Friday, December 22, 2017

রোগ কাহিনী -২৪: চা- বিস্কুটের দোকানদার দোকানে বসে কিন্তু কিছু বিক্রি করে না,বলে দেয় তার কাছে কিছু নাই

কাহিনী সংক্ষেপ :
মো. মোজাম্মেল, বয়স ৪৪।চা সহ পানীয়,বিস্কুট বিক্রি করে সংসার চালাতো।কিন্তু ইদানীং সে দোকানে যেতে চায় না,বউ জোর করে পাঠায়।
কিন্তু সে দোকানে গিয়ে বসে থাকে, কিছু বিক্রি করে না।অবস্হা এমন দাড়িয়েছে তাদের এখন পথে নামতে হবে ভিক্ষা করতে।কেননা একমাত্র উপার্জনের উৎস ছিল ঐ দোকানের আয়।

অতীত ইতিহাস বলে তিনি বিগত ১৫ বছর  ধরে স্ত্রীকে সন্দেহ করে আসছেন,অন্য পুরুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক আছে কিনা এ নিয়ে।

বার বার দোকান থেকে ঘরে ফিরে আসতেন , কেননা তার মনে হতো কেউ বাড়ীতে ঢুকে কিছু নিয়ে গেলো কিনা? 
২০১৬ সালে তার হার্টের বাই- পাস অপারেশন হয়। এরপর বাসায় ফিরে তার সন্দেহ হয় ঐ অপারেশনের ডাক্তার তার কিডনি খুলে রেখে দিয়েছে।বউকে বলে আমাকে পরীক্ষা করে দেখাও সত্যি কিডনী নিয়ে গেছে কিনা।তারা ডাক্তার দেখায়,আল্ট্রাসোনোগ্রাম করায়।ডাক্তার দেখায় যে কিডনি আছে।

এরপর শুরু হলো চায়ের পাতিলের ঢাকনা খোলা কিনা তা নিয়ে সন্দেহ।তার ধারনা পাতিল খোলা মাত্রা পোকামাকড়, জীবানু এতে পড়ে যায় এবং সে চা খেলে মানুষের ক্ষতি হবে।এ জন্য কিছুক্ষণ পর পর ঢাকনি আছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখতো।

এভাবে রোগ বাড়তে লাগলো।এখন মনে হয় দোকানের মালপত্র সব মেয়াদ উত্তীর্ণ, ডেট চলে গেছে এসব কেউ খেলে তার ক্ষতি হবে।তাই সে ঐ সব পন্য বিক্রি করতো না।

সে দোকানে যেতে চাইতো না,কান্নাকাটি করতো।বউ জোর  করে পাঠাতো, দোকানে না গেলে সংসার চলবে কেমনে?

বাধ্য হয়ে দোকানে গিয়ে বসে থাকতো। কেউ চা চাইলে না করতো যে চা নেই।তার ধারনা হয়তো বিষ বা ক্ষতিকর কিছু রয়েছে তা খেয়ে লোক মারা যাবে ও পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যাবে।

কাস্টমার এসে পানি,ফলের জুস,বিস্কুট চাইলে বলতো নাই। কারন তার সন্দেহ এগুলোর ডেইট শেষ হয়ে গেছে।মেয়াদ উত্তীর্ণ এগুলো খেয়ে মানুষ মারা যাবে।
বিশেষ করে বড় অফিসারদের কাছে কোন ভাবেই কিছু বিক্রি করতো না,কেননা এরা ক্ষমতাশালী । ডেট নেই জিনিষ বিক্রির  জন্য তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেবে।

সে বলে স্যার বুঝি চিন্তাগুলো ঠিক না,কিন্তু মন মানে না,সব বুঝি তবে মনকে মানাতে পারছি না।

এই রোগের জন্য বহু চিকিৎসা নেওয়া হয়েছে কিন্তু কোন উপকার হয়নি।
যারা কিছু পড়াশোনা করেছেন ও যারা সাইকিয়াট্রিস্ট তারা চট করে ডায়গনসিস করে বলবেন ও এতো ওসিডি( অবসেসিভ কমপালসিভ ডিসঅর্ডার) ।

কিন্তু অনেক মনোচিকিৎসক  তাকে পূর্ন ডোজ ও দীর্ঘ মেয়াদে ওসিডির ঔষধ ও রেসপন্স প্রিভেনশন থেরাপি দিয়ে চিকিৎসা করলে ও কোন ফল পাওয়া যায়নি।আবার এন্টি সাইকোটিক দিয়ে ও ফল পাওয়া যায়নি।

গত রোগ কাহিনী কুইজ হিসেবে দিয়েছিলাম সাধারন পাঠকদের জন্য। আজকেরটি সাইকিয়াট্রিস্টদের জন্য ও কুইজ।
১। এটি ওসিডি
২। এটি ডেলুসনাল ডিসঅর্ডার - প্যারানয়েড টাইপ
৩। এটি সিজোফ্রেনিয়া

