবনিকাপাত ঘটাতে জাতি হাফছেড়ে বেচেছে বটে।

তবে রেখে গেছে অনেক অজানা প্রশ্ন।

হয়তো অল্প কিছু দিনের মধ্যে আমরা সেসব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবো

পুনশ্চঃ পরবর্তীতে অন্য রকম কাহিনি জানা গেলে, ভিন্ন ও নতুন তথ্য জানা গেলে এই আপাত মূল্যায়ন পুনমূল্যায়নের প্রয়োজন হবে

Saturday, February 23, 2019

সাইকিয়াট্রিস্ট এর জার্নাল -৩৫ঃ কথায় চিড়া ভিজে

আমাদের দেশে একটি প্রবাদ বাক্য আছে ঃ কথায় চিড়া ভিজে না

কিন্তু আমরা যে সাইকোথেরাপি বা কাউন্সিলিং করি সেগুলো তো মূলত "কথা -চিকিৎসা " বা টক-থেরাপি।

তাহলে সেগুলোতে কি মন ভিজে না? যদি না ভিজে রোগী আরোগ্য লাভ করে কেন?

আমাদের জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট এর একমাত্র ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট স্নেহাস্পদ জহিরের সঙ্গে একদিন আলাপের সময় সে বলে-

স্যার,আপনি তো অনেক জায়গায় লিখেন,কথায় ও চিড়ে ভিজে, মানে সাইকোথেরাপি ও কাজ করে, একদিন সে নিয়ে ও একটু লিখবেন।

অনেক দিন হয়ে গেল ব্যাপারটি মনে ছিল না।

আজ "আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা " নিয়ে কিছু লিখতে গিয়ে ঐ কথাটি মনে পড়লো।

কথায় ও চিড়ে ভিজে -এর প্রমাণ হিসেবে আমি খাটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফল  তুলে ধরবোঃ

আমরা জানি "ওসিডি" (অবসেসিভ -কম্পালসিভ ডিসঅর্ডারে) বা "খুঁতখুঁতে" রোগের একটি প্রধান লক্ষন হচ্ছে

-অপরিষ্কার, নোংরা, অপবিত্র হয়ে গেছে মনে করে বার বার(কখনো শতবার)  ধোঁয়া মোছা করা।

PET scan  ( positron emission tomography)  করে দেখা গেছে ওসিডির রোগীদের ব্রেইনের "প্রি-ফ্রন্টাল" লোবের কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি পায়।তারমানে প্রিফ্রন্টাল লোবের কর্মতৎপরতা কমিয়ে ফেলতে পারলে এ রোগ ভালো হয়ে যাবে।

এই রোগ ঔষধ চিকিৎসায় ভালো হয়,আবার বিহেভিয়ার থেরাপি (এ ক্ষেত্রে "রেসপন্স প্রিভেনশন " থেরাপি) ও সমান উপকারী।

এক গবেষণায় এই রকম একদল রোগীর অর্ধেককে ঔষধ ফ্লুক্সিটিন দেওয়া হয় ও বাকি অর্ধেককে রেসপন্স প্রিভেনশন থেরাপি দেওয়া হয়।
উভয় গ্রপের রোগরাই উন্নতি লাভ করে।

গবেষণার আশ্চর্যজনক ফলাফল হচ্ছে ঃ। pet scan করে দেখা যায়, বিহেভিয়ার থেরাপি দিয়ে ভালো হওয়া রোগীদেরও প্রিফ্রন্টাল লোবের কর্মতৎপরতা কমে গেছে, যেমন হয়ছিল ঔষধ চিকিৎসায় ভালো হওয়া রোগীদের।

তার মানে নিছক চিন্তা, আচরণ বদল করেও ব্রেইনের ফাংশনকে বদলানো যায়।

অতএব প্রমানিত হলো - কথায় ও চিড়ে ভিজে

Tuesday, February 19, 2019

সাইকিয়াট্রিস্ট এর জার্নাল - ৩৪ঃ নিরীহ, শান্ত মানুষ ও কি কারনে সহিংস হয়ে উঠে?

জিলম্যান বলেন "যখন আমাদের শরীর মন উত্তেজনার খাদের কিনারে দাড়িয়ে থাকে, তখন পরবর্তী নেতিবাচক আবেগ হয় আরো তীব্র মাত্রায়।একের পর এক উক্তত্যকরন ঘটতে থাকলে রাগ-ক্রোধ ধাপে ধাপে বাড়তে থাকে। "

পরবর্তী প্রতিটি উক্তত্যকরন চিন্তা এমাগডেলা তাড়িত " ক্যাটেকোলামাইন" এর উত্তাল তরঙ্গের প্রবাহ তৈরিতে, উসকে দেওয়ার ঘটনা হিসেবে কাজ করে। এর প্রতিটি পূর্ববর্তীটির ভরবেগ বাড়িয়ে দেয়।

প্রথম উক্তত্যকরন  শেষ হওয়ার পূর্বেই (তা দাম্পত্য জীবন,পরিবার,কর্মক্ষেত্র,সমাজ যে জায়গায়ই ঘটুক না) দ্বিতীয়টি চলে আসে,তৃতীয়টি আসে এর উপরেই।এই প্রতিটি ঢেউ, এর পূর্বেকার ঢেউ এর লেজের উপর চড়াও হয়।ফলে শারীরবৃত্তীয় সজাগতা,সক্রিয়তা দুরুত ধাপে ধাপে বেড়ে যায়।

এভাবে রাগ তৈরি হয় রাগের উপরে।তাই আবেগীয় ব্রেইন ক্রমাগত উত্তপ্ত হতে থাকে ও এক সময় সে ক্রোধ আগ্নেয়গিরির মতন বিস্ফোরিত হয়।

এ পর্যায়ে মানুষ ক্ষমা করতে ও ভুলে যায় ও যেকোন যুক্তির উর্ধ্বে উঠে যায়। তাদের চিন্তা কেবল ক্রোধ ও প্রতিশোধ নেওয়া নিয়ে ঘুরতে থাকে। তারা এসবের কি পরিনতি হবে সে নিয়ে ও অচেতন থাকে।

উত্তেজনার এই চূড়ান্ত পর্যায়ে তারা নিজের ক্ষমতা ও অনাক্রম্যতা নিয়ে এক মোহগ্রস্ত অবস্থায় থাকে। যা তাদেরকে ভয়ংকর সহিংস কাজে অনুপ্রাণিত করে। লিম্বিক ব্রেইনের  তাড়না  যত ধাপে ধাপে ক্রম বর্দ্ধিত হতে থাকে, বর্বরতা তত নির্মম রূপ ধারন করে। ফলে অনায়াসে তারা হত্যা খুন করে ফেলে এবং তা করতে পারে বিভ্যৎস, নিষ্ঠুর উপায়ে।