আবেগীয় বুদ্ধিমত্ত্বা(ইমোশনাল ইনটেলিজেন্স)ঃসফলতার মূল চাবিকাঠি
পর্ব-১ঃ
মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব।কিন্তু কেন সেরা? প্রধানত একারনে যে সকল প্রানীর চেয়ে মানুষ বুদ্ধিতে সেরা। মানব সমাজে বুদ্ধিমানদের বেশ কদর রয়েছে। মা-বাবারা তাদের সন্তান যে খুব মেধাবী (বুদ্ধিমান) সেরকম সার্টিফিকেট জোগাড় করার জন্য হেন " হীন পন্থা " নেই তা অবলম্বন করছে না।জিপিএ -৫ পাওয়ার জন্য নিজেরা কালো মার্কেট থেকে প্রশ্ন পত্র ফাস করে ঐ প্রশ্নের উত্তর জোগাড় করে " প্রিয় মেধাবী (?)" সন্তানদের হাতে পৌঁছে দেন।সাম্প্রতিক কোটা সংস্কার আন্দোলনের ও মূল যুক্তি ছিল সব চাকরির মাপকাঠি হবে " মেধা"।
কিন্তু আসলেই কি বুদ্ধিমত্বা সফল জীবনের চাবিকাঠি?
মনোবিজ্ঞানীরা বুদ্ধিমত্তা, সফলতা ও সুখী হওয়া নিয়ে প্রচুর গবেষণা করেছেন। বর্তমানে জানা গেছে শুধু মাত্র একাডেমিক বুদ্ধিমত্তা দিয়ে সফল হবেনই এর নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না।গবেষণায় প্রমানিত যে জীবনে সফলতার মূল চাবিকাঠি হচ্ছে " আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা" বা ইমোশনাল ইনটেলিজেন্স।
প্রাক-ভাবনাঃ
কিছু ঘটনার উল্লেখ করছি -
(১)এক বালক পিস্তল নিয়ে ছিনতাই করতে গিয়ে জনতার হাতে ধরা পরে।পুলিশী জিজ্ঞাসায় সে জানায় স্কুলে তার সঙ্গী সাথীরা তাকে অবজ্ঞা, অবহেলা, অপমান করতো।সেও যে একজন "বীর" এটি প্রমাণ করতে সে এই দুঃসাহসিক কাজ বেছে নেয়।(২) আমেরিকায় ১২ বছরের নীচের শিশুদের গুলিতে যারা মারা যায় তাদের ৫৭% হচ্ছে ঐ শিশুদের আপন মা- বাবা।শিশুদের এরকম উন্মদ আচরণের কারন অতি ছোট খাট ঘটনা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সেগুলো হচ্ছে সন্তানদের উচ্ছৃঙ্খল আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা।যেমন - মাত্রাতিরিক্ত টিভি, মোবাইল দেখতে না দেওয়া।আমাদের দেশে ও কিছু আহ্লাদে সন্তান তাদের মা-বাবার কাছে নানা অন্যায় আবদার করে থাকে ( মোটরসাইকেল বা নতুন মডেলের গাড়ি কিনে দাও)। বারবার এমন আবদার মেটাতে না পারলে "সোনার ছেলেরা/মেয়েরা" ক্ষিপ্ত হয়ে ধ্বংসাত্মক কাজ করে থাকে।
(৩) ভার্সিটিতে এক নবাগত ছাত্র তার সিনিয়র "বড় ভাইকে" সালাম দেননি। সিনিয়র ভাই ক্ষুব্ধ হয়ে তার সাঙ্গ পাঙ্গ নিয়ে ঐ " বেয়াদব(?) " ছাত্রকে আদব- কায়দা শেখানোর জন্য প্রহার করে তার হাত পা ভেঙে হল থেকে বের করে দেয়
উদাহরণের আর ফিরিস্তি বাড়াচ্ছি না। উপরোক্ত আগ্রাসী আচরণ গুলো কেন ঘটলো বা ঘটে? কেন মানুষের মধ্যে হঠাৎ তীব্র আক্রমনাত্বক আচরণ এরকম বেপরোয়া হয়ে উঠে? কেন বুদ্ধিমান মানুষ নিজের অর্বাচীন, অমানবিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না?