স্বপক্ষে যুক্তিসহ মন্তব্য চাচ্ছি

মানসিক রোগে মানুষ মারা না গেলেও তার কষ্ট কতো,তার জীবন ও সংসার কিভাবে পঙ্গু হয়ে যায় এ কাহিনী তার সাক্ষ্য  ।
মানসিক রোগকে অবহেলা করবেন না

Wednesday, December 13, 2017

সাইকোলজিক্যাল টিপস-৩৫: ( মুক্তির) পথ আকাশে থাকে না,তা থাকে রিদয়ে "

পর্ব-১:

কাউকে একটি  টি- শার্ট দিলাম সে সেটি অনায়াসে গায়ে পরে ফেলতে পারবে।এটি সহজ কাজ।কিন্তু কোন  উদ্দীপনামূলক বানীর সঠিক অর্থ অনুধাবন করে আত্বস্হ করা তত সহজ কাজ নয়।আমি এই " সাইকোলজিক্যাল টিপস" বিভাগে অনেক তেমন  আত্ম নির্মান মূলক উক্তি দিয়েছি কতজন তার সুফল পেয়েছেন বা পাচ্ছেন?

সুফল না পাওয়ার দায় কিন্তু আমার উপর বা ঐ উক্তির উপর দিয়ে  দায় ছাড়লে চলবে না।আপনি  সে উক্তিগুলোর অর্থ কত গভীরভাবে অনুধাবন করতে পেরেছেন এবং সে অনুযায়ী নিজের চিন্তা,দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরনকে কতটুকু বদলে নিতে পেরেছেন, সুফল নির্ভর করে তার উপর।

আজ ও আমি মহামতি বুদ্ধের কিছু অমর বানী আপনাদের শুনাবো যা আপনার জীবনকে বদলে দিতে পারে:

১। " স্বাস্থ্য হচ্ছে সর্বোত্তম উপহার,মানসিক সন্তুষ্টি হচ্ছে সর্বোত্তম সম্পদ,বিশ্বাসপূর্নতা হচ্ছে সর্বোত্তম সম্পর্ক "

আমি প্রায়ই এই কথাগুলো বলি ও বিশ্বাস করি যে অর্থ- বিত্ত,খ্যাতি,জ্ঞান ও ক্ষমতা সব কিছু অর্থহীন মনে হবে যদি আমরা অসুস্থতায় ভুগি।সেটি শারিরীক বা মানসিক অসুস্হতা যেটিই হোক না কেন।

জীবন ও পৃথিবীকে সর্বোচ্চ পরিমানে উপভোগ  করতে হলে উত্তম স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হবে।

অর্থ সম্পদ নিশ্চয় প্রয়োজন ও কাজে লাগে, কিন্তু মনের ভিতরকার প্রশান্তি ঐ সব বৈষয়িক সম্পত্তির চেয়ে সুখী হওয়ার জন্য অধিকতর শক্তিশালী অস্ত্র।

নিজের প্রতি এবং নিজের মত ও পথের প্রতি বিশ্বাস থাকা, নিজের সঙ্গে উত্তম সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার প্রধান শর্ত।

আর নিজের সঙ্গে নিজের উত্তম সম্পর্ক ব্যতিরেকে আমরা কেউ সুখী হতে পারবো না।

২ । " কেউ আমাদের রক্ষা করতে পারে না একমাত্র আমরা নিজেরা ছাড়া। কেউ তা পারে না এবং কেউ তা করবে ও না।আমাদের পথ আমাদেরই অতিক্রম করতে হবে "

আপনি কাউকে সাহায্য করতে চেষ্টা করতে পারেন বা আপনি চিরদিন অপেক্ষায় থাকতে পারেন কোন একজন এসে আপনাকে উদ্ধার করবে।

কিন্তু এসব চেষ্টা বা অপেক্ষা কোন কাজে আসবে না, যে পর্যন্ত না কেউ নিজে পরিবর্তিত না হয় বা পরিবর্তনের জন্য  প্রতিজ্ঞা বদ্ধ না হয়।

অন্য কোন কিছুই তাকে পরিবর্তন করতে পারবে না ( মাদকাসক্তি চিকিৎসায় আমরা তাই রোগীর মটিভেশন বাড়ানোর উপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়ে থাকি) ।

যদি পরিবর্তন চান, আগে নিজের ভিতর পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা, বাসনা জাগিয়ে তুলুন ( এটিকে আমরা মটিভেশন বলি) ।

আকাঙ্ক্ষা তীব্র হলে নিজেই পথে নেমে পড়বেন ও যাত্রা শুরু করবেন।এভাবে পথ যত বন্ধুর হোক তা পেরিয়ে যেতে পারবেন

আর তা নাহলে, সে পথ কখনো পার হওয়া সম্ভব হবে না
( ২য় পর্ব- আগামী কাল)