Wednesday, December 28, 2016

রোগ কাহিনী: ১০

" ভয়ে আমার কইলজা-গুরদা গইল্লা যায়"

আপনাদের মনে থাকার কথা " সাইকিয়াট্রস্ট এর জার্নাল -৫ এ আমি সন্তান প্রতিপালনের ৪টি ধরন নিয়ে আলোচনা করেছিলাম।
এ ৪ ধরনের একটি হচ্ছে সন্তানকে" বশ্যতা স্বীকারে বাধ্যকরন" প্রতিপালন পদ্ধতি(Authoritarian type)।
আজ সে ধরনের এক বাবার কাহিনী আপনাদের জানাবো--

কাহিনী সংক্ষেপ :

মো. আলম বর্তমানে বয়স ৩০, বিয়ে করেননি( মূলত বিয়ে করতে ভয় পাচ্ছেন - কেন সে রহস্য শীঘ্রই উদঘাটিত হবে)।

তারা ৫ ভাই , তিনি ৪র্থ।তার বাবা হলুদ- মরিচ ভাঙ্গার কাজ করেন।

যে সমস্যাদি নিয়ে আমার কাছে আসেন :

ভয়-ভীতি,টেনশন,দুশ্চিন্তা,ভুলে যাওয়া, অস্হিরতা,মাথা উথালপাতাল লাগা,মাথায় গরম জ্বালা পোড়া,চিন্তায় চুল পেকে গেছে,বুকে এসে ভয় ভীতি লাগে,পেট চিবায়,ঘুর ঘুর করে ইত্যাদি।

একটু সময় নিয়ে আলাপ করাতে যা জানা গেলো:

ছোটকাল থেকেই বাবা কড়া শাসনে রাখতো।পান থেকে চুন খসলেই অত্যাচারের স্ট্রিম রোলার চলতো।

যা করতে বলবে একটু দেরী হলেই হাতের কাছে যা থাকতো তা দিয়ে আঘাত করতো।
স্ক্রু,হ্যান্ডেল দিয়ে মাথায় আঘাত করতো।

ঘরে জায়গা দিতো না।
আমরা ভয়ে বাইরে বাইরে থাকতাম।উনি কাচি নিয়ে খুজতে বের হতেন।যেখানে পেতেন সেখানেই  এলোপাথাড়ি মারতে শুরু করতেন।

একদিন মারের ভয়ে দৌড় দেই।এক ফাকে
এক পুকুরে ঝাপ দেই।
একটি গাছের গোড়া ধরে  পানিতে ডুব দিয়ে থাকি।

নিশ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয় তবু উঠি না,  যদি বাবা দেখে ফেলে।
এক সময় আর টিকতে না পেরে উঠে যাই।

উঠেই ভূত দেখার মতন আটকে উঠি।
দেখি বাবা কাচি হাতে  একেবারে আমার সামনেই দাড়িয়ে।

উনিশ- বিশ হলেই লাঠি নিয়ে মারতে আসতো।আমি দৌড়াতাম,দৌড়ে কুলাতে পারতাম না।হোচট খেয়ে পরে যেতাম,সেখানেই মারের উপর মার।

অনেক সময় ভয়ে সারাদিন বাইরে থাকতাম। 
রাতে চুপিচুপি ঘরে ঢুকতাম। 

রুমে ঢুকে সারারাত ঘুম আসতো না, কখন বাবা এসে ধরে ফেলে।
জানালা আটকানো যেতো না,তাই ভয় হতো কখন জানি জানালা দিয়ে হাত ঢুকিয়ে ধরে ফেলে।

সব ভাইকেই মারতো,তবে আমাকে বেশী মারতো।
অন্য ভাইরা দূরে দূরে থাকতো।
একদিন  রন্ডি কড়ই গাছের ডাল কেটে ফেলায় বাবা বড় ভাইকে কোপাতে গেলে বড় ভাই রুখে দাড়ায় ও তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়।

মাকেও মারতো।

একদিন স্কুলে যাইনি বলে আমাকে ও ছোট ভাইকে শেকল দিয়ে পা বাধে।
মসজিদের ভিতর তালা দিয়ে আটকে রাখে।
তালা ও শেকল নিয়ে হাটতে হাটতে পা ফুলে যায়। 

এ অবস্হায়ই আমাদেরকে স্কুলে নেওয়া হয়।

স্কুলের ম্যাডামরা বাবাকে বলেন আপনি কাজটি ভালো করেননি।
তখন মনে হয়েছিল এত অত্যাচার, এ জীবন রাখবো না

ধান ক্ষেতে নিড়ি দিতে গিয়ে একটু দুষ্টামি করলে মারতো  ও বাড়ীতে খাবার বন্ধ করে দিতো।

মা পরের বাড়ী থেকে এনে খাওয়াতো।তার জন্য মাকেও মারতো।

দোকানে ছোট ভাই বসতো। হিসেবের গরমিল হওয়াতে বাবা তাকে মারে।
ছোট ভাই রাগ করে বলে দোকানে বসবে না।আমাকে বসতে বলে।