আমাদের পরিবার, সমাজে এ ধরনের নৃশংস, আক্রমনাত্বক আচরণ বর্তমানে অহরহ ঘটছে। সমাজে যেন আগ্রাসী আচরণের "সুনামি " চলছে।
মনোবিজ্ঞানীরা দীর্ঘ দিন ধরে মানুষ কেন মাঝে মাঝে এমন "সেন্সলেস আচরণ " করে তার কারন খোজার চেষ্টা করছেন।
ব্রেইন মেকানিজমঃ
এই যে ক্রোধের "অনিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ " - এর উপর গবেষণা করতে গিয়ে স্নায়ু বিজ্ঞানীরা ব্রেইনের কিছু রহস্য উন্মোচন করতে পেরেছেন। যখন আমরা চিন্তা করি, অনুভব করি, কল্পনা করি বা স্বপ্ন দেখি তখন ব্রেইন কোষগুলো কিভাবে অপারেট করে সে বিষয়ে প্রচুর তথ্য জোগাড় হয়েছে। আরো জানা গেছে কিভাবে ব্রেইনের " আবেগীয় কেন্দ্র গুলো " ক্রোধ সৃষ্টি করে বা কান্না সৃষ্টি করে।
আরো জানা সম্ভব হয়েছে ব্রেইনের আবেগের সেই প্রাচীন আবেগীয় কেন্দ্র গুলো কেন আমাদের যুদ্ধে লিপ্ত হতে প্ররোচিত করে ভালোবাসার প্রনোদনা জোগায়।
এসব জানার ফলে ব্যক্তিক বা সামস্টিক ভাবে আমাদের যে "ইমোশনাল ক্রাইসিস " সেগুলো কিভাবে মোকাবেলা করা যাবে সে পথ,পন্থার খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। বিজ্ঞান এখন মনস্বতাত্তিক এসব " জরুরি ও হতবুদ্ধিকর" প্রশ্ন গুলোর উত্তর দিতে সক্ষম হয়েছে।
বিজ্ঞানের এই সর্বশেষ তথ্য গুলো বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আমাদের " প্রাচীন সংকীর্ণ ধারনাকে" চ্যালেঞ্জ করছে। প্রাচীন ধারণা হচ্ছে বুদ্ধিমত্তা বংশধারার ফল এবং সেজন্য জীবন অভিজ্ঞতা দিয়ে সেটি পরিবর্তন করা সম্ভব না।আরো মনে করা হতো যে এসব "অর্জিত ক্ষমতা বা প্রবনতা" (এপটিচিউড) দ্বারা আমাদের "ভাগ্য " অনেকাংশে পূর্ব নির্ধারিত। এসব কারনপ আমাদের সন্তানদের মধ্যে কিসব পরিবর্তন এনে তাদের জন্য আরো উন্নত জীবন এনে দেওয়া যায়, সেসব নিয়ে তেমন মাথা ঘামানো হতো না।আমরা এ প্রশ্নের ও সঠিক উত্তর জানতাম না কেন একজন "অতি মেধাবী " জীবনে তেমন কিছু করতে পারে না অথচ মোটামুটি বুদ্ধিমত্তার একজন কপন আশ্চর্য্যজনক সফলতা পেয়ে যায়।
বর্তমানে এসবের উত্তর জানা গেছে, আর তা হচ্ছে -"আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা" বা ইমোশনাল ইনটেলিজেন্স। আবেগীয় বুদ্ধিমত্তায় থাকে ঃ আত্ম -নিয়ন্ত্রণ (সেল্ফ কন্ট্রোল ; সতেজতা ও উদ্দীপনা ;কোন লক্ষ্য অর্জনে "লেগে থাকার" গুন বা অটল থাকার গুন; এবং নিজকে মটিভেট করার ক্ষমতা।
আশার কথা এসব গুনাবলী বা দক্ষতা আমরা আমাদের সন্তানদের শেখাতে পারি (যেখানে বুদ্ধি হয়তো বাড়ানো সম্ভব নাও হতে পারে) । এভাবে আমরা তাদের জীবনে সফল হওয়ার উন্নততর "সুযোগ " করে দিতে পারি ( তাদের বংশগত বুদ্ধিমত্তা যে পর্যায়েরই হোক না কেন)।
( পর্ব -২ঃআগামীকাল(
Saturday, September 29, 2018
সাইকিয়াট্রিস্ট এর জার্নাল
Wednesday, September 26, 2018
মানসিক চাপের শহর ঢাকা
যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা জিপজেট এর তালিকা অনুযায়ী ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে মানসিক চাপের শহর।এতে খুব বেশি অবাক হওয়ার কিছু নেই। কেননা মানসিক চাপ সৃষ্টির অসংখ্য উপাদান ঢাকা শহরে বিদ্যমান।
ঢাকা শহর একটি মেগা সিটি। বিশ্ব ব্যাংক এর তথ্য অনুযায়ী এর জনসংখ্যা ১ কোটি ৮০ লক্ষ, যা ২০৩৫ সনে দ্বিগুণ হয়ে সাড়ে তিন কোটিতে দাড়াবে। এতো ঘনবসতি পূর্ণ শহরে নাগরিকের জরুরি প্রয়োজন মেটানো চারটি খানি কথা নয়
।দিনে দিনে নিত্য ব্যবহার্য পন্যের মূল্য বাড়ছে, গ্যাস, বিদ্যুত,পানির যেমন অভাব রয়েছে, তেমনি এসবের দামও দিন দিন বাড়ছে। ফলে সাধারন মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশ বিশ্বে দুরুত ধনী হওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় এক নম্বরে স্হান করে নিয়েছে। তার মানে প্রবৃদ্ধির সিংহভাগ চলে যাচ্ছে গুটিকয়েক ধনী ব্যক্তিদের হাতে, গরীব আরো গরীব হচ্ছে।
এই আর্থিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্য ঢাকা শহরে নগ্ন রূপে আবির্ভূত হয়েছে,যা মানসিক চাপের অন্যতম কারন।
এছাড়া ঢাকার শব্দ দূষণ, বায়ু দূষণ, ট্রাফিক জ্যাম, জলাবদ্ধতা, মশা ও মশাবাহিত রোগ,গন পরিবহনের অপ্রতুলতা, ধোঁয়া, ধুলো, ডাস্টবিনের উপচে পরা ময়লা, ভেজাল খাবার, হাটার,বিনোদনের জায়গার অভাব - ইত্যাদি অসংখ্য আর্থ -সামাজিক ও অবকাঠামো গত সমস্যা দিন দিন বাড়ছে।
এসবের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মানসিক চাপের পরিমাণ অপরিমেয়।
ঢাকা বর্তমানে আক্ষরিক অর্থেই একটি "অচল" শহরে রূপান্তরিত হয়েছে। ১০ বছর আগে ও ঢাকায় যানবাহনের গতি ছিল ঘন্টায় ২১ কিলোমিটার, যা বর্তমানে প্রায় ৫ কিলোমিটারে নেমে এসেছে। ২০২৫ সনে এ গতি ঘন্টায় ৪ কিলোমিটারে নেমে আসবে।
তারমানে যানবাহনের চেয়ে পায়ে হেটে গন্তব্য স্হানে আগে পৌছানো যাবে।
যানজটের কারনে বছরে ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা ( বিশ্ব ব্যাংক) ।
এর সঙ্গে আমাদের মন- মেজাজ হয়ে পড়ছে খিটখিটে, অস্হির ও অধৈর্য প্রকৃতির। ফলে পরিবার ও সমাজে উত্তেজনা, উগ্রতা ও আবেগ তাড়িত আচরণের হার বেড়ে যাচ্ছে।
এছাড়া খুন,ধর্ষণ, অপহরণ ও মাদকাসক্তি ক্রমশ বেড়েই চলছে। থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন এর সমীক্ষা অনুযায়ী যৌন সহিংসতার দিক থেকে ঢাকার অবস্থান ৪র্থ স্হানে।
অন্য দিকে এসব অনাচার, অবিচার, অপরাধের কোন সুরাহা নাগরিকরা পাচ্ছে না।আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, প্রশাসন, বিচারালয় কোথাও তেমন প্রতিকার পাবে তেমন বিশ্বাস নাগরিকদের মধ্যে নাই। তাই ডিপ্রেশন, অবসাদ,হতাশা বাড়ছে।
আমাদের ব্রেইনে রয়েছে একটি "স্বয়ংক্রিয় নার্ভাস সিস্টেম " (অটোনমিক নার্ভাস সিস্টেম) । এটি আবার দুভাগে বিভক্ত।
একটি হচ্ছে " প্যারাসিমপ্যাথেটিক- যা আমাদের শরীর - মনকে শান্ত, স্হির রাখতে সাহায্য করে।
অন্যটি হচ্ছে " সিমপ্যাথেটিক" বিভাগ - যা আমাদেরকে "উত্তেজিত করে, ইমারজেন্সি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত করে।এর জন্য প্রচুর শক্তি সামর্থ্য একত্রে জড়ো করতে হয়।
মানসিক চাপ আমাদের সিমপ্যাথেটিক সিস্টেমকে সব সময় সক্রিয়, সজাগ ও উত্তেজিত করে রাখে।
এর ফলে উদ্বেগ,উৎকন্ঠা,বিরক্তি, রাগ, ক্রোধ, আগ্রাসী আচরণ যেমন দেখা দিতে পারে তেমনি পরবর্তীতে ডিপ্রেশন বা অবসাদ, হতাশা, হালছেড়ে দেওয়া নিশ্চেষ্ট, অকেজো মানুষ হয়ে দাড়াতে পারে।
সর্বোপরি চাপ যখন দীর্ঘ স্হায়ী হয় তখন শরীর অনবরত শক্তি জড়ো করতে থাকে ও সে শক্তি অহেতুক ক্ষয় হতে থাকে। এভাবে ক্রমাগত শক্তি ক্ষয়ের ফলে শরীরের বিভিন্ন তন্ত্রের গঠন কাঠামোতেও পরিবর্তন সাধিত হয়
।মানসিক চাপ/ পীড়ন এভাবে বিভিন্ন শারীরিক রোগ ও তৈরি করে থাকে। যাকে আমরা " সাইকো- সোমাটিক" ডিসঅর্ডার বলি।
আমাদেরও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য, স্বস্তি যোগ্য, নিরাপদ ও নান্দনিক ঢাকা শহর গড়ে তোলার জন্য স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘ স্হায়ী কর্মপরিকল্পনা এখনই হাতে নিতে হবে।সময় নষ্ট করার মতন সময় আমাদের নেই।
তানাহলে পরবর্তী প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না।
সাম্প্রতিক কোঠা আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন ছিল এই আর্থসামাজিক, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অব্যবস্থাপনা, বৈষম্য ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদ
। যে কোন চাপ,ক্ষোভ ক্রমাগত বাড়তে থাকলে এক সময় এটি বিস্ফোরিত হয় নানা চ্যানেলের মাধ্যমে। চাপের শহর ঢাকা বিস্ফোরিত হয়ে বিধ্বস্ত হওয়ার আগেই আমাদের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
প্রফেসর ডা. মো. তাজুল ইসলাম
প্রফেসর অব সাইকিয়াট্রি
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ঢাকা
ইমেইল ঃdrtazul84@gmail.com
Monday, September 24, 2018
সাইকোলজিক্যাল টিপস -৫১ঃ উচ্চ আত্ম মর্যাদা
পর্ব-২ঃ
উচ্চ আত্মমর্যাদার ভিত্তি হচ্ছে - নিজকে ভালোবাসার যোগ্য মনে করা ও নিজকে সক্ষম মনে করা।
উচ্চ আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন লোকদের বৈশিষ্ট্য ঃ( পর্ব-১ এর পর)
৩। "অন্যদের অন্যায় আচরণ আমি সহ্য করি না"
উঁচু আত্মমর্যাদার একটি লক্ষণ হচ্ছে যে আপনি নিজকে " মূল্য " দেন।
তার মানে অন্যরা তাদের আচরণ, কথা, মন্তব্য দিয়ে কোনভাবেই আপনাকে "নীচে নামাতে " পারে না।
একটি বিখ্যাত উক্তি হলো
-" কেউ আপনার সম্মতি /অনুমোদন ছাড়া আপনাকে অপমান,হেয় করতে পারে না"।
আপনি কি তাদের নেতিবাচক কথা, আচরণকে অনুমোদন দেন,মেনে নেন? আপনি কি অন্যকে আপনাকে ছোট করতে, অপমান করতে অনুমোদন করেন?
তানাহলে কারো পক্ষে আপনাকে অপদস্থ করা, তিরস্কার করার সুযোগ ঘটবে না।অন্যরা কি বললো বা ভাবলো সেটিকে থোরাই কেয়ার করলে আপনার মন ছোট হওয়ার কোন কারণ থাকে না।
আপনার আত্মমর্যাদা উঁচুতে রাখতে চাইলে আপনার "সম্পর্ক গুলোকে "- কঠোর দৃষ্টিতে বিচার করতে হবে।
যদি কোন বন্ধু বা আত্মীয় আপনাকে প্রকাশ্যে হেয়,ছোট, অপমান করতে চায়, তাদের স্মরণ করিয়ে দিন তাদের দৃষ্টি ভঙ্গি, মূল্যায়ন আপনার প্রয়োজন নেই।
এরপর ও যদি দেখেন তারা সম্পর্ক " বিষাক্ত / কদর্য " করে ফেলেছে - সে সম্পর্ক ভেঙ্গে দিন।
যত শীঘ্র আপনি ঐ নোংরা সম্পর্ক থেকে বের হয়ে আসতে পারবেন, তত দুরুত আপনি নিজকে ক্ষমা করে দিতে পারবেন ও নিজের প্রতি দয়ালু হতে পারবেন।
অন্যকে ক্ষমা করে দেওয়া ও অন্যের প্রতি দয়ালু হওয়া ভাল ও মহত্বের লক্ষণ,কিন্তু নিজের প্রতি দয়ালু হওয়া ও নিজকে ক্ষমা করে দেওয়া আরো জরুরী।
( পর্ব-৩ঃ আসছে)
Sunday, September 23, 2018
Tuesday, September 18, 2018
সাইকোলজিক্যাল টিপস-৫০ঃ উচ্চ আত্ম মর্যাদা বোধের ভিত্তি হচ্ছে দুটি -১। নিজকে ভালোবাসার যোগ্য মনে করা এবং ২।নিজকে সক্ষম ভাবা
পর্ব-১ঃ
আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচা বর্তমানে কঠিন।
যদি আপনি সারাদিন বিভিন্ন দুঃশ্চিন্তা নিয়ে থাকেন তখন নিজের সম্বন্ধে উচ্চ ধারণা পোষণ করা কঠিন।
যদি প্রায়ই আপনি নিজকে নিয়ে কিছু ইতিবাচক ভাবনা না করতে পারেন,দিন দিন আপনার আত্মমর্যাদা বোধ নিম্ন গামী হবে।
যখন তেমনটি হবে আপনার এ নিম্ম ধারনা আপনার জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
অন্য দিকে আপনি কিছু "মানসিক স্বভাব " নিজকে শেখাতে পারেন যা আপনার নিজের সম্বন্ধে "ভালো ধারণা " তৈরি করবে।
শুধু তাই নয় আপনাকে নিজেক বারবার মনে করিয়ে দিতে হবে যে আপনি অন্য মানুষের ভালোবাসা ও সম্মান পাওয়ার উপযুক্ত।
প্রতিনিয়ত চেষ্টার মাধ্যমে এ স্বভাব গুলো অর্জন করা সম্ভব।
তেমন কিছু মনোগত স্বভাব ঃ
১।"যে বস্তু /বিষয় আমার নাই, আমি সে বিষয় /বস্তু নই"
বর্তমানের পুঁজিবাদী ও ভোগবাদী সমাজে আমরা বৈষয়িক অর্জন বা বস্তু গত অর্জনের সঙ্গে নিজের আত্মপরিচিতিকে যোগ করে নেই।
আপনার বস্তু গত অর্জন, জৌলুশ থাকলে তা উপভোগ করবেন তাতে দোষের কিছু নাই।কিন্তু যে বস্তু আপনার নেই আপনি কোনভাবেই সে বস্তু নন।
ভাল গাড়ি, সম্পর্ক বা উচ্চ বেতনের চাকরি নেই মানে এই নয়, আপনার " মূল্য " কমে গেল,
যদি না আপনি নিজের মূল্য এগুলোর সঙ্গে বেধে না দেন।
টাকা আসে আবার চলেও যায়,সম্পর্কে চিড় ধরে বা ভেঙে যায়,বিলাস দ্রব্য নষ্ট হয়ে যায়- এটিই প্রকৃতির নিয়ম।
তাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে এসব পার্থিব জিনিসের সঙ্গে নিজের আত্মপরিচিতকে জড়িয়ে না দেওয়া।
আমি গাড়ীওয়ালা,বাড়ীওয়ালা,টাকাওয়ালা- এসব কারো কোন সম্মান জনক আত্মপরিচিতি হতে পারে না।
কেননা যখন এগুলো আপনার হবে না বা হলেও তা হারিয়ে যাবে, তখন আপনার নিজকে নিঃস্ব মনে হবে ও নিজের পরিচিতি ও সম্মান সঙ্কটে পড়বে।
তারচেয়ে বরং কোন শখ বা দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করুন, যা একান্ত আপনার নিজের হবে ও কখনো হারিয়ে যাবে না।
আরো ভাল হয়, যা চান তার জন্য সংগ্রাম করা , যা দীর্ঘ স্হায়ী সুখ ও সম্মান আনবে তেমন কিছু অর্জনের চেষ্টা করা।
২। "আমি নিজের প্রতি আগ্রহী "
উচ্চ আত্মমর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তি অন্যরা তার প্রতি মনোযোগী,আগ্রহী কিনা তার ধার ধারে না।
বরং তারা নিজেরা নিজের প্রতি আগ্রহী।
এমন মাইন্ড সেট তৈরি করুন যা নিজের প্রতি উচু্ৃৃ্ ধারণা পোষণ করে।
আপনি খুজে দেখলে অবাক হবেন যে কত অসংখ্য বিষয়ে আপনি দক্ষ, গ্রহনযোগ্য ও সমাদৃত।
( পর্ব-২ আসছে (
বউ কথনঃ১
খবর ঃঅর্থমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন প্রতি ভরি স্বর্নের জন্য এক হাজার টাকা সরকারকে দিতে হবে
বউঃ হেরে দুহাত তুইল্যা বইয়া থাকতে কও
( পুরুষের চেয়ে নারী বেশি সাহসী - বিশেষ করে নিজের "প্রিয় জিনিস " (স্বর্ন) রক্ষার্থে)
বউ কথনঃ২
বিয়ের পর থেকে বউ প্রায়ই এই অমৃত বানী স্মরন করিয়ে দেয়
বউঃ তোমার উচিত আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া করা
(আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই)
জিগাও কারন কি?
(আমার বলার আগেই)
কারন তুমি এতো ভালো ও সুন্দরী বউ পেয়েছো
( মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন)
Friday, September 14, 2018
সাইকিয়াট্রিস্ট এর জার্নাল -২৭ঃ
পৃথিবী থেকে "সত্য " হারিয়ে যাওয়ার সত্য কাহিনী
এটি গল্প নয়-সত্য
( নগ্ন মেয়ে মানুষের ছবি দেখে আমার রুচি নিয়ে গালমন্দ করবেন না অথবা ঘৃনায় মুখ ঘুরিয়ে ফেলবেন না বা পোস্ট না পড়ে চলেও যাবেন না)
কেননা - এটি পৃথিবী বিখ্যাত শিল্পকর্ম-নগ্ন সত্য এরকমই,যা আমরা দেখতে ভয় পাই
যেভাবে পৃথিবী থেকে সত্য হারিয়ে গেলঃ
১৯ শতকের লোক কাহিনী অনুযায়ী ঃ
এক দিন "সত্য " ও " মিথ্যার" সাক্ষাৎ হয়।
মিথ্যা সত্যকে বলে " আজকের দিনটি কত চমৎকার "।
সত্য মিথ্যার কথা বিশ্বাস করতে পারে না।
তবু সংশয় নিয়ে আকাশের দিকে তাকায়।সত্য দেখে দিনটি আসলেই চমৎকার।
সত্য দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে তা ঠিক, দিনটি সুন্দর।
তারা একত্রে অনেকক্ষণ সময় কাটায়।
অবশেষে তারা একটি কুয়োর কাছে যায়।
মিথ্যা সত্যকে বলে " বেশ পরিস্কার, স্বচ্ছ, সুপেয় পানি "।
এবারও সত্য সন্দেহ নিয়ে পানির স্বাদ নিয়ে দেখে সুমিস্ট ও পরিস্কার পানি।
তারা কাপড় চোপর খুলে নগ্ন হয়ে গোসল করতে নামলো।
হঠাৎ করে মিথ্যা পানি থেকে উঠে এলো এবং সত্যের কাপড় চোপর পরিধান করে দৌড়ে পালিয়ে গেল।
রাগান্বিত সত্য কুয়ো থেকে উঠে মিথ্যার পিছনে দৌড়াতে লাগলো তার কাপড় চোপর ফিরে পাওয়ার জন্য।
পৃথিবী " সত্যের" এই "নগ্ন " অবস্থা দেখে ঘৃনা ও ক্রোধে এর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল।
বেচারা সত্য কুয়োতে ফিরে এলো এবং
তীব্র লজ্জায় এর ভিতর চিরদিনের জন্য লুকিয়ে গেল।
তখন থেকে "মিথ্যা " --"সত্যের পরিধান " পরে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে।
এভাবে মিথ্যা সমাজের প্রয়োজন মিটিয়ে চলছে, যেহেতু পৃথিবী কিছুতেই " নগ্ন সত্যকে" মেনে নিতে রাজি নয়।
(ছবিটি পৃথিবী বিখ্যাত শিল্প কর্ম- "The truth coming out of the well"-- by jean lean Gerome,1896)।
Saturday, September 8, 2018
বিশ্ব আত্মহত্যা দিবস:বিশ্বে প্রতি ৪০ সেকেন্ড একজন আত্মহত্যা করে
২০০৩ সালে ইন্টারন্যাশনাল এসোসিয়েশান ফর সুইসাইড প্রিভেনশন সংস্থাটি গঠন করা হয়(আই এ এস পি)। এ সংস্থার উদ্যোগে ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় প্রতি বছর ১০ সেপ্টেম্বর " বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ " দিবস পালন করা হয়।এ বছর এর থিম হচ্ছে ঃ আত্মহত্যা প্রতিরোধে কাজ করি, এক সাথে।
আত্মহত্যা প্রতিরোধ এখনো বিশ্বের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। পৃথিবীতে প্রতি বছর ৮ লক্ষ লোক আত্মহত্যা করে।তার মানে প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একজন আত্মহত্যা করে থাকে। ২০২০ সালে এ সংখ্যা হবে ১৫ লক্ষ।
১৫-২৯ বছরের মৃত্যুর মধ্যে আত্মহত্যা জনিত মৃত্যু হচ্ছে ২য় সর্বোচ্চ কারণ।
পৃথিবীর সব মৃত্যুর ১.৪% হচ্ছে আত্মহত্যা জনিত।
এছাড়া যতজন আত্মহত্যা করে তার ২৫ গুন বেশি লোক আত্মহত্যার চেষ্টা করে এবং তার চেয়ে ও অনেক বেশি লোক আত্মহত্যা করার চিন্তা করে।
খোঁজ নিলে আপনি আপনার আশেপাশে তেমন কাউকে পেয়ে যাবেন।
প্রতিটি আত্মহত্যার কারনে প্রায় ১৩৫ জন মানুষ তীব্র শোকে ভুগে বা অন্য সমস্যায় ভুগে। তার মানে বছরে ১০৮ মিলিয়ন ( ১০ কোটি ৮০ লক্ষ) লোক আত্মহত্যা জনিত কারনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আত্মহত্যা হচ্ছে - বংশ ধারা,
মনস্তাত্ত্বিক,
সামাজিক, সাংস্কৃতিক
ও অন্যান্য ঝুঁকি পূর্ণ উপাদানের সম্মিলিত ফলাফল।
দারিদ্র্যতা,বেকারত্ব, প্রিয়জন হারানো, তর্ক বিবাদ,আইনগত বা কর্মক্ষেত্রের সমস্যা সহ নানাবিধ সামাজিক, ব্যক্তিগত কারন এর জন্য দায়ী ।
ডিপ্রেশন, মাদকাসক্তি সহ অন্যান্য মানসিক রোগ হচ্ছে এর অন্যতম কারন,যেগুলো চিকিৎসা যোগ্য।
এই দিবসের লক্ষ্য হচ্ছে
১। আত্মহত্যা প্রতিরোধ যোগ্য এ ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টি
২। আত্মহত্যা বিষয়ে শিক্ষা কার্যক্রম বাড়ানো
৩। আত্মহত্যা ও মানসিক রোগ নিয়ে সমাজে প্রচলিত অজ্ঞতা,কুসংস্কার এবং লোক লজ্জা ( স্টিগমা) কমানোর চেষ্টা গ্রহণ ।
এটা কোন অপরাধ নয়,এর জন্য কারো শাস্তি দেওয়া যাবে না( যদিও আমাদের দেশ সহ অনেক দেশে আত্মহত্যা শাস্তি যোগ্য অপরাধ)।
এবারের প্রতিপাদ্য বিষয়ে সবার যৌথ প্রচেষ্টার উপর জোর দেওয়া হয়েছে, কেননা আত্মহত্যা প্রতিরোধে প্রয়োজন বহুস্তর ভিত্তিক, বহুমুখী কৌশলের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা।মনে রাখবেন এ প্রতিরোধে আপনিও একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। আত্মহত্যার আচরণ প্রতিরোধে আপনি প্রতিদিনই অনেক কিছু করতে পারেন।
এ বিষয়ে নিজকে ও অন্যদেরকেঃ
আরো শিক্ষিত করে তুলতে পারেন ;
আত্মহত্যার কারণ ও এর পূর্ব-সতর্কতা বার্তা গুলো কি তা জানতে পারেন;
যারা মনো যাতনায় ভুগছেন তাদের প্রতি দয়া,মায়া, সমবেদনা জানাতে পারেন,
আত্মহত্যা ও মানসিক রোগ নিয়ে প্রচলিত কুসংস্কার এবং লোক লজ্জা দূর করতে সহায়তা করতে পারেন;
ডিপ্রেশন, মাদকাসক্তিসহ অন্যান্য গুরতর মানসিক রোগীদের চিকিৎসা গ্রহনে ভূমিকা রাখতে পারেন।
আত্মহত্যার প্রতিরোধে যেগুলো কার্যকর বলে প্রমানিত সেগুলো নিয়ে কাজ করতে হবে এবং পৃথিবীর যে প্রান্তেই মানুষ জীবন সংগ্রামে লিপ্ত সেখানে তা পৌঁছে দিতে হবে।
আত্মহত্যা প্রতিরোধে সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে ঃ
ইমার্জেন্সি সার্ভিস, পরিবার, কমিউনিটি, পুলিশ, এডুকেটর,মানসিক স্বাস্থ্য কর্মী, সামাজিক সার্ভিস সমূহ,ধর্মীয় নেতা,স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, গভর্নমেন্ট, মাদক চিকিৎসক সহ সামাজিক, ব্যক্তিগত ও সিস্টেম গত কৌশলের একীভূত চেষ্টা।
সর্বোপরি যারা আত্মহত্যার চেষ্টা করে তাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে হবে, কেননা যে জটিল মনোসামাজিক কারনে আত্মহত্যার মনোভাব জাগে তা বুঝতে তাদের মনোবিশ্লেষন প্রয়োজন।
তাদের চিন্তায় থাকে অভাবনীয় অন্তদৃষ্টি ও অনন্য ভাষ্য, (যদিও আমাদের ধারনা এর বিপরীত) । তাদের কগনেটিভ ফাংশনের কিছু অংশে ক্রটি দেখা যায় কিন্তু তাদের রয়েছে মনোজগতের গভীর অন্তঃদৃষ্টি।
আসুন এ দিবসে আমরা শপথ করি, আত্মহত্যা প্রতিরোধে কাজ করবো এক সাথে
প্রফেসর ডা. মো. তাজুল ইসলাম
প্রফেসর অব সাইকিয়াট্রি
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল
ইমেইল ঃ drtazul84@gmail.com
Phone :01715112900
রোগ কাহিনী -৩৩ঃস্যার আপনার এই হাসপাতাল পুরো আমাকে লিখে দিলেও মন ভালো হবে না
কাহিনী সংক্ষেপঃ
রোগীর বয়স ৫১। ২২ বছর বিবাহিত জীবনে কোন সন্তান হয়নি। তার ভাষ্য স্যার এর জন্য আমি দায়ী।
আমার শুক্রাণু মানসম্মত নয় তাই সন্তান হয়নি। তবুও আমার স্ত্রী সব কিছু মেনে নিয়ে সংসার করেছে। বাধ্য হয়ে ১৮ বছর আগে এক মেয়েকে পালক নেই।
৫ মাস আগে আমরা টেস্ট টিউব বেবী নেই। নিজের দোকান বিক্রি করে এ ব্যবস্থা করি।কিন্ত বাচ্চা পেটে আসার পর আল্ট্রা সনোগ্রাম করে ধরা পরে যে বউয়ের জড়ায়ুতে টিউমার।
ডাক্তার বলে জরুরি ভিত্তিতে টিউমার ফেলে দিতে হবে, বাচ্চা সহ না হলে বউয়ের বড় ধরনের ক্ষতি হবে।বাকি সম্পত্তি বিক্রি করে ওপারেশন করাই
।এর কিছু দিন পর ডিস্ক প্রোলাপস এর কারনে বউয়ের দু পা অবশ হয়ে যায়।তিনি শয্যা শায়ী এবং পায়খানা প্রসাব সব বিছানায় করে।বউয়ের এসব কাজ আমাকেই করতে হয়।
এদিকে মেয়ে সারাক্ষণ মোবাইল নিয়ে পরে থাকে। কিছু বললেই উগ্র হয়ে যায়।
ডাক্তার বলছে বউয়ের আবার ওপারেশন করলে হয়তো প্যারালাইসিস ভালো হবে।কিন্তু আমার তো ইতিমধ্যে বাচ্চা ও গেলো সব টাকা ও গেলো
।এখন খাওয়া পড়ারই খরচ হয় না,অপারেশন কেমনে করবো।ব্যবসা বন্ধ, মেয়ের স্কুলের খরচ,বউয়ের পায়খানা প্রসাব সহ যাবতীয় কাজ নিজকে করতে হয়।এমন কপাল আমার কোন ভাই বোনও নেই। আমাকে সাহায্য করার কেউ নেই, কোন সম্পদ ও নেই।
তাই এখন চিন্তায় চিন্তায় ব্রেন কাজ করে না
সারারাত ঘুম হয় না,
সর্বক্ষন আজেবাজে চিন্তা আসে( বউ মরলে আমার কি হবে,আমি মরলে বউয়ের কি হবে),
ক্ষিধে নেই,
ওজন অর্থেক হয়ে গেছে,
মাথা ঘুরে,
মাথায় যেন জ্যাম লেগে গেছে,
মাথায় কোন কাজ করে না।
বউ সারাক্ষণ কাদে,তাকে ছাড়তে পারি না।
কোন ভালো চিন্তা মাথায় আসে না
,মনে হয় আত্মহত্যা করি-
কিন্তু আমি মারা গেলে বউয়ের কি হবে, মেয়ের কি হবে ভেবে কিছু করতে সাহস হয় না।
সারাক্ষণ হাত কাপে,মনে কোন আনন্দ নেই
।স্যার আপনার এই হাসপাতাল আমাকে লিখে দিলেও মনে হয় মনে আনন্দ আসবে না। অথচ গত বছর ও বউকে নিয়ে কক্সবাজার গিয়ে কত আনন্দ করে এলাম
আমি কি করবো স্যার?
এ কেইস হিস্ট্রি থেকে কি শিখবো?
১। এক মেয়েকে পালক নিয়েও ২২ বছর পর নিজ সন্তান নেওয়ার জন্য নিজেদের সহায় সম্বল সব শেষ করে টেস্ট টিউব সন্তান নেওয়া কি সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত ছিল?
২। টেস্ট টিউব সন্তান নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে জড়ায়ুর টিউমার ধরা পরে যা জরুরি ভিত্তিতে বাচ্চা সহ ফেলে দিতে হলো।অথচ যে ডাক্তার টেস্ট টিউব বাচ্চা নেওয়ার কাজটি করলেন তিনি কি পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই এ কাজ করেছে যে ঐ টিউমার ধরা পরলো না? ঐ ডাক্তারের কি দায় নেই?
৩। বিপদ একা আছে না দল বেধে আছে।এখানে ও তাই দেখছি
৪। পরিস্থিতি যত ভয়াবহ হোক মনের জোর থাকলে,সেটি মোকাবেলা কঠিন নয়।কিন্তু মন ভেঙে গেলে, বিষন্নতা ( ডিপ্রেশন) রোগ পেয়ে বসলে তখন সে পরিস্থিতি অসহ্য, অসহনীয় ও ভয়ংকর মনে হবে।
সুস্থ চিন্তা, আশাবাদী চিন্তা, গঠনমূলক চিন্তা তখন মাথায় আছে না।গভীর বিষন্ন অবস্থায় ভবিষ্যত কেবল অন্ধকার মনে হয়,বর্তমান অসহনীয় যন্ত্রনার মনে হয় তাই এক সময় মনে হয় এক মাত্র মৃত্যু পারে এ কষ্টের অবসান ঘটাতে।।
৫। পারিবারিক ও সামাজিক সহায়তা এমন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ন,যা ওনার নেই।
৬। একবার মেজর ডিপ্রেশন হয়ে গেলে ঔষধ চিকিৎসা মাস্ট, সঙ্গে সাইকোথেরাপি।