আনারসের মতন হোন
১ সোজা হয়ে দাড়ান
২। মাথায় মুকুট পড়ুন
এবং
৩। ভিতরে (অন্তরে) সুমিস্ট থাকুন
Friday, July 27, 2018
সাইকোলজিক্যাল টিপস -৪৬
Monday, July 23, 2018
রোগ কাহিনী -৩১ঃছেলেটি প্রায়ই ২-৩ ঘন্টা কানে শোনে না,এখানে সেখান কে যেন তুলে নিয়ে যায়,চোখের সামনে সাদা পাগড়ি পরা কাউকে দেখে চিৎকার করে উঠে
মাসুদ রানা,বয়স ১৩ বছর, ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র।
৪ মাস আগে সে কোরান তেলোয়াত করছিল, তখন হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যায়।ঘন্টা খানেক অজ্ঞান থাকে। পরে আরো কয়েকবার এমন হয়
সে সময় তার শরীর কাপে,ঠোঁট কাপে এবং এরকম এক দেড় ঘন্টা থাকে।সে টের পায় কি হচ্ছে কিন্তু কথা বলতে পারে না।
তার বাবা তাকে রাজধানীর একটি বিখ্যাত প্রাইভেট হাসপাতালে, একজন নামকরা নিউরোলজিস্ট এর কাছে নিয়ে যান।তাকে এমআরআই সহ বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয় এবং তার ঐ খিচুনির ভিডিও রেকর্ড রাখতে বলেন।তাকে নিয়ে ঐ হাসপাতালে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে নাকি বোর্ড মিটিং ও করা হয়।
খিচুনির ( ঐ শরীর কাপা,ঠোঁট কাপার) ঐ ভিডিও দেখে নিউরোলজিস্ট বলেন এটি মৃগী রোগ নয়- দেখে তো মনে হচ্ছে জ্বীন- ভূতের কিছু হবে।
আমি রোগীর বাবার কাছ থেকে এরকম কথা শুনে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।তাই নিশ্চিত হতে আবার জিজ্ঞেস করলাম, নিউরোলজিস্ট নিজে জ্বীন ভূতের কথা বলেছেন? তিনি মৃদু হেসে নিশ্চিত করলেন যে হা এমনটিই তিনি বললেন।
তারা নিজেরাও তেমনটি ভাবতেন।এরপর তারা হুজুরের কাছে নিয়ে যান।হুজুরের চিকিৎসায় সে আপাত ভালো হয়।জ্বীন ভূতের কথা শুনার পর থেকে ছেলেটি চোখের সামনে সাদা পাগড়ি পরা একজনকে দেখতো যে তার গলা চাপ দিয়ে ধরতে চায়।তখন সে চিৎকার করতে থাকে,কাদে,আম্মু আমাকে ধরো বলতে থাকে।
১৫-২০ দিন পড়ে সে টিভি দেখা অবস্থায় নিজেই মাকে ঢেকে বলে " মা আমি কিছু কানে শুনতে পারছি না- আমার কান বন্ধ হয়ে গেছে "।
মা দেখলেন সত্যি তাই।তবে কয়েক ঘন্টা পর হঠাৎ করে আবার কানে শুনতে শুরু করে।
এরপর কয়েকদিন পর পর সে ২-৩ ঘন্টার জন্য কানে শুনতো না,পরে আবার ঠিকই শুনতে পেতো।এবার ও নামকরা এক হাসপাতালে গিয়ে নাক, কান গলা রোগ বিশেষজ্ঞ দেখান।তিনি পরিক্ষা করে বলেন সব ঠিক আছে, সমস্যা নেই। কিছু ঔষধ দিয়ে দেন।
এর ২ সপ্তাহ পর স্কুলে যাবার পথ থেকে সে হারিয়ে যায়।
কে যেন তাকে উঠিয়ে কাঠালবাগান নিয়ে ফেলে যায়।সে বলে স্কুল যাওয়ার পথে হঠাৎ একটি দমকা বাতাস গায়ে লাগে। এরপর কি হয়েছে বলতে পারবে না।
জ্ঞান ফিরে সে দেখে কাঠাল বাগানে। সেখান থেকে পার্শ্ববর্তী এক দোকানদারের কাছ থেকে মোবাইল চেয়ে নিয়ে তার বাবাকে ফোন করে।পরে বাবা এসে তাকে নিয়ে যায়।
এরপর দুই এক দিন পর পর তাকে কে বা কারা নিয়ে যায় ( মিরপুর -১০; তালতলায়; হাবিবুল্লাহ রোড; বাসার কাছে; শেওড়াপাড়া - ইত্যাদি জায়গায়) । কোনবারই সে বলতে পারে না কিভাবে, কেমন করে সে ঐসব জায়গায় চলে যেতো।
তাকে যখন পাওয়া যেতো তার চেহারা কালো দেখাতো,ঘামে জামা কাপড় ময়লা থাকতো, ভীত,আতঙ্কিত দেখাতো।
এই যে ভয়ংকর জ্বীন দেখা, কানে না শোনা,প্রায়ই দূরে চলে যাওয়া / হারিয়ে যাওয়া- সবগুলো একই সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে হতে থাকে।
সে যখন হারিয়ে যায়,তার পকেটে যে টাকা থাকতো তা অক্ষত থাকতো। সে টাকা দিয়ে নিজেই কয়েক বার বাসায় ফিরে আসে।
এ কাহিনী থেকে যা শিক্ষনীয়ঃ
১। ছেলেটি " ডিসোসিয়েটিভ- কনভার্সান " ডিসঅর্ডার এ ভুগছে।
কিছু সময়ের জন্য কানে কিছু না শোনা এবং মাঝে মাঝে শরীর কাপা,ঠোঁট কাপা- এ দুটি হচ্ছে " কনভার্সন"
( মনোসন্জাত কোন দ্বন্দ্ব, চাপের প্রতিক্রিয়ায় নিউরোলজিক্যাল কিছু সিম্পটম দেখা দেওয়া।নিউরোলজিক্যাল কোন কারন ছাড়াই শুধু মানসিক কারনে এরকম লক্ষণ গুলোর উদ্ভব হয়।)
হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়া,যার কোন কিছু সে মনে করতে পারে না- এটি হচ্ছে " ফিউগ"(fugue) ডিসঅর্ডার( ছোট কালে শুনতাম পরিরা কাউকে তুলে নিয়ে গাছের মগডালে বসিয়ে দিতো।সে না জানতো গাছে চড়তে এবং কিভাবে উঠেছে তাও সে জানতো না)
+ সাদা পাগড়ি ওয়ালা কাউকে দেখা(যা অন্যরা দেখে না)-
এটি এক ধরনের " ভিজুয়্যাল হ্যালুশিনেসন।তবে এটি সাইকোসিস নয়।
উপরোক্ত দুটি " ডিসোসিয়েটিভ ডিসঅর্ডার "( মানসিক দ্বন্দ্ব, চাপের কারনে ব্রেইনের একটি অংশ মূল অংশ থেকে " বিচ্ছিন্ন "(ডিসোসিয়েশন) হয়ে যায় বলে, সে যা করে পরে তা তার স্মৃতিতে থাকে না)
২। এসব মানসিক রোগকে সাধারন মানুষ জ্বীন, ভূত,পরি ধরা মনে করতো এখনো করে।এ ভুল ভাঙ্গানোর দায়িত্ব আপনার, আমার সবার।
৩। তবে ছোট ছোট শিশুদের মধ্যে ইদানিং এই তথাকথিত জ্বীন ভূতে ধরা রোগ বেশি দেখা দিচ্ছে।
এর প্রধান কারন যা আমি পর্যবেক্ষণে দেখতে পেয়েছি যে--
যে কোন মানসিক চাপ,ভয়ের কারনে তাদের মধ্যে প্রথমে " ডিসোসিয়েশন বা কনভার্সন " রোগের লক্ষণ দেখা দেয়।
কিন্তু এরকম লক্ষণকে আত্মীয় স্বজনরা " জ্বীন ভূতের" ঘটনা মনে করে হুজুর দেখায়।সেখান থেকে শিশুর কোমল মনে( ব্রেইনে) এই লক্ষণ গুলোর সঙ্গে জ্বীন ভূতের একটি কানেকশন / সংযোগ তৈরি করে নেয়।
পরবর্তী সব ইপিসোডের সময় ঐ একই রোগ তখন জ্বীন- ভূতের আছড় নিয়ে হাজির হয়
৪। এর সঙ্গে যদি ডাক্তার / বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মুখ ফসকে জ্বীন ভূতের কথা বলে বসে, তাহলে তো আর কোন কথাই নেই।
৫। তাই এই ভূতুরে ( কাল্পনিক) " জ্বীন-ভূতের" রোগ থেকে মুক্তি পেতে হলে আপামর জন সাধারণ / চিকিৎসকদের মাথা থেকে ঐ " ভূত" প্রথমে সারাতে হবে।।
৬। সাধারণত একটি বা দুটি ধরন একই রোগীর হতে পারে।কিন্তু এ ছেলেকে ২ টি কনভার্সন,২ টি ডিশোসিয়েশন - মোট ৪ ধরনের রোগ পেয়ে বসেছে। এমনটি হওয়ার কারন রোগীর মূল মানসিক দ্বন্দ্ব, ভয়,চাপকে নিরসন না করে অপচিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া।
তাই এ ধরনের রোগীকে অপচিকিৎসা না করে দ্রুত মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ এর অধীনে চিকিৎসা করাতে হবে
Friday, July 20, 2018
সাইকিয়াট্রিস্ট এর জার্নাল -২৫
"পাপ মাত্রার "সঙ্গে "তাপ মাত্রার "কি কোন সম্পর্ক আছে?
পৃথিবীর " পাপ মাত্রা " ও " তাপমাত্রা " দুটি একই সমান্তরালে বাড়ছে কেন?
( দোজখের তাপ পৃথিবীতে ও ছড়িয়ে পড়ছে কি?)
Monday, July 16, 2018
সাইকোলজিক্যাল টিপস-৪৬
১। (নিজের প্রয়োজনে)জিনিস / বস্তুকে ব্যবহার করুন( টাকা,সম্পদ)
মানুষকে নয়
২। মানুষকে ভালোবাসুন
জিনিস / বস্তুকে নয়( বাড়ী,গাড়ি, অর্থ -সম্পদ)
Wednesday, July 11, 2018
রোগ কাহিনী-৩০"তুমি আমার ছেলেকে ছিনিয়ে নিয়েছো,বশীকরণ করেছো"
বিথী,বয়স ২৪ ।তার ভাষ্যমতে সে মা বাবার খুব আদুরে মেয়ে।অবাধ স্বাধীনতায় বড় হয়েছে।আদর,সোহাগ,কেয়ার এর মধ্যে জীবন কেটেছে।
৬ মাস হলো বিয়ে হয়েছে ।দীর্ঘ ১০ বছর প্রেম করে এ বিয়ে ।
কিন্ত বিয়ের পর থেকেই অশান্তি ।
সে বলে হাজবেন্ড এর ১% আবেগ ও নেই।কেবল লজিক ও ব্রেইন দিয়ে চলে।
সে বলে শ্বাশুড়ি সহ বর পক্ষের কেউই সহানুভূতি সম্পন্ন নয়।বিশেষ করে শ্বাশুড়ির সঙ্গে মনোমালিন্য লেগেই থাকে।
ভাসুর বলে আমি নাকি " সাইকো" ।
আমি মাস্টার্স ডিগ্রি করা ,ইন্নোসেন্ট মেয়ে।
।আমি একটু বেশি আবেগী তবে আমি চাই স্বামী আমাকে বুঝিয়ে বলুক,সবার সামনে যেন অপমান না করে।
তারা প্রতিনিয়ত ভুল ধরে, হ্যারাস করে।
শ্বাশুড়ীর অভিযোগ আমি দেরি করে ঘুম থেকে উঠি।স্বামি বলে আমি নাকি ওভার কেয়ার, ওভার সিমপ্যাথি চাচ্ছি ।
আমি চাচ্ছি সেল্ফ রেসপেক্ট, কিন্তু স্বামী বলে এটি নাকি আমার " ইগো" ।
তারা আমাকে ছাদে যেতে দেয় না,বলে ছাদে জ্বীন-ভূত রয়েছে।অথচ আমি খোলামেলা জায়গা পছন্দ করি।
গত পরশু কোন একটি বিষয় নিয়ে শ্বাশুড়ির সঙ্গে তার ঝগড়া হয়।রাগ করে সে ছাদে চলে যেতে চায়।এতে স্বামী বাধা দেয় কিন্ত সে জোর করে ছাদে চলে যায়।স্বামি তখন তার শ্বাশুড়িকে ফোনে এসব জানায়।
কেন মাকে জানিয়ে তাকে ছোট করলো এই আক্রোশে সে তখন পিপড়া মারার ঔষধ খেয়ে ফেলে।এতে স্বামী ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে চড় মারতে থাকে।শ্বাশুড়ী বলে আরো মার এবং স্বামী আরো মারতে থাকে।এক পর্যায়ে চুল ধরে বের করে দেয়।
এরপর থেকে স্ত্রী খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দেয়।তারা বলে বন্ড সই দিতে হবে যে সে আর এমন কাজ করবে না,তা না হলে তাকে সংসার করতে দেবে না।
আমি বলি আমাকে ১ বছর সময় দাও আমি সব শিখে নেবো।তারা আমাকে বিশ্বাস করে না।
স্বামীকে জিজ্ঞেস করলাম ১০ বছর প্রেম করলেন তখন বুঝতে পারেননি আপনার বউ রাগী, আবেগী? স্বামী বলে এতো বেশি, তা বুঝতে পারিনি।
এ কাহিনী থেকে যা আমরা শিখতে পারি ঃ
১ ।প্রেম আর বিয়ে এক জিনিস না।যারা প্রেম করছেন বিয়ের পর জীবন বাস্তবতা কেমন হবে আগ থেকেই ভেবে নেবেন
২ ।বহুদিন প্রেম করলেও প্রকৃত মানুষ কি ধরনের তা বুঝা কঠিন।এমনকি বহুদিন সংসার করেও বোঝা দায়
৩ ।আবেগ,রাগ বেশি তার মানে এই নয় সে "খারাপ"।
৪ ।আবার আপনি মনের দিক থেকে যত ভালো মনের মানুষ হন না কেন,বাইরের রাগ,ক্রোধ আপনাকে সবার কাছে অপ্রিয় করে তুলবে
৫ ।বউ ছেলেকে বশীকরণ করে আমার থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে, শ্বাশুড়িদের এই মানসিক দৈন্যতা অনেক পারিবারিক অশান্তির কারণ
৬ ।" ইগো" বনাম "সেলফ রেসপেক্ট" এর মধ্যে পার্থক্য জানা জরুরি ।আমরা প্রায়ই এ দুইটিকে গুলিয়ে ফেলি।
৭ মা,বাবার ঘরে অনেক কেয়ার, যত্নে মানুষ হয়েছি তাই বিয়ের পর স্বামী বা শ্বশুর বাড়ীর লোকদের থেকেও সমান কেয়ার,যত্ন পাবো এরকম প্রত্যাশা না থাকাই ভালো
Tuesday, July 10, 2018
সাইকোলজিক্যাল টিপস-৪৫
চেষ্টা করে দেখতে পারেন
১ ।যত সম্পদশালী হোন,বিনম্র জীবন-যাপন করুন
২ ।জীবনে যত কঠিন সময় পার করুন,ইতিবাচক চিন্তা করুন
৩ ।জীবন,জগত,সংসার থেকে যত কমই পেয়ে থাকেন,বিনিময়ে অধিক দিতে চেষ্টা করুন
৪ ।যত ক্ষতি করুক কাউকে ঘৃনা করবেন না
৫ ।সবার জন্য সর্বাত্মক মঙ্গল কামনা থেকে কখনো বিরত থাকবেন না
৬ ।সবাইকে ক্ষমা করে দিন,বিশেষ করে নিজকে
Monday, July 2, 2018
সাইকোলজিক্যাল টিপস-৪৪
অন্যরা আপনাকে টেনে নীচে নামাতে চাচ্ছে বলে হতাশ,উদ্বিগ্ন হবেন না
কেননা তারা ইতিমধ্যেই আপনার " নীচে" রয়েছে