বাবা বলে "খানকির পোলা" দোকানে গেলে কল্লা ফেলে দিবো( গালি শুনে আমাকে কেউ গালি দিতে আসবেন না- লেখার অযোগ্য অনেক গালি আছে,স্যাম্পল হিসেবে দুএকটি বলবো মাত্র)। 

ভয়ে কলিজা- মলিজা গলে যেতো।

এ ভাবে ১৫-১৬ বছর অত্যাচার চলে।
আমি ও ছোট ভাই অতিষ্ঠ হয়ে ঠিক করি পালিয়ে ঢাকা চলে যাবো।

মাকে বলি দোকানে মাল কিনতে যাবো( কচুয়ায়)। 

ছোট ভাই বলে পান্জাবী ইস্ত্রি করতে যাবো। 

এ ভাবে দু'ভাই সবাইকে ফাকি দিয়ে ঢাকা রওয়ানা হই।

( ছোট ভাই আগে কয়েকবার ঢাকা গেছে)। 

এক সাইকেলেই দুজনে যাচ্ছি।গৌরী পুর ব্রীজে   আসার পর আমাদের আটকে দেয়,সাইকেল নেওয়া মানা।তখন সাইকেল বাসের ছাদে উঠিয়ে ঢাকা রওয়ানা হই।

বড় ভাই চকবাজারে পচা সাবান কারখানায় কাজ করতো।সেখানে যাই। 

দুজনে ভাবতে থাকি মাকে না বলে এসেছি, মাতো কান্না কাটি করবে।

সন্ধায় ভাই আসলে সব বলি।ভাই মাকে ফোন করে সব জানায়।মা কান্নাকাটি করে,বাবাকে গালাগালি করে,ভাত খায় না।

৭ দিন পর বাবা আমাদের খোজে ঢাকা আসে।
 ভয়ে আমি রুমে ঘুমের ভান করে শুয়ে থাকি।

 বাবা এসেই বলে" চুদির পুতেরা "আমার এতো ভালো বাড়ী রেখে কোন জায়গায় এসে ঘুমাচ্ছে।

বাবা আমাদের নিতে চায়।আমরা রাজী  হই না।

আবার সেখান থেকে পালাই।
বাবা চলে  যাওয়ার পর আবার ফিরে আসি।

বড় ভাই বলে তোদের এখানে জায়গা নেই।বাবা বলে গেছে আমরা যেন আর বাইত না যাই।

তখন ভাবি বাবা তো জায়গা দেবে না,নিজেই কিছু করি।
একটি টং দোকানে চায়ের কাজে লাগি।

দেড় মাস পর বাড়ী যাই।বাবা খুব রাগ করে।এখন ও মাঝে মাঝে বাড়ী যাই।তবে বাবার থেকে দূরে দূরে থাকি।
উনাকে দেখলেই মনে হয় বাঘ দেখছি।

রাতে ঘুমের ভিতর দেখি বাবা অনেককে নিয়ে আমাকে মারতে আসছে, আমি মাঝ খান থেকে উড়ে যাচ্ছি

এখনো ভাত খাওয়ার সময় বাবাকে দেখলে থালা নিয়ে দৌড় মারি।

বিয়ে করতে ভয় পাই কারন বাবাকে দেখলে ওদের ( বউ,তার আত্বীয়) সামনে থেকেই দৌড় দিতে হবে,সেটি কেমন দেখাবে?

( প্রতিটি কথা হুবহু রোগী যে ভাবে বলেছে সে ভাবে লিখেছি।
এটি হয়তো এক অতি কড়া বাবার কাহিনী।
কিন্তু কম মাত্রার হলে ও এমন নিষ্ঠুর ও কড়া শাসন অনেক পরিবারেই রয়েছে)। 

Thursday, December 22, 2016

যাহা বলিব সত্য বলিব-৩

এবিসি রেডিও তে প্রতি রবিবার রাত ১১-২০ মিনিটে প্রচারিত হয় জনপ্রিয় অনুষ্ঠান" যাহা বলিব  সত্য বলিব( জেবিএসবি)"। নিয়মিত পরামর্শক হিসেবে  সে অভিজ্ঞতা ও এই রবিবারে প্রচারিত কাহিনী আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করছি

কাহিনী সংক্ষেপ :
সোহেল রানা, বয়স ২৫। জন্ম ফরিদপুর । ব্যবসার কারনে বাবা দিনাজপুর থাকেন।
বাবা সেখানে ২য় বিয়ে করেন। জীবনে তাদের অনেক স্ট্রাগল করতে হয়েছে।ফলের ব্যবসা করে মোটামোটি ভালো অবস্হায় আছেন।

ক্লাশ এইটে পড়ার সময় তার এক বন্ধু জোটে, যে সৎ মার সঙ্গে থাকতো ও সিগারেট খেতো।

সেও সিগারেট খাওয়া শুরু করে এবং যথারীতি ফেন্সিডিল সহ অন্যান্য নেশায় জড়িয়ে পরেন।

নেশার মাত্রা বাড়ে তাই বাড়ে টাকার ডিমান্ড।
কোথায় পাবে এত টাকা?

নেশার টাকা ভূতে জোগায়।এটি একটি মিথ।তাদের সে টাকা জোগাড় করতে হয় যে কোন  ভাবেই হোক।

তার খালাতো ভাই এমবুলেন্স চালাতো।তখন তৎকালিন বিরোধী জোটের অবরোধ চলছিল।

তারা ভাবলো মানুষ যাতায়তের যানবাহন পাচ্ছে না।ওআমরা এই সুযোগে কিছু মানুষ পারাপার করবো।সেখানে তারা ৪-৫ জন থাকবে ও দু'একজন সাধারন যাত্রী  নেবে।কোন এক পছন্দ মতন জায়গায় গিয়ে যাত্রীদের চোখে মলম ঢলে তাদের সর্বস্হ কেড়ে নেবে।
এ ভাবে তারা একটি সঙ্গবদ্ধ  " মলম পার্টি" গড়ে তোলে।

নিয়মিত ভাবে তারা অসহায় যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা- পয়সা ছিনিয়ে নিতে লাগলো।

একদিন তারা ৫ জন যাত্রীর ছদ্মবেশে অন্য দু'জন নিরীহ যাত্রী উঠান।খেলনা পিস্তল দেখিয়ে তারা তাদের সব কেড়ে নেয়।কিন্তু একজনের হাতে একটি  স্বর্নের আংটি  ছিল।তারা সেটি নিতে চাইলে ঐ ব্যক্তি বাধা দেয়।
দস্তাদস্তি চলে।
একে পর্যায়ে গলায় মাফলার পেচিয়ে তাকে খুন করা হয়।

ঐ লাশ তারা এক বাগানে ফেলে আসে ও সে লাশ  বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে দাফন করা হয়।

(পাঠক এ পর্যায়ে আমার ব্যক্তিগত জীবনের একটি করুন কাহিনী না বলে পারছি না।আমার আপন চাচাতো ভাই নর্থ সাউথ ইউনিভারসিটি এর লেকচারার হিসেবে সবে মাত্র যোগ দিয়েছে।এ দিকে কানাডায় তার পিএইচডি করতে যাওয়ার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে।সে সবে মাত্র বিয়ের পাঠও চুকিয়ে ফেলেছে।তাকে প্রায়ই ঐ ভার্সিটি থেকে সিএনজি করে সন্ধার দিকে বাসায় ফিরতে হতো।তেমনি এক কু সন্ধায় বনানী আর্মি এলাকার কাছাকাছি জায়গায় এ রকম এক সঙ্গবদ্ধ মলম পার্টির খপ্পরে পড়ে নির্মম ভাবে জীবন হারাতে হয় তাকে)।

এদিকে তার ঐ বন্ধুর সঙ্গে এক মেয়ের টেলিফোনে আলাপ হয়।
দীর্ঘ দিন সে ঐ মেয়ের সঙ্গে  প্রেমের অভিনয় করে যায়।
ঐ মেয়েকে পটিয়ে সে প্রায়ই বিকাশ করে টাকা পাঠাতে বলতো।মেয়েটি সরল বিশ্বাসে এ ভাবে তাকে অনেকবার টাকা পাঠায়।

সে ঐ টাকা তার নেশার পিছনে ব্যয় করতো।

এক সময় মেয়েটি তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়।সে এটিকে আরো বেশী টাকা আদায়ের সুযোগ হিসেবে নেয়। সে ঐ মেয়েকে  তার কাছে চলে আসতে বলে।
মেয়েটি রঙ্গিন স্বপ্ন নিয়ে, ভিন্ন জেলা থেকে  কাউকে কিছু না বলে বেশ টাকা- পয়সা ও স্বর্নালঙ্কার নিয়ে তার কাছে যায়।
ছেলেটি পূর্ব প্রস্তুতি  নিয়ে রাখে ও সোহেল রানাকে  সঙ্গে নেয়।

পূর্ব পরামর্শ মত তারা মেয়েটিকে বলে বাড়ীতে তাড়াতাড়ি যেতে হলে মেঠো রাস্তা দিয়ে পাট খেতের আড়াল দিয়ে যেতে হবে।তারা দু' বন্ধু মিলে মেয়েটিকে পাট  ক্ষেতের ভিতরে  নিয়ে তাকে  নির্মম ভাবে হত্যা করে ও তার সব কিছু হাতিয়ে নেয়।

ঐ মেয়েটির লাশও সেখানে বেওয়ারিশ হিসেবে থেকে যায়।

রানাকে যখন জিজ্ঞেস করা হয় এ ভাবে একটি নিরীহ মেয়েকে খুন করার সময় আপনার ফিলিংস কেমন ছিল।

সে বলে আমার কোন ফিলিংস ছিল না; নেশা করবো টাকা লাগবে এ চিন্তাই কাজ করতো।
এ পর্যন্ত করা তার কোন অপরাধের কথাই অন্যরা জানে না।

তবুও পুলিশের ভয়,নেশার জন্য আরো এ রকম ঝুকি পূর্ন পাপ কাজ করতে হবে, এ সব ভেবে সে ঢাকা চলে আসে।
তার ভাষ্যমতে সে এখন ভালো থাকতে চায়।সে নেশা ছাড়তে চায়।নেশার কারনেই তাকে এতো সব কুকর্ম ও খারাপ কাজ করতে হয়েছে।

সে সবাইকে জানাতে চায় যাতে তার মতন কেউ যেন  নেশাগ্রস্ত না হন, তাহলে তারও পরিনতি তার মতন হবে।এ কারনে সে জেবিএসবি অনুষ্ঠানে এসে নিজের পাপ কাজের স্বীকারোক্তি দিতে এসেছে।

আমার কিছু পর্যবেক্ষণ :

১।মাদকাসক্তি, অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রথম পাঠ নেওয়া  প্রভৃতি হয় বখে যাওয়া,বিপদগামী বন্ধুদের চাপ ও প্রলোভনের কারনে। মাসুদ রানার ক্ষেত্রেও তেমনটি ঘটেছে।

মা- বাবা যদি সন্তানের উপর খবরদারী না করেও সঠিক নজরদারী রাখে, তাহলে মন্দ বন্ধুদের সঙ্গ থেকে সন্তানদের দূরে রাখতে পারেন।

২। প্রকাশ্য রাস্তায়,যানবাহনে মানুষের সর্বস্ব লুন্ঠিত হবে,মানুষ খুন হবে এর দায়ভার রাস্ট্র,পুলিশ প্রশাসন এড়াতে পারে কি? নিরাপদে চলাফেরা করার নিশ্চয়তা ও কি নাগরিকদের থাকবে না?

৩। মানুষ খুন হয়ে লাওয়ারিশ লাশ হিসেবে দাফন হবে,তার খুনের অপরাধীরা ধরা ছোয়ার বাইরে থাকবে,আমরা কি এমন রাস্ট্র,সমাজ চেয়েছিলাম? 

এ ভাবে অপরাধীরা ছাড় পেয়ে গেলে,বিচার ও শাস্তি না পেলে অপরাধীরা আরো ভয়ঙ্কর অপরাধ করবে,আমরা কি সেটিই আমাদের দেশে দেখছি না?

৪। মোবাইল,ফেইসবুক,ইন্টারনেটের অপব্যবহার ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে।
এ সুযোগে কিছু প্রতারক চক্র তৈরী হয়েছে,যারা প্রেমের ফাদ ফেলে অর্থ হাতিয়ে নেয় বা মিথ্যে প্রলোভন দেখিয়ে নারীদের সর্বনাশ করে থাকে।

যাকে চাক্ষুষ দেখিনি,যার সমন্ধে বাস্তবে কোন কিছু জানা শোনা হয়নি, এমন কারো সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পড়ার মতন বোকামি অহরহ হচ্ছে।

শুধু তাই নয় সে অচেনা পুরুষের টানে নিজ পরিবার ছেড়ে দূরের এক অজানা,অন্ধকার পথে ছুটে যেতে ও দেখছি অনেককে।এমন হটকারী, অর্বাচীন সিদ্ধান্ত কেমনে তারা নেয়? এত অঘটন ঘটছে তা দেখেও কি এই কিশোরী তরুনীরা শিখবে না? গার্জিয়ানরাও আর কত দিন এ রকম বেখেয়াল থাকবেন?

৫। অনেকেই সিগারেটকে মাদক মনে করেন না( তাহলে যে অনেক শিক্ষিত,ভদ্রজনেরাও  ও মাদকাসক্ত বলে চিন্হিত হবেন)।

কিন্তু সিগারেট হচ্ছে সকল মাদকের মা।এ থেকেই জন্ম নেয় অপরাপর মাদকাসক্তির।ক্লিনিকে ভর্তি মাদকাসক্তরা অন্য সব মাদক ছেড়ে দিতে বাধ্য হন।কিন্তু তারা কিছুতেই সিগারেট ছাড়তে রাজী হন না।
কাকুতিমিনতি করে বলেন স্যার সবই তো ছেড়ে দিয়েছি,আমাদের কি বাচতে দেবেন না,অন্তত সিগারেট খেতে দিন।

তাই সিগারেট নেশাকে হাল্কা করে দেখার সুযোগ নেই।

৬। এখানে বর্নিত দুটি খুনই হয়েছে নেশার টাকা জোগাড় করার জন্য।
ঐশীর কথা সবার মনে আছে?
এ রকম অনেক চুরি,ছিনতাই, খুন হচ্ছে মাদকাসক্তির কারনে।

দেশের অপরাধের অর্ধেক কমানো যেতো  যদি আমরা মাদকাসক্তির সঠিক চিকিৎসা দিতে পারতাম ও একে প্রতিরোধ করতে পারতাম।

Wednesday, December 14, 2016

সাইকোলজিক্যাল টিপস-২৪

ব্রেইনের " ডিলিট" বাটন আপনার হাতে: একে সঠিক ভাবে ব্যবহার করুণ
..........................................
মন- বাগান মনের মতন সাজান
...............................................
নিউরো সায়েন্সে একটি কথা আছে:neurones that fire together wire together

যে সব নিউরন( স্নায়ু কোষ) এক সঙ্গে জ্বলে উঠে,সে গুলো এক  সঙ্গে ( তারের মতন) জড়িয়ে যায়।তার মানে সে স্নায়ু কোষ গুলো মিলে একটি সার্কিট তৈরী করে।
এ ভাবে যত বার সে সার্কিট উদ্দীপ্ত হবে,তত শক্তিশালী হয়ে উঠবে সে কানেকশন/ সার্কিট।

কথায় আছে প্রাকটিস মেকস ম্যান পারফেক্ট
এ প্রবাদের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ উপরোক্ত সূত্র।

নিউরো সায়েন্সে আরো একটি কথা আছে " use it or loose it"। একে ( ব্রেইনের  যে কোন অংশ) ব্যবহার করো,না হলে এটি হারাবে।
( এ বিষয়ে আমার " মন ও মানুষ" বইয়ের ১ম খন্ডের ১ম অধ্যায়ে একটি আলাদা লেখা রয়েছে,আগ্রহী পাঠক পড়ে দেখতে পারেন)।

আমার বইয়ের সেই অংশের কিছু উদ্বৃতি দিচ্ছি:

"...  অনেকটা এ রকম তোমাকে প্রচুর সম্ভাবনা ও সুপ্ত শক্তি দেওয়া হলো। এখন  তোমার কাজ হচ্ছে,এ গুলোর সঠিক ব্যবহার ও অনুশীলন করে নিজেকে ইচ্ছেমতন বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগ্য ও দক্ষ করে গড়ে তোলা।... কে কোন ক্ষেত্রে তার দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে পারবে, পারঙ্গম হবে,তা নির্ভর করে সে কিশোর / কিশোরী কোন ক্ষেত্রটিতে বেশী আগ্রহ নিয়ে চর্চা ও অনুশীলন করে।
..... যে সব নিউরন ও তার সংযোগ গুলো বেশী বেশী ব্যবহৃত হবে সে গুলো টিকে যাবে এবং যে গুলোর কম ব্যবহার  হবে বা হবে না সে গুলো শুকিয়ে গিয়ে ঝরে পরে যাবে।

তাই যে কিশোর কিশোরী সঙ্গীতে মনোনিবেশ করবেন; খেলা ধুলার চর্চা বেশী করবেন; লেখা পড়া ও একাডেমিক চর্চা বেশী করবেন তাদের ক্ষেত্রে ঐ বিশেষ নিউরন ও তার সংযোগ গুলো শক্ত,মজবুত ও পোক্ত হবে(hard wired)।
অন্য দিকে যারা অলস বিছানায় শুয়ে থেকে ভিডিও গেমস খেলে সময় কাটাবে তাদের ক্ষেত্রে শুধু ঐ সব সার্কিট গুলো টিকে থাকবে, বাকী গুলো দুর্বল হয়ে পড়বে।"



তবে এই শক্তিশালী কানেকশন পেতে হলে পুরনো,অকেজো স্নায়ু সংযোগ গুলোকে কেটে- ছেটে বাদ দিতে হবে,যাতে নতুন জায়গা পাওয়া  যায়।একে আমরা বলি " synaptic pruning"।

মনে রাখবেন আমাদের ব্রেইন একটি বাগান
বাগান:
তবে এ বাগানে ফল,ফুল গজে উঠে না,কিন্তু গজে উঠে স্নায়ু কোষ,স্নায়ু সংযোগ।

এই কানেকশন বা সংযোগের মাধ্যমে, নিউরো ট্রান্সমিটার গুলো,যেমন ডোপামিন,সেরোটনিন প্রভৃতি চলাচল করে।

মাইক্রো গ্লিয়াল কোষগুলো(glial cell)   ব্রেইনে মালি হিসেবে কাজ করে।এ গুলো নির্দিষ্ট স্নায়ু কোষে সিগনাল পাঠানোকে দ্রততর করে।

তবে অন্য গ্লিয়াল কোষগুলো পরিত্যক্ত আবর্জনা সরিয়ে ফেলার কাজ করে(waste remover)।
এগুলো আগাছা উপড়ে ফেলা, ক্ষতিকর বস্তু বিনষ্ট করা,মৃত ঝড়ে পরা পাতা জড়ো করার কাজ করে।

এক কথায় আপনার মন- বাগানের " মালি" হচ্ছে এই গ্লিয়াল কোষগুলো

তবে প্রশ্ন হচ্ছে এ গুলো কি ভাবে জানে কোন সংযোগ গুলো ছেটে বাদ দিতে হবে?

গবেষনায় দেখা  গেছে যে সব স্নায়ু সংযোগ গুলো  কম ব্যবহৃত হয়, সে গুলো protein c1q দ্বারা  চিন্হিত হয়( মার্ক)।

মাইক্রো গ্লুিয়াল কোষ গুলো যখন এই মার্ক গুলো চিন্হিত করতে পারে, এ গুলো তখন সে প্রোটিন এর সঙ্গে যুক্ত হয় ও সে গুলো ধ্বংস করে।

তারা অব্যবহৃত  সংযোগ  গুলো ছেটে বাদ দেয়।

এ ভাবে আমাদের ব্রেইন নিজের জন্য নতুন জায়গা করে নেয়,যাতে নতুন ও শক্তিশালী সংযোগ তৈরী করে নিতে পারে।ফলে আমরা নতুন বিষয়ে শিখতে পারি।

ঘুম দরকারী:

কখনো কি আপনার মনে হয়েছে ব্রেইন জ্যাম হয়ে রয়েছে?
নতুন চাকরির শুরুতে,কোন প্রজেক্ট এ গভীরতা মনোযোগ দেওয়ার সময় আপনার ঘুম ভালো নাও হতে পারে।এ ভাবে আপনার ব্রেইন পূর্ন থাকতে পারে,জ্যাম লেগে যেতে পারে।

আপনি যখন নতুন জিনিষ শিখেন,তখন আপনার ব্রেইন নতুন কানেকশন তৈরী করে।কিন্তু তখন সে গুলো তত পোক্ত থাকে না।সে গুলো হয় এডহক কানেকশন।

আপনার ব্রেইনকে  ঐ সংযোগের অনেক অংশ কেটে-ছেটে বাদ দিতে হয় ও  শক্তিশালী পথ তৈরী করতে
হয়।
এটি তেমনটি করে যখন আপনি ঘুমে থাকেন। 

ঘুমের সময় আপনার ব্রেইন মন বাগানের ঝরা পাতা,আবর্জনা সরিয়ে ফেলে।
তখন স্নায়ু কোষ ৬০% এর মতন কুচকে যায়( shrinks), যাতে জায়গা তৈরি হয়।
তখন গ্লিয়াল মালি এসে সে পরিত্যক্ত অংশ ছেটে বাদ দিয়ে বাগান পরিস্কার রাখে।

কখনো কি সারা রাত ভালো ঘুমের পর আপনার মনে হয়েছে যে আপনি স্পষ্ট ভাবে চিন্তা করতে পারছেন, দ্রত চিন্তা করতে পারছেন?

এমনটি হয় কেননা, সারা রাত মন- বাগানের আবর্জনা পরিস্কার হওয়াতে যথেস্ট জায়গা তৈরি হয়েছে।আপনি নতুন তথ্য নির্মাণ করতে পারছেন।

নিদ্রা বন্চিত ব্রেইন দিয়ে চিন্তা করা মানে, ঘন জঙ্গলে দা,কুড়াল দিয়ে ঝোপ ঝাড় কুপানো,যেখানে পথ ভালো করে দেখা যায় না,আলো সব জায়গায় পৌছায় না।

তাই তখন চিন্তা পথ খুজে পায় না,দিকহারা মনে হয়।

এ কারনে দুপুরে ১০-২০ মিনিটের হাল্কা ঘুমের দরকার।

পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া ব্রেইন হচ্ছে সেন্ট্রাল পার্কের মতন যেখানে পথ পরিস্কার,এক পথের সঙ্গে অন্য পথের সংযোগ স্পষ্ট,গাছ গুলো সঠিক জায়গায় স্হাপিত,যা দূর থেকেও দেখা যায়।

এমনটি হচ্ছে বল বর্ধক,তেজোবর্ধক,পুষ্টিদায়ক  আবহাওয়া, চিন্তা যেখানে অবাধে ছুটতে পারে,বৃদ্ধি পেতে পারে।


যা গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন সে দিকে গভীর মনোনিবেশ করুন :

যে সংযোগ গুলো আপনি কম ব্যবহার করছেন, সে গুলো ব্রেইন  " রি- সাইক্লিং " এর জন্য মার্ক করে রাখে।

আর যে গুলো আপনি নিয়মিত ব্যবহার করেন সে গুলোতে পানি ঢালা হয়,অক্সিজেন দেওয়া হয়।তাই সেগুলো শক্তিশালী হয়।

যদি আপনি সারা ক্ষন ভিডিও গেম খেলেন,পড়া শোনা কম করে,ভেবে দেখুন আপনার ব্রেইন রি সাইক্লি এর জন্য কোন  স্নায়ু সংযোগকে মার্ক করবে?

যদি আপনি কর্ম স্হলে/সংসারে  অন্যের সঙ্গে প্রতিদ্বন্ধিতা,কলহে লিপ্ত থাকেন, নিজের মূল কাজ বাদ রেখে বা প্রজেক্ট এ কম মনোযোগ দিয়ে; 

তাহলে আপনার ব্রেইন "  প্রতিশোধ" নেওয়ার স্নায়ু সংযোগকে বেশী শক্তিশালী করবে। 
প্রজেক্ট এ কম উদ্ভাবনী চিন্তা আসবে, সম্পর্ক উন্নয়নে কম সহযোগীতার  মনোভাব থাকবে।

যা গুরুত্ব পূর্ন, সেগুলোর দিকে বেশী মনোযোগ দিন।

আপনার মন বাগানের মালি অপ্রয়োজনীয়, গুরুত্বহীন সংযোগ  গুলো ছেটে বাদ দিয়ে, আপনার কাঙ্খিত স্বপ্নগুলোর বীজে জল দেবে,অক্সিজেন দেবে; দ্রত বেড়ে উঠতে,শক্তিশালী হয়ে বেড়ে উঠতে অনুুকুল আবহাওয়া দেবে।
     এ ভাবে

   মন বাগানকে মন মতন সাজান

Monday, December 5, 2016

#সাইকিয়াট্রিস্টএরজার্নাল-৭

উত্তম জীবন:১০টি গাইড লাইন
............................................

(আমার লেখা "উদ্বেগ-টেনশন: মনো- বৈজ্ঞানিক সমাধান" বই থেকে  নির্বাচিত কিছু অংশ তুলে ধরবো)

১। আশাবাদের চাষাবাদ(cultivate hope): আশাবাদী হওয়া:
আশার বাগান যেন ফুলে-ফলে ভরা থাকে
.............................
আশা বা ভরসা হচ্ছে কাঙ্খিত কোন কিছুর ব্যাপারে প্রত্যাশা করা।

আশাবাদী হলে ভবিষ্যতের আনন্দ- সুখের ব্যাপারে মনে পূর্ব অনুমান কাজ করে  ও সে বিষয়টি অর্জন করতে পারার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে বিশ্বাস জন্মে।

মনো বিজ্ঞানী এরিকসন তার " মানব জীবন বিকাশ" যে তত্ব দাড় করেছেন তার ভিত্তিমূল ছিল এই "আশা"।

শিশুর এই আশা প্রাপ্ত বয়সের " বিশ্বাসের" জন্ম ভূমি।

মানব জীবনে " আশা" ও " বিশ্বাস"  হচ্ছে নিয়ামক শক্তি

আশা মনের ক্ষত নিরাময়ে ভূমিকা রেখে থাকে; মনে শক্তি,সাহস জোগায়; সার্বিক ভালো লাগা বোধ সৃষ্টি করে,; যা শারিরীক- মানসিক উভয়বিদ অসুস্হতা থেকে আরোগ্য লাভে আমাদের সমর্থ করে তোলে।

যে ডাক্তারের উপর মানুষের আস্হা রয়েছে তিনি যে ঔষধই দেন না কেন, অনেকে তাতে সুফল পান।একে আমরা বলি placebo effect।

এর মূল কারন রোগীদের আশাবাদ  যে দক্ষ,অভিজ্ঞ ডাক্তার তাকে চিকিৎসা দিয়েছেন তাই তিনি ভালো হয়ে যাবেন।

পীর,কবিরাজী,টোটকা ঔষধে ভালো হওয়ার কারনও এই বিশ্বাস বা আশাবাদ।

ধর্ম বিশ্বাস অকল্পনীয় ঘটনা ঘটাতে পারে

বিশ্বাসের শক্তি "অবিশ্বাস্য"

সঙ্কটের সময় আশাবাদ আমাদেরকে:

সমস্যার চতুর্দিক সঠিক ভাবে দেখতে সাহায্য করে এবং এ সব সঙ্কট,হতাশা,যন্ত্রনা সত্বেও যতটুকু সম্ভব পূর্ন ভাবে জীবন যাপন করতে উদ্বুদ্ধ করে।

গবেষনায় দেখা গেছে, যারা আশাবাদী:

তারা অন্যদের তুলনায় কমই জীবনের চাপে-তাপে পুড়তে পুড়তে নিঃশেষ হয়ে যায়(burn-out);বন্দি জীবনকে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে; গুরুতর ও মারাত্মক রোগ ব্যাধী মোকাবিলা করতে সহায়ক হয়; এমনকি জাহাজ ডুবি মানুষকেও উজ্জীবিত রাখে এই " আশাবাদ"।

এক কথায় জীবনের বড় বড় সঙ্কট,বাধা অতিক্রম করতে  আশাবাদ আমাদের সামর্থ্য জোগায়।

অনেকে ছোট বেলা থেকেই আশাবাদী, তারা জন্ম সৌভাগ্যবান।অনেকে জন্ম আশাবাদী নন।আবার কেউ কেউ জীবনে এমন ভয়ঙ্কর,নৈরাশ্যজনক অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন যে তাদের আশাবাদের ভিত্তিমূল গুড়িয়ে যায়,তারা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পরেন।
তাই আমাদেরকে আশাবাদের " চাষাবাদ" করতে হবে
এবং

আশাবাদ অর্জন করা যায়।
কি ভাবে:

মানসিক চাপ- পীড়নের নেতিবাচক দিকগুলো যতটএকু সম্ভব কমিয়ে রেখে; বিষয় বস্ত্বটিকে অধিকতর ইতিবাচক আলোকে দেখে; এবং এ বিশ্বাস দৃড় ভাবে মনে রেখে যে

যে কোন ভাবেই হোক আমরা টিকে যাবো,জয়ী হবো।

তবে জীবনে কখনো কখনো অতীব নিষ্ঠুর,নির্মম ঘটনাও ঘটে, যখন হৃদয় ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়।
তখন আমাদের মনে হতে পারে যে স্রষ্টা এমন নিষ্ঠুর কেমনে হতে পারে।বিশ্বাসের সকল ভিত তখন ভেঙ্গে পরতে পারে।

রাব্বী হেরল্ড কুসনার তার "when bad things happen to good people" বইতে এ রকম কষ্ট যন্ত্রনার মধ্যেও বিশ্বাস বজায় রাখার বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।
কুসনার বাইবেল থেকে উদ্বৃতি দেন " আমার সাহায্য আছে মহা প্রভু থেকে,যিনি আসমান জমিন সৃষ্টি করেছেন। "
কুসনার বলেন এখানে বলা হয়নি " আমার দুংখ,কষ্ট মহা প্রভু থেকে এসেছে"। বরং বলা হয়েছে " আমার সাহায্য আছে প্রভু থেকে"।

তার মানে স্রষ্টা কখনো সৃষ্টির অকল্যান করেন না বরং কল্যান করে থাকেন।

তাই ধর্মীয় বিশ্বাস:
আমাদের মন- মননকে সবল, দৃড় রাখে;
এ সব ট্রাজেডি আমাদের জীবনকে যে ভাবে সঙ্কোচিত করেছে বা সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে সে গুলো মেনে নিতে সাহায্য করে;
তারপরও যে সব ভালো কিছু এখনো রয়েছে সেগুলোকে যথাযথ ও সঠিক ভাবে মূল্যায়নে সাহায্য করে।
# আশার বাগান যেন শুকিয়ে না যায়

গাইড-২:
নতুন অভিজ্ঞতা থেকে সুযোগ গ্রহন করা(take opportunities from new experiences):

আমাদের বিকাশ অব্যাহত থাকে নিত্য দিনের নতুন/অভিনব ধরনের অভিজ্ঞতা সমূহকে শক্ত করে আকড়ে ধরার উপর ভিত্তি করে।

প্রাথমিক স্কুল থেকে প্রতিটি পরীক্ষায় আমরা নতুন কিছু শিখি।
কৈশোরকাল হচ্ছে একটি সম্পূর্ন নতুন,আনকোরা জীবন।
অনেক কিছুই তখন তরতাজা চ্যালেন্জ।

যতবার আমরা একেকটি চ্যালেন্জ অতিক্রম করে ওস্তাদি দেখাতে পারি,ততবারই আমরা  জীবনের সামনে এগিয়ে যাই

আরো আনন্দ ও সৃজনশীলতার সঙ্গে

কেউ সহজাত ভাবে  অধিকতর ঝুকি নিতে তৈরী থাকে;
আবার অন্যরা হয়তো থাকে ভীত,শঙ্কিত( কোন মহিলা হয়তো ৫৫ বছর বয়সেও নতুন কোন নাচ শিখতে উল্লসিত আগ্রহ দেখায়)।

অনেকেই স্হবির,নিশ্চল, নিষ্ক্রিয়,নিরুদ্যম জীবনে আটকে থাকেন।

অথচ নতুনের প্রতি, অগ্রসরমানতার প্রতি, প্রগতি,আধুনিকতা ও বিজ্ঞান মনস্কতার প্রতি চিত্ত,মন উন্মুখ থাকলে:

জীবন আরো সমৃদ্ধ হতে পারে;
আরো বর্নিল,উজ্জ্বল,আনন্দময় হয়ে উঠতে পারে।
কারন :
এতে আমাদের অভিজ্ঞতার ভান্ডার সমৃদ্ধ হয়,পূর্ন হয়;
আমরা আরো দক্ষ,পরিশীলিত,প্রাজ্ঞ হয়ে উঠি।

ফলে জীবনের  ঘাত- প্রতিঘাত, চাপ- পীড়নকে মোকাবেলা করা সহজ হয়।

যে সব ভিন্ন ধর্মী ও চ্যালেন্জিং সেগুলোর অভিজ্ঞতা আমাদের জীবনকে ভিন্ন ভাবে দেখার, বোঝার,জানার ও জয় করার পথ দেখায়।

জীবনে চ্যালেন্জ, বিপদ, বাধা,প্রতিরোধকে মোকাবিলার মাধ্যমে, আমরা অপ্রীতিকর পরিস্হিতির ক্ষেত্রে যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ও অনুভূতির জন্ম হয় সেগুলেকে ভালো ভাবে ম্যানেজ করতে শিখি।
( আজ এতটুকুই